১১:৪১ অপরাহ্ন, সোমবার, ২০ মে ২০২৪

সিলেটে বন্যা পরিস্থিতি অপরিবর্তিত রয়েছে, গতকাল রাত থেকে আবারও বৃষ্টি হচ্ছে

নিজস্ব সংবাদ :
  • আপডেট সময় ০৭:৫১:১৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২২ জুন ২০২২
  • / ১৯০ বার পড়া হয়েছে

bdopennews

সিলেটে বন্যা পরিস্থিতি অপরিবর্তিত রয়েছে। তবে বিয়ানীবাজার ও ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলার বন্যা পরিস্থিতির কিছুটা অবনতি হয়েছে। এদিকে মঙ্গলবার সারাদিন সিলেটের আকাশ পরিষ্কার থাকলেও গতকাল বিকেল ৩টা থেকে বুধবার সকাল ১০টা পর্যন্ত সিলেটে বৃষ্টি হয়েছে।

সিলেটের কুশিয়ারা ও সারি নদীর দুই পয়েন্টের পানি বিপদসীমার নিচে থাকলেও অন্যান্য নদীর পানি বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। সিলেট পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) সূত্রে জানা গেছে, কানাইঘাট পয়েন্টে সুরমা নদীর পানির উচ্চতা ১২ দশমিক ৮৫ সেন্টিমিটার। গতকাল সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত ওই স্থানে পানির স্তর ছিল ১৩ দশমিক ৬ সেন্টিমিটার। আজ সকাল ৯টায় ওই পয়েন্টে পানির স্তর ১৩ দশমিক ৭৫ সেন্টিমিটার। নদীটির সিলেট পয়েন্টে পানির স্তর 10.60 সেন্টিমিটার। গতকাল সন্ধ্যা পর্যন্ত এটি ছিল 11.18 সেন্টিমিটার। আজ সকাল ৯টার হিসাব অনুযায়ী সেখানে পানি ছিল ১১ দশমিক ১১ সেন্টিমিটার

কুশিয়ারা নদীর অমলশিদ পয়েন্টে বিপদসীমা ১৫.৪০ সেন্টিমিটার। গত সোমবার সেখানে পানির স্তর ছিল 16.29 সেন্টিমিটার। আজ সকাল ৬টায় পানি অপরিবর্তিত রয়েছে। নদীর শেওলান পয়েন্টে বিপদসীমা ১৩.০৫ সেন্টিমিটার। সকাল ৯টায় পানির স্তর ১৩ দশমিক ৭৫ সেন্টিমিটার। গতকাল সন্ধ্যায় কুশিয়ারা নদীর শেরপুর পয়েন্টে পানি বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হলেও সকাল ৯টায় বিপদসীমার ৩৩ সেন্টিমিটার নিচ থেকে প্রবাহিত হচ্ছে। তখন বিপদের মাত্রা ৮.৫৫ সেন্টিমিটার। কুশিয়ারা নদীর ফেঞ্চুগঞ্জ পয়েন্টে বিপদসীমা ১০ দশমিক ৪৫ সেন্টিমিটার। গত সন্ধ্যা পর্যন্ত সেখানে ছিল 6.31 সেন্টিমিটার। আজ সকাল ৯টায় তা ছিল ১০ দশমিক ৫৬ সেন্টিমিটার।

এছাড়া গতকাল সন্ধ্যায় লুভা নদীর পানির উচ্চতা ছিল ১৩ দশমিক ৯২ সেন্টিমিটার। আজ 9 টায় এটি দাঁড়িয়েছে 13.93 সেন্টিমিটারে। সারিঘাট পয়েন্টে সারি নদীর পানি বিপদসীমার ১ দশমিক ০৫ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

গত বুধবার থেকে টানা বৃষ্টি ও খাড়া ঢলে সিলেট নগরীর বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হচ্ছে। ফলে শহর ও এর আশপাশের বাসিন্দারা ঘরবাড়ি ছেড়ে আত্মীয়-স্বজনের বাড়িতে আশ্রয় ও নিরাপদ আশ্রয়ের জন্য অবস্থান করছেন।

আজ সকালে সিলেট নগরীর ১৫টি এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, নগরীর তালতলা, মির্জাজাঙ্গাল, লামা বাজার, কুয়ারপাড়, লালদীঘির পাড়, শিবগঞ্জ, তেরতন, শাহজালাল উপশহর এলাকা আগের অবস্থানে রয়েছে। বন্যা কবলিত শহরের বাসিন্দাদের বিশুদ্ধ পানির ভীষণ প্রয়োজন। তবে সিলেট সিটি করপোরেশনের বিশুদ্ধ পানি সরবরাহকারী ট্যাংকগুলো বিভিন্ন পাড়া মহল্লা ও আশ্রয়কেন্দ্রের সামনে দেখা গেছে। নগরীর শাহজালাল উপশহরে পানি কিছুটা নেমে গেলেও নৌকা চলাচল করছে।

সিলেট সিটি করপোরেশন সূত্রে জানা গেছে, নগরীর ভেতরে সিটি করপোরেশনের আশ্রয়কেন্দ্র রয়েছে ২৮টি। তাদের মধ্যে প্রায় ছয় হাজার বন্যাকবলিত মানুষ আশ্রয় নিয়েছে। বন্যার কারণে সিলেট সিটি করপোরেশনের পানি সরবরাহ আপাতত বন্ধ রয়েছে। তবে মোবাইল ওয়াটার সাপ্লাই ট্যাঙ্কের মাধ্যমে শহরের বাসিন্দাদের বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ করা হচ্ছে।

সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রধান প্রকৌশলী নুর আজিজুর রহমান জানান, সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে শুকনো খাবার দেওয়া হচ্ছে। এছাড়া পানি সরবরাহের ব্যবস্থা করা হয়েছে। এছাড়া সরকারের বরাদ্দকৃত চাল বিতরণের ব্যবস্থা করা হচ্ছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য

সিলেটে বন্যা পরিস্থিতি অপরিবর্তিত রয়েছে, গতকাল রাত থেকে আবারও বৃষ্টি হচ্ছে

আপডেট সময় ০৭:৫১:১৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২২ জুন ২০২২

সিলেটে বন্যা পরিস্থিতি অপরিবর্তিত রয়েছে। তবে বিয়ানীবাজার ও ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলার বন্যা পরিস্থিতির কিছুটা অবনতি হয়েছে। এদিকে মঙ্গলবার সারাদিন সিলেটের আকাশ পরিষ্কার থাকলেও গতকাল বিকেল ৩টা থেকে বুধবার সকাল ১০টা পর্যন্ত সিলেটে বৃষ্টি হয়েছে।

সিলেটের কুশিয়ারা ও সারি নদীর দুই পয়েন্টের পানি বিপদসীমার নিচে থাকলেও অন্যান্য নদীর পানি বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। সিলেট পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) সূত্রে জানা গেছে, কানাইঘাট পয়েন্টে সুরমা নদীর পানির উচ্চতা ১২ দশমিক ৮৫ সেন্টিমিটার। গতকাল সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত ওই স্থানে পানির স্তর ছিল ১৩ দশমিক ৬ সেন্টিমিটার। আজ সকাল ৯টায় ওই পয়েন্টে পানির স্তর ১৩ দশমিক ৭৫ সেন্টিমিটার। নদীটির সিলেট পয়েন্টে পানির স্তর 10.60 সেন্টিমিটার। গতকাল সন্ধ্যা পর্যন্ত এটি ছিল 11.18 সেন্টিমিটার। আজ সকাল ৯টার হিসাব অনুযায়ী সেখানে পানি ছিল ১১ দশমিক ১১ সেন্টিমিটার

কুশিয়ারা নদীর অমলশিদ পয়েন্টে বিপদসীমা ১৫.৪০ সেন্টিমিটার। গত সোমবার সেখানে পানির স্তর ছিল 16.29 সেন্টিমিটার। আজ সকাল ৬টায় পানি অপরিবর্তিত রয়েছে। নদীর শেওলান পয়েন্টে বিপদসীমা ১৩.০৫ সেন্টিমিটার। সকাল ৯টায় পানির স্তর ১৩ দশমিক ৭৫ সেন্টিমিটার। গতকাল সন্ধ্যায় কুশিয়ারা নদীর শেরপুর পয়েন্টে পানি বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হলেও সকাল ৯টায় বিপদসীমার ৩৩ সেন্টিমিটার নিচ থেকে প্রবাহিত হচ্ছে। তখন বিপদের মাত্রা ৮.৫৫ সেন্টিমিটার। কুশিয়ারা নদীর ফেঞ্চুগঞ্জ পয়েন্টে বিপদসীমা ১০ দশমিক ৪৫ সেন্টিমিটার। গত সন্ধ্যা পর্যন্ত সেখানে ছিল 6.31 সেন্টিমিটার। আজ সকাল ৯টায় তা ছিল ১০ দশমিক ৫৬ সেন্টিমিটার।

এছাড়া গতকাল সন্ধ্যায় লুভা নদীর পানির উচ্চতা ছিল ১৩ দশমিক ৯২ সেন্টিমিটার। আজ 9 টায় এটি দাঁড়িয়েছে 13.93 সেন্টিমিটারে। সারিঘাট পয়েন্টে সারি নদীর পানি বিপদসীমার ১ দশমিক ০৫ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

গত বুধবার থেকে টানা বৃষ্টি ও খাড়া ঢলে সিলেট নগরীর বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হচ্ছে। ফলে শহর ও এর আশপাশের বাসিন্দারা ঘরবাড়ি ছেড়ে আত্মীয়-স্বজনের বাড়িতে আশ্রয় ও নিরাপদ আশ্রয়ের জন্য অবস্থান করছেন।

আজ সকালে সিলেট নগরীর ১৫টি এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, নগরীর তালতলা, মির্জাজাঙ্গাল, লামা বাজার, কুয়ারপাড়, লালদীঘির পাড়, শিবগঞ্জ, তেরতন, শাহজালাল উপশহর এলাকা আগের অবস্থানে রয়েছে। বন্যা কবলিত শহরের বাসিন্দাদের বিশুদ্ধ পানির ভীষণ প্রয়োজন। তবে সিলেট সিটি করপোরেশনের বিশুদ্ধ পানি সরবরাহকারী ট্যাংকগুলো বিভিন্ন পাড়া মহল্লা ও আশ্রয়কেন্দ্রের সামনে দেখা গেছে। নগরীর শাহজালাল উপশহরে পানি কিছুটা নেমে গেলেও নৌকা চলাচল করছে।

সিলেট সিটি করপোরেশন সূত্রে জানা গেছে, নগরীর ভেতরে সিটি করপোরেশনের আশ্রয়কেন্দ্র রয়েছে ২৮টি। তাদের মধ্যে প্রায় ছয় হাজার বন্যাকবলিত মানুষ আশ্রয় নিয়েছে। বন্যার কারণে সিলেট সিটি করপোরেশনের পানি সরবরাহ আপাতত বন্ধ রয়েছে। তবে মোবাইল ওয়াটার সাপ্লাই ট্যাঙ্কের মাধ্যমে শহরের বাসিন্দাদের বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ করা হচ্ছে।

সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রধান প্রকৌশলী নুর আজিজুর রহমান জানান, সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে শুকনো খাবার দেওয়া হচ্ছে। এছাড়া পানি সরবরাহের ব্যবস্থা করা হয়েছে। এছাড়া সরকারের বরাদ্দকৃত চাল বিতরণের ব্যবস্থা করা হচ্ছে।