০৬:২৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৯ জুন ২০২৪

মুক্ত হওয়ার পর দলের সঙ্গে সম্রাটের মহড়া

নিজস্ব সংবাদ :
  • আপডেট সময় ০৪:৩৫:৩৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৬ অগাস্ট ২০২২
  • / ৮৩৩ বার পড়া হয়েছে

bdopennews

জামিনে মুক্ত হওয়ার তিনদিন পর দল নিয়ে প্রথমবারের মতো প্রকাশ্যে এলেন যুবলীগের বহিষ্কৃত নেতা ইসমাইল হোসেন চৌধুরী ওরফে সম্রাট। আজ শুক্রবার বিকেলে হাজার হাজার নেতাকর্মী নিয়ে তিনি ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে যান। তার গাড়ির সামনে ছিল মোটরসাইকেলের বহর। অনেক কর্মী-সমর্থক পিকআপে ছিলেন।

বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে পৌঁছান সম্রাট। এর আগে দুপুর আড়াইটায় ঢাকা মহানগরীর বিভিন্ন স্থান থেকে মিছিল আসতে থাকে। বেশিরভাগ মোটরসাইকেলে চালকসহ তিনজন যাত্রী ছিলেন। তাদের প্রায় কারও মাথায় হেলমেট ছিল না। সম্রাট ৩২ নম্বর সড়কে ঢোকার আগে তাঁর অনুগত কর্মী-সমর্থকরা একসঙ্গে স্লোগান দেন।

সম্রাটের অনুগত কয়েক হাজার সমর্থকের মহড়ার কারণে ছুটির দিন থাকলেও গতকাল দুপুরের পর থেকে প্রায় তিন ঘণ্টা ধানমন্ডির রাসেল চত্বর ও আশপাশের সড়কে যানজট ছিল।

ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠন যুবলীগের সাবেক নেতা সম্রাট গত সোমবার রাতে জামিনে মুক্তি পান। অসুস্থতার কারণে কারাগারে না থেকে দীর্ঘদিন ধরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে হাসপাতালের কারাগারে চিকিৎসাধীন ছিলেন তিনি। জামিন পেয়েও গত তিন দিন ধরে হাসপাতালেই ছিলেন তিনি। আজ হাসপাতাল থেকে প্রথমে শান্তিনগরে মায়ের বাড়িতে যান সম্রাট। সেখান থেকে ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে এসে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা জানান। অবৈধ ক্যাসিনো ব্যবসায় জড়িত থাকার অভিযোগে সম্রাট 2019 সালের সেপ্টেম্বরে আত্মগোপন করেন। সে সময় রাজধানী ঢাকায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পরিচালিত অভিযান আওয়ামী লীগের ‘শুদ্ধি অভিযান’ নামে পরিচিত ছিল। ২০১৯ সালের ৭ অক্টোবর আত্মগোপনে থাকা অবস্থায় কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম থেকে গ্রেফতার হন সম্রাট। এরপর তার বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, মানি লন্ডারিং, অস্ত্র আইন এবং অপ্রকাশিত সম্পদের অভিযোগে মামলা করা হয়। এরই মধ্যে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, মানি লন্ডারিং ও অস্ত্র আইনের মামলায় জামিন পেয়েছেন তিনি। গত সোমবার জ্ঞাত আয়ের বাইরে সম্পদ অর্জনের মামলায় জামিনে মুক্তি পান তিনি। গ্রেফতারের আগ পর্যন্ত সম্রাট ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবলীগের সভাপতি ছিলেন। যুবলীগের রাজনীতিতে তাকে একজন প্রভাবশালী নেতা হিসেবে বিবেচনা করা হয়। সম্রাটকে যুবলীগ থেকে বহিষ্কার করা হলেও আজ তার মহড়ায় ঢাকা মহানগর দক্ষিণ ও যুবলীগের উত্তর কমিটির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। তাদের মধ্যে রয়েছেন ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবলীগের সহ-সভাপতি সোহরাব হোসেন, সারোয়ার হোসেন, হারুনুর রশিদ, নাজমুল হোসেন, কামাল উদ্দিন খান, মহসিন মাহমুদ, মজিব মহসিন, আলী আকবর, মুরসালিন আহমদ, খোরশেদ আলম, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাফর আহমদ, ওমর ফারুক, মো. সাংগঠনিক সম্পাদক মো. মিজানুর রহমান, ঢাকা মহানগর উত্তর যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক শাহাদাত হোসেন প্রমুখ।

সাংবাদিকরা তার ভবিষ্যত রাজনৈতিক পরিকল্পনা সম্পর্কে জানতে চাইলে সম্রাট বলেন, তিনি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কর্মচারী। তার কর্মী হিসেবে কাজ করবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য

মুক্ত হওয়ার পর দলের সঙ্গে সম্রাটের মহড়া

আপডেট সময় ০৪:৩৫:৩৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৬ অগাস্ট ২০২২

জামিনে মুক্ত হওয়ার তিনদিন পর দল নিয়ে প্রথমবারের মতো প্রকাশ্যে এলেন যুবলীগের বহিষ্কৃত নেতা ইসমাইল হোসেন চৌধুরী ওরফে সম্রাট। আজ শুক্রবার বিকেলে হাজার হাজার নেতাকর্মী নিয়ে তিনি ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে যান। তার গাড়ির সামনে ছিল মোটরসাইকেলের বহর। অনেক কর্মী-সমর্থক পিকআপে ছিলেন।

বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে পৌঁছান সম্রাট। এর আগে দুপুর আড়াইটায় ঢাকা মহানগরীর বিভিন্ন স্থান থেকে মিছিল আসতে থাকে। বেশিরভাগ মোটরসাইকেলে চালকসহ তিনজন যাত্রী ছিলেন। তাদের প্রায় কারও মাথায় হেলমেট ছিল না। সম্রাট ৩২ নম্বর সড়কে ঢোকার আগে তাঁর অনুগত কর্মী-সমর্থকরা একসঙ্গে স্লোগান দেন।

সম্রাটের অনুগত কয়েক হাজার সমর্থকের মহড়ার কারণে ছুটির দিন থাকলেও গতকাল দুপুরের পর থেকে প্রায় তিন ঘণ্টা ধানমন্ডির রাসেল চত্বর ও আশপাশের সড়কে যানজট ছিল।

ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠন যুবলীগের সাবেক নেতা সম্রাট গত সোমবার রাতে জামিনে মুক্তি পান। অসুস্থতার কারণে কারাগারে না থেকে দীর্ঘদিন ধরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে হাসপাতালের কারাগারে চিকিৎসাধীন ছিলেন তিনি। জামিন পেয়েও গত তিন দিন ধরে হাসপাতালেই ছিলেন তিনি। আজ হাসপাতাল থেকে প্রথমে শান্তিনগরে মায়ের বাড়িতে যান সম্রাট। সেখান থেকে ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে এসে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা জানান। অবৈধ ক্যাসিনো ব্যবসায় জড়িত থাকার অভিযোগে সম্রাট 2019 সালের সেপ্টেম্বরে আত্মগোপন করেন। সে সময় রাজধানী ঢাকায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পরিচালিত অভিযান আওয়ামী লীগের ‘শুদ্ধি অভিযান’ নামে পরিচিত ছিল। ২০১৯ সালের ৭ অক্টোবর আত্মগোপনে থাকা অবস্থায় কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম থেকে গ্রেফতার হন সম্রাট। এরপর তার বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, মানি লন্ডারিং, অস্ত্র আইন এবং অপ্রকাশিত সম্পদের অভিযোগে মামলা করা হয়। এরই মধ্যে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, মানি লন্ডারিং ও অস্ত্র আইনের মামলায় জামিন পেয়েছেন তিনি। গত সোমবার জ্ঞাত আয়ের বাইরে সম্পদ অর্জনের মামলায় জামিনে মুক্তি পান তিনি। গ্রেফতারের আগ পর্যন্ত সম্রাট ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবলীগের সভাপতি ছিলেন। যুবলীগের রাজনীতিতে তাকে একজন প্রভাবশালী নেতা হিসেবে বিবেচনা করা হয়। সম্রাটকে যুবলীগ থেকে বহিষ্কার করা হলেও আজ তার মহড়ায় ঢাকা মহানগর দক্ষিণ ও যুবলীগের উত্তর কমিটির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। তাদের মধ্যে রয়েছেন ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবলীগের সহ-সভাপতি সোহরাব হোসেন, সারোয়ার হোসেন, হারুনুর রশিদ, নাজমুল হোসেন, কামাল উদ্দিন খান, মহসিন মাহমুদ, মজিব মহসিন, আলী আকবর, মুরসালিন আহমদ, খোরশেদ আলম, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাফর আহমদ, ওমর ফারুক, মো. সাংগঠনিক সম্পাদক মো. মিজানুর রহমান, ঢাকা মহানগর উত্তর যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক শাহাদাত হোসেন প্রমুখ।

সাংবাদিকরা তার ভবিষ্যত রাজনৈতিক পরিকল্পনা সম্পর্কে জানতে চাইলে সম্রাট বলেন, তিনি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কর্মচারী। তার কর্মী হিসেবে কাজ করবে।