০৯:০৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৩ এপ্রিল ২০২৪

স্কুলের বারান্দায় এক ছাত্রকে ছুরিকাঘাত করা হয়েছে

নিজস্ব সংবাদ :
  • আপডেট সময় ০৫:৩২:৫০ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৩ জুন ২০২২
  • / ১১১৮ বার পড়া হয়েছে

bdopennews

কুষ্টিয়ায় শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের সামনে ছুরিকাঘাত করে এক ছাত্রকে আহত করার অভিযোগ উঠেছে। আহত ছাত্র আবির হাসান শহরের কলকাকলী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণির ছাত্র। সোমবার বিকেলে বিদ্যালয়ের বারান্দায় এ ঘটনা ঘটে।

আহত আবিরকে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের এক নম্বর ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়েছে। তার বাড়ি মজমপুর ঝাউতলা এলাকায় জেলা স্কুলের সামনে। তার বাবা মোহাম্মদ শাহজাদা ওরফে গয়া পেশায় একজন গাড়িচালক।

কলকাকলী বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শিক্ষার্থীরা জানান, পরীক্ষা শেষে বাড়ি ফিরছিলেন ছেলে-মেয়েরা। আবিরের ইসলাম শিক্ষার পরীক্ষা ছিল। তিনিও পরীক্ষা শেষ করে মাঠের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছিলেন। এ সময় জেলা বিদ্যালয়ের একদল শিক্ষার্থী লাঠিসোঁটা ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে বিদ্যালয়ে প্রবেশ করে। তাদের দেখে আবির দৌড়ে এসে স্কুলের বারান্দায় আশ্রয় নেয়। সেখানে তার ডান পায়ে ক্ষুর দিয়ে আঘাত করা হয়। এতে গভীর ক্ষত হয় এবং মাংস কেটে যায়। প্রধান শিক্ষকসহ অন্যরা বাধা দিতে গেলে শিক্ষার্থীরা তাদের ওপর হামলা চালায়। পরে তারা দ্রুত চলে যায়।

প্রধান শিক্ষক জেবুন্নেছা সবুজ বলেন, ‘মজমপুর এলাকার বাসিন্দা জিলা স্কুলের প্রাক্তন ছাত্র সংগ্রামের নেতৃত্বে ছেলেরা এসে হামলা চালায়। আমার ছেলে তার রেজারের আঘাতে গুরুতর আহত হয়েছে। তারা আমার স্কুলের দুটি ভবনের সব জানালা ভেঙে দিয়েছে। তাদের সঙ্গে ছিলেন শাহরিয়ার ফেরদৌস, ইশতিয়াক আহমেদ, স্বাধীন, আউয়াল, জুয়েল ইসলাম, তুহিন আহমেদ, হৃদয় হোসেন ইমন খানসহ আরও অনেকে। আমরা থানায় মামলা করব। ‘

হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায়, আবিরের পায়ে গভীর ক্ষত রয়েছে। তার বন্ধুরা তাকে স্ট্রেচারে করে নিয়ে যাচ্ছেন ১ নম্বর ওয়ার্ডের বারান্দায়। আবির বলেন, তিনি এমন একজনকে চেনেন যিনি জেলা স্কুলে পড়েন। বাকিটা সে জানে না। তিনি বলেন, তাকে নিয়ে কারো কোনো সমস্যা নেই।

জরুরি বিভাগের চিকিৎসক মেহেদী হাসান বলেন, “ক্ষুরটি ধারালো ছিল এবং এতে গভীর ক্ষত সৃষ্টি হয়েছে। প্রচুর রক্তক্ষরণ হয়েছে। তার অবস্থা আশঙ্কাজনক। প্রচুর রক্তের প্রয়োজন।’

আবিরের বাবা মোহাম্মদ শাহজাদা বলেন, ‘মজমপুরে আন্দোলনের নেতৃত্বে হামলা হয়েছে। তারা বিএসবি কিশোর গ্যাংয়ের সদস্য। আমার ছেলে নির্দোষ। কেন সে মারা গেল। এ ঘটনার বিচার চাই। “

এলাকাবাসী ও পুলিশ জানায়, তিন দিন আগে কলকাকলী স্কুলের আরেক ছাত্র প্রদীপকে জেলা স্কুলের ছাত্ররা মারধর করে। পুলিশ লাইনের এক শিক্ষার্থীকে মারধর করেছে কলকাকলী স্কুলের কয়েকজন শিক্ষার্থী। পুলিশ লাইনের ওই ছাত্রের কয়েকজন বন্ধু জেলা স্কুলে গিয়েছিল। সেই প্রতিশোধ নিতে জেলা স্কুলের ছাত্ররা জোট বেঁধে হামলা চালায়। প্রেম নিয়ে তাদের কষ্ট হচ্ছে। জিলা স্কুল ও কলকাকলি স্কুলের দেয়াল একই সাথে। জেলা স্কুলের ছাত্রীরা দেওয়াল বেয়ে কলকাকলি স্কুলে ঢুকে প্রায়ই সেখানকার মেয়েদের উত্ত্যক্ত করত বলে অভিযোগ পেয়েছে পুলিশ।

ঘটনার পরপরই কলকাকলী স্কুলে আসেন কুষ্টিয়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ সাব্বিরুল আলম। তিনি বলেন, জেলা স্কুলের ছেলেরা দলবল নিয়ে এসে স্কুলে হামলা চালায়। তারা এক ছাত্রকে ছুরিকাঘাত করে। পাশাপাশি ভাঙচুর করা হয়। জড়িতদের নাম পাওয়া গেছে। মামলা হলে সবার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

কুষ্টিয়া জেলা স্কুলের প্রধান শিক্ষক ইফতে খায়রুল ইসলাম বলেন, “ছেলেরা সকালে উত্তেজিত হয়ে পড়ে। আমি তাদের ঠাণ্ডা রাখার চেষ্টা করি। তারা আমার কথা না শুনে পুলিশের সামনে কলকাকলী স্কুলে গিয়ে এক ছাত্রকে ছুরিকাঘাত করে। স্কুলটি ছিল। ভাংচুর করা হয়েছে। এটা লজ্জার। আমার স্কুলের এক ছাত্রের কাছ থেকে ড্যাগার উদ্ধার করা হয়েছে। জড়িত সবার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য

স্কুলের বারান্দায় এক ছাত্রকে ছুরিকাঘাত করা হয়েছে

আপডেট সময় ০৫:৩২:৫০ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৩ জুন ২০২২

কুষ্টিয়ায় শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের সামনে ছুরিকাঘাত করে এক ছাত্রকে আহত করার অভিযোগ উঠেছে। আহত ছাত্র আবির হাসান শহরের কলকাকলী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণির ছাত্র। সোমবার বিকেলে বিদ্যালয়ের বারান্দায় এ ঘটনা ঘটে।

আহত আবিরকে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের এক নম্বর ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়েছে। তার বাড়ি মজমপুর ঝাউতলা এলাকায় জেলা স্কুলের সামনে। তার বাবা মোহাম্মদ শাহজাদা ওরফে গয়া পেশায় একজন গাড়িচালক।

কলকাকলী বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শিক্ষার্থীরা জানান, পরীক্ষা শেষে বাড়ি ফিরছিলেন ছেলে-মেয়েরা। আবিরের ইসলাম শিক্ষার পরীক্ষা ছিল। তিনিও পরীক্ষা শেষ করে মাঠের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছিলেন। এ সময় জেলা বিদ্যালয়ের একদল শিক্ষার্থী লাঠিসোঁটা ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে বিদ্যালয়ে প্রবেশ করে। তাদের দেখে আবির দৌড়ে এসে স্কুলের বারান্দায় আশ্রয় নেয়। সেখানে তার ডান পায়ে ক্ষুর দিয়ে আঘাত করা হয়। এতে গভীর ক্ষত হয় এবং মাংস কেটে যায়। প্রধান শিক্ষকসহ অন্যরা বাধা দিতে গেলে শিক্ষার্থীরা তাদের ওপর হামলা চালায়। পরে তারা দ্রুত চলে যায়।

প্রধান শিক্ষক জেবুন্নেছা সবুজ বলেন, ‘মজমপুর এলাকার বাসিন্দা জিলা স্কুলের প্রাক্তন ছাত্র সংগ্রামের নেতৃত্বে ছেলেরা এসে হামলা চালায়। আমার ছেলে তার রেজারের আঘাতে গুরুতর আহত হয়েছে। তারা আমার স্কুলের দুটি ভবনের সব জানালা ভেঙে দিয়েছে। তাদের সঙ্গে ছিলেন শাহরিয়ার ফেরদৌস, ইশতিয়াক আহমেদ, স্বাধীন, আউয়াল, জুয়েল ইসলাম, তুহিন আহমেদ, হৃদয় হোসেন ইমন খানসহ আরও অনেকে। আমরা থানায় মামলা করব। ‘

হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায়, আবিরের পায়ে গভীর ক্ষত রয়েছে। তার বন্ধুরা তাকে স্ট্রেচারে করে নিয়ে যাচ্ছেন ১ নম্বর ওয়ার্ডের বারান্দায়। আবির বলেন, তিনি এমন একজনকে চেনেন যিনি জেলা স্কুলে পড়েন। বাকিটা সে জানে না। তিনি বলেন, তাকে নিয়ে কারো কোনো সমস্যা নেই।

জরুরি বিভাগের চিকিৎসক মেহেদী হাসান বলেন, “ক্ষুরটি ধারালো ছিল এবং এতে গভীর ক্ষত সৃষ্টি হয়েছে। প্রচুর রক্তক্ষরণ হয়েছে। তার অবস্থা আশঙ্কাজনক। প্রচুর রক্তের প্রয়োজন।’

আবিরের বাবা মোহাম্মদ শাহজাদা বলেন, ‘মজমপুরে আন্দোলনের নেতৃত্বে হামলা হয়েছে। তারা বিএসবি কিশোর গ্যাংয়ের সদস্য। আমার ছেলে নির্দোষ। কেন সে মারা গেল। এ ঘটনার বিচার চাই। “

এলাকাবাসী ও পুলিশ জানায়, তিন দিন আগে কলকাকলী স্কুলের আরেক ছাত্র প্রদীপকে জেলা স্কুলের ছাত্ররা মারধর করে। পুলিশ লাইনের এক শিক্ষার্থীকে মারধর করেছে কলকাকলী স্কুলের কয়েকজন শিক্ষার্থী। পুলিশ লাইনের ওই ছাত্রের কয়েকজন বন্ধু জেলা স্কুলে গিয়েছিল। সেই প্রতিশোধ নিতে জেলা স্কুলের ছাত্ররা জোট বেঁধে হামলা চালায়। প্রেম নিয়ে তাদের কষ্ট হচ্ছে। জিলা স্কুল ও কলকাকলি স্কুলের দেয়াল একই সাথে। জেলা স্কুলের ছাত্রীরা দেওয়াল বেয়ে কলকাকলি স্কুলে ঢুকে প্রায়ই সেখানকার মেয়েদের উত্ত্যক্ত করত বলে অভিযোগ পেয়েছে পুলিশ।

ঘটনার পরপরই কলকাকলী স্কুলে আসেন কুষ্টিয়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ সাব্বিরুল আলম। তিনি বলেন, জেলা স্কুলের ছেলেরা দলবল নিয়ে এসে স্কুলে হামলা চালায়। তারা এক ছাত্রকে ছুরিকাঘাত করে। পাশাপাশি ভাঙচুর করা হয়। জড়িতদের নাম পাওয়া গেছে। মামলা হলে সবার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

কুষ্টিয়া জেলা স্কুলের প্রধান শিক্ষক ইফতে খায়রুল ইসলাম বলেন, “ছেলেরা সকালে উত্তেজিত হয়ে পড়ে। আমি তাদের ঠাণ্ডা রাখার চেষ্টা করি। তারা আমার কথা না শুনে পুলিশের সামনে কলকাকলী স্কুলে গিয়ে এক ছাত্রকে ছুরিকাঘাত করে। স্কুলটি ছিল। ভাংচুর করা হয়েছে। এটা লজ্জার। আমার স্কুলের এক ছাত্রের কাছ থেকে ড্যাগার উদ্ধার করা হয়েছে। জড়িত সবার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”