০৭:৪০ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৮ মে ২০২৪

সিলেটে বন্যার পানি বাড়ছে, আটকে পড়াদের উদ্ধারে নামছে সেনাবাহিনী

নিজস্ব সংবাদ :
  • আপডেট সময় ০৫:২১:০০ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ জুন ২০২২
  • / ১১৫১ বার পড়া হয়েছে

bdopennews

চুলা নিমজ্জিত। রান্না বন্ধ. ঘরে শুকনো খাবার নেই। নলকূপ ডুবে যাওয়ায় পানীয় জলের সংকট দেখা দিয়েছে। চারিদিকে বুক থেকে কাঁচের জল। ফলে আশপাশের গ্রামের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। এবার চিত্র কমবেশি সিলেটের বন্যা কবলিত এলাকার। এ ছাড়া অতিরিক্ত পানি প্রবেশের কারণে কোম্পানীগঞ্জ ও গোয়াইনঘাটে বহু মানুষকে গৃহবন্দি করা হয়েছে।

এমন পরিস্থিতিতে বন্যার পানিতে আটকে পড়া মানুষকে উদ্ধারে কোম্পানীগঞ্জ ও গোয়াইনঘাট উপজেলায় সেনা মোতায়েন করা হচ্ছে। জেলা প্রশাসক মো. মুজিবুর রহমান আজ শুক্রবার সকাল ১০টায় মো

এ দুই উপজেলার বাসিন্দা ও প্রশাসনের কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার দুপুরের দিকে হাঁটু সমান পানি থাকলেও রাতের দিকে তা ভিজে গেছে। ফলে শুক্রবার সকালে বহু মানুষকে ঘরবাড়িতে আশ্রয় নিতে হয়েছে। বৃষ্টি হচ্ছে বলে তারা সেখানে থাকতে পারছে না। নৌকা না থাকায় আশ্রয়কেন্দ্রেও যেতে পারছেন না। সিলেট-সুনামগঞ্জ সড়ক পানিতে উপচে পড়েছে। ফলে ঝুঁকিপূর্ণ এ সড়কে সীমিত আকারে যানবাহন চলাচল করছে। অন্যদিকে বন্যায় সিলেট-কোম্পানীগঞ্জ-ভোলাগঞ্জ আঞ্চলিক মহাসড়ক পানিতে তলিয়ে গেছে বলে জানিয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) সিলেট। এছাড়া সারি নদীর এক পয়েন্টে বিপদসীমার ওপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছে। জেলার অন্যান্য নদ-নদীতেও পানির উচ্চতা বাড়ছে বলে জানিয়েছেন পাউবো কর্মকর্তারা।

বন্যার পানি বেড়ে যাওয়ায় বহু মানুষ ঘরে আটকা পড়েছে বলে জানিয়েছেন বানভাসিরা। তারা এই অবস্থা থেকে বেরিয়ে আসতে চায়। এ ছাড়া অনেক বন্যার্ত মানুষ খাদ্য ও পানির সংকটে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ঘরে হাঁটু থেকে এক গ্লাস পানি উঠে যাওয়ায় গৃহহীন হয়ে পড়েছেন অনেকে। অনেকেই ত্রাণ পাচ্ছেন না। এতে চরম মানবিক বিপর্যয় সৃষ্টি হয়েছে। পানির স্তর বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সংকটও বাড়ছে।

স্থানীয় প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধি ও বন্যা কবলিত মানুষ সূত্রে জানা গেছে, সিলেট নগরীর অন্তত ২০টি এলাকা এবং জেলার কোম্পানীগঞ্জ, গোয়াইনঘাট, সদর, জৈন্তাপুর, কানাইঘাট ও দক্ষিণ সুরমা উপজেলার ৬ শতাধিক গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। বন্যার জল প্লাবিত হয়েছে অন্তত ১০ লাখ মানুষ। এসব এলাকায় জোঁক, সাপ ও পোকামাকড়ের উপদ্রব বেড়েছে। নৌচলাচলের জন্য নৌকা মেলে না। ফলে জরুরি প্রয়োজনে কেউ ঘর থেকে বের হতে পারছে না।

একাধিক জনপ্রতিনিধির সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সিলেট-সুনামগঞ্জ সড়ক পানিতে উপচে পড়ছে। ফলে ঝুঁকিপূর্ণ এ সড়কে সীমিত আকারে যানবাহন চলাচল করছে। অন্যদিকে সিলেট-কোম্পানীগঞ্জ-ভোলাগঞ্জ আঞ্চলিক মহাসড়ক পানিতে তলিয়ে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। রাস্তাঘাট তলিয়ে যাওয়ায় গোয়াইনঘাট উপজেলাও জেলা শহর থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, সিলেট নগরীর তালতলা, জামতলা, মির্জাজাঙ্গাল, কালীঘাট, মাছিমপুর, মেন্দিবাগ, উপশহর, তেরোটান, জতারপুর, সোবহানীঘাট, চালিবন্দর ও ঘাসিটুলা এলাকা বন্যার পানিতে প্লাবিত হয়েছে। এসব এলাকার অনেক সড়ক পানিতে তলিয়ে গেছে। প্লাবিত হয়েছে বাড়িঘর ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। বন্যার পানিতে ভাসছে আবর্জনা। এসব পানি থেকে দুর্গন্ধও ছড়াচ্ছে।

জেলা প্রশাসক মো. মজিবুর রহমান প্রথম আলো</em>কে বলেন, বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রশাসন আন্তরিকভাবে কাজ করছে। যাদের বাড়িঘর প্লাবিত হয়েছে তাদের আশ্রয়কেন্দ্র বা নিরাপদ স্থানে সরে যেতে বলা হচ্ছে। খাদ্য সংকট নিরসনে ত্রাণ সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। শীঘ্রই উদ্ধারকাজ শুরু করবে সেনাবাহিনী।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য

সিলেটে বন্যার পানি বাড়ছে, আটকে পড়াদের উদ্ধারে নামছে সেনাবাহিনী

আপডেট সময় ০৫:২১:০০ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ জুন ২০২২

চুলা নিমজ্জিত। রান্না বন্ধ. ঘরে শুকনো খাবার নেই। নলকূপ ডুবে যাওয়ায় পানীয় জলের সংকট দেখা দিয়েছে। চারিদিকে বুক থেকে কাঁচের জল। ফলে আশপাশের গ্রামের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। এবার চিত্র কমবেশি সিলেটের বন্যা কবলিত এলাকার। এ ছাড়া অতিরিক্ত পানি প্রবেশের কারণে কোম্পানীগঞ্জ ও গোয়াইনঘাটে বহু মানুষকে গৃহবন্দি করা হয়েছে।

এমন পরিস্থিতিতে বন্যার পানিতে আটকে পড়া মানুষকে উদ্ধারে কোম্পানীগঞ্জ ও গোয়াইনঘাট উপজেলায় সেনা মোতায়েন করা হচ্ছে। জেলা প্রশাসক মো. মুজিবুর রহমান আজ শুক্রবার সকাল ১০টায় মো

এ দুই উপজেলার বাসিন্দা ও প্রশাসনের কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার দুপুরের দিকে হাঁটু সমান পানি থাকলেও রাতের দিকে তা ভিজে গেছে। ফলে শুক্রবার সকালে বহু মানুষকে ঘরবাড়িতে আশ্রয় নিতে হয়েছে। বৃষ্টি হচ্ছে বলে তারা সেখানে থাকতে পারছে না। নৌকা না থাকায় আশ্রয়কেন্দ্রেও যেতে পারছেন না। সিলেট-সুনামগঞ্জ সড়ক পানিতে উপচে পড়েছে। ফলে ঝুঁকিপূর্ণ এ সড়কে সীমিত আকারে যানবাহন চলাচল করছে। অন্যদিকে বন্যায় সিলেট-কোম্পানীগঞ্জ-ভোলাগঞ্জ আঞ্চলিক মহাসড়ক পানিতে তলিয়ে গেছে বলে জানিয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) সিলেট। এছাড়া সারি নদীর এক পয়েন্টে বিপদসীমার ওপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছে। জেলার অন্যান্য নদ-নদীতেও পানির উচ্চতা বাড়ছে বলে জানিয়েছেন পাউবো কর্মকর্তারা।

বন্যার পানি বেড়ে যাওয়ায় বহু মানুষ ঘরে আটকা পড়েছে বলে জানিয়েছেন বানভাসিরা। তারা এই অবস্থা থেকে বেরিয়ে আসতে চায়। এ ছাড়া অনেক বন্যার্ত মানুষ খাদ্য ও পানির সংকটে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ঘরে হাঁটু থেকে এক গ্লাস পানি উঠে যাওয়ায় গৃহহীন হয়ে পড়েছেন অনেকে। অনেকেই ত্রাণ পাচ্ছেন না। এতে চরম মানবিক বিপর্যয় সৃষ্টি হয়েছে। পানির স্তর বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সংকটও বাড়ছে।

স্থানীয় প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধি ও বন্যা কবলিত মানুষ সূত্রে জানা গেছে, সিলেট নগরীর অন্তত ২০টি এলাকা এবং জেলার কোম্পানীগঞ্জ, গোয়াইনঘাট, সদর, জৈন্তাপুর, কানাইঘাট ও দক্ষিণ সুরমা উপজেলার ৬ শতাধিক গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। বন্যার জল প্লাবিত হয়েছে অন্তত ১০ লাখ মানুষ। এসব এলাকায় জোঁক, সাপ ও পোকামাকড়ের উপদ্রব বেড়েছে। নৌচলাচলের জন্য নৌকা মেলে না। ফলে জরুরি প্রয়োজনে কেউ ঘর থেকে বের হতে পারছে না।

একাধিক জনপ্রতিনিধির সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সিলেট-সুনামগঞ্জ সড়ক পানিতে উপচে পড়ছে। ফলে ঝুঁকিপূর্ণ এ সড়কে সীমিত আকারে যানবাহন চলাচল করছে। অন্যদিকে সিলেট-কোম্পানীগঞ্জ-ভোলাগঞ্জ আঞ্চলিক মহাসড়ক পানিতে তলিয়ে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। রাস্তাঘাট তলিয়ে যাওয়ায় গোয়াইনঘাট উপজেলাও জেলা শহর থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, সিলেট নগরীর তালতলা, জামতলা, মির্জাজাঙ্গাল, কালীঘাট, মাছিমপুর, মেন্দিবাগ, উপশহর, তেরোটান, জতারপুর, সোবহানীঘাট, চালিবন্দর ও ঘাসিটুলা এলাকা বন্যার পানিতে প্লাবিত হয়েছে। এসব এলাকার অনেক সড়ক পানিতে তলিয়ে গেছে। প্লাবিত হয়েছে বাড়িঘর ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। বন্যার পানিতে ভাসছে আবর্জনা। এসব পানি থেকে দুর্গন্ধও ছড়াচ্ছে।

জেলা প্রশাসক মো. মজিবুর রহমান প্রথম আলো</em>কে বলেন, বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রশাসন আন্তরিকভাবে কাজ করছে। যাদের বাড়িঘর প্লাবিত হয়েছে তাদের আশ্রয়কেন্দ্র বা নিরাপদ স্থানে সরে যেতে বলা হচ্ছে। খাদ্য সংকট নিরসনে ত্রাণ সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। শীঘ্রই উদ্ধারকাজ শুরু করবে সেনাবাহিনী।