১০:৫১ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৪ এপ্রিল ২০২৪

লাশ দেখে তিন বছরের মেয়েটি বলে উঠলো ‘বাবা, বাবা

নিজস্ব সংবাদ :
  • আপডেট সময় ০৮:৫৩:৪৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৩০ জুলাই ২০২২
  • / ৭৩৪ বার পড়া হয়েছে

লাশ দেখে তিন বছরের মেয়েটি বলে উঠলো 'বাবা, বাবা

মিরসরাইয়ে রেলক্রসিংয়ে দুর্ঘটনায় নিহত মাইক্রোবাসের চালক ২৬ বছর বয়সী গোলাম মোস্তফার মরদেহ অ্যাম্বুলেন্স থেকে নামানো হচ্ছে। বাবাকে এমন অবস্থায় দেখে স্বজনদের কোলে থাকা মোস্তফার তিন বছরের মেয়ে কাঁদছে। সে ‘বাবা, বাবা’ বলে ডাকছিল।

শনিবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে চট্টগ্রামের হাটহাজারী উপজেলার খন্দকিয়া গ্রামে এ দৃশ্য দেখা যায়। শুক্রবার সকালে মিরসরাই থেকে ফেরার পথে বড়তাকিয়া স্টেশন এলাকায় ট্রেনের ধাক্কায় ১১ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন অন্তত পাঁচজন। নিহতদের মধ্যে মাইক্রোবাসের চালক, সহকারী ও কোচিং সেন্টারের শিক্ষক-শিক্ষার্থী রয়েছেন। রাতেই নিহতের স্বজনদের অনুরোধে ময়নাতদন্ত ছাড়াই মরদেহ হস্তান্তর করেছে রেলওয়ে পুলিশ।

পুলিশ জানায়, নিহতরা হলেন কোচিং সেন্টারের চার শিক্ষক জিয়াউল হক (২২), মোস্তফা মাসুদ রাকিব (১৯), রিদুয়ান চৌধুরী (২২) ও ওয়াহিদুল আলম (২৩); শিক্ষার্থী সামিরুল ইসলাম হাসান, মোসাহাব আহমেদ (১৬), ইকবাল হোসেন, শান্ত শীল ও সাজ্জাদ হোসেন, মো. আসিফ (১৮) এবং মাইক্রোবাসের চালক গোলাম মোস্তফা (২৬)। গতকাল রাত সাড়ে ১০টায় চট্টগ্রাম রেলওয়ের জিআরপি থানা থেকে নিহতদের মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

দুর্ঘটনায় কোচিং সেন্টারের শিক্ষক জিয়াউল হক (২২) নিহত হয়েছেন। মরদেহ জানাজার খাটে নিয়ে গেলে কান্নায় ভেঙে পড়েন তার মা শাহনাজ আক্তার। বাবা আবদুল হামিদ ও বোন শারমিন আক্তার কেঁদে ফেলেন। তারা কিছুতেই লাশ নিতে দেবে না। পরে স্বজনরা বুঝিয়ে শান্ত করেন।

সকাল ১০টায় বাড়ির পাশে স্থানীয় ছামদিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে জিয়াউলের ​​জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। একই জানাজায় মাইক্রোবাস চালক গোলাম মোস্তফাসহ মোট পাঁচজনের জানাজা হয়। পরে তাদের স্থানীয় পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়। এবারের এসএসসি পরীক্ষার্থী মোছাব আহমেদের জানাজা সকাল সাড়ে ১০টায় খন্দকিয়া কেএস নজু মিয়া উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে অনুষ্ঠিত হয়।

জানাজায় ভিড় জমান মানুষ। জানাজায় যোগ দিতে সকাল আটটা থেকে লোকজন আসতে শুরু করে। চামদিয়া স্কুলের মাঠ মানুষে ভরে যাওয়ায় লোকজন পাশের সড়কে দাঁড়িয়ে জানাজায় অংশ নেয়। দুর্ঘটনায় নিহত দুজনের জানাজা হয়েছে আগের রাতে। মাদ্রাসায় জানাজা শেষে গ্রামের বাড়িতে দাফন করা হয় আরও দুজনকে। তারা খন্দকিয়ার বিভিন্ন বাড়িতে থাকতেন।

জানাজায় স্থানীয় সংসদ সদস্য আনিসুল ইসলাম মাহমুদ, চট্টগ্রাম জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এম এ সালাম, হাটহাজারী উপজেলা চেয়ারম্যান রাশেদুল আলম, হাটহাজারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শহিদুল আলমসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য

লাশ দেখে তিন বছরের মেয়েটি বলে উঠলো ‘বাবা, বাবা

আপডেট সময় ০৮:৫৩:৪৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৩০ জুলাই ২০২২

মিরসরাইয়ে রেলক্রসিংয়ে দুর্ঘটনায় নিহত মাইক্রোবাসের চালক ২৬ বছর বয়সী গোলাম মোস্তফার মরদেহ অ্যাম্বুলেন্স থেকে নামানো হচ্ছে। বাবাকে এমন অবস্থায় দেখে স্বজনদের কোলে থাকা মোস্তফার তিন বছরের মেয়ে কাঁদছে। সে ‘বাবা, বাবা’ বলে ডাকছিল।

শনিবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে চট্টগ্রামের হাটহাজারী উপজেলার খন্দকিয়া গ্রামে এ দৃশ্য দেখা যায়। শুক্রবার সকালে মিরসরাই থেকে ফেরার পথে বড়তাকিয়া স্টেশন এলাকায় ট্রেনের ধাক্কায় ১১ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন অন্তত পাঁচজন। নিহতদের মধ্যে মাইক্রোবাসের চালক, সহকারী ও কোচিং সেন্টারের শিক্ষক-শিক্ষার্থী রয়েছেন। রাতেই নিহতের স্বজনদের অনুরোধে ময়নাতদন্ত ছাড়াই মরদেহ হস্তান্তর করেছে রেলওয়ে পুলিশ।

পুলিশ জানায়, নিহতরা হলেন কোচিং সেন্টারের চার শিক্ষক জিয়াউল হক (২২), মোস্তফা মাসুদ রাকিব (১৯), রিদুয়ান চৌধুরী (২২) ও ওয়াহিদুল আলম (২৩); শিক্ষার্থী সামিরুল ইসলাম হাসান, মোসাহাব আহমেদ (১৬), ইকবাল হোসেন, শান্ত শীল ও সাজ্জাদ হোসেন, মো. আসিফ (১৮) এবং মাইক্রোবাসের চালক গোলাম মোস্তফা (২৬)। গতকাল রাত সাড়ে ১০টায় চট্টগ্রাম রেলওয়ের জিআরপি থানা থেকে নিহতদের মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

দুর্ঘটনায় কোচিং সেন্টারের শিক্ষক জিয়াউল হক (২২) নিহত হয়েছেন। মরদেহ জানাজার খাটে নিয়ে গেলে কান্নায় ভেঙে পড়েন তার মা শাহনাজ আক্তার। বাবা আবদুল হামিদ ও বোন শারমিন আক্তার কেঁদে ফেলেন। তারা কিছুতেই লাশ নিতে দেবে না। পরে স্বজনরা বুঝিয়ে শান্ত করেন।

সকাল ১০টায় বাড়ির পাশে স্থানীয় ছামদিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে জিয়াউলের ​​জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। একই জানাজায় মাইক্রোবাস চালক গোলাম মোস্তফাসহ মোট পাঁচজনের জানাজা হয়। পরে তাদের স্থানীয় পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়। এবারের এসএসসি পরীক্ষার্থী মোছাব আহমেদের জানাজা সকাল সাড়ে ১০টায় খন্দকিয়া কেএস নজু মিয়া উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে অনুষ্ঠিত হয়।

জানাজায় ভিড় জমান মানুষ। জানাজায় যোগ দিতে সকাল আটটা থেকে লোকজন আসতে শুরু করে। চামদিয়া স্কুলের মাঠ মানুষে ভরে যাওয়ায় লোকজন পাশের সড়কে দাঁড়িয়ে জানাজায় অংশ নেয়। দুর্ঘটনায় নিহত দুজনের জানাজা হয়েছে আগের রাতে। মাদ্রাসায় জানাজা শেষে গ্রামের বাড়িতে দাফন করা হয় আরও দুজনকে। তারা খন্দকিয়ার বিভিন্ন বাড়িতে থাকতেন।

জানাজায় স্থানীয় সংসদ সদস্য আনিসুল ইসলাম মাহমুদ, চট্টগ্রাম জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এম এ সালাম, হাটহাজারী উপজেলা চেয়ারম্যান রাশেদুল আলম, হাটহাজারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শহিদুল আলমসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন।