১০:১৫ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৪ এপ্রিল ২০২৪

রেলওয়ের অব্যবস্থাপনার কারণে কমলাপুর রেলস্টেশনে ঢাবি শিক্ষার্থীদের অবস্থান

নিজস্ব সংবাদ :
  • আপডেট সময় ০৩:০১:১১ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৩ জুলাই ২০২২
  • / ৭৭১ বার পড়া হয়েছে

বাংলাদেশ রেলওয়ের অব্যবস্থাপনা পরিবর্তনে ছয় দফা দাবিতে রাজধানীর কমলাপুর রেলস্টেশনে সপ্তাহব্যাপী অবস্থান কর্মসূচি পালন করছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মহিউদ্দিন রনি। প্রথমে তিনি অবস্থান কর্মসূচির পাশাপাশি গণস্বাক্ষর কর্মসূচি পালন করলেও পরে পুলিশের এক সদস্যের বাধায় গণস্বাক্ষর কর্মসূচি বন্ধ করে দেন। তাদের মধ্যে মহিউদ্দিনের সঙ্গে সংহতি জানিয়ে কর্মসূচিতে যোগ দিয়েছেন আরও কয়েকজন।

মহিউদ্দিন রনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের থিয়েটার অ্যান্ড পারফরম্যান্স স্টাডিজ বিভাগের চতুর্থ বর্ষের ছাত্র। এর আগে গত এপ্রিলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় মেডিকেল সেন্টার আধুনিকায়নের দাবিতে তিনি অনশন করেন। গত মাসে ট্রেনের টিকিট কিনতে গিয়ে হয়রানির শিকার হয়ে ঈদুল আজহার আগে ৮ জুলাই থেকে কমলাপুর রেলস্টেশনের টিকিট কাউন্টারের সামনে অনশন করেন মহিউদ্দিন। গত ১০ জুলাই ঈদের দিনও তিনি ওই অবস্থানে ছিলেন।

মহিউদ্দিনের ছয় দফা দাবি হলো অবিলম্বে সহজ ডটকমের যাত্রী হয়রানি বন্ধ করা এবং হয়রানির ঘটনা তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া, যথাযথ ব্যবস্থার মাধ্যমে টিকিট কালোবাজারি রোধ করা, অনলাইন কোটা ব্লক বা বুকিং বন্ধ করা এবং অনলাইনে টিকিট কেনা- অফলাইন জনসাধারণের জন্য সমান সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা, যাত্রীদের চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ট্রেনের সংখ্যা বাড়ানো, রেলওয়ের অবকাঠামো উন্নয়নের জন্য দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা গ্রহণ, ট্রেনের টিকিট পরিদর্শক ও অন্যান্য দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের সার্বক্ষণিক তদারকি করা, বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ নিশ্চিত করা। এবং স্বাস্থ্যকর স্যানিটেশন।

১৩ জুন, মহিউদ্দিন বাংলাদেশ রেলওয়ের ওয়েবসাইট থেকে ঢাকা-রাজশাহী রুটে একটি সিট বুক করার চেষ্টা করেন। কিন্তু মোবাইল ফোনে মোবাইল সার্ভিস প্রোভাইডার বিকাশ থেকে ভেরিফিকেশন কোড দিয়ে তার পিন কোড (গোপন কোড) ছাড়াই অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা কেটে নেওয়া হয়। মহিউদ্দিন ট্রেনে কোনো সিট পাননি, কেন টাকা নেওয়া হয়েছে তার কোনো নথি (রসিদ) দেওয়া হয়নি। ওই দিন তিনি কমলাপুর রেলস্টেশনের সার্ভার রুমে অভিযোগ দায়ের করলে তাকে ‘সিস্টেম ফেইল’ বলা হয় এবং ১৫ দিনের মধ্যে টাকা না পেলে আবার যেতে বলা হয়। কিন্তু ওই মুহূর্তে ওই কক্ষের কম্পিউটার অপারেটর ৬০ টাকা মূল্যের একটি সিট ১২০০ টাকায় বিক্রি করেন বলে অভিযোগ করেন মহিউদ্দিন।

মহিউদ্দিন জানান, তিনি ১৪ ও ১৫ জুন ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরে দুবার অভিযোগ করেছেন। কিন্তু শুনানির জন্য কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। এমন পরিস্থিতিতে গত ৬ জুলাই থেকে কমলাপুর রেলস্টেশনের টিকিট কাউন্টারের সামনে অবস্থান কর্মসূচি ও গণস্বাক্ষর কর্মসূচি শুরু করেন তিনি। অবস্থানের তৃতীয় দিনে ৯ জুলাই তাকে আটক করে পুলিশ। এরপর থেকে তিনি গণস্বাক্ষর বন্ধ রেখে ২৪ ঘণ্টা অবস্থান কর্মসূচি পালন করছেন। তবে প্রথম তিন দিনে শতাধিক মানুষের স্বাক্ষর সংগ্রহ করেন মহিউদ্দিন। রেলওয়ের অব্যবস্থাপনা নিয়ে সুপ্রিম কোর্টে রিট করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে জানান মহিউদ্দিন।

এদিকে মহিউদ্দিনের অবস্থান কর্মসূচিতে সংহতি জানিয়ে তার সঙ্গে যোগ দিয়েছেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের কমিউনিকেশন অ্যান্ড জার্নালিজম বিভাগের শিক্ষার্থী মোহাম্মদ মাহিন রুবেল ও কাজী আশিকুর রহমান এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যাংকিং অ্যান্ড ইন্স্যুরেন্স বিভাগের শিক্ষার্থী জয়া মণ্ডল। তবে জয়া মন্ডল অবস্থান কর্মসূচিতে শুধু দিনের বেলায়, অন্যরা সারাক্ষণ অবস্থান করছেন। মঙ্গলবার কমলাপুর রেলস্টেশনে মহিউদ্দিনের কর্মসূচির সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করেন দক্ষিণের সাবেক জিএস ও ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানী। এদিন মহিউদ্দিন রেলওয়ের কয়েকজন কর্মকর্তাকে শুভেচ্ছা জানিয়ে দুর্নীতির চক্র ভাঙার আহ্বান জানান।

মহিউদ্দিন বিডি ওপেন নিউজকে বলেন, ‘কমলাপুর রেলস্টেশনের ব্যবস্থাপক মোহাম্মদ মাসুদ সারওয়ার আমার সঙ্গে কথা বলেছেন। তিনি বলেন, “আমার দাবিগুলো যৌক্তিক, কিন্তু সেগুলো পূরণ করা যাচ্ছে না।” এছাড়া রেলওয়ের কয়েকজন কর্মকর্তা এসে আমার দাবিগুলো লিখে দেন। যদিও এই দাবি নিয়ে রেলের তরফে এখনও কোনও মন্তব্য করা হয়নি। দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত আমাদের অবস্থান কর্মসূচি চলবে। ‘ বাংলাদেশ রেলওয়ের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (অপারেশন্স) ও যুগ্ম মহাপরিচালক (অপারেশনস) এ এম সালাহউদ্দিন মহিউদ্দিনের কর্মসূচি ও দাবির বিষয়ে মন্তব্য করতে তার মোবাইল ফোনে একাধিক কল করেও সাড়া

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য

রেলওয়ের অব্যবস্থাপনার কারণে কমলাপুর রেলস্টেশনে ঢাবি শিক্ষার্থীদের অবস্থান

আপডেট সময় ০৩:০১:১১ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৩ জুলাই ২০২২

বাংলাদেশ রেলওয়ের অব্যবস্থাপনা পরিবর্তনে ছয় দফা দাবিতে রাজধানীর কমলাপুর রেলস্টেশনে সপ্তাহব্যাপী অবস্থান কর্মসূচি পালন করছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মহিউদ্দিন রনি। প্রথমে তিনি অবস্থান কর্মসূচির পাশাপাশি গণস্বাক্ষর কর্মসূচি পালন করলেও পরে পুলিশের এক সদস্যের বাধায় গণস্বাক্ষর কর্মসূচি বন্ধ করে দেন। তাদের মধ্যে মহিউদ্দিনের সঙ্গে সংহতি জানিয়ে কর্মসূচিতে যোগ দিয়েছেন আরও কয়েকজন।

মহিউদ্দিন রনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের থিয়েটার অ্যান্ড পারফরম্যান্স স্টাডিজ বিভাগের চতুর্থ বর্ষের ছাত্র। এর আগে গত এপ্রিলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় মেডিকেল সেন্টার আধুনিকায়নের দাবিতে তিনি অনশন করেন। গত মাসে ট্রেনের টিকিট কিনতে গিয়ে হয়রানির শিকার হয়ে ঈদুল আজহার আগে ৮ জুলাই থেকে কমলাপুর রেলস্টেশনের টিকিট কাউন্টারের সামনে অনশন করেন মহিউদ্দিন। গত ১০ জুলাই ঈদের দিনও তিনি ওই অবস্থানে ছিলেন।

মহিউদ্দিনের ছয় দফা দাবি হলো অবিলম্বে সহজ ডটকমের যাত্রী হয়রানি বন্ধ করা এবং হয়রানির ঘটনা তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া, যথাযথ ব্যবস্থার মাধ্যমে টিকিট কালোবাজারি রোধ করা, অনলাইন কোটা ব্লক বা বুকিং বন্ধ করা এবং অনলাইনে টিকিট কেনা- অফলাইন জনসাধারণের জন্য সমান সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা, যাত্রীদের চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ট্রেনের সংখ্যা বাড়ানো, রেলওয়ের অবকাঠামো উন্নয়নের জন্য দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা গ্রহণ, ট্রেনের টিকিট পরিদর্শক ও অন্যান্য দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের সার্বক্ষণিক তদারকি করা, বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ নিশ্চিত করা। এবং স্বাস্থ্যকর স্যানিটেশন।

১৩ জুন, মহিউদ্দিন বাংলাদেশ রেলওয়ের ওয়েবসাইট থেকে ঢাকা-রাজশাহী রুটে একটি সিট বুক করার চেষ্টা করেন। কিন্তু মোবাইল ফোনে মোবাইল সার্ভিস প্রোভাইডার বিকাশ থেকে ভেরিফিকেশন কোড দিয়ে তার পিন কোড (গোপন কোড) ছাড়াই অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা কেটে নেওয়া হয়। মহিউদ্দিন ট্রেনে কোনো সিট পাননি, কেন টাকা নেওয়া হয়েছে তার কোনো নথি (রসিদ) দেওয়া হয়নি। ওই দিন তিনি কমলাপুর রেলস্টেশনের সার্ভার রুমে অভিযোগ দায়ের করলে তাকে ‘সিস্টেম ফেইল’ বলা হয় এবং ১৫ দিনের মধ্যে টাকা না পেলে আবার যেতে বলা হয়। কিন্তু ওই মুহূর্তে ওই কক্ষের কম্পিউটার অপারেটর ৬০ টাকা মূল্যের একটি সিট ১২০০ টাকায় বিক্রি করেন বলে অভিযোগ করেন মহিউদ্দিন।

মহিউদ্দিন জানান, তিনি ১৪ ও ১৫ জুন ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরে দুবার অভিযোগ করেছেন। কিন্তু শুনানির জন্য কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। এমন পরিস্থিতিতে গত ৬ জুলাই থেকে কমলাপুর রেলস্টেশনের টিকিট কাউন্টারের সামনে অবস্থান কর্মসূচি ও গণস্বাক্ষর কর্মসূচি শুরু করেন তিনি। অবস্থানের তৃতীয় দিনে ৯ জুলাই তাকে আটক করে পুলিশ। এরপর থেকে তিনি গণস্বাক্ষর বন্ধ রেখে ২৪ ঘণ্টা অবস্থান কর্মসূচি পালন করছেন। তবে প্রথম তিন দিনে শতাধিক মানুষের স্বাক্ষর সংগ্রহ করেন মহিউদ্দিন। রেলওয়ের অব্যবস্থাপনা নিয়ে সুপ্রিম কোর্টে রিট করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে জানান মহিউদ্দিন।

এদিকে মহিউদ্দিনের অবস্থান কর্মসূচিতে সংহতি জানিয়ে তার সঙ্গে যোগ দিয়েছেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের কমিউনিকেশন অ্যান্ড জার্নালিজম বিভাগের শিক্ষার্থী মোহাম্মদ মাহিন রুবেল ও কাজী আশিকুর রহমান এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যাংকিং অ্যান্ড ইন্স্যুরেন্স বিভাগের শিক্ষার্থী জয়া মণ্ডল। তবে জয়া মন্ডল অবস্থান কর্মসূচিতে শুধু দিনের বেলায়, অন্যরা সারাক্ষণ অবস্থান করছেন। মঙ্গলবার কমলাপুর রেলস্টেশনে মহিউদ্দিনের কর্মসূচির সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করেন দক্ষিণের সাবেক জিএস ও ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানী। এদিন মহিউদ্দিন রেলওয়ের কয়েকজন কর্মকর্তাকে শুভেচ্ছা জানিয়ে দুর্নীতির চক্র ভাঙার আহ্বান জানান।

মহিউদ্দিন বিডি ওপেন নিউজকে বলেন, ‘কমলাপুর রেলস্টেশনের ব্যবস্থাপক মোহাম্মদ মাসুদ সারওয়ার আমার সঙ্গে কথা বলেছেন। তিনি বলেন, “আমার দাবিগুলো যৌক্তিক, কিন্তু সেগুলো পূরণ করা যাচ্ছে না।” এছাড়া রেলওয়ের কয়েকজন কর্মকর্তা এসে আমার দাবিগুলো লিখে দেন। যদিও এই দাবি নিয়ে রেলের তরফে এখনও কোনও মন্তব্য করা হয়নি। দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত আমাদের অবস্থান কর্মসূচি চলবে। ‘ বাংলাদেশ রেলওয়ের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (অপারেশন্স) ও যুগ্ম মহাপরিচালক (অপারেশনস) এ এম সালাহউদ্দিন মহিউদ্দিনের কর্মসূচি ও দাবির বিষয়ে মন্তব্য করতে তার মোবাইল ফোনে একাধিক কল করেও সাড়া