১১:৪০ অপরাহ্ন, সোমবার, ২০ মে ২০২৪

ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে দুই ভোটারকে মারধর করে এমপির অনুসারীরা

নিজস্ব সংবাদ :
  • আপডেট সময় ০৫:১৩:২০ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৪ জুলাই ২০২২
  • / ৩৪৮ বার পড়া হয়েছে

bdopennews

মানিকগঞ্জের হরিরামপুর উপজেলার ঝিটকা আনন্দমোহন উচ্চ বিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দুই অভিভাবককে মারধর করা হয়েছে।

অভিযোগ পাওয়া গেছে, স্থানীয় সংসদ সদস্য মমতাজ বেগমের অনুসারী ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে তাদের মারধর করে।

রোববার বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে বিদ্যালয় চত্বরে এ ঘটনা ঘটে। এতে বিদ্যালয়ের আশপাশ এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পরে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় প্রিজাইডিং অফিসার নির্বাচন স্থগিত করেন।

স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন মানিকগঞ্জ-২ আসনের (হরিরামপুর ও সিংগাইর) সংসদ সদস্য ও সিংগাইর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মমতাজ বেগম ও হরিরামপুর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মো. চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামী লীগের ত্রাণ ও দুর্যোগ বিষয়ক সম্পাদক দেওয়ান সাইদুর রহমান। . সাইদুর রহমান বিদ্যালয়ের বর্তমান অ্যাডহক কমিটির সভাপতি।

প্রিজাইডিং অফিসারের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, গত সোমবার নির্বাচনের জন্য চারজন অভিভাবক সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। এছাড়া বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সদস্য সচিব, একজন দাতা সদস্য ও তিনজন শিক্ষক প্রতিনিধি মনোনীত করা হয়। সব মিলিয়ে নয়জন ভোটার আজ রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করবেন। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে কয়েকদিন ধরে এমপি মমতাজ বেগমের সমর্থক ও উপজেলা চেয়ারম্যান দেওয়ান সাইদুর রহমানের সমর্থকদের মধ্যে উত্তেজনা চলছিল।

সরেজমিনে দেখা যায়, বেলা একটার দিকে উভয় পক্ষের নেতাকর্মীরা স্কুল প্রাঙ্গণে জড়ো হতে থাকে। কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে বেলা আড়াইটার দিকে উভয় পক্ষের নেতা-কর্মীদের স্কুল চত্বর থেকে বের করে নিয়ে যাওয়ার সময় সংসদ সদস্য মমতাজ বেগমের সমর্থকদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ হয়।

প্রত্যক্ষদর্শীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বেলা তিনটার দিকে সাতজন ভোটারের উপস্থিতিতে বিদ্যালয়ের নিচতলায় সভা শুরু করেন প্রিজাইডিং অফিসার মুহাম্মদ কামরুল ইসলাম। এ সময় বিদ্যালয়ের তৃতীয় তলায় মহিউদ্দিন মঞ্জু ও মিজানুর রহমান নামে দুই অভিভাবক ছিলেন। জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ইশতিয়াক আহমেদ তাদের তৃতীয় তলা থেকে নিচতলার বৈঠকখানায় নিয়ে আসছিলেন। এরপর জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক রাজেদুল ইসলামের নেতৃত্বে সংসদ সদস্যের অনুসারীরা ওই দুই অভিভাবক সদস্যকে ছিনিয়ে নিয়ে মারধর করে। পরে পুলিশ তাদের উদ্ধার করে একটি স্কুল কক্ষে নিয়ে যায়।

বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে হরিরামপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) তাপসী রাবেয়া ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীসহ বহিরাগতদের স্কুল চত্বর থেকে বের করে দেন। এরপর প্রিজাইডিং অফিসার আবার সভা শুরু করলেও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির কারণ দেখিয়ে নির্বাচন স্থগিত ঘোষণা করেন। পরে উভয় পক্ষের নেতাকর্মীরা আবার বিদ্যালয়ে প্রবেশ করে। উত্তেজনা এড়াতে সিংগাইর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রিয়াজুল হক ও র‌্যাব-৪ এর মানিকগঞ্জ ক্যাম্পের কয়েকজন সদস্য ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। তারা উভয় পক্ষের সমর্থকদের স্কুল চত্বর থেকে বের করে দেয়।

এ বিষয়ে জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক রাজেদুল ইসলাম BD OPEN NEWS

, অভিভাবক দুই সদস্যই বিএনপি-জামায়াতের সদস্য। তাদের দেখে নেতাকর্মীরা উত্তেজিত হয়ে পড়েন। তাদের মারধর করা ঠিক হয়নি বলে মন্তব্য করেন তিনি।

তবে সংসদ সদস্য মমতাজ বেগম জানান, স্থানীয় নেতাকর্মী ও নির্বাচিত সদস্যরা তাকে প্রার্থী হওয়ার প্রস্তাব দিয়েছেন। তিনি নিজেও সভাপতি পদে প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দেননি। স্কুল অ্যাডহক কমিটিতে দুর্নীতি প্রতিরোধে তারা তার নাম প্রস্তাব করতে পারে। মারধরের কথা তিনি জানেন না।

উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান দেওয়ান সাইদুর রহমান অভিযোগ করে বলেন, বেশ কয়েকদিন ধরে সংসদ সদস্য মমতাজ বেগমের সমর্থক ও পুলিশ স্কুলের ব্যবস্থাপনা কমিটির ভোটারদের হুমকি-ধমকি দিয়ে আসছে। নির্বাচনের দিন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও পুলিশের উপস্থিতিতে এমপির লোকজন অভিভাবকদের দুই সদস্যকে মারধর করে। সুষ্ঠু নির্বাচন হলে তিনি জয়ী হবেন বলে দাবি করেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য

ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে দুই ভোটারকে মারধর করে এমপির অনুসারীরা

আপডেট সময় ০৫:১৩:২০ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৪ জুলাই ২০২২

মানিকগঞ্জের হরিরামপুর উপজেলার ঝিটকা আনন্দমোহন উচ্চ বিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দুই অভিভাবককে মারধর করা হয়েছে।

অভিযোগ পাওয়া গেছে, স্থানীয় সংসদ সদস্য মমতাজ বেগমের অনুসারী ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে তাদের মারধর করে।

রোববার বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে বিদ্যালয় চত্বরে এ ঘটনা ঘটে। এতে বিদ্যালয়ের আশপাশ এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পরে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় প্রিজাইডিং অফিসার নির্বাচন স্থগিত করেন।

স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন মানিকগঞ্জ-২ আসনের (হরিরামপুর ও সিংগাইর) সংসদ সদস্য ও সিংগাইর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মমতাজ বেগম ও হরিরামপুর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মো. চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামী লীগের ত্রাণ ও দুর্যোগ বিষয়ক সম্পাদক দেওয়ান সাইদুর রহমান। . সাইদুর রহমান বিদ্যালয়ের বর্তমান অ্যাডহক কমিটির সভাপতি।

প্রিজাইডিং অফিসারের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, গত সোমবার নির্বাচনের জন্য চারজন অভিভাবক সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। এছাড়া বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সদস্য সচিব, একজন দাতা সদস্য ও তিনজন শিক্ষক প্রতিনিধি মনোনীত করা হয়। সব মিলিয়ে নয়জন ভোটার আজ রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করবেন। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে কয়েকদিন ধরে এমপি মমতাজ বেগমের সমর্থক ও উপজেলা চেয়ারম্যান দেওয়ান সাইদুর রহমানের সমর্থকদের মধ্যে উত্তেজনা চলছিল।

সরেজমিনে দেখা যায়, বেলা একটার দিকে উভয় পক্ষের নেতাকর্মীরা স্কুল প্রাঙ্গণে জড়ো হতে থাকে। কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে বেলা আড়াইটার দিকে উভয় পক্ষের নেতা-কর্মীদের স্কুল চত্বর থেকে বের করে নিয়ে যাওয়ার সময় সংসদ সদস্য মমতাজ বেগমের সমর্থকদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ হয়।

প্রত্যক্ষদর্শীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বেলা তিনটার দিকে সাতজন ভোটারের উপস্থিতিতে বিদ্যালয়ের নিচতলায় সভা শুরু করেন প্রিজাইডিং অফিসার মুহাম্মদ কামরুল ইসলাম। এ সময় বিদ্যালয়ের তৃতীয় তলায় মহিউদ্দিন মঞ্জু ও মিজানুর রহমান নামে দুই অভিভাবক ছিলেন। জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ইশতিয়াক আহমেদ তাদের তৃতীয় তলা থেকে নিচতলার বৈঠকখানায় নিয়ে আসছিলেন। এরপর জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক রাজেদুল ইসলামের নেতৃত্বে সংসদ সদস্যের অনুসারীরা ওই দুই অভিভাবক সদস্যকে ছিনিয়ে নিয়ে মারধর করে। পরে পুলিশ তাদের উদ্ধার করে একটি স্কুল কক্ষে নিয়ে যায়।

বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে হরিরামপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) তাপসী রাবেয়া ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীসহ বহিরাগতদের স্কুল চত্বর থেকে বের করে দেন। এরপর প্রিজাইডিং অফিসার আবার সভা শুরু করলেও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির কারণ দেখিয়ে নির্বাচন স্থগিত ঘোষণা করেন। পরে উভয় পক্ষের নেতাকর্মীরা আবার বিদ্যালয়ে প্রবেশ করে। উত্তেজনা এড়াতে সিংগাইর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রিয়াজুল হক ও র‌্যাব-৪ এর মানিকগঞ্জ ক্যাম্পের কয়েকজন সদস্য ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। তারা উভয় পক্ষের সমর্থকদের স্কুল চত্বর থেকে বের করে দেয়।

এ বিষয়ে জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক রাজেদুল ইসলাম BD OPEN NEWS

, অভিভাবক দুই সদস্যই বিএনপি-জামায়াতের সদস্য। তাদের দেখে নেতাকর্মীরা উত্তেজিত হয়ে পড়েন। তাদের মারধর করা ঠিক হয়নি বলে মন্তব্য করেন তিনি।

তবে সংসদ সদস্য মমতাজ বেগম জানান, স্থানীয় নেতাকর্মী ও নির্বাচিত সদস্যরা তাকে প্রার্থী হওয়ার প্রস্তাব দিয়েছেন। তিনি নিজেও সভাপতি পদে প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দেননি। স্কুল অ্যাডহক কমিটিতে দুর্নীতি প্রতিরোধে তারা তার নাম প্রস্তাব করতে পারে। মারধরের কথা তিনি জানেন না।

উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান দেওয়ান সাইদুর রহমান অভিযোগ করে বলেন, বেশ কয়েকদিন ধরে সংসদ সদস্য মমতাজ বেগমের সমর্থক ও পুলিশ স্কুলের ব্যবস্থাপনা কমিটির ভোটারদের হুমকি-ধমকি দিয়ে আসছে। নির্বাচনের দিন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও পুলিশের উপস্থিতিতে এমপির লোকজন অভিভাবকদের দুই সদস্যকে মারধর করে। সুষ্ঠু নির্বাচন হলে তিনি জয়ী হবেন বলে দাবি করেন।