০৯:৩৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৩ এপ্রিল ২০২৪

সরকার চড়া দামে রাশিয়ান গম কিনছে

নিজস্ব সংবাদ :
  • আপডেট সময় ০৫:৩৯:৩৫ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৫ সেপ্টেম্বর ২০২২
  • / ২৩৬ বার পড়া হয়েছে

bdopennews

সরকার রাশিয়া থেকে 500,000 টন গম কিনছে, যার দাম প্রতি টন প্রায় 50 মার্কিন ডলার বেশি। খাদ্য অধিদপ্তর সরকারী পর্যায়ের চুক্তির (জেটিইউজি) অধীনে রাশিয়ান গম কিনছে প্রতি টন 430 ডলারে। যদিও বাজার মূল্য এখন ৩৮০ ডলারের মতো।

বৃহস্পতিবার সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি রাশিয়া থেকে পাঁচ লাখ টন গম কেনার অনুমোদন দিয়েছে, যা ডিসেম্বরের মধ্যে পর্যায়ক্রমে দেশে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে। প্রতি টন খরচ ৫০ ডলার বেশি হলে ৫ লাখ টন গম আমদানিতে সরকারের ২৪০ কোটি টাকার বেশি খরচ হবে।

মজুদ কমে যাওয়ায় সরকার রাশিয়া থেকে গম আমদানি করছে। গত ফেব্রুয়ারিতে রাশিয়া ইউক্রেনে হামলা শুরু করলে দেশটির (রাশিয়া) সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্য ব্যাহত হয়। গত জুলাইয়ে রাশিয়া ও ইউক্রেন খাদ্য রপ্তানি চুক্তি স্বাক্ষরের পর এ অঞ্চল থেকে খাদ্যশস্য রপ্তানি শুরু হয়েছে।

কেন রাশিয়া থেকে বেশি দামে গম কেনা হচ্ছে জানতে চাইলে খাদ্য সচিব মো. ইসমাইল হোসেন গত শুক্রবার BD OPEN NEWS

কে বলেন, ‘আমরা ২৪ আগস্ট রাশিয়ার সঙ্গে গম কেনার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। সেদিন দাম ছিল ৪৩০ ডলার। সেই দামের ওপর ভিত্তি করেই আমদানি চুক্তি হতে যাচ্ছে। তিনি বলেন, বিশ্ববাজারে খাদ্য সংকটের এই সময়ে রাশিয়া আমাদের পাঁচ লাখ টন গম রপ্তানি করবে, এটা দেশের খাদ্য নিরাপত্তার জন্য সুখবর। কারণ, সরকারের গমের মজুদ অনেকটাই কমে গেছে।

খাদ্য সচিব আরও বলেন, চুক্তি স্বাক্ষরের ৪০ দিন পর রাশিয়ান গমের প্রথম চালান দেশে আসবে। আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে পুরো পাঁচ লাখ টন গম আসবে।

সরকার গম আমদানির সিদ্ধান্ত নিলেও বেসরকারি খাত এখনো রাশিয়া থেকে আমদানি শুরু করেনি। চারটি বেসরকারি খাতের সংস্থার কর্মকর্তারা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেছেন, রাশিয়ান গমের দাম কমছে। আর একটু অপেক্ষা করলে দাম কম হবে। বেসরকারি আমদানিকারকরা সাধারণত ধানের বাজারে দাম স্থিতিশীল হওয়ার জন্য অপেক্ষা করে। এছাড়া রাশিয়া থেকে আমদানির ক্ষেত্রে পদ্ধতিগত বিষয়টি আরও স্পষ্ট হওয়া উচিত বলেও মনে করেন তারা।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন শীর্ষস্থানীয় আমদানিকারক BD Open news

কে বলেন, তাদের সরবরাহকারীরা রাশিয়ান গমের প্রতি টন প্রায় $370 দাম চাইছেন। এই হার চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে পৌঁছানো পর্যন্ত স্থায়ী হয়। বন্দরে পৌঁছানোর প্রকৃত খরচের ওপর ভিত্তি করেই সরকারি রেট। সেক্ষেত্রে প্রতি টন 10 ডলার বেশি। তিনি বলেছিলেন যে রাশিয়ান গম এখন বন্দরে পৌঁছানোর খরচের উপর নির্ভর করে প্রায় $ 380 দামে কেনা যায়।

অফিসিয়াল মূল্য 372 ডলার

গম আমদানির সিদ্ধান্তের আগে বাংলাদেশে নিযুক্ত রাশিয়ার রাষ্ট্রদূত আলেকজান্ডার মান্তিতস্কি খাদ্য মন্ত্রণালয়ে গিয়ে খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদারের সঙ্গে বৈঠক করেন। এ সময় তিনি বাংলাদেশে গম রপ্তানির আগ্রহ প্রকাশ করেন। এ সময় দুই দেশ প্রাথমিকভাবে তিন লাখ টন গম কিনতে রাজি হয়। খাদ্যমন্ত্রী গম রপ্তানিতে রাশিয়ার আগ্রহের জন্য ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, এটি দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

সূত্র জানায়, গত ২৪ আগস্ট খাদ্য মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা গম আমদানির বিষয়ে রাশিয়ার খাদ্যপণ্য রপ্তানিকারক রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান জেএসসি প্রডিনটর্গের কর্মকর্তাদের সঙ্গে ভার্চুয়াল বৈঠক করেন। বাংলাদেশ সেখানে প্রতি টন ৪৩০ ডলারে গম আমদানি করতে রাজি হয়েছে।

সবকিছু ঠিকঠাক থাকার পর গত বৃহস্পতিবার চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে বিষয়টি উঠে আসে। বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের জানানো হয়, সরকারি পর্যায়ে রাশিয়া থেকে পাঁচ লাখ টন গম আমদানিতে ব্যয় হবে ২১ দশমিক ৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় ২ দশমিক ৪২ বিলিয়ন ৫০ কোটি টাকা (প্রতি ডলার ৯৫ টাকা)। প্রতি টন দাম হবে 430 ডলার। প্রতি কেজি গমের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ৪০ টাকা ৮৫ পয়সা।

খাদ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, এ সপ্তাহের মধ্যে রাশিয়ার রপ্তানিকারক কোম্পানির প্রতিনিধির মাধ্যমে গম কেনার চুক্তি হবে।

সরকারের সেন্ট্রাল প্রকিউরমেন্ট টেকনিক্যাল ইউনিটের (সিপিটিইউ) সাবেক মহাপরিচালক ফারুক হোসেন BD OPEN NEWS

কে বলেন, ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি যে দর অনুমোদন করেছে সেটিই চূড়ান্ত মূল্য।

খাদ্য মন্ত্রক খাদ্যশস্য পরিস্থিতির উপর প্রতিদিন একটি প্রতিবেদন তৈরি করে। যেদিন মন্ত্রণালয় রাশিয়া থেকে গম আমদানির সিদ্ধান্ত নেয় (২৪ আগস্ট), খাদ্যশস্য পরিস্থিতি প্রতিবেদনে বলা হয় রাশিয়ান গমের দাম ছিল প্রতি টন $৩৩০। বাংলাদেশের বন্দরে পৌঁছাতে প্রতি টন খরচ হবে ৩৮৭ ডলার। 31 আগস্টের রিপোর্ট অনুযায়ী, রাশিয়ান গমের দাম আরও কমে $372-এ নেমে এসেছে।

নিজস্ব প্রতিবেদনে কম দাম উল্লেখ করে চড়া দামে আমদানির বিষয়ে জানতে চাইলে খাদ্য সচিব BD OPEN NEWS

কে বলেন, প্রতিবেদনে ভুল আছে। রোববার খাদ্য মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে ওই প্রতিবেদনটি আর দেখা যায়নি।

এদিকে রাশিয়া থেকে গম কিনছে আরও কয়েকটি দেশ। 23 আগস্ট রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুসারে, মিশর 240,000 টন গম কিনেছে

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য

সরকার চড়া দামে রাশিয়ান গম কিনছে

আপডেট সময় ০৫:৩৯:৩৫ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৫ সেপ্টেম্বর ২০২২

সরকার রাশিয়া থেকে 500,000 টন গম কিনছে, যার দাম প্রতি টন প্রায় 50 মার্কিন ডলার বেশি। খাদ্য অধিদপ্তর সরকারী পর্যায়ের চুক্তির (জেটিইউজি) অধীনে রাশিয়ান গম কিনছে প্রতি টন 430 ডলারে। যদিও বাজার মূল্য এখন ৩৮০ ডলারের মতো।

বৃহস্পতিবার সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি রাশিয়া থেকে পাঁচ লাখ টন গম কেনার অনুমোদন দিয়েছে, যা ডিসেম্বরের মধ্যে পর্যায়ক্রমে দেশে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে। প্রতি টন খরচ ৫০ ডলার বেশি হলে ৫ লাখ টন গম আমদানিতে সরকারের ২৪০ কোটি টাকার বেশি খরচ হবে।

মজুদ কমে যাওয়ায় সরকার রাশিয়া থেকে গম আমদানি করছে। গত ফেব্রুয়ারিতে রাশিয়া ইউক্রেনে হামলা শুরু করলে দেশটির (রাশিয়া) সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্য ব্যাহত হয়। গত জুলাইয়ে রাশিয়া ও ইউক্রেন খাদ্য রপ্তানি চুক্তি স্বাক্ষরের পর এ অঞ্চল থেকে খাদ্যশস্য রপ্তানি শুরু হয়েছে।

কেন রাশিয়া থেকে বেশি দামে গম কেনা হচ্ছে জানতে চাইলে খাদ্য সচিব মো. ইসমাইল হোসেন গত শুক্রবার BD OPEN NEWS

কে বলেন, ‘আমরা ২৪ আগস্ট রাশিয়ার সঙ্গে গম কেনার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। সেদিন দাম ছিল ৪৩০ ডলার। সেই দামের ওপর ভিত্তি করেই আমদানি চুক্তি হতে যাচ্ছে। তিনি বলেন, বিশ্ববাজারে খাদ্য সংকটের এই সময়ে রাশিয়া আমাদের পাঁচ লাখ টন গম রপ্তানি করবে, এটা দেশের খাদ্য নিরাপত্তার জন্য সুখবর। কারণ, সরকারের গমের মজুদ অনেকটাই কমে গেছে।

খাদ্য সচিব আরও বলেন, চুক্তি স্বাক্ষরের ৪০ দিন পর রাশিয়ান গমের প্রথম চালান দেশে আসবে। আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে পুরো পাঁচ লাখ টন গম আসবে।

সরকার গম আমদানির সিদ্ধান্ত নিলেও বেসরকারি খাত এখনো রাশিয়া থেকে আমদানি শুরু করেনি। চারটি বেসরকারি খাতের সংস্থার কর্মকর্তারা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেছেন, রাশিয়ান গমের দাম কমছে। আর একটু অপেক্ষা করলে দাম কম হবে। বেসরকারি আমদানিকারকরা সাধারণত ধানের বাজারে দাম স্থিতিশীল হওয়ার জন্য অপেক্ষা করে। এছাড়া রাশিয়া থেকে আমদানির ক্ষেত্রে পদ্ধতিগত বিষয়টি আরও স্পষ্ট হওয়া উচিত বলেও মনে করেন তারা।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন শীর্ষস্থানীয় আমদানিকারক BD Open news

কে বলেন, তাদের সরবরাহকারীরা রাশিয়ান গমের প্রতি টন প্রায় $370 দাম চাইছেন। এই হার চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে পৌঁছানো পর্যন্ত স্থায়ী হয়। বন্দরে পৌঁছানোর প্রকৃত খরচের ওপর ভিত্তি করেই সরকারি রেট। সেক্ষেত্রে প্রতি টন 10 ডলার বেশি। তিনি বলেছিলেন যে রাশিয়ান গম এখন বন্দরে পৌঁছানোর খরচের উপর নির্ভর করে প্রায় $ 380 দামে কেনা যায়।

অফিসিয়াল মূল্য 372 ডলার

গম আমদানির সিদ্ধান্তের আগে বাংলাদেশে নিযুক্ত রাশিয়ার রাষ্ট্রদূত আলেকজান্ডার মান্তিতস্কি খাদ্য মন্ত্রণালয়ে গিয়ে খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদারের সঙ্গে বৈঠক করেন। এ সময় তিনি বাংলাদেশে গম রপ্তানির আগ্রহ প্রকাশ করেন। এ সময় দুই দেশ প্রাথমিকভাবে তিন লাখ টন গম কিনতে রাজি হয়। খাদ্যমন্ত্রী গম রপ্তানিতে রাশিয়ার আগ্রহের জন্য ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, এটি দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

সূত্র জানায়, গত ২৪ আগস্ট খাদ্য মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা গম আমদানির বিষয়ে রাশিয়ার খাদ্যপণ্য রপ্তানিকারক রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান জেএসসি প্রডিনটর্গের কর্মকর্তাদের সঙ্গে ভার্চুয়াল বৈঠক করেন। বাংলাদেশ সেখানে প্রতি টন ৪৩০ ডলারে গম আমদানি করতে রাজি হয়েছে।

সবকিছু ঠিকঠাক থাকার পর গত বৃহস্পতিবার চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে বিষয়টি উঠে আসে। বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের জানানো হয়, সরকারি পর্যায়ে রাশিয়া থেকে পাঁচ লাখ টন গম আমদানিতে ব্যয় হবে ২১ দশমিক ৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় ২ দশমিক ৪২ বিলিয়ন ৫০ কোটি টাকা (প্রতি ডলার ৯৫ টাকা)। প্রতি টন দাম হবে 430 ডলার। প্রতি কেজি গমের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ৪০ টাকা ৮৫ পয়সা।

খাদ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, এ সপ্তাহের মধ্যে রাশিয়ার রপ্তানিকারক কোম্পানির প্রতিনিধির মাধ্যমে গম কেনার চুক্তি হবে।

সরকারের সেন্ট্রাল প্রকিউরমেন্ট টেকনিক্যাল ইউনিটের (সিপিটিইউ) সাবেক মহাপরিচালক ফারুক হোসেন BD OPEN NEWS

কে বলেন, ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি যে দর অনুমোদন করেছে সেটিই চূড়ান্ত মূল্য।

খাদ্য মন্ত্রক খাদ্যশস্য পরিস্থিতির উপর প্রতিদিন একটি প্রতিবেদন তৈরি করে। যেদিন মন্ত্রণালয় রাশিয়া থেকে গম আমদানির সিদ্ধান্ত নেয় (২৪ আগস্ট), খাদ্যশস্য পরিস্থিতি প্রতিবেদনে বলা হয় রাশিয়ান গমের দাম ছিল প্রতি টন $৩৩০। বাংলাদেশের বন্দরে পৌঁছাতে প্রতি টন খরচ হবে ৩৮৭ ডলার। 31 আগস্টের রিপোর্ট অনুযায়ী, রাশিয়ান গমের দাম আরও কমে $372-এ নেমে এসেছে।

নিজস্ব প্রতিবেদনে কম দাম উল্লেখ করে চড়া দামে আমদানির বিষয়ে জানতে চাইলে খাদ্য সচিব BD OPEN NEWS

কে বলেন, প্রতিবেদনে ভুল আছে। রোববার খাদ্য মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে ওই প্রতিবেদনটি আর দেখা যায়নি।

এদিকে রাশিয়া থেকে গম কিনছে আরও কয়েকটি দেশ। 23 আগস্ট রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুসারে, মিশর 240,000 টন গম কিনেছে