১১:৪৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ২০ মে ২০২৪

শিগগিরই মূল্যস্ফীতি কমবে না, বাড়বে: জাহিদ হোসেন

নিজস্ব সংবাদ :
  • আপডেট সময় ০৩:১৮:৪৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ২০ জুন ২০২২
  • / ৮৭৬ বার পড়া হয়েছে

bdopennews

আমদানির বর্তমান উচ্চ মূল্যস্ফীতি, এটা সত্য। কিন্তু পুরো সত্য নয়। চলতি বছরের বাজেট বক্তৃতায় একবারই বলা হয়েছে, মূল্যস্ফীতির প্রভাব শুধু আমদানি নয়, স্থানীয় বাজারেও রয়েছে।

কিছু উদাহরণ দেওয়া যেতে পারে যে পুরো মূল্যস্ফীতি আমদানি করা হয় না। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) মূল্যস্ফীতির হিসাব অনুযায়ী, মে মাসে চালের দাম বেড়েছে তিন থেকে চার টাকা। শুধু চালের দাম নয়; গম, মাছ-মাংস, শাকসবজি, ভোজ্যতেল—সবকিছুর দাম বেড়েছে প্রায়। এগুলো মুদ্রাস্ফীতির হিসাব করতে বড় অবদান রাখে। গম ও ভোজ্যতেল—আন্তর্জাতিক বাজারের কারণে এই দুটি পণ্যের দাম বাড়তে পারে। বাকি পণ্য দেশীয় বাজার থেকে কেনা হয়।

চালের দাম বাড়ার সঙ্গে আন্তর্জাতিক বাজারের কোনো সম্পর্ক নেই। তবুও ভরা মৌসুমে চালের দাম বাড়ল কেন? আমার ধারণা ধান উৎপাদনের যে তথ্য দেওয়া হচ্ছে তা আসলে তার চেয়ে কম হয়েছে। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর এবং বিবিএসের কৃষি উৎপাদনের তথ্যের মধ্যে সবসময়ই অমিল রয়েছে।

এভাবে দেশে ধানের উৎপাদন কমেছে। সম্প্রতি বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার (ডব্লিউটিও) মন্ত্রী পর্যায়ের সম্মেলনে বলা হয়েছিল, ভবিষ্যতে বিশ্বব্যাপী খাদ্য সংকট দেখা দিতে পারে। এসব বিবেচনায় আগামীতে চালের দাম বাড়তে পারে বলে দেশের চাল ব্যবসায়ীদের মধ্যে প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে। তাই তারা মজুদের দিকে বেশি মনোযোগী হয়েছেন। এসব কারণে বাজারে পর্যাপ্ত চালের সরবরাহ নেই। তাই চালের দাম বেড়েছে।

একইভাবে বেড়েছে জামাকাপড়, জুতাসহ বিভিন্ন সেবাসহ খাদ্যবহির্ভূত পণ্যের দাম। সাম্প্রতিক কর্পোরেট কেলেঙ্কারির ফলে এই বিশেষত্বের চাহিদা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই অনেক খাদ্য ও অখাদ্য পণ্যের দাম বাড়লেও এ চাহিদা কমানোর কোনো উদ্যোগ নেই। এর পেছনে কিছু কারণ রয়েছে। উদাহরণস্বরূপ, মে মাসে ডলারের দাম সবচেয়ে বেশি বেড়েছে। ডলারের বেশি দামে খোলা পণ্য বাজারে আসতে আরও দুই-তিন মাস সময় লাগবে। এ ছাড়া বাজেটে ল্যাপটপ, মোবাইল ফোন, পানি বিশুদ্ধকরণসহ মধ্যবিত্তের ভোগ্যপণ্যের ওপর শুল্ক বৃদ্ধি করা হয়েছে। সামগ্রিকভাবে আগামী অর্থবছরের বাজেট সম্প্রসারণ-সংশোধিত বাজেটের চেয়ে ২০ শতাংশ বেশি, যা চাহিদা বাড়াবে।

উদ্বেগের সর্বশেষ কারণ দেশের বড় অংশে বন্যা। আমনের বীজতলা, সবজি নষ্ট হয়ে গেছে। এই বন্যা মূল্যস্ফীতিকেও বাড়িয়ে দিতে পারে। আর এবারের বাজেটে নিম্নবিত্ত ও দরিদ্র মানুষের জন্য সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিতে বাড়তি কিছু নেই। বিদ্যুতের দাম বাড়ানো হবে বলে গুঞ্জন রয়েছে। বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধি মূল্যস্ফীতিকে আরও বাড়িয়ে দেবে। সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় শিগগিরই মূল্যস্ফীতি কমবে না, বরং বাড়বে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য

শিগগিরই মূল্যস্ফীতি কমবে না, বাড়বে: জাহিদ হোসেন

আপডেট সময় ০৩:১৮:৪৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ২০ জুন ২০২২

আমদানির বর্তমান উচ্চ মূল্যস্ফীতি, এটা সত্য। কিন্তু পুরো সত্য নয়। চলতি বছরের বাজেট বক্তৃতায় একবারই বলা হয়েছে, মূল্যস্ফীতির প্রভাব শুধু আমদানি নয়, স্থানীয় বাজারেও রয়েছে।

কিছু উদাহরণ দেওয়া যেতে পারে যে পুরো মূল্যস্ফীতি আমদানি করা হয় না। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) মূল্যস্ফীতির হিসাব অনুযায়ী, মে মাসে চালের দাম বেড়েছে তিন থেকে চার টাকা। শুধু চালের দাম নয়; গম, মাছ-মাংস, শাকসবজি, ভোজ্যতেল—সবকিছুর দাম বেড়েছে প্রায়। এগুলো মুদ্রাস্ফীতির হিসাব করতে বড় অবদান রাখে। গম ও ভোজ্যতেল—আন্তর্জাতিক বাজারের কারণে এই দুটি পণ্যের দাম বাড়তে পারে। বাকি পণ্য দেশীয় বাজার থেকে কেনা হয়।

চালের দাম বাড়ার সঙ্গে আন্তর্জাতিক বাজারের কোনো সম্পর্ক নেই। তবুও ভরা মৌসুমে চালের দাম বাড়ল কেন? আমার ধারণা ধান উৎপাদনের যে তথ্য দেওয়া হচ্ছে তা আসলে তার চেয়ে কম হয়েছে। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর এবং বিবিএসের কৃষি উৎপাদনের তথ্যের মধ্যে সবসময়ই অমিল রয়েছে।

এভাবে দেশে ধানের উৎপাদন কমেছে। সম্প্রতি বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার (ডব্লিউটিও) মন্ত্রী পর্যায়ের সম্মেলনে বলা হয়েছিল, ভবিষ্যতে বিশ্বব্যাপী খাদ্য সংকট দেখা দিতে পারে। এসব বিবেচনায় আগামীতে চালের দাম বাড়তে পারে বলে দেশের চাল ব্যবসায়ীদের মধ্যে প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে। তাই তারা মজুদের দিকে বেশি মনোযোগী হয়েছেন। এসব কারণে বাজারে পর্যাপ্ত চালের সরবরাহ নেই। তাই চালের দাম বেড়েছে।

একইভাবে বেড়েছে জামাকাপড়, জুতাসহ বিভিন্ন সেবাসহ খাদ্যবহির্ভূত পণ্যের দাম। সাম্প্রতিক কর্পোরেট কেলেঙ্কারির ফলে এই বিশেষত্বের চাহিদা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই অনেক খাদ্য ও অখাদ্য পণ্যের দাম বাড়লেও এ চাহিদা কমানোর কোনো উদ্যোগ নেই। এর পেছনে কিছু কারণ রয়েছে। উদাহরণস্বরূপ, মে মাসে ডলারের দাম সবচেয়ে বেশি বেড়েছে। ডলারের বেশি দামে খোলা পণ্য বাজারে আসতে আরও দুই-তিন মাস সময় লাগবে। এ ছাড়া বাজেটে ল্যাপটপ, মোবাইল ফোন, পানি বিশুদ্ধকরণসহ মধ্যবিত্তের ভোগ্যপণ্যের ওপর শুল্ক বৃদ্ধি করা হয়েছে। সামগ্রিকভাবে আগামী অর্থবছরের বাজেট সম্প্রসারণ-সংশোধিত বাজেটের চেয়ে ২০ শতাংশ বেশি, যা চাহিদা বাড়াবে।

উদ্বেগের সর্বশেষ কারণ দেশের বড় অংশে বন্যা। আমনের বীজতলা, সবজি নষ্ট হয়ে গেছে। এই বন্যা মূল্যস্ফীতিকেও বাড়িয়ে দিতে পারে। আর এবারের বাজেটে নিম্নবিত্ত ও দরিদ্র মানুষের জন্য সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিতে বাড়তি কিছু নেই। বিদ্যুতের দাম বাড়ানো হবে বলে গুঞ্জন রয়েছে। বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধি মূল্যস্ফীতিকে আরও বাড়িয়ে দেবে। সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় শিগগিরই মূল্যস্ফীতি কমবে না, বরং বাড়বে।