০১:৩৩ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২০ এপ্রিল ২০২৪

শিশু ধর্ষণ; সালিশে অভিযুক্তকে ৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়

নিজস্ব সংবাদ :
  • আপডেট সময় ০৪:৪৩:১৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৪ জুলাই ২০২২
  • / ১১০৭ বার পড়া হয়েছে

bdopennenws

কুমিল্লার লালমাই উপজেলায় শিশু ধর্ষণের অভিযোগে অভিযুক্তকে পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। উপজেলার পেরুল দক্ষিণ ইউনিয়নের গজারিয়া ব্রাহ্মণপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। অভিযুক্ত আব্দুল মতিন (৬৫)।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ৬ জুলাই একই বাড়ির ফজর আলীর ছেলে আব্দুল মতিন (৬৫) পেরুল দক্ষিণ ইউনিয়নের ৯ বছরের এক কিশোরীকে বাড়ির পাশের আখ ক্ষেতে ধর্ষণ করে। আব্দুল মতিন মেয়ের দাদা। নির্যাতিতা তার পরিবারকে জানায় তার সাথে কি ঘটেছে।

স্থানীয় ইউপি সদস্য জাহাঙ্গীর আলম মজুমদারকে ঘটনার বিস্তারিত জানিয়ে শিশুটির বাবা বিচার চান।

ঈদের পরদিন সোমবার (১১ জুলাই) সকালে গ্রামের জামিয়াতুস সুন্নাহ মাদ্রাসা মাঠে ধর্ষণের বিচারের জন্য গণসালিশ বসে। সালিশে রায় দেন গ্রামপ্রধান মিজানুর রহমান, ফিরোজ আহমেদ ভূঁইয়া, ইউপি সদস্য জাহাঙ্গীর আলম মজুমদার ও আরেক প্রধান বাবুল মজুমদার।

সালিশে ভিকটিমের জবানবন্দি নেওয়া হয় এবং ধর্ষক মতিনের স্বীকারোক্তিতে অভিযোগ প্রমাণিত হলে তাকে পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। সালিশে অংশগ্রহণকারী ব্যক্তিরা তখন ভিকটিমের পরিবারকে ঘটনার বিষয়ে কোনো মামলা বা অভিযোগ করতে নিষেধ করেন।

ধর্ষণের অভিযোগে অভিযুক্ত মতিন ও তার মেয়েকে এ বিষয়ে কথা বলতে ফোন করা হলেও তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা যায়নি।

আমি পেরুল দক্ষিণ ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ডের মেম্বার জাহাঙ্গীর আলম মজুমদারকে ফোন করলে যার ধর্ষণ মামলা ৫ হাজার টাকায় নিষ্পত্তি হয়, তিনি বলেন, আমি অন্যায় করেছি। আমান (আপনি) আসুন, আমি সরাসরি আমানের সাথে বসে গ্রামবাসীর সাথে কথা বলব। এখন কিছু বলতে পারছি না। ‘

নির্যাতিতার বাবা বলেন, “মতিন আমার স্ত্রী ও আমার কাছ থেকে দূরে থাকার সুযোগ নেয়। এরপর আমি বিচারের জন্য মেম্বারের কাছে যাই। মেম্বার আমাকে বলেন, ঈদের পর বিচার হবে। ঈদের পর সরদার মিজানুর রহমান, মাজু, মো. আমাদের গ্রামের বাবুল ও জাহাঙ্গীর মেম্বারসহ কয়েকজন মিলে মাদ্রাসার সামনে একটি চায়ের দোকানে পাবলিক সালিশ বসিয়ে সালিশে প্রথমে মতিনকে ৫০ বার ধরে ধরে ১০০ বেতের বাড়ি দেওয়ার চেষ্টা করে। এই সিদ্ধান্তে ফিরে যান।পরে মতিনকে ৫ হাজার টাকা জরিমানা করার সিদ্ধান্ত নেন।আমি প্রকাশ্যে বলেছি যে আমি এই রায় পছন্দ করি না।আমি এই রায় মানি না।টাকা নিয়ে আবার এই ঘটনার বিচার কি!তারা আমার আত্মীয়দের উপর হামলা করেছে। এই বিচারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করার জন্য। দুজন এখনও হাসপাতালে ভর্তি। এখন বলছে, আহতদের আবার হাসপাতাল থেকে সালিশ করা হবে। আমি বলি, যদি তাই হয়। কিন্তু যদি আমার বিচার পছন্দ না হয়, আমি থানায় যাব। .’

লালমাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. আইয়ুব বলেন, ‘এমন কিছু এখনো শুনিনি। লিখিত অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ‘

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য

শিশু ধর্ষণ; সালিশে অভিযুক্তকে ৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়

আপডেট সময় ০৪:৪৩:১৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৪ জুলাই ২০২২

কুমিল্লার লালমাই উপজেলায় শিশু ধর্ষণের অভিযোগে অভিযুক্তকে পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। উপজেলার পেরুল দক্ষিণ ইউনিয়নের গজারিয়া ব্রাহ্মণপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। অভিযুক্ত আব্দুল মতিন (৬৫)।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ৬ জুলাই একই বাড়ির ফজর আলীর ছেলে আব্দুল মতিন (৬৫) পেরুল দক্ষিণ ইউনিয়নের ৯ বছরের এক কিশোরীকে বাড়ির পাশের আখ ক্ষেতে ধর্ষণ করে। আব্দুল মতিন মেয়ের দাদা। নির্যাতিতা তার পরিবারকে জানায় তার সাথে কি ঘটেছে।

স্থানীয় ইউপি সদস্য জাহাঙ্গীর আলম মজুমদারকে ঘটনার বিস্তারিত জানিয়ে শিশুটির বাবা বিচার চান।

ঈদের পরদিন সোমবার (১১ জুলাই) সকালে গ্রামের জামিয়াতুস সুন্নাহ মাদ্রাসা মাঠে ধর্ষণের বিচারের জন্য গণসালিশ বসে। সালিশে রায় দেন গ্রামপ্রধান মিজানুর রহমান, ফিরোজ আহমেদ ভূঁইয়া, ইউপি সদস্য জাহাঙ্গীর আলম মজুমদার ও আরেক প্রধান বাবুল মজুমদার।

সালিশে ভিকটিমের জবানবন্দি নেওয়া হয় এবং ধর্ষক মতিনের স্বীকারোক্তিতে অভিযোগ প্রমাণিত হলে তাকে পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। সালিশে অংশগ্রহণকারী ব্যক্তিরা তখন ভিকটিমের পরিবারকে ঘটনার বিষয়ে কোনো মামলা বা অভিযোগ করতে নিষেধ করেন।

ধর্ষণের অভিযোগে অভিযুক্ত মতিন ও তার মেয়েকে এ বিষয়ে কথা বলতে ফোন করা হলেও তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা যায়নি।

আমি পেরুল দক্ষিণ ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ডের মেম্বার জাহাঙ্গীর আলম মজুমদারকে ফোন করলে যার ধর্ষণ মামলা ৫ হাজার টাকায় নিষ্পত্তি হয়, তিনি বলেন, আমি অন্যায় করেছি। আমান (আপনি) আসুন, আমি সরাসরি আমানের সাথে বসে গ্রামবাসীর সাথে কথা বলব। এখন কিছু বলতে পারছি না। ‘

নির্যাতিতার বাবা বলেন, “মতিন আমার স্ত্রী ও আমার কাছ থেকে দূরে থাকার সুযোগ নেয়। এরপর আমি বিচারের জন্য মেম্বারের কাছে যাই। মেম্বার আমাকে বলেন, ঈদের পর বিচার হবে। ঈদের পর সরদার মিজানুর রহমান, মাজু, মো. আমাদের গ্রামের বাবুল ও জাহাঙ্গীর মেম্বারসহ কয়েকজন মিলে মাদ্রাসার সামনে একটি চায়ের দোকানে পাবলিক সালিশ বসিয়ে সালিশে প্রথমে মতিনকে ৫০ বার ধরে ধরে ১০০ বেতের বাড়ি দেওয়ার চেষ্টা করে। এই সিদ্ধান্তে ফিরে যান।পরে মতিনকে ৫ হাজার টাকা জরিমানা করার সিদ্ধান্ত নেন।আমি প্রকাশ্যে বলেছি যে আমি এই রায় পছন্দ করি না।আমি এই রায় মানি না।টাকা নিয়ে আবার এই ঘটনার বিচার কি!তারা আমার আত্মীয়দের উপর হামলা করেছে। এই বিচারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করার জন্য। দুজন এখনও হাসপাতালে ভর্তি। এখন বলছে, আহতদের আবার হাসপাতাল থেকে সালিশ করা হবে। আমি বলি, যদি তাই হয়। কিন্তু যদি আমার বিচার পছন্দ না হয়, আমি থানায় যাব। .’

লালমাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. আইয়ুব বলেন, ‘এমন কিছু এখনো শুনিনি। লিখিত অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ‘