১২:৩০ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০২ মার্চ ২০২৪

বিশ্ববিদ্যালয়ে নির্যাতন: শিক্ষকরা কি দায় এড়াতে পারবেন?

নিজস্ব সংবাদ :
  • আপডেট সময় ১১:০৫:৪৪ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৮ অগাস্ট ২০২২
  • / ৭৩৫ বার পড়া হয়েছে

bdopennews

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থীকে আটক করে তিন ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে নির্যাতন করা হয়েছে। তার ডেবিট কার্ড থেকেও টাকা নেওয়া হয়েছে। এরপর তাকে হুমকি দেওয়া হয় যে সে তাদের বিরুদ্ধে কথা বললে বা কোনো ব্যবস্থা নিলে তাকে মেরে ফেলা হবে। প্রাণের ভয়ে ওই ছাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস ছেড়ে অন্যত্র আশ্রয় নেয়। ডাক্তারি পরীক্ষার পর দেখা যায়, নির্যাতনের কারণে তার কানের পর্দা ফেটে গেছে। এতসব অত্যাচারের পরও প্রাণের ভয়ে সরাসরি কোনো অভিযোগ করতে পারেননি। তাকে চিঠি লিখে কুরিয়ারের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগ পাঠাতে হয়েছে।

আমরা পরবর্তী কি দেখেছি? বিচারের দাবিতে মানববন্ধন করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষার্থী ও শিক্ষক। এখন প্রশ্ন হচ্ছে, আমি কেন বিচার চাইব?

ঘটনাটি ঘটেছে ১৭ আগস্ট। আমি যখন লিখছি, ঘটনার দশ দিন কেটে গেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-কর্মকর্তাদের কেউ কি এই ঘটনা জানতেন না? তাহলে তারা কেন কোনো ব্যবস্থা নেয়নি? ওই ছাত্রকে যারা নির্যাতন করেছে তারা দিব্যি হলে অবস্থান করছে। ক্যাম্পাসে ঘুরে বেড়াচ্ছি। উল্টো যে ছাত্র নির্যাতনের শিকার হয়, তাকে প্রাণের ভয়ে পালিয়ে যেতে হয়! পরীক্ষা না দিয়েই তাকে পালাতে হয়েছে। নইলে হয়তো বুয়েটের আবরারের মতোই পরিণতি বরণ করতে হতো তাকে।

হলের মধ্যে এক ছাত্রকে ঘুষি মেরে তার কানের ড্রাম ফেটে যায়। তাকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়েছে। কারা দিয়েছে তাদের নামও পত্রিকায় স্পষ্ট করা হয়েছে। ব্যবস্থা নিচ্ছেন না কেন? প্রথমত, তাদের ছাত্রত্ব সাময়িকভাবে স্থগিত করা উচিত ছিল এবং দু-এক দিনের মধ্যে তদন্ত করা উচিত ছিল এবং প্রমাণ সাপেক্ষে তাদের বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আজীবনের জন্য বহিষ্কার করা উচিত ছিল।

এর কোনোটি কি ঘটেছে? করেনি উল্টো, যার ওপর নির্যাতন হয়েছে সে পালিয়ে যাচ্ছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও কর্মকর্তাদের এ দায়িত্ব নিতে হবে। দেশের সাধারণ মানুষের কাছে তাদের জবাবদিহি করতে হবে। তারা মনে করে বিশ্ববিদ্যালয় তাদের নিজস্ব সম্পত্তি। তারা ভুলে যায় বিশ্ববিদ্যালয় তাদের নয়। বিশ্ববিদ্যালয় দেশের কৃষক, শ্রমিক ও সাধারণ মানুষের সম্পদ। কারণ, তাদের ট্যাক্সের টাকায় বিশ্ববিদ্যালয় চলছে। তাই দেশের বুদ্ধিজীবী শ্রেণীর যেমন তাদের সকল কাজের সমালোচনা করার অধিকার আছে, তেমনি একজন রিকশাচালক বা শ্রমিকেরও আছে। এরই মধ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে একাধিক ঘটনা ঘটেছে। কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের সামনে বসে থাকার কারণে ঢাকা মেডিকেলের এক ইন্টার্ন চিকিৎসককে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের হাতে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হতে হয়েছে। তাকে প্রশ্ন করা হয়, ‘আপনি কি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র? পরিচয়পত্র দেখান। জবাবে তিনি দাবি করেন, ঢাকা মেডিকেলের ইন্টার্ন চিকিৎসক বলেছেন, কার্ডটি সঙ্গে আনা হয়নি। এরপর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা তার গায়ে হাত তোলেন। তবে ইন্টার্ন চিকিৎসক কোনোমতে বেঁচে গিয়ে পরে থানায় খবর দেন।

অন্যদিকে একই বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি হলের নেতারা পোস্টার লাগিয়ে হলের বড় ভাইদের করমর্দনের সময় কাঁপানো যাবে না, বুকে হাত দেওয়া যাবে না ইত্যাদি জানিয়ে দিয়েছেন আরেক ছাত্রনেতা। হল অবশ্য আরও একধাপ এগিয়ে হলের ছাদে গিয়ে বিয়ার পান করে এবং গান গাইতে চিৎকার করে দাঙ্গায় জড়িয়ে পড়ে।

দেশের বিভিন্ন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ঘটে যাওয়া এসব ঘটনা পড়ে আমার মনে হয়েছে এসব বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক-কর্মচারী নেই? তাদের কাজ কি? যদি তারা আগে থেকেই থাকে, তাহলে পরপর দুদিন এসব ঘটনা ঘটল কীভাবে? অথবা তারা কি এই জিনিসগুলিকে ক্ষমা করে বা তাদের সত্যিই কিছু করার নেই?

এসব নিয়ে বলতে গেলে আরেকটা সমস্যা আছে। কারণ তারা মনে করে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো তাদের নিজস্ব। তাই শুধু তারাই এসব নিয়ে ভাববে। গোল্লায় গেলেও বিশ্ববিদ্যালয়ে যাচ্ছে। তাদের নিয়ে অন্যরা কথা বলবে কেন! আমাদের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের অনেক শিক্ষকের মধ্যে এই মানসিকতা বিদ্যমান। শিক্ষকদের এমন মানসিকতা হয়তো শিক্ষার্থীদের মধ্যেও ছড়িয়ে পড়েছে।

দেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলো যেভাবে চলছে, কয়েকদিন পর হয়তো মানুষ সে পথে যেতে চাইবে না। অভিভাবকরা তাদের সন্তানদের বিদেশে বা প্রাইভেট পড়তে পাঠাবেন। কিন্তু যাদের টাকা নেই বা যাদের বাবা-মা তাদের সন্তানদের ভালো প্রাইভেট ইউনিভার্সিটিতে পাঠাতে বা বিদেশে পড়ার সামর্থ্য রাখে না; তারা তাদের সন্তানদের পড়ালেখা করতে কোথায় পাঠাবে? তাদের সন্তানদের এই পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে হবে। কিন্তু পড়তে এসে তাদের ভাগ্য যদি বুয়েটের আবরার বা রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের এই ছাত্রের মতো হয়; তাহলে অভিভাবকরা কেন তাদের সন্তানদের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে পাঠাবেন?

বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও কর্মকর্তাদের এ দায়িত্ব নিতে হবে। দেশের সাধারণ মানুষের কাছে তাদের জবাবদিহি করতে হবে। তারা মনে করে বিশ্ববিদ্যালয় তাদের নিজস্ব সম্পত্তি। তারা ভুলে যায় বিশ্ববিদ্যালয় তাদের নয়। বিশ্ববিদ্যালয় দেশের কৃষক, শ্রমিক ও সাধারণ মানুষের সম্পদ। কারণ, তাদের ট্যাক্সের টাকায় বিশ্ববিদ্যালয় চলছে। তাই দেশের বুদ্ধিজীবী শ্রেণির মতোই

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য

বিশ্ববিদ্যালয়ে নির্যাতন: শিক্ষকরা কি দায় এড়াতে পারবেন?

আপডেট সময় ১১:০৫:৪৪ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৮ অগাস্ট ২০২২

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থীকে আটক করে তিন ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে নির্যাতন করা হয়েছে। তার ডেবিট কার্ড থেকেও টাকা নেওয়া হয়েছে। এরপর তাকে হুমকি দেওয়া হয় যে সে তাদের বিরুদ্ধে কথা বললে বা কোনো ব্যবস্থা নিলে তাকে মেরে ফেলা হবে। প্রাণের ভয়ে ওই ছাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস ছেড়ে অন্যত্র আশ্রয় নেয়। ডাক্তারি পরীক্ষার পর দেখা যায়, নির্যাতনের কারণে তার কানের পর্দা ফেটে গেছে। এতসব অত্যাচারের পরও প্রাণের ভয়ে সরাসরি কোনো অভিযোগ করতে পারেননি। তাকে চিঠি লিখে কুরিয়ারের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগ পাঠাতে হয়েছে।

আমরা পরবর্তী কি দেখেছি? বিচারের দাবিতে মানববন্ধন করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষার্থী ও শিক্ষক। এখন প্রশ্ন হচ্ছে, আমি কেন বিচার চাইব?

ঘটনাটি ঘটেছে ১৭ আগস্ট। আমি যখন লিখছি, ঘটনার দশ দিন কেটে গেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-কর্মকর্তাদের কেউ কি এই ঘটনা জানতেন না? তাহলে তারা কেন কোনো ব্যবস্থা নেয়নি? ওই ছাত্রকে যারা নির্যাতন করেছে তারা দিব্যি হলে অবস্থান করছে। ক্যাম্পাসে ঘুরে বেড়াচ্ছি। উল্টো যে ছাত্র নির্যাতনের শিকার হয়, তাকে প্রাণের ভয়ে পালিয়ে যেতে হয়! পরীক্ষা না দিয়েই তাকে পালাতে হয়েছে। নইলে হয়তো বুয়েটের আবরারের মতোই পরিণতি বরণ করতে হতো তাকে।

হলের মধ্যে এক ছাত্রকে ঘুষি মেরে তার কানের ড্রাম ফেটে যায়। তাকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়েছে। কারা দিয়েছে তাদের নামও পত্রিকায় স্পষ্ট করা হয়েছে। ব্যবস্থা নিচ্ছেন না কেন? প্রথমত, তাদের ছাত্রত্ব সাময়িকভাবে স্থগিত করা উচিত ছিল এবং দু-এক দিনের মধ্যে তদন্ত করা উচিত ছিল এবং প্রমাণ সাপেক্ষে তাদের বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আজীবনের জন্য বহিষ্কার করা উচিত ছিল।

এর কোনোটি কি ঘটেছে? করেনি উল্টো, যার ওপর নির্যাতন হয়েছে সে পালিয়ে যাচ্ছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও কর্মকর্তাদের এ দায়িত্ব নিতে হবে। দেশের সাধারণ মানুষের কাছে তাদের জবাবদিহি করতে হবে। তারা মনে করে বিশ্ববিদ্যালয় তাদের নিজস্ব সম্পত্তি। তারা ভুলে যায় বিশ্ববিদ্যালয় তাদের নয়। বিশ্ববিদ্যালয় দেশের কৃষক, শ্রমিক ও সাধারণ মানুষের সম্পদ। কারণ, তাদের ট্যাক্সের টাকায় বিশ্ববিদ্যালয় চলছে। তাই দেশের বুদ্ধিজীবী শ্রেণীর যেমন তাদের সকল কাজের সমালোচনা করার অধিকার আছে, তেমনি একজন রিকশাচালক বা শ্রমিকেরও আছে। এরই মধ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে একাধিক ঘটনা ঘটেছে। কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের সামনে বসে থাকার কারণে ঢাকা মেডিকেলের এক ইন্টার্ন চিকিৎসককে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের হাতে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হতে হয়েছে। তাকে প্রশ্ন করা হয়, ‘আপনি কি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র? পরিচয়পত্র দেখান। জবাবে তিনি দাবি করেন, ঢাকা মেডিকেলের ইন্টার্ন চিকিৎসক বলেছেন, কার্ডটি সঙ্গে আনা হয়নি। এরপর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা তার গায়ে হাত তোলেন। তবে ইন্টার্ন চিকিৎসক কোনোমতে বেঁচে গিয়ে পরে থানায় খবর দেন।

অন্যদিকে একই বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি হলের নেতারা পোস্টার লাগিয়ে হলের বড় ভাইদের করমর্দনের সময় কাঁপানো যাবে না, বুকে হাত দেওয়া যাবে না ইত্যাদি জানিয়ে দিয়েছেন আরেক ছাত্রনেতা। হল অবশ্য আরও একধাপ এগিয়ে হলের ছাদে গিয়ে বিয়ার পান করে এবং গান গাইতে চিৎকার করে দাঙ্গায় জড়িয়ে পড়ে।

দেশের বিভিন্ন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ঘটে যাওয়া এসব ঘটনা পড়ে আমার মনে হয়েছে এসব বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক-কর্মচারী নেই? তাদের কাজ কি? যদি তারা আগে থেকেই থাকে, তাহলে পরপর দুদিন এসব ঘটনা ঘটল কীভাবে? অথবা তারা কি এই জিনিসগুলিকে ক্ষমা করে বা তাদের সত্যিই কিছু করার নেই?

এসব নিয়ে বলতে গেলে আরেকটা সমস্যা আছে। কারণ তারা মনে করে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো তাদের নিজস্ব। তাই শুধু তারাই এসব নিয়ে ভাববে। গোল্লায় গেলেও বিশ্ববিদ্যালয়ে যাচ্ছে। তাদের নিয়ে অন্যরা কথা বলবে কেন! আমাদের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের অনেক শিক্ষকের মধ্যে এই মানসিকতা বিদ্যমান। শিক্ষকদের এমন মানসিকতা হয়তো শিক্ষার্থীদের মধ্যেও ছড়িয়ে পড়েছে।

দেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলো যেভাবে চলছে, কয়েকদিন পর হয়তো মানুষ সে পথে যেতে চাইবে না। অভিভাবকরা তাদের সন্তানদের বিদেশে বা প্রাইভেট পড়তে পাঠাবেন। কিন্তু যাদের টাকা নেই বা যাদের বাবা-মা তাদের সন্তানদের ভালো প্রাইভেট ইউনিভার্সিটিতে পাঠাতে বা বিদেশে পড়ার সামর্থ্য রাখে না; তারা তাদের সন্তানদের পড়ালেখা করতে কোথায় পাঠাবে? তাদের সন্তানদের এই পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে হবে। কিন্তু পড়তে এসে তাদের ভাগ্য যদি বুয়েটের আবরার বা রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের এই ছাত্রের মতো হয়; তাহলে অভিভাবকরা কেন তাদের সন্তানদের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে পাঠাবেন?

বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও কর্মকর্তাদের এ দায়িত্ব নিতে হবে। দেশের সাধারণ মানুষের কাছে তাদের জবাবদিহি করতে হবে। তারা মনে করে বিশ্ববিদ্যালয় তাদের নিজস্ব সম্পত্তি। তারা ভুলে যায় বিশ্ববিদ্যালয় তাদের নয়। বিশ্ববিদ্যালয় দেশের কৃষক, শ্রমিক ও সাধারণ মানুষের সম্পদ। কারণ, তাদের ট্যাক্সের টাকায় বিশ্ববিদ্যালয় চলছে। তাই দেশের বুদ্ধিজীবী শ্রেণির মতোই