০৯:১১ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৩ এপ্রিল ২০২৪

বুকে র দুধেপেট ভরে না থাকায় দেড় বছরের রুনা ক্ষুধায় কাঁদছে

নিজস্ব সংবাদ :
  • আপডেট সময় ০৫:৩৪:০৪ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৯ জুন ২০২২
  • / ৮১৬ বার পড়া হয়েছে

দেড় বছরের শিশু রুনা আক্তার মায়ের দুধের সঙ্গে লেই (ময়দা দিয়ে তৈরি খাবার) খেতেন। কিন্তু তিন দিন ধরে তা বিচ্যুত হচ্ছে। তিনি তিন দিন ধরে সিলেট সদর উপজেলার বাদাঘাট মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজ আশ্রয়কেন্দ্রে পরিবারের সঙ্গে অবস্থান করছেন। বুকের দুধে পেট ভরছে না বলে সারাক্ষণ কাঁদছে রুনা।

শুধু রুনা নয়, আশ্রয়কেন্দ্রে থাকা অন্য শিশুদেরও একই অবস্থা। আশ্রয়কেন্দ্রে দেওয়া খাবার প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য উপযোগী। শিশুদের উপযোগী খাবার না থাকায় তারা দুর্ভোগে পড়েছেন। ছোট বাচ্চারা খাবারের জন্য কাঁদছে

রুনা সিলেট সদর উপজেলার নলকুট গ্রামের মোজাম্মেল হোসেন (৩৬) ও মাজেদা বেগমের (২৮) মেয়ে। বৃহস্পতিবার রাতে বন্যার পানি বেড়ে গেলে মোজাম্মেল-মাজেদা দম্পতি তাদের ১৩ বছরের ছেলে সজীব আহমেদ ও দেড় বছরের মেয়ে রুনাকে নিয়ে আশ্রয়কেন্দ্রে চলে যান। তিনতলা ভবনের নয়টি কক্ষে অন্তত ৬০০ বানভাসি মানুষ আটকে আছে। বিদ্যুৎ নেই। মোমবাতির সংকটের কারণে সন্ধ্যার পর থেকে অধিকাংশ কক্ষ অন্ধকার হয়ে গেছে।

মোজাম্মেল ও মাজেদা জানান, গত বৃহস্পতিবার আশ্রয়কেন্দ্রে আসার পর তাদের কেউই পর্যাপ্ত ত্রাণ সহায়তা পাননি। তারা স্থানীয় চেয়ারম্যানের কাছ থেকে পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট ও ​​কিছু চাল ডাল পান। এছাড়া স্থানীয় লোকজনের দেওয়া কিছু খাবার খেয়ে তারা কোনো না কোনোভাবে ক্ষুধা মেটাচ্ছেন। যদিও প্রাপ্তবয়স্করা অর্ধ-খাওয়া খাবারে বেঁচে থাকে, তবে বাচ্চাদের জন্য উপযুক্ত খাবার না থাকায় তাদের কষ্ট হচ্ছে।

মাজেদা জানান, তার ছেলে সজিব স্কুলে অষ্টম শ্রেণিতে পড়ে। জলে ভিজিয়ে আশ্রয়ে আসার পর ছেলেটির জ্বর আসে। এখন একটু ভালো ওষুধ আছে। বন্যার পানিতে ভিজে গেছে সজিবের নোটবুকগুলো। স্কুলে যেতে হলে সজিবের জন্য নতুন বই কিনতে হবে। আসার পর থেকে তারা একই পোশাকে রয়েছে। সুবিধার অভাবে তিনি গোসল করতে পারেননি। তিনি জানান, তার ছেলের বাড়িতে থাকাকালীন খাওয়ার অনেক ইচ্ছা থাকলেও এখানে আসার পর সে শান্ত হয়েছে। যা দেওয়া হচ্ছে তাই খাচ্ছেন।

শনিবার বিকেলে ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায়, আশ্রয়কেন্দ্রের তৃতীয় তলার একটি কক্ষে পাঠদানের টেবিলে চাদর বিছিয়ে জায়গা করে নিয়েছে সজিবের পরিবার। রুনা মাঝে মাঝে কাঁদছে। একবার সে কাঁদতে শুরু করলে তাকে থামানো কঠিন হয়ে পড়ে। কখনো মা, কখনো ভাই তাকে কোলে ধরে আটকানোর চেষ্টা করছেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য

বুকে র দুধেপেট ভরে না থাকায় দেড় বছরের রুনা ক্ষুধায় কাঁদছে

আপডেট সময় ০৫:৩৪:০৪ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৯ জুন ২০২২

দেড় বছরের শিশু রুনা আক্তার মায়ের দুধের সঙ্গে লেই (ময়দা দিয়ে তৈরি খাবার) খেতেন। কিন্তু তিন দিন ধরে তা বিচ্যুত হচ্ছে। তিনি তিন দিন ধরে সিলেট সদর উপজেলার বাদাঘাট মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজ আশ্রয়কেন্দ্রে পরিবারের সঙ্গে অবস্থান করছেন। বুকের দুধে পেট ভরছে না বলে সারাক্ষণ কাঁদছে রুনা।

শুধু রুনা নয়, আশ্রয়কেন্দ্রে থাকা অন্য শিশুদেরও একই অবস্থা। আশ্রয়কেন্দ্রে দেওয়া খাবার প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য উপযোগী। শিশুদের উপযোগী খাবার না থাকায় তারা দুর্ভোগে পড়েছেন। ছোট বাচ্চারা খাবারের জন্য কাঁদছে

রুনা সিলেট সদর উপজেলার নলকুট গ্রামের মোজাম্মেল হোসেন (৩৬) ও মাজেদা বেগমের (২৮) মেয়ে। বৃহস্পতিবার রাতে বন্যার পানি বেড়ে গেলে মোজাম্মেল-মাজেদা দম্পতি তাদের ১৩ বছরের ছেলে সজীব আহমেদ ও দেড় বছরের মেয়ে রুনাকে নিয়ে আশ্রয়কেন্দ্রে চলে যান। তিনতলা ভবনের নয়টি কক্ষে অন্তত ৬০০ বানভাসি মানুষ আটকে আছে। বিদ্যুৎ নেই। মোমবাতির সংকটের কারণে সন্ধ্যার পর থেকে অধিকাংশ কক্ষ অন্ধকার হয়ে গেছে।

মোজাম্মেল ও মাজেদা জানান, গত বৃহস্পতিবার আশ্রয়কেন্দ্রে আসার পর তাদের কেউই পর্যাপ্ত ত্রাণ সহায়তা পাননি। তারা স্থানীয় চেয়ারম্যানের কাছ থেকে পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট ও ​​কিছু চাল ডাল পান। এছাড়া স্থানীয় লোকজনের দেওয়া কিছু খাবার খেয়ে তারা কোনো না কোনোভাবে ক্ষুধা মেটাচ্ছেন। যদিও প্রাপ্তবয়স্করা অর্ধ-খাওয়া খাবারে বেঁচে থাকে, তবে বাচ্চাদের জন্য উপযুক্ত খাবার না থাকায় তাদের কষ্ট হচ্ছে।

মাজেদা জানান, তার ছেলে সজিব স্কুলে অষ্টম শ্রেণিতে পড়ে। জলে ভিজিয়ে আশ্রয়ে আসার পর ছেলেটির জ্বর আসে। এখন একটু ভালো ওষুধ আছে। বন্যার পানিতে ভিজে গেছে সজিবের নোটবুকগুলো। স্কুলে যেতে হলে সজিবের জন্য নতুন বই কিনতে হবে। আসার পর থেকে তারা একই পোশাকে রয়েছে। সুবিধার অভাবে তিনি গোসল করতে পারেননি। তিনি জানান, তার ছেলের বাড়িতে থাকাকালীন খাওয়ার অনেক ইচ্ছা থাকলেও এখানে আসার পর সে শান্ত হয়েছে। যা দেওয়া হচ্ছে তাই খাচ্ছেন।

শনিবার বিকেলে ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায়, আশ্রয়কেন্দ্রের তৃতীয় তলার একটি কক্ষে পাঠদানের টেবিলে চাদর বিছিয়ে জায়গা করে নিয়েছে সজিবের পরিবার। রুনা মাঝে মাঝে কাঁদছে। একবার সে কাঁদতে শুরু করলে তাকে থামানো কঠিন হয়ে পড়ে। কখনো মা, কখনো ভাই তাকে কোলে ধরে আটকানোর চেষ্টা করছেন।