১২:১৪ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ মে ২০২৪

৮টি ই-কমার্স কোম্পানির ৭০৫ কোটি টাকা মানি লন্ডারিং

নিজস্ব সংবাদ :
  • আপডেট সময় ০৫:৩৪:৩১ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৭ জুলাই ২০২২
  • / ১০৯৫ বার পড়া হয়েছে

সবচেয়ে বেশি ৩০০ কোটি টাকা বিদেশে পাচার করেছে আনন্দবাজার। কেউ কেউ অর্থ আত্মসাৎ করে বিলাসবহুল জীবনযাপন করেছেন।

আনন্দবাজার, ই-অরেঞ্জ, ধামাকা-সহ আটটি কোম্পানি ই-কমার্সের নামে ৭০৫ কোটি টাকা পাচার করেছে। তারা হুন্ডির মাধ্যমে এ টাকা বিদেশে পাচার করেছে বলে তথ্য পায় পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। মানি লন্ডারিং আইনে মামলার তদন্তে এ তথ্য উঠে এসেছে।

ই-কমার্স কোম্পানিগুলো বিপুল ছাড়ে মোটরসাইকেল, দামি ব্র্যান্ডের গাড়ি এবং ইলেকট্রনিক্স পণ্যের অফার দিয়ে গ্রাহকদের কাছ থেকে কোটি কোটি টাকা আদায় করেছে। সিআইডির তদন্তকারী কর্মকর্তারা বলছেন, তাদের কেউ গ্রাহকের টাকা নিয়ে দেশে থেকেছেন, আবার কেউ বিদেশে পালিয়ে স্বচ্ছল জীবনযাপন করছেন।

সিআইডি সূত্র জানায়, গ্রাহকের টাকায় পণ্য সরবরাহ না করা এবং বিদেশে অর্থ পাচারের অভিযোগে ই-কমার্স কোম্পানির বিরুদ্ধে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন থানায় মামলা হয়েছে। এসব মামলার মধ্যে মানি লন্ডারিং আইনে আটটি মামলার তদন্ত শেষ করেছে সিআইডি।

সিআইডির তদন্তে আটটি ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অর্থ পাচারের প্রমাণ পাওয়া গেছে। আরও কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে তদন্ত চলছে। আমরা ইতিমধ্যে এসপিসি ওয়ার্ল্ড নামে একটি ই-কমার্স সংস্থার বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেছি। বাকি সাত প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে শিগগিরই চার্জশিট দেওয়া হবে।

এর মধ্যে আনন্দবাজার ই-কমার্স কোম্পানি ৩০০ কোটি, ই-অরেঞ্জ ২৩২ কোটি, ধামাকা ১১৬ কোটি, রিং আইডি ৩৭ কোটি ৪৯ লাখ, টোয়েন্টি ফোর টিকেট লিমিটেড ৪ কোটি ৪৪ লাখ, এসপিসি ওয়ার্ল্ড ১ কোটি ১৭ লাখ, সিরাজগঞ্জ শপ ৪ কোটি ৯ লাখ। লাখ, আকাশনীল ডটকম তিন কোটি টাকা বিদেশে পাচার করেছে বলে তথ্য পাওয়া গেছে। এছাড়া দালাল ডটকম ও থালে ডটকমের অর্থ পাচারের প্রমাণও পেয়েছে সিআইডি। তবে এই দুই প্রতিষ্ঠান কত টাকা পাচার করেছে তা জানা যায়নি।

সিআইডির অর্গানাইজড ক্রাইমের বিশেষ সুপার হুমায়ুন কবির বিডি ওপেন নিউজকে বলেন, সিআইডির তদন্তে আটটি ই-কমার্স কোম্পানির বিরুদ্ধে অর্থ পাচারের প্রমাণ পাওয়া গেছে। আরও কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে তদন্ত চলছে। তিনি বলেন, ‘আমরা ইতিমধ্যেই ই-কমার্স কোম্পানি এসপিসি ওয়ার্ল্ডের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেছি। বাকি সাত প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে শিগগিরই চার্জশিট দেওয়া হবে।

গ্রাহকরা এই কোম্পানির বিরুদ্ধে ঢাকা, চট্টগ্রাম ও রংপুরে ৪২টি মামলা করেছেন। আর আলোচিত ই-কমার্স কোম্পানি ইভ্যালির বিরুদ্ধে ঢাকার বিভিন্ন থানায় এবং সাভার, ফরিদপুর ও সিরাজগঞ্জে মোট ২০টি মামলার তথ্য পেয়েছে সিআইডি।

তদন্ত সংশ্লিষ্ট একজন কর্মকর্তা বিডি ওপেন নিউজকে জানান, ই-কমার্স কোম্পানি ধামাকার ব্যবস্থাপনা পরিচালক এসএমডি জসিম উদ্দিন চিশতী তার স্ত্রী-সন্তান নিয়ে আমেরিকায় বিলাসবহুল জীবনযাপন করছেন।

সিআইডির তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, টাকা দিয়ে পণ্য না পেয়ে গত বছরের আগস্ট থেকে প্রতারণার শিকার গ্রাহকরা ই-কমার্স কোম্পানিগুলোর বিরুদ্ধে একের পর এক মামলা করেছেন। পরে ১৪টি ই-কমার্স কোম্পানির বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করে সিআইডি। দীর্ঘ তদন্তের পর আটটি ই-কমার্স কোম্পানির বিরুদ্ধে মামলা করে সিআইডি। তদন্তে এসব প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক হিসাব জব্দ করা হয়েছে।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গ্রাহকদের প্রতারণা ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন থানায় ২৪টি ই-কমার্স কোম্পানির বিরুদ্ধে ১০৫টি মামলা রয়েছে। গ্রাহকরা বাদী হয়ে এসব মামলা করেন। সবচেয়ে বেশি মামলা হয়েছে ই-অরেঞ্জের বিরুদ্ধে।

গ্রাহকরা এই কোম্পানির বিরুদ্ধে ঢাকা, চট্টগ্রাম ও রংপুরে ৪২টি মামলা করেছেন। আর আলোচিত ই-কমার্স কোম্পানি ইভ্যালির বিরুদ্ধে ঢাকার বিভিন্ন থানায় এবং সাভার, ফরিদপুর ও সিরাজগঞ্জে মোট ২০টি মামলার তথ্য পেয়েছে সিআইডি। এ ছাড়া কিউকমের বিরুদ্ধে ৭টি এবং বাকি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ১ থেকে ৩টি মামলা রয়েছে।

গ্রাহক প্রতারণার ঘটনায় গত ১৬ আগস্ট রাজধানীর মোহাম্মদপুর এলাকায় ইভ্যালির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মো. রাসেলকে তার স্ত্রীসহ আটক করেছে র‌্যাব। গত এপ্রিলে রাসেলের স্ত্রী কোম্পানির চেয়ারম্যান শামীমা নাসরিন জামিনে মুক্তি পান।

এছাড়া গ্রাহকদের কাছ থেকে ১১০০ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে ই-অরেঞ্জের মালিক সোনিয়া মেহজাবিন ও তার স্বামী মাসুকুর রহমান এবং সিওও (চীফ অপারেটিং অফিসার) আমানুল্লাহকে ঢাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। তবে ই-অরেঞ্জের নেপথ্যে থাকা ব্যক্তি বনানী থানার তৎকালীন পরিদর্শক সোহেল রানা দেশ ছেড়ে পালিয়েছিলেন।

এত কিছুর পরও বন্ধ হচ্ছে না ই-কমার্স জালিয়াতি। গ্রাহকদের প্রতারণার অভিযোগে কামরুল ইসলাম নামে এক ভুক্তভোগী বাদী হয়ে গুলশান থানায় এল শাফেটিক নামে আরেকটি ই-কমার্স কোম্পানির বিরুদ্ধে মামলা করেন। ওই মামলায় কোম্পানির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা, সিইও ও মালিক আজিজুল হক সানি ও তার স্ত্রীসহ নয়জনকে আসামি করা হয়। তবে পুলিশ কোম্পানির গুলশান নিকেতন আবাসিক এলাকার ঠিকানায় গিয়ে অফিস বন্ধ দেখতে পায়।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য

৮টি ই-কমার্স কোম্পানির ৭০৫ কোটি টাকা মানি লন্ডারিং

আপডেট সময় ০৫:৩৪:৩১ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৭ জুলাই ২০২২

সবচেয়ে বেশি ৩০০ কোটি টাকা বিদেশে পাচার করেছে আনন্দবাজার। কেউ কেউ অর্থ আত্মসাৎ করে বিলাসবহুল জীবনযাপন করেছেন।

আনন্দবাজার, ই-অরেঞ্জ, ধামাকা-সহ আটটি কোম্পানি ই-কমার্সের নামে ৭০৫ কোটি টাকা পাচার করেছে। তারা হুন্ডির মাধ্যমে এ টাকা বিদেশে পাচার করেছে বলে তথ্য পায় পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। মানি লন্ডারিং আইনে মামলার তদন্তে এ তথ্য উঠে এসেছে।

ই-কমার্স কোম্পানিগুলো বিপুল ছাড়ে মোটরসাইকেল, দামি ব্র্যান্ডের গাড়ি এবং ইলেকট্রনিক্স পণ্যের অফার দিয়ে গ্রাহকদের কাছ থেকে কোটি কোটি টাকা আদায় করেছে। সিআইডির তদন্তকারী কর্মকর্তারা বলছেন, তাদের কেউ গ্রাহকের টাকা নিয়ে দেশে থেকেছেন, আবার কেউ বিদেশে পালিয়ে স্বচ্ছল জীবনযাপন করছেন।

সিআইডি সূত্র জানায়, গ্রাহকের টাকায় পণ্য সরবরাহ না করা এবং বিদেশে অর্থ পাচারের অভিযোগে ই-কমার্স কোম্পানির বিরুদ্ধে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন থানায় মামলা হয়েছে। এসব মামলার মধ্যে মানি লন্ডারিং আইনে আটটি মামলার তদন্ত শেষ করেছে সিআইডি।

সিআইডির তদন্তে আটটি ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অর্থ পাচারের প্রমাণ পাওয়া গেছে। আরও কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে তদন্ত চলছে। আমরা ইতিমধ্যে এসপিসি ওয়ার্ল্ড নামে একটি ই-কমার্স সংস্থার বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেছি। বাকি সাত প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে শিগগিরই চার্জশিট দেওয়া হবে।

এর মধ্যে আনন্দবাজার ই-কমার্স কোম্পানি ৩০০ কোটি, ই-অরেঞ্জ ২৩২ কোটি, ধামাকা ১১৬ কোটি, রিং আইডি ৩৭ কোটি ৪৯ লাখ, টোয়েন্টি ফোর টিকেট লিমিটেড ৪ কোটি ৪৪ লাখ, এসপিসি ওয়ার্ল্ড ১ কোটি ১৭ লাখ, সিরাজগঞ্জ শপ ৪ কোটি ৯ লাখ। লাখ, আকাশনীল ডটকম তিন কোটি টাকা বিদেশে পাচার করেছে বলে তথ্য পাওয়া গেছে। এছাড়া দালাল ডটকম ও থালে ডটকমের অর্থ পাচারের প্রমাণও পেয়েছে সিআইডি। তবে এই দুই প্রতিষ্ঠান কত টাকা পাচার করেছে তা জানা যায়নি।

সিআইডির অর্গানাইজড ক্রাইমের বিশেষ সুপার হুমায়ুন কবির বিডি ওপেন নিউজকে বলেন, সিআইডির তদন্তে আটটি ই-কমার্স কোম্পানির বিরুদ্ধে অর্থ পাচারের প্রমাণ পাওয়া গেছে। আরও কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে তদন্ত চলছে। তিনি বলেন, ‘আমরা ইতিমধ্যেই ই-কমার্স কোম্পানি এসপিসি ওয়ার্ল্ডের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেছি। বাকি সাত প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে শিগগিরই চার্জশিট দেওয়া হবে।

গ্রাহকরা এই কোম্পানির বিরুদ্ধে ঢাকা, চট্টগ্রাম ও রংপুরে ৪২টি মামলা করেছেন। আর আলোচিত ই-কমার্স কোম্পানি ইভ্যালির বিরুদ্ধে ঢাকার বিভিন্ন থানায় এবং সাভার, ফরিদপুর ও সিরাজগঞ্জে মোট ২০টি মামলার তথ্য পেয়েছে সিআইডি।

তদন্ত সংশ্লিষ্ট একজন কর্মকর্তা বিডি ওপেন নিউজকে জানান, ই-কমার্স কোম্পানি ধামাকার ব্যবস্থাপনা পরিচালক এসএমডি জসিম উদ্দিন চিশতী তার স্ত্রী-সন্তান নিয়ে আমেরিকায় বিলাসবহুল জীবনযাপন করছেন।

সিআইডির তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, টাকা দিয়ে পণ্য না পেয়ে গত বছরের আগস্ট থেকে প্রতারণার শিকার গ্রাহকরা ই-কমার্স কোম্পানিগুলোর বিরুদ্ধে একের পর এক মামলা করেছেন। পরে ১৪টি ই-কমার্স কোম্পানির বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করে সিআইডি। দীর্ঘ তদন্তের পর আটটি ই-কমার্স কোম্পানির বিরুদ্ধে মামলা করে সিআইডি। তদন্তে এসব প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক হিসাব জব্দ করা হয়েছে।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গ্রাহকদের প্রতারণা ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন থানায় ২৪টি ই-কমার্স কোম্পানির বিরুদ্ধে ১০৫টি মামলা রয়েছে। গ্রাহকরা বাদী হয়ে এসব মামলা করেন। সবচেয়ে বেশি মামলা হয়েছে ই-অরেঞ্জের বিরুদ্ধে।

গ্রাহকরা এই কোম্পানির বিরুদ্ধে ঢাকা, চট্টগ্রাম ও রংপুরে ৪২টি মামলা করেছেন। আর আলোচিত ই-কমার্স কোম্পানি ইভ্যালির বিরুদ্ধে ঢাকার বিভিন্ন থানায় এবং সাভার, ফরিদপুর ও সিরাজগঞ্জে মোট ২০টি মামলার তথ্য পেয়েছে সিআইডি। এ ছাড়া কিউকমের বিরুদ্ধে ৭টি এবং বাকি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ১ থেকে ৩টি মামলা রয়েছে।

গ্রাহক প্রতারণার ঘটনায় গত ১৬ আগস্ট রাজধানীর মোহাম্মদপুর এলাকায় ইভ্যালির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মো. রাসেলকে তার স্ত্রীসহ আটক করেছে র‌্যাব। গত এপ্রিলে রাসেলের স্ত্রী কোম্পানির চেয়ারম্যান শামীমা নাসরিন জামিনে মুক্তি পান।

এছাড়া গ্রাহকদের কাছ থেকে ১১০০ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে ই-অরেঞ্জের মালিক সোনিয়া মেহজাবিন ও তার স্বামী মাসুকুর রহমান এবং সিওও (চীফ অপারেটিং অফিসার) আমানুল্লাহকে ঢাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। তবে ই-অরেঞ্জের নেপথ্যে থাকা ব্যক্তি বনানী থানার তৎকালীন পরিদর্শক সোহেল রানা দেশ ছেড়ে পালিয়েছিলেন।

এত কিছুর পরও বন্ধ হচ্ছে না ই-কমার্স জালিয়াতি। গ্রাহকদের প্রতারণার অভিযোগে কামরুল ইসলাম নামে এক ভুক্তভোগী বাদী হয়ে গুলশান থানায় এল শাফেটিক নামে আরেকটি ই-কমার্স কোম্পানির বিরুদ্ধে মামলা করেন। ওই মামলায় কোম্পানির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা, সিইও ও মালিক আজিজুল হক সানি ও তার স্ত্রীসহ নয়জনকে আসামি করা হয়। তবে পুলিশ কোম্পানির গুলশান নিকেতন আবাসিক এলাকার ঠিকানায় গিয়ে অফিস বন্ধ দেখতে পায়।