০৯:৪৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৩ এপ্রিল ২০২৪

১০ বছর এড়াতে তিনি ৩৩ বছর পাকিস্তানে পালিয়ে যান

নিজস্ব সংবাদ :
  • আপডেট সময় ০৩:৪২:৫১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১২ জুলাই ২০২২
  • / ৫৩৯ বার পড়া হয়েছে

bdopennews

ফেনীর সোনাগাজীতে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে ধর্ষণ ও প্রতারণার মামলায় আইয়ুব আলী (৫৮)কে ১০ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। সেই শাস্তি থেকে বাঁচতে তিনি ৩৩ বছর পাকিস্তানে পালিয়ে যান। ৩৩ বছর পালিয়ে যাওয়ার পরেও তিনি রক্ষা পাননি। অবশেষে পুলিশের হাতে ধরা পড়ে।

মঙ্গলবার উপজেলার চর দরবেশ ইউনিয়নের পশ্চিম চর দরবেশ এলাকা থেকে আইয়ুব আলীকে গ্রেফতার করা হয়। তিনি ওই এলাকার বাসিন্দা। সোনাগাজী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. বিষয়টি নিশ্চিত করে খালেদ হোসেন বিডি ওপেন নিউজকে বলেন, গ্রেফতারের পর জিজ্ঞাসাবাদ শেষে বিকেলে আইয়ুব আলীকে আদালতের মাধ্যমে ফেনী কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

পুলিশ জানায়, বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে ধর্ষণ ও প্রতারণার অভিযোগে ১৯৮৯ সালে ফেনীর আদালতে আইয়ুব আলীর বিরুদ্ধে মামলা হয়। ওই মামলায় পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে জেলহাজতে পাঠায়। পরে তিনি জামিনে মুক্তি পেয়ে আত্মগোপনে চলে যান। আদালতে হাজিরা না দিয়ে গোপনে পাকিস্তানে চলে যান তিনি। তিনি ১৯৯১ সালে দোষী সাব্যস্ত হন এবং দীর্ঘ সময়ের জন্য আদালতে উপস্থিত হতে ব্যর্থ হওয়ায় ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হন।

সোনাগাজী থানার সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) জুয়েল সরকার জানান, আদালত থেকে গ্রেফতারি পরোয়ানা পাওয়ার পর অনেক পুলিশ কর্মকর্তা আইয়ুব আলীর খোঁজে মাঠে নামেন। কিন্তু তার কোনো হদিস পাওয়া যায়নি। তারা দুই মাস আগে জানতে পারে আইয়ুব আলী ২৫ বছর পর পাকিস্তানে ফিরেছেন। এরপরও গ্রেফতার এড়াতে তিনি প্রায়ই চট্টগ্রামের বিভিন্ন এলাকায় পাড়ি জমান। দুই সপ্তাহ আগে তিনি আইয়ুব আলীর গ্রামের বাড়ি, চট্টগ্রামসহ বিভিন্ন স্থানে তাকে খুঁজতে যান। পরে এক ব্যক্তির মাধ্যমে আইয়ুব আলীর ঠিকানা, মোবাইল নম্বর ও ছবি সংগ্রহ করেন। ওই নম্বরের ভিত্তিতে চট্টগ্রাম ও উপজেলার পশ্চিম চর দরবেশ এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করতে ব্যর্থ হয়। দীর্ঘদিন পর সোমবার রাতে হঠাৎ বাসায় আসেন তিনি।

এএসআই জুয়েল জানান, পরিবারের সদস্য ও স্বজনরা আইয়ুব আলীকে চিনতে পারেনি। তবে রাত ঘনিয়ে আসায় বাড়ির লোকজন তাকে রাত কাটানোর জন্য বাড়িতে জায়গা দেয়। দীর্ঘ ৩৩ বছর পর আইয়ুব আলী দেশে ফিরেছেন বলে ইতিমধ্যেই খবর ছড়িয়েছে স্থানীয়দের মধ্যে। গোপন সূত্রে খবর পেয়ে পুলিশ তাকে বাড়ি থেকে আটক করে থানায় নিয়ে আসে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য

১০ বছর এড়াতে তিনি ৩৩ বছর পাকিস্তানে পালিয়ে যান

আপডেট সময় ০৩:৪২:৫১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১২ জুলাই ২০২২

ফেনীর সোনাগাজীতে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে ধর্ষণ ও প্রতারণার মামলায় আইয়ুব আলী (৫৮)কে ১০ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। সেই শাস্তি থেকে বাঁচতে তিনি ৩৩ বছর পাকিস্তানে পালিয়ে যান। ৩৩ বছর পালিয়ে যাওয়ার পরেও তিনি রক্ষা পাননি। অবশেষে পুলিশের হাতে ধরা পড়ে।

মঙ্গলবার উপজেলার চর দরবেশ ইউনিয়নের পশ্চিম চর দরবেশ এলাকা থেকে আইয়ুব আলীকে গ্রেফতার করা হয়। তিনি ওই এলাকার বাসিন্দা। সোনাগাজী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. বিষয়টি নিশ্চিত করে খালেদ হোসেন বিডি ওপেন নিউজকে বলেন, গ্রেফতারের পর জিজ্ঞাসাবাদ শেষে বিকেলে আইয়ুব আলীকে আদালতের মাধ্যমে ফেনী কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

পুলিশ জানায়, বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে ধর্ষণ ও প্রতারণার অভিযোগে ১৯৮৯ সালে ফেনীর আদালতে আইয়ুব আলীর বিরুদ্ধে মামলা হয়। ওই মামলায় পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে জেলহাজতে পাঠায়। পরে তিনি জামিনে মুক্তি পেয়ে আত্মগোপনে চলে যান। আদালতে হাজিরা না দিয়ে গোপনে পাকিস্তানে চলে যান তিনি। তিনি ১৯৯১ সালে দোষী সাব্যস্ত হন এবং দীর্ঘ সময়ের জন্য আদালতে উপস্থিত হতে ব্যর্থ হওয়ায় ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হন।

সোনাগাজী থানার সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) জুয়েল সরকার জানান, আদালত থেকে গ্রেফতারি পরোয়ানা পাওয়ার পর অনেক পুলিশ কর্মকর্তা আইয়ুব আলীর খোঁজে মাঠে নামেন। কিন্তু তার কোনো হদিস পাওয়া যায়নি। তারা দুই মাস আগে জানতে পারে আইয়ুব আলী ২৫ বছর পর পাকিস্তানে ফিরেছেন। এরপরও গ্রেফতার এড়াতে তিনি প্রায়ই চট্টগ্রামের বিভিন্ন এলাকায় পাড়ি জমান। দুই সপ্তাহ আগে তিনি আইয়ুব আলীর গ্রামের বাড়ি, চট্টগ্রামসহ বিভিন্ন স্থানে তাকে খুঁজতে যান। পরে এক ব্যক্তির মাধ্যমে আইয়ুব আলীর ঠিকানা, মোবাইল নম্বর ও ছবি সংগ্রহ করেন। ওই নম্বরের ভিত্তিতে চট্টগ্রাম ও উপজেলার পশ্চিম চর দরবেশ এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করতে ব্যর্থ হয়। দীর্ঘদিন পর সোমবার রাতে হঠাৎ বাসায় আসেন তিনি।

এএসআই জুয়েল জানান, পরিবারের সদস্য ও স্বজনরা আইয়ুব আলীকে চিনতে পারেনি। তবে রাত ঘনিয়ে আসায় বাড়ির লোকজন তাকে রাত কাটানোর জন্য বাড়িতে জায়গা দেয়। দীর্ঘ ৩৩ বছর পর আইয়ুব আলী দেশে ফিরেছেন বলে ইতিমধ্যেই খবর ছড়িয়েছে স্থানীয়দের মধ্যে। গোপন সূত্রে খবর পেয়ে পুলিশ তাকে বাড়ি থেকে আটক করে থানায় নিয়ে আসে।