০৯:৫৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৩ এপ্রিল ২০২৪

ব্র্যান্ডের দোকানে বিক্রি ভালো, সাধারণ দোকানে ক্রেতা কম

নিজস্ব সংবাদ :
  • আপডেট সময় ১০:০২:০৯ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৮ জুলাই ২০২২
  • / ৭১১ বার পড়া হয়েছে

Brand shop

ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে এবার অভিজাত শপিংমল ও ব্র্যান্ডের দোকানে ভালো বিক্রি হয়েছে। তবে নন-ব্র্যান্ডেড স্টোর এবং সাধারণ মানের দোকানে এটি আশানুরূপ বিক্রি হয়নি। রাজধানীর বিভিন্ন এলাকার বাজার ঘুরে এ তথ্য পাওয়া গেছে।

রাজধানীর নিউমার্কেট, কারওয়ান বাজার ও হাতিরপুল এলাকার বেশ কয়েকটি দোকান ঘুরে সেখানকার ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এবারের ঈদকেন্দ্রিক বিক্রি নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া পাওয়া গেছে। বড় ও অভিজাত শপিংমল ও ব্র্যান্ডের শোরুমের বিক্রেতারা বলছেন, গত ঈদুল ফিতরের মতো এবারও আশানুরূপ বিক্রি হয়েছে। তবে সাধারণ দোকান ও দোকানে আশানুরূপ বেচাকেনা হয়নি বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।

সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা বলছেন, বিক্রি কমে যাওয়ার কারণ হিসেবে বিপুল সংখ্যক ক্রেতার জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়ে যাওয়া। এ কারণে এবারের ঈদে কাপড়-চোপড়, জুতাসহ অন্যান্য জিনিসপত্রের দাম কমিয়েছেন তারা। আবারও বন্যায় দেশের বেশ কয়েকটি জেলা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এবারের ঈদের বিকিনিতেও এর নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে।

ঈদুল আজহায় খরচের বড় অংশ কোরবানির পশুর পেছনে ব্যয় করতে হয়। তাই ক্রেতাদের একটা বড় অংশ পোশাকসহ অন্যান্য কেনাকাটায় খরচ করেন না। এই বিভাগটি মূলত সাধারণ মানের শপিং মল এবং নন-ব্র্যান্ডেড স্টোরের ক্রেতা। অন্যদিকে ব্যবসায়ী ও বিক্রেতারা বলছেন, অভিজাত শপিংমল ও ব্র্যান্ডের দোকানে বিক্রি আশানুরূপ হয়েছে।

পোশাক ব্র্যান্ড জেন্টলপার্কের বসুন্ধরা সিটির শাখা ব্যবস্থাপক আল আমিন বলেন, তাদের বিক্রয় কেন্দ্র ইতিমধ্যেই বিক্রয় লক্ষ্যমাত্রার ৯০ শতাংশ পূরণ করেছে। তিনি বলেন, রাজ্যাভিষেকের আগে বিক্রি স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি ছিল।

পোশাক ব্র্যান্ড রং বাংলাদেশের স্বত্বাধিকারী সৌমিক দাস বলেন, ঈদুল ফিতরে ভালো ব্যবসা হয়েছে, তাই সে অনুযায়ী প্রস্তুতি নিয়েছি। কিন্তু সেই প্রত্যাশা পূরণ হচ্ছে না। ‘

কাপড়ের পাশাপাশি জুতা বিক্রিও বেশ ভালো। জুতা ব্র্যান্ড অ্যাপেক্সের বসুন্ধরা সিটি বিক্রয় কেন্দ্রের ব্যবস্থাপক মো. শামীম শেখ বলেন, আমরা প্রতিদিন যে বিক্রয় লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছি সে অনুযায়ী বিক্রি করছি।

তবে বিক্রি নিয়ে হতাশা প্রকাশ করেছেন নিউমার্কেট এলাকার ব্যবসায়ীরা। ধানমন্ডি হকার্স মার্কেটের বিসমিল্লাহ শাড়ির মালিক মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘আমাদের এখানে মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্তের লোকজন বেশি আসে। তারা এখন অর্থনৈতিক সংকটে পড়েছে। তাই কাপড় কম কিনছেন তিনি। ‘

নূরজাহান মার্কেটের জেভিয়ার নামের একটি শার্ট-প্যান্টের দোকানের মালিক মহিউদ্দিন খোকন বলেন, “দোকানে ক্রেতাদের উপস্থিতি কম। আমরা সারাদেশে পাইকারি পণ্য বিক্রি করি। বন্যার কারণে সিলেট ও ​​ময়মনসিংহে পাইকারি বিক্রি কমে গেছে।৫০ শতাংশ কমেছে।

চন্দ্রিমা মার্কেটের এমআর কালেকশনের সেলসম্যান ফাহিম শাহরিয়ার বলেন, “ঈদ-উল-আজহা উপলক্ষে আমি যে নতুন শার্ট ও প্যান্ট বিক্রির জন্য রেখেছি তার ২০ শতাংশ ও বিক্রি হয়নি।” বেশির ভাগ ক্রেতাই দাম শুনে চলে যান। তবে আমরা নতুন কোনো কাপড়ের দাম বাড়াইনি। ঈদুল ফিতরে দাম কিছুটা বেড়েছে।

নিউমার্কেটের জিহান খাদিঘরের মালিক বাবুল মুন্সি বলেন, সব ধরনের জিনিসের দাম বেড়ে যাওয়ায় সাধারণ মানুষ প্রয়োজন ছাড়া কাপড় কম কিনছেন।

নিউমার্কেট এলাকার ফুটপাতের দোকানে আশানুরূপ বিক্রি হয়নি বলে জানান। আরমান আলীও। আরমান বাচ্চাদের কাপড় বিক্রি করেন। তিনি বলেন, দুই মাস ধরে পুলিশ আমাদের রাস্তার পাশে বসতে দেয়নি। চার-পাঁচ দিন ধরে ফুটপাতে পণ্য বিক্রি করতে পেরেছি। তবে বিক্রি কম। ‘

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য

ব্র্যান্ডের দোকানে বিক্রি ভালো, সাধারণ দোকানে ক্রেতা কম

আপডেট সময় ১০:০২:০৯ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৮ জুলাই ২০২২

ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে এবার অভিজাত শপিংমল ও ব্র্যান্ডের দোকানে ভালো বিক্রি হয়েছে। তবে নন-ব্র্যান্ডেড স্টোর এবং সাধারণ মানের দোকানে এটি আশানুরূপ বিক্রি হয়নি। রাজধানীর বিভিন্ন এলাকার বাজার ঘুরে এ তথ্য পাওয়া গেছে।

রাজধানীর নিউমার্কেট, কারওয়ান বাজার ও হাতিরপুল এলাকার বেশ কয়েকটি দোকান ঘুরে সেখানকার ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এবারের ঈদকেন্দ্রিক বিক্রি নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া পাওয়া গেছে। বড় ও অভিজাত শপিংমল ও ব্র্যান্ডের শোরুমের বিক্রেতারা বলছেন, গত ঈদুল ফিতরের মতো এবারও আশানুরূপ বিক্রি হয়েছে। তবে সাধারণ দোকান ও দোকানে আশানুরূপ বেচাকেনা হয়নি বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।

সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা বলছেন, বিক্রি কমে যাওয়ার কারণ হিসেবে বিপুল সংখ্যক ক্রেতার জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়ে যাওয়া। এ কারণে এবারের ঈদে কাপড়-চোপড়, জুতাসহ অন্যান্য জিনিসপত্রের দাম কমিয়েছেন তারা। আবারও বন্যায় দেশের বেশ কয়েকটি জেলা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এবারের ঈদের বিকিনিতেও এর নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে।

ঈদুল আজহায় খরচের বড় অংশ কোরবানির পশুর পেছনে ব্যয় করতে হয়। তাই ক্রেতাদের একটা বড় অংশ পোশাকসহ অন্যান্য কেনাকাটায় খরচ করেন না। এই বিভাগটি মূলত সাধারণ মানের শপিং মল এবং নন-ব্র্যান্ডেড স্টোরের ক্রেতা। অন্যদিকে ব্যবসায়ী ও বিক্রেতারা বলছেন, অভিজাত শপিংমল ও ব্র্যান্ডের দোকানে বিক্রি আশানুরূপ হয়েছে।

পোশাক ব্র্যান্ড জেন্টলপার্কের বসুন্ধরা সিটির শাখা ব্যবস্থাপক আল আমিন বলেন, তাদের বিক্রয় কেন্দ্র ইতিমধ্যেই বিক্রয় লক্ষ্যমাত্রার ৯০ শতাংশ পূরণ করেছে। তিনি বলেন, রাজ্যাভিষেকের আগে বিক্রি স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি ছিল।

পোশাক ব্র্যান্ড রং বাংলাদেশের স্বত্বাধিকারী সৌমিক দাস বলেন, ঈদুল ফিতরে ভালো ব্যবসা হয়েছে, তাই সে অনুযায়ী প্রস্তুতি নিয়েছি। কিন্তু সেই প্রত্যাশা পূরণ হচ্ছে না। ‘

কাপড়ের পাশাপাশি জুতা বিক্রিও বেশ ভালো। জুতা ব্র্যান্ড অ্যাপেক্সের বসুন্ধরা সিটি বিক্রয় কেন্দ্রের ব্যবস্থাপক মো. শামীম শেখ বলেন, আমরা প্রতিদিন যে বিক্রয় লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছি সে অনুযায়ী বিক্রি করছি।

তবে বিক্রি নিয়ে হতাশা প্রকাশ করেছেন নিউমার্কেট এলাকার ব্যবসায়ীরা। ধানমন্ডি হকার্স মার্কেটের বিসমিল্লাহ শাড়ির মালিক মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘আমাদের এখানে মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্তের লোকজন বেশি আসে। তারা এখন অর্থনৈতিক সংকটে পড়েছে। তাই কাপড় কম কিনছেন তিনি। ‘

নূরজাহান মার্কেটের জেভিয়ার নামের একটি শার্ট-প্যান্টের দোকানের মালিক মহিউদ্দিন খোকন বলেন, “দোকানে ক্রেতাদের উপস্থিতি কম। আমরা সারাদেশে পাইকারি পণ্য বিক্রি করি। বন্যার কারণে সিলেট ও ​​ময়মনসিংহে পাইকারি বিক্রি কমে গেছে।৫০ শতাংশ কমেছে।

চন্দ্রিমা মার্কেটের এমআর কালেকশনের সেলসম্যান ফাহিম শাহরিয়ার বলেন, “ঈদ-উল-আজহা উপলক্ষে আমি যে নতুন শার্ট ও প্যান্ট বিক্রির জন্য রেখেছি তার ২০ শতাংশ ও বিক্রি হয়নি।” বেশির ভাগ ক্রেতাই দাম শুনে চলে যান। তবে আমরা নতুন কোনো কাপড়ের দাম বাড়াইনি। ঈদুল ফিতরে দাম কিছুটা বেড়েছে।

নিউমার্কেটের জিহান খাদিঘরের মালিক বাবুল মুন্সি বলেন, সব ধরনের জিনিসের দাম বেড়ে যাওয়ায় সাধারণ মানুষ প্রয়োজন ছাড়া কাপড় কম কিনছেন।

নিউমার্কেট এলাকার ফুটপাতের দোকানে আশানুরূপ বিক্রি হয়নি বলে জানান। আরমান আলীও। আরমান বাচ্চাদের কাপড় বিক্রি করেন। তিনি বলেন, দুই মাস ধরে পুলিশ আমাদের রাস্তার পাশে বসতে দেয়নি। চার-পাঁচ দিন ধরে ফুটপাতে পণ্য বিক্রি করতে পেরেছি। তবে বিক্রি কম। ‘