১২:২৭ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ মে ২০২৪

সার্ভেয়ারের বিরুদ্ধে কমিশন-বাণিজ্যের অভিযোগ

নিজস্ব সংবাদ :
  • আপডেট সময় ০৩:৫৭:২৫ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৪ জুলাই ২০২২
  • / ১১৩৫ বার পড়া হয়েছে

bdopennnews

গত ১ জুলাই আতিকুর রহমান ২৩ লাখ ৭৩ হাজার ৯০০ টাকা ভর্তি ব্যাগ নিয়ে কক্সবাজার থেকে ঢাকায় এসে গ্রেফতার হন।

ধলঘাটা ইউনিয়নে মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দরের একাংশের উন্নয়ন করা হচ্ছে। ইউনিয়নের চেয়ারম্যান কামরুল হাসান বিডি ওপেন নিউজকে জানান, সার্ভেয়ার আতিকুর হোয়ানক ও ধলঘাটা দেড় বছর ধরে সরকারের বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের জমি অধিগ্রহণের দায়িত্বে রয়েছেন। এ সময় একটি শক্তিশালী দালাল চক্র গড়ে ওঠে। বন্দরের জন্য অধিগ্রহণ করা ৩১৫ একর জমির প্রতি ইউনিট ক্ষতিপূরণ নির্ধারণ করা হয়েছে ৫৫ লাখ টাকা। কিন্তু ক্ষতিপূরণের চেক পেতে জমির মালিকদের দালালের মাধ্যমে জরিপকারীকে ২০-৩০ শতাংশ কমিশন দিতে হয়। কমিশন-বাণিজ্যের বিষয়ে এলএ অফিসসহ সংশ্লিষ্ট দফতরকে জানিয়েও কোনো প্রতিকার পাননি বলে দাবি করেন এ জনপ্রতিনিধি।

মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্র বন্দরের জন্য অধিগ্রহণ করা ৩১৫ একর জমির মধ্যে ৬০ একর জমি সিয়েরা ডেল গ্রামের বাসিন্দা আব্দুল শুকুরের। তিন মাস আগে তার জমি অধিগ্রহণ করা হলেও ৫ জুলাই পর্যন্ত তিনি ক্ষতিপূরণ পাননি। শুকুর বিডি ওপেন নিউজকে বলেন, ধলঘাটার এক দালাল ৩০ শতাংশ কমিশনে ক্ষতিপূরণের চেক আনার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। সার্ভেয়ার আতিকুরকে ধরে ফেলে দালাল পালিয়ে যায়।

মহেশখালীতে আতিকুরের কমিশন-বাণিজ্যের সঙ্গে জড়িত দালালদের সাত সদস্যের নাম এখন স্থানীয়দের মুখে মুখে। তারা হলেন ধলঘাটার বাসিন্দা আহমেদ উল্লাহ, কুতুবউদ্দিন ও তাজ উদ্দিন, মাতারবাড়ি ইউনিয়নের আশেক উল্লাহ, ঈদগাঁও এলাকার মোহাম্মদ মিজান, উখিয়ার মৌলভী আবুল বাশার ও মোহাম্মদ জাহেদ। তারা সবাই তাদের শরীর ঢেকে রেখেছে।

কিছু জমির মালিক কমিশনের কাছে ক্ষতিপূরণের চেক পাওয়ার কথা স্বীকার করেছেন। তাদের দাবি, গত তিন-চার মাসে সার্ভেয়ার আতিকুর দালালদের মাধ্যমে এই একটি প্রকল্প থেকে পাঁচ কোটির বেশি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। দালালরা কক্সবাজার ও চট্টগ্রাম শহরে ভাড়া বাসায় ক্ষতিপূরণের ফাইল তৈরি ও ঘুষের টাকা লেনদেন করত।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক জমির মালিক জানান, ধলঘাটার এক দালালের মাধ্যমে ২৫ শতাংশ কমিশনে জমির ফাইল এলএ অফিসে জমা দেওয়া হয়। কোরবানির ঈদের আগে চেকটি দেওয়ার কথা ছিল। এখন সার্ভেয়ার জেলে, দালালও নিখোঁজ। একই অভিযোগ ধলঘাটা ইউনিয়নের বানজামিরাঘোনা এলাকার বাসিন্দা আমির হোসেন, কুতুবউদ্দিন, সারোয়ার কামাল ও শাহ আলম। আমির হোসেনের ১ একর, কুতুবউদ্দিনের ১৭ শতক, শাহ আলম গঙ্গার ১ একর এবং সারোয়ার কামালের ১ একর চার মাস আগে সমুদ্রবন্দরের জন্য অধিগ্রহণ করা হয়। সার্ভেয়ারের সঙ্গেও যোগাযোগ করা হচ্ছে। কিন্তু এখন পর্যন্ত কেউ চেক পায়নি। তবে একই সময়ে অধিগ্রহণকৃত জমির কয়েকজন মালিক দালালের মাধ্যমে ক্ষতিপূরণের চেক নিয়ে এসেছেন অনেক আগেই।

তবে মহেশখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ ইয়াছিন জরিপকারী ও দালালদের কমিশন-বাণিজ্য সম্পর্কে কিছুই জানেন না। তিনি বলেন, ক্ষতিপূরণের চেক জেলা প্রশাসনের এলএ শাখার।

ক্ষতিপূরণের চেক ইস্যুতে দুর্নীতির সুযোগ নেই দাবি করে এলএ শাখার ভূমি অধিগ্রহণ কর্মকর্তা (এলও) আরাফাত সিদ্দিকী বলেন, অফিসের আশপাশের জমির প্রকৃত মালিক ছাড়া কাউকে প্রবেশ করতে দেওয়া হচ্ছে না। সর্বত্র সিসিটিভি ক্যামেরা বসানো হচ্ছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য

সার্ভেয়ারের বিরুদ্ধে কমিশন-বাণিজ্যের অভিযোগ

আপডেট সময় ০৩:৫৭:২৫ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৪ জুলাই ২০২২

গত ১ জুলাই আতিকুর রহমান ২৩ লাখ ৭৩ হাজার ৯০০ টাকা ভর্তি ব্যাগ নিয়ে কক্সবাজার থেকে ঢাকায় এসে গ্রেফতার হন।

ধলঘাটা ইউনিয়নে মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দরের একাংশের উন্নয়ন করা হচ্ছে। ইউনিয়নের চেয়ারম্যান কামরুল হাসান বিডি ওপেন নিউজকে জানান, সার্ভেয়ার আতিকুর হোয়ানক ও ধলঘাটা দেড় বছর ধরে সরকারের বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের জমি অধিগ্রহণের দায়িত্বে রয়েছেন। এ সময় একটি শক্তিশালী দালাল চক্র গড়ে ওঠে। বন্দরের জন্য অধিগ্রহণ করা ৩১৫ একর জমির প্রতি ইউনিট ক্ষতিপূরণ নির্ধারণ করা হয়েছে ৫৫ লাখ টাকা। কিন্তু ক্ষতিপূরণের চেক পেতে জমির মালিকদের দালালের মাধ্যমে জরিপকারীকে ২০-৩০ শতাংশ কমিশন দিতে হয়। কমিশন-বাণিজ্যের বিষয়ে এলএ অফিসসহ সংশ্লিষ্ট দফতরকে জানিয়েও কোনো প্রতিকার পাননি বলে দাবি করেন এ জনপ্রতিনিধি।

মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্র বন্দরের জন্য অধিগ্রহণ করা ৩১৫ একর জমির মধ্যে ৬০ একর জমি সিয়েরা ডেল গ্রামের বাসিন্দা আব্দুল শুকুরের। তিন মাস আগে তার জমি অধিগ্রহণ করা হলেও ৫ জুলাই পর্যন্ত তিনি ক্ষতিপূরণ পাননি। শুকুর বিডি ওপেন নিউজকে বলেন, ধলঘাটার এক দালাল ৩০ শতাংশ কমিশনে ক্ষতিপূরণের চেক আনার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। সার্ভেয়ার আতিকুরকে ধরে ফেলে দালাল পালিয়ে যায়।

মহেশখালীতে আতিকুরের কমিশন-বাণিজ্যের সঙ্গে জড়িত দালালদের সাত সদস্যের নাম এখন স্থানীয়দের মুখে মুখে। তারা হলেন ধলঘাটার বাসিন্দা আহমেদ উল্লাহ, কুতুবউদ্দিন ও তাজ উদ্দিন, মাতারবাড়ি ইউনিয়নের আশেক উল্লাহ, ঈদগাঁও এলাকার মোহাম্মদ মিজান, উখিয়ার মৌলভী আবুল বাশার ও মোহাম্মদ জাহেদ। তারা সবাই তাদের শরীর ঢেকে রেখেছে।

কিছু জমির মালিক কমিশনের কাছে ক্ষতিপূরণের চেক পাওয়ার কথা স্বীকার করেছেন। তাদের দাবি, গত তিন-চার মাসে সার্ভেয়ার আতিকুর দালালদের মাধ্যমে এই একটি প্রকল্প থেকে পাঁচ কোটির বেশি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। দালালরা কক্সবাজার ও চট্টগ্রাম শহরে ভাড়া বাসায় ক্ষতিপূরণের ফাইল তৈরি ও ঘুষের টাকা লেনদেন করত।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক জমির মালিক জানান, ধলঘাটার এক দালালের মাধ্যমে ২৫ শতাংশ কমিশনে জমির ফাইল এলএ অফিসে জমা দেওয়া হয়। কোরবানির ঈদের আগে চেকটি দেওয়ার কথা ছিল। এখন সার্ভেয়ার জেলে, দালালও নিখোঁজ। একই অভিযোগ ধলঘাটা ইউনিয়নের বানজামিরাঘোনা এলাকার বাসিন্দা আমির হোসেন, কুতুবউদ্দিন, সারোয়ার কামাল ও শাহ আলম। আমির হোসেনের ১ একর, কুতুবউদ্দিনের ১৭ শতক, শাহ আলম গঙ্গার ১ একর এবং সারোয়ার কামালের ১ একর চার মাস আগে সমুদ্রবন্দরের জন্য অধিগ্রহণ করা হয়। সার্ভেয়ারের সঙ্গেও যোগাযোগ করা হচ্ছে। কিন্তু এখন পর্যন্ত কেউ চেক পায়নি। তবে একই সময়ে অধিগ্রহণকৃত জমির কয়েকজন মালিক দালালের মাধ্যমে ক্ষতিপূরণের চেক নিয়ে এসেছেন অনেক আগেই।

তবে মহেশখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ ইয়াছিন জরিপকারী ও দালালদের কমিশন-বাণিজ্য সম্পর্কে কিছুই জানেন না। তিনি বলেন, ক্ষতিপূরণের চেক জেলা প্রশাসনের এলএ শাখার।

ক্ষতিপূরণের চেক ইস্যুতে দুর্নীতির সুযোগ নেই দাবি করে এলএ শাখার ভূমি অধিগ্রহণ কর্মকর্তা (এলও) আরাফাত সিদ্দিকী বলেন, অফিসের আশপাশের জমির প্রকৃত মালিক ছাড়া কাউকে প্রবেশ করতে দেওয়া হচ্ছে না। সর্বত্র সিসিটিভি ক্যামেরা বসানো হচ্ছে।