০৮:১৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৬ মে ২০২৪

সরকার প্রস্তাবিত বাজেটে দরিদ্রদের জন্য কিছুই করেনি: ফখরুল

নিজস্ব সংবাদ :
  • আপডেট সময় ০৯:৪৪:০০ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১০ জুন ২০২২
  • / ৯২২ বার পড়া হয়েছে

bdopennews

ক্ষমতাসীন দলের সমালোচনা করে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, আওয়ামী লীগ এমন উন্নতি করেছে যে দেশের ৪২ শতাংশ মানুষ দারিদ্র্যসীমার নিচে নেমে গেছে। অর্থাৎ 100 জনের মধ্যে 42 জনই দরিদ্র। তাদের ক্রয় ক্ষমতা নেই। বৃহস্পতিবার সংসদে প্রস্তাবিত বাজেটে আওয়ামী লীগ সরকার ওইসব মানুষের জন্য কিছুই করেনি।

শুক্রবার সকালে রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে আয়োজিত এক প্রতিবাদ সমাবেশে মির্জা ফখরুল এ কথা বলেন। গ্যাসসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ বিএনপি যৌথভাবে এ বিক্ষোভ সমাবেশের আয়োজন করে।

মির্জা ফখরুল বলেন, মানুষ যখন চাল, ডাল, তেল, লবণ কিনতে হিমশিম খাচ্ছে, তখন সরকার গ্যাসের দাম বাড়িয়েছে মুখে চপেটাঘাত। তার মানে এই সরকারের এদেশের মানুষের প্রতি কোনো ভালোবাসা নেই। ‘

সরকার জনগণের পকেট থেকে টাকা কেটে প্রশাসনের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সুযোগ-সুবিধা বাড়াচ্ছে বলে অভিযোগ করেন বিএনপি মহাসচিব। তিনি বলেন, বাজেটে দেখবেন, প্রশাসন খাতে সবচেয়ে বেশি বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। পুলিশ, ম্যাজিস্ট্রেট, জেলা প্রশাসক, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তারা প্রশাসনের লোকজন। সরকার তাদের বেতন বাড়াচ্ছে। বিভিন্ন সুযোগ বৃদ্ধি।

মির্জা ফখরুল বলেন, প্রস্তাবিত বাজেটে সবকিছু ব্যাখ্যা করে দেখা যাচ্ছে সরকার চোর-ডাকাত ও অর্থপাচারকারীদের মদদ দিয়েছে। যারা টাকা চুরি করেছে, ছিনতাই করেছে, লুট করেছে এবং বিদেশে টাকা পাচার করেছে, যারা পিকে হালদারের মতো, তারা ৬ শতাংশ ট্যাক্স দিলে তাদের টাকা ফেরত পাওয়া যাবে। কেউ কোনো প্রশ্ন করতে পারবে না। ফলে দুদক তাদের ধরবে না। হাইকোর্টেও তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা যাবে না। ‘

বর্তমান সরকার সাধারণ মানুষের নাকি লুটেরাদের, প্রশ্ন করেন বিএনপি মহাসচিব। তিনি বলেন, এই সরকার জনগণের পকেট কেটে দেশের অর্থনীতি ধ্বংস করেছে।

মির্জা ফখরুল বলেন, আওয়ামী লীগ সরকার জনগণের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে। তিনি বলেন, তারা জনগণের শত্রু। বাস ভাড়া ও গ্যাসের দাম বেড়েছে। তারা আবারও সারের দাম বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে। অর্থাৎ কৃষি খাতে সারের দাম তিন গুণ বাড়বে। শিল্পে ব্যবহৃত গ্যাসের দামও বাড়বে। এভাবেই বাড়বে প্রতিটি জিনিসের দাম।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, “বিষয়গুলোকে হালকাভাবে নেবেন না। এদেশের মানুষের ক্রয়ক্ষমতা এতটা বাড়েনি।’

হাসতে হাসতে মির্জা ফখরুল বলেন, “সরকার সোনায় মোড়ানো পদ্মা সেতু বানিয়েছে। এখন পদ্মা সেতু দিয়ে বিভিন্ন টোল দিয়ে স্বর্গে যাবো।’

বিএনপি মহাসচিব বলেন, সরকারের যদি জনগণের প্রতি ভালোবাসা থাকে তাহলে তারা এমন কাজ করবে যা সাধারণ মানুষকে বাঁচাতে পারে।

সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন বিএনপির ঢাকা মহানগর দক্ষিণের আহ্বায়ক আবদুস সালাম। সমাবেশ পরিচালনা করেন ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সদস্য সচিব রফিকুল আলম ও বিএনপির ঢাকা মহানগর উত্তরের সদস্য সচিব আমিনুল হক। বক্তব্য রাখেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান বরকত উল্লাহ, দলটির ঢাকা মহানগর উত্তরের আহ্বায়ক আমানউল্লাহ আমান প্রমুখ।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য

সরকার প্রস্তাবিত বাজেটে দরিদ্রদের জন্য কিছুই করেনি: ফখরুল

আপডেট সময় ০৯:৪৪:০০ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১০ জুন ২০২২

ক্ষমতাসীন দলের সমালোচনা করে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, আওয়ামী লীগ এমন উন্নতি করেছে যে দেশের ৪২ শতাংশ মানুষ দারিদ্র্যসীমার নিচে নেমে গেছে। অর্থাৎ 100 জনের মধ্যে 42 জনই দরিদ্র। তাদের ক্রয় ক্ষমতা নেই। বৃহস্পতিবার সংসদে প্রস্তাবিত বাজেটে আওয়ামী লীগ সরকার ওইসব মানুষের জন্য কিছুই করেনি।

শুক্রবার সকালে রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে আয়োজিত এক প্রতিবাদ সমাবেশে মির্জা ফখরুল এ কথা বলেন। গ্যাসসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ বিএনপি যৌথভাবে এ বিক্ষোভ সমাবেশের আয়োজন করে।

মির্জা ফখরুল বলেন, মানুষ যখন চাল, ডাল, তেল, লবণ কিনতে হিমশিম খাচ্ছে, তখন সরকার গ্যাসের দাম বাড়িয়েছে মুখে চপেটাঘাত। তার মানে এই সরকারের এদেশের মানুষের প্রতি কোনো ভালোবাসা নেই। ‘

সরকার জনগণের পকেট থেকে টাকা কেটে প্রশাসনের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সুযোগ-সুবিধা বাড়াচ্ছে বলে অভিযোগ করেন বিএনপি মহাসচিব। তিনি বলেন, বাজেটে দেখবেন, প্রশাসন খাতে সবচেয়ে বেশি বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। পুলিশ, ম্যাজিস্ট্রেট, জেলা প্রশাসক, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তারা প্রশাসনের লোকজন। সরকার তাদের বেতন বাড়াচ্ছে। বিভিন্ন সুযোগ বৃদ্ধি।

মির্জা ফখরুল বলেন, প্রস্তাবিত বাজেটে সবকিছু ব্যাখ্যা করে দেখা যাচ্ছে সরকার চোর-ডাকাত ও অর্থপাচারকারীদের মদদ দিয়েছে। যারা টাকা চুরি করেছে, ছিনতাই করেছে, লুট করেছে এবং বিদেশে টাকা পাচার করেছে, যারা পিকে হালদারের মতো, তারা ৬ শতাংশ ট্যাক্স দিলে তাদের টাকা ফেরত পাওয়া যাবে। কেউ কোনো প্রশ্ন করতে পারবে না। ফলে দুদক তাদের ধরবে না। হাইকোর্টেও তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা যাবে না। ‘

বর্তমান সরকার সাধারণ মানুষের নাকি লুটেরাদের, প্রশ্ন করেন বিএনপি মহাসচিব। তিনি বলেন, এই সরকার জনগণের পকেট কেটে দেশের অর্থনীতি ধ্বংস করেছে।

মির্জা ফখরুল বলেন, আওয়ামী লীগ সরকার জনগণের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে। তিনি বলেন, তারা জনগণের শত্রু। বাস ভাড়া ও গ্যাসের দাম বেড়েছে। তারা আবারও সারের দাম বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে। অর্থাৎ কৃষি খাতে সারের দাম তিন গুণ বাড়বে। শিল্পে ব্যবহৃত গ্যাসের দামও বাড়বে। এভাবেই বাড়বে প্রতিটি জিনিসের দাম।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, “বিষয়গুলোকে হালকাভাবে নেবেন না। এদেশের মানুষের ক্রয়ক্ষমতা এতটা বাড়েনি।’

হাসতে হাসতে মির্জা ফখরুল বলেন, “সরকার সোনায় মোড়ানো পদ্মা সেতু বানিয়েছে। এখন পদ্মা সেতু দিয়ে বিভিন্ন টোল দিয়ে স্বর্গে যাবো।’

বিএনপি মহাসচিব বলেন, সরকারের যদি জনগণের প্রতি ভালোবাসা থাকে তাহলে তারা এমন কাজ করবে যা সাধারণ মানুষকে বাঁচাতে পারে।

সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন বিএনপির ঢাকা মহানগর দক্ষিণের আহ্বায়ক আবদুস সালাম। সমাবেশ পরিচালনা করেন ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সদস্য সচিব রফিকুল আলম ও বিএনপির ঢাকা মহানগর উত্তরের সদস্য সচিব আমিনুল হক। বক্তব্য রাখেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান বরকত উল্লাহ, দলটির ঢাকা মহানগর উত্তরের আহ্বায়ক আমানউল্লাহ আমান প্রমুখ।