১২:৩০ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২০ এপ্রিল ২০২৪

হাসপাতাল-ক্লিনিকে গিয়ে রাস্তায় প্রসব করলেন ওই গৃহবধূ

নিজস্ব সংবাদ :
  • আপডেট সময় ০৪:১৩:৩৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৭ জুলাই ২০২২
  • / ৮০৪ বার পড়া হয়েছে

bdopennews

বরগুনায় সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা না পেয়ে নগরীর বিভিন্ন বেসরকারি ক্লিনিকে গিয়ে রাস্তায় প্রসব করেছেন এক গৃহবধূ। নবজাতক নিরাপদ থাকলেও মায়ের অবস্থা আশঙ্কাজনক। তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়।

মঙ্গলবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে নগরীর পশু হাসপাতাল সংলগ্ন সড়কে এ ঘটনা ঘটে। মায়ের নাম রীমা বেগম (১৯)। তিনি সদর উপজেলার ফুলঝুরি এলাকার রিকশাচালক। ইব্রাহিমের স্ত্রী।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গতকাল বেলা ১১টার দিকে গৃহবধূ রীমা বেগমকে বরগুনা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সন্ধ্যার পর তার প্রসব শুরু হয়। প্রসব বেদনায় হাসপাতালে কাতরাচ্ছিল সে। এরপর হাসপাতালের চিকিৎসক ও নার্সরা জানান, হাসপাতালের স্ত্রীরোগ বিভাগে ২৪ ঘণ্টা চিকিৎসা দেওয়া হয় না। তারা ওই গৃহবধূকে শহরের বটতলা এলাকার আলরাজি প্রাইভেট ক্লিনিকে নিয়ে যেতে বলেন। সঙ্গে সঙ্গে গৃহবধূর স্বজনরা তাকে ক্লিনিকে নিয়ে যান। কিন্তু আলরাজি ক্লিনিকে কোনো চিকিৎসক না থাকায় কর্তৃপক্ষ তাকে পশু হাসপাতাল রোডের শেফা ডায়াগনস্টিক সেন্টার অ্যান্ড হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেন।

ওই গৃহবধূর স্বজনরা জানান, ওই ক্লিনিকে কোনো চিকিৎসক না থাকায় তাকে অন্য ক্লিনিকে নিয়ে যাওয়ার জন্য স্থানীয় বাসিন্দাদের সহায়তায় তাকে রাস্তায় নামানো হয়। এরপর রাস্তায় ছেলের জন্ম দেন রীমা। পরে মা ও নবজাতককে উদ্ধার করে শেফা ক্লিনিকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। রীমার অবস্থা আশঙ্কাজনক হলে তাৎক্ষণিক তাকে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।

ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী যুবলীগ নেতা আবু হানিফ প্রথম আলো ডটকমকে বলেন, বেলা সাড়ে ১১টার দিকে আলরাজি ক্লিনিকের সামনে দিয়ে বাড়ি ফিরছিলেন। এরপর তিনি ক্লিনিকে দুই নারীর চিৎকার শুনে তাদের কাছ থেকে পুরো ঘটনা জেনে নেন। তিনি ওই নারীকে শেফা ক্লিনিকে নিয়ে যান। সেখানেও কোনো চিকিৎসক ছিলেন না। পরে ডক্টরস কেয়ার নামে আরেকটি ক্লিনিকে ফোন করে জানতে পারেন সেখানে একজন চিকিৎসক আছেন। মহিলাকে ক্লিনিকে নিয়ে যাওয়ার সময় পথেই সন্তান প্রসব করেন।

বরগুনা জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক সোহরাব হোসেন BD OPEN N

EWSকে বলেন, “গতকাল ১১টায় গর্ভবতী মহিলাকে হাসপাতালের গাইনি বিভাগে ভর্তি করা হয়। পরে সন্ধ্যায় তার প্রসব শুরু হয়। প্রসবের সময় বাচ্চা আটকে গেলে, আমাদের ডেলিভারি বোন এবং নার্সরা তাদের জানায় যে এখানকার অবস্থা মা এবং শিশুর জন্য বিপজ্জনক হবে।আমাদের এখানে রাতে সিজারিয়ান (প্রসূতি সার্জারি) করা হয় না।আপনি কোথাও গিয়ে চিকিৎসার ব্যবস্থা করুন।পরে রোগীর স্বজনরা তাকে নিয়ে যান। বাইরে যাওয়ার পর তারা কয়েকটি ক্লিনিকে চেষ্টা করে, পরে ওই মহিলা রাস্তায় সন্তান প্রসব করেন।

গৃহবধূর শাশুড়ি

BD OPEN NEWS

বলেন, রীমা প্রসব ব্যথায় ভুগছিলেন। তখন হাসপাতাল বলে, ‘রীমার অবস্থা গুরুতর, হাসপাতালে তার চিকিৎসা হবে না, তাকে ক্লিনিকে নিয়ে যান।’ তারা দ্রুত রীমাকে আলরাজি ক্লিনিকে নিয়ে যায়, কিন্তু সেখানে কোনো ডাক্তার ছিল না। তিনি বলেন, “আমরা অসহায়ের মতো লড়াই করছিলাম। একদিকে আমরা গরিব মানুষ, অন্যদিকে রীমার অবস্থা খুবই খারাপ। শেফা ক্লিনিকে গিয়েও ডাক্তার পাইনি। পরে অন্য ক্লিনিকে যাওয়ার পথে। রীমা জন্ম দিল।

শেফা ডায়াগনস্টিক সেন্টার অ্যান্ড হাসপাতালের গাইনোকোলজিস্ট জান্নাতুল আলমBD OPEN NEWS

কে বলেন, তিনি তার ডিউটি ​​শেষে বাসায় গেছেন। কিছুক্ষণ পর জানা গেল, হাসপাতালের রাস্তায় এক মহিলা সন্তান প্রসব করেছে এবং তাকে উদ্ধার করে তাদের ক্লিনিকে নিয়ে আসা হয়েছে। তারপর তিনি সঙ্গে সঙ্গে দৌড়ে গিয়ে ডেলিভারির খোঁজ নেন। প্রচণ্ড রক্তক্ষরণের কারণে তার অবস্থা আশঙ্কাজনক। তাই উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যেতে বলেন। নবজাতক সুস্থ আছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য

হাসপাতাল-ক্লিনিকে গিয়ে রাস্তায় প্রসব করলেন ওই গৃহবধূ

আপডেট সময় ০৪:১৩:৩৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৭ জুলাই ২০২২

বরগুনায় সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা না পেয়ে নগরীর বিভিন্ন বেসরকারি ক্লিনিকে গিয়ে রাস্তায় প্রসব করেছেন এক গৃহবধূ। নবজাতক নিরাপদ থাকলেও মায়ের অবস্থা আশঙ্কাজনক। তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়।

মঙ্গলবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে নগরীর পশু হাসপাতাল সংলগ্ন সড়কে এ ঘটনা ঘটে। মায়ের নাম রীমা বেগম (১৯)। তিনি সদর উপজেলার ফুলঝুরি এলাকার রিকশাচালক। ইব্রাহিমের স্ত্রী।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গতকাল বেলা ১১টার দিকে গৃহবধূ রীমা বেগমকে বরগুনা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সন্ধ্যার পর তার প্রসব শুরু হয়। প্রসব বেদনায় হাসপাতালে কাতরাচ্ছিল সে। এরপর হাসপাতালের চিকিৎসক ও নার্সরা জানান, হাসপাতালের স্ত্রীরোগ বিভাগে ২৪ ঘণ্টা চিকিৎসা দেওয়া হয় না। তারা ওই গৃহবধূকে শহরের বটতলা এলাকার আলরাজি প্রাইভেট ক্লিনিকে নিয়ে যেতে বলেন। সঙ্গে সঙ্গে গৃহবধূর স্বজনরা তাকে ক্লিনিকে নিয়ে যান। কিন্তু আলরাজি ক্লিনিকে কোনো চিকিৎসক না থাকায় কর্তৃপক্ষ তাকে পশু হাসপাতাল রোডের শেফা ডায়াগনস্টিক সেন্টার অ্যান্ড হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেন।

ওই গৃহবধূর স্বজনরা জানান, ওই ক্লিনিকে কোনো চিকিৎসক না থাকায় তাকে অন্য ক্লিনিকে নিয়ে যাওয়ার জন্য স্থানীয় বাসিন্দাদের সহায়তায় তাকে রাস্তায় নামানো হয়। এরপর রাস্তায় ছেলের জন্ম দেন রীমা। পরে মা ও নবজাতককে উদ্ধার করে শেফা ক্লিনিকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। রীমার অবস্থা আশঙ্কাজনক হলে তাৎক্ষণিক তাকে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।

ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী যুবলীগ নেতা আবু হানিফ প্রথম আলো ডটকমকে বলেন, বেলা সাড়ে ১১টার দিকে আলরাজি ক্লিনিকের সামনে দিয়ে বাড়ি ফিরছিলেন। এরপর তিনি ক্লিনিকে দুই নারীর চিৎকার শুনে তাদের কাছ থেকে পুরো ঘটনা জেনে নেন। তিনি ওই নারীকে শেফা ক্লিনিকে নিয়ে যান। সেখানেও কোনো চিকিৎসক ছিলেন না। পরে ডক্টরস কেয়ার নামে আরেকটি ক্লিনিকে ফোন করে জানতে পারেন সেখানে একজন চিকিৎসক আছেন। মহিলাকে ক্লিনিকে নিয়ে যাওয়ার সময় পথেই সন্তান প্রসব করেন।

বরগুনা জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক সোহরাব হোসেন BD OPEN N

EWSকে বলেন, “গতকাল ১১টায় গর্ভবতী মহিলাকে হাসপাতালের গাইনি বিভাগে ভর্তি করা হয়। পরে সন্ধ্যায় তার প্রসব শুরু হয়। প্রসবের সময় বাচ্চা আটকে গেলে, আমাদের ডেলিভারি বোন এবং নার্সরা তাদের জানায় যে এখানকার অবস্থা মা এবং শিশুর জন্য বিপজ্জনক হবে।আমাদের এখানে রাতে সিজারিয়ান (প্রসূতি সার্জারি) করা হয় না।আপনি কোথাও গিয়ে চিকিৎসার ব্যবস্থা করুন।পরে রোগীর স্বজনরা তাকে নিয়ে যান। বাইরে যাওয়ার পর তারা কয়েকটি ক্লিনিকে চেষ্টা করে, পরে ওই মহিলা রাস্তায় সন্তান প্রসব করেন।

গৃহবধূর শাশুড়ি

BD OPEN NEWS

বলেন, রীমা প্রসব ব্যথায় ভুগছিলেন। তখন হাসপাতাল বলে, ‘রীমার অবস্থা গুরুতর, হাসপাতালে তার চিকিৎসা হবে না, তাকে ক্লিনিকে নিয়ে যান।’ তারা দ্রুত রীমাকে আলরাজি ক্লিনিকে নিয়ে যায়, কিন্তু সেখানে কোনো ডাক্তার ছিল না। তিনি বলেন, “আমরা অসহায়ের মতো লড়াই করছিলাম। একদিকে আমরা গরিব মানুষ, অন্যদিকে রীমার অবস্থা খুবই খারাপ। শেফা ক্লিনিকে গিয়েও ডাক্তার পাইনি। পরে অন্য ক্লিনিকে যাওয়ার পথে। রীমা জন্ম দিল।

শেফা ডায়াগনস্টিক সেন্টার অ্যান্ড হাসপাতালের গাইনোকোলজিস্ট জান্নাতুল আলমBD OPEN NEWS

কে বলেন, তিনি তার ডিউটি ​​শেষে বাসায় গেছেন। কিছুক্ষণ পর জানা গেল, হাসপাতালের রাস্তায় এক মহিলা সন্তান প্রসব করেছে এবং তাকে উদ্ধার করে তাদের ক্লিনিকে নিয়ে আসা হয়েছে। তারপর তিনি সঙ্গে সঙ্গে দৌড়ে গিয়ে ডেলিভারির খোঁজ নেন। প্রচণ্ড রক্তক্ষরণের কারণে তার অবস্থা আশঙ্কাজনক। তাই উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যেতে বলেন। নবজাতক সুস্থ আছে।