১১:৩৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ২০ মে ২০২৪

বগুড়ায় চাল মজুদ করায়  ২ প্রতিষ্ঠানকে সাড়ে ছয় লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে

নিজস্ব সংবাদ :
  • আপডেট সময় ১০:৫৮:০০ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২ জুন ২০২২
  • / ৮৬৪ বার পড়া হয়েছে

bd open news

বগুড়ার শেরপুরে চাল মজুদের দায়ে দুই ব্যবসা প্রতিষ্ঠানকে ৬ লাখ ৬০ হাজার টাকা জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। মজুদকৃত চাল বৃহস্পতিবার থেকে আগামী তিন দিনের মধ্যে বাজারে সরবরাহের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বুধবার দুপুর থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় এ অভিযান চালানো হয়।

অভিযানে উপজেলার গাড়িদহ ইউনিয়নের জোয়ানপুর এলাকার শিনু এগ্রো ফুড ইন্ডাস্ট্রিজে ১ হাজার ২৪৭ মেট্রিক টন চাল, ২ হাজার ১৪৮ মেট্রিক টন ধান এবং সাকল বাজারের গৌড় গৌরাঙ্গ ভান্ডার এলাকায় ১০০ মেট্রিক টন অতিরিক্ত চাল মজুদ করা হয়। শহরের অভিযান পরিচালনা করেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) কর্মকর্তা সাবরিনা শারমিন।

এ সময় উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মামুন-ই-কাইয়ুম ও শেরপুর থানা পুলিশের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। অভিযান শেষে সাংবাদিকদের জানানো হয়, শিনু এগ্রো ফুড ইন্ডাস্ট্রিজ ১ হাজার ২৪৬ মেট্রিক টন চাল ও ২ হাজার ১৪৬ মেট্রিক টন ধান মজুদ করেছে। তবে চালটি এসিআই ফুডস লিমিটেডের লেবেলযুক্ত নিষিদ্ধ প্লাস্টিকের ব্যাগে প্যাকেট করা হয়েছিল।

গত মার্চ মাস থেকে এসব চাল মজুদ ছিল বলে স্বীকার করেছেন সংশ্লিষ্ট মিল কর্তৃপক্ষ। পরে প্রতিষ্ঠানটির মালিককে ৬ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। এদিকে সকাল বাজারের গৌর গৌরাঙ্গ ভান্ডারের লাইসেন্সের বিপরীতে ১০০ মেট্রিক টন অতিরিক্ত চাল মজুদ করায় প্রতিষ্ঠানটির মালিক প্রদীপ সাহাকে ৬০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

শিনু এগ্রো ফুড ইন্ডাস্ট্রিজের শেখ সোহান বলেন, “মিল ও মজুদের লাইসেন্স আমাদের নামে থাকলেও কয়েক বছর আগে মিল ও গুদামগুলো এসিআই ফুডস লিমিটেডকে ইজারা দেওয়া হয়েছে। এই ধান-চালগুলো তাদের, আমাদের নয়।’ এ ব্যাপারে এসিআই ফুডস লিমিটেড শেরপুরের সিনিয়র অপারেশন অফিসার বদরুল ইসলাম বলেন, নওগাঁ মহাদেবপুরের লাইসেন্সে শেরপুরে ব্যবসা করে আসছে। তারা বিভিন্ন জেলা থেকে ধান সংগ্রহ করে শেরপুরে জমা করেন।

এরপর তারা ধান থেকে চাল সংগ্রহ করে সারা দেশে সরবরাহ করে। এ বিষয়ে উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মামুন-ই-কাইয়ুম বলেন, এক জায়গার লাইসেন্স নিয়ে অন্য জায়গায় ব্যবসা করার সুযোগ নেই। উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) সাবরিনা শারমিন জানান, দুটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে ধান ও ধানের বড় মজুদ পাওয়া গেছে। আইন অমান্য করায় তাদের জরিমানা করা হয়েছে। মজুদকৃত চাল আগামী তিন দিন দেশের বিভিন্ন স্থানে সরবরাহের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

যে কোনো দিনে কী পরিমাণ চাল সরবরাহ করা হয়েছে তা লিখিতভাবে জানাতে বলা হয়েছে প্রশাসনকে। চালের বাজার স্থিতিশীল রাখতে উপজেলা প্রশাসনের এ অভিযান অব্যাহত থাকবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য

বগুড়ায় চাল মজুদ করায়  ২ প্রতিষ্ঠানকে সাড়ে ছয় লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে

আপডেট সময় ১০:৫৮:০০ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২ জুন ২০২২

বগুড়ার শেরপুরে চাল মজুদের দায়ে দুই ব্যবসা প্রতিষ্ঠানকে ৬ লাখ ৬০ হাজার টাকা জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। মজুদকৃত চাল বৃহস্পতিবার থেকে আগামী তিন দিনের মধ্যে বাজারে সরবরাহের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বুধবার দুপুর থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় এ অভিযান চালানো হয়।

অভিযানে উপজেলার গাড়িদহ ইউনিয়নের জোয়ানপুর এলাকার শিনু এগ্রো ফুড ইন্ডাস্ট্রিজে ১ হাজার ২৪৭ মেট্রিক টন চাল, ২ হাজার ১৪৮ মেট্রিক টন ধান এবং সাকল বাজারের গৌড় গৌরাঙ্গ ভান্ডার এলাকায় ১০০ মেট্রিক টন অতিরিক্ত চাল মজুদ করা হয়। শহরের অভিযান পরিচালনা করেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) কর্মকর্তা সাবরিনা শারমিন।

এ সময় উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মামুন-ই-কাইয়ুম ও শেরপুর থানা পুলিশের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। অভিযান শেষে সাংবাদিকদের জানানো হয়, শিনু এগ্রো ফুড ইন্ডাস্ট্রিজ ১ হাজার ২৪৬ মেট্রিক টন চাল ও ২ হাজার ১৪৬ মেট্রিক টন ধান মজুদ করেছে। তবে চালটি এসিআই ফুডস লিমিটেডের লেবেলযুক্ত নিষিদ্ধ প্লাস্টিকের ব্যাগে প্যাকেট করা হয়েছিল।

গত মার্চ মাস থেকে এসব চাল মজুদ ছিল বলে স্বীকার করেছেন সংশ্লিষ্ট মিল কর্তৃপক্ষ। পরে প্রতিষ্ঠানটির মালিককে ৬ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। এদিকে সকাল বাজারের গৌর গৌরাঙ্গ ভান্ডারের লাইসেন্সের বিপরীতে ১০০ মেট্রিক টন অতিরিক্ত চাল মজুদ করায় প্রতিষ্ঠানটির মালিক প্রদীপ সাহাকে ৬০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

শিনু এগ্রো ফুড ইন্ডাস্ট্রিজের শেখ সোহান বলেন, “মিল ও মজুদের লাইসেন্স আমাদের নামে থাকলেও কয়েক বছর আগে মিল ও গুদামগুলো এসিআই ফুডস লিমিটেডকে ইজারা দেওয়া হয়েছে। এই ধান-চালগুলো তাদের, আমাদের নয়।’ এ ব্যাপারে এসিআই ফুডস লিমিটেড শেরপুরের সিনিয়র অপারেশন অফিসার বদরুল ইসলাম বলেন, নওগাঁ মহাদেবপুরের লাইসেন্সে শেরপুরে ব্যবসা করে আসছে। তারা বিভিন্ন জেলা থেকে ধান সংগ্রহ করে শেরপুরে জমা করেন।

এরপর তারা ধান থেকে চাল সংগ্রহ করে সারা দেশে সরবরাহ করে। এ বিষয়ে উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মামুন-ই-কাইয়ুম বলেন, এক জায়গার লাইসেন্স নিয়ে অন্য জায়গায় ব্যবসা করার সুযোগ নেই। উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) সাবরিনা শারমিন জানান, দুটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে ধান ও ধানের বড় মজুদ পাওয়া গেছে। আইন অমান্য করায় তাদের জরিমানা করা হয়েছে। মজুদকৃত চাল আগামী তিন দিন দেশের বিভিন্ন স্থানে সরবরাহের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

যে কোনো দিনে কী পরিমাণ চাল সরবরাহ করা হয়েছে তা লিখিতভাবে জানাতে বলা হয়েছে প্রশাসনকে। চালের বাজার স্থিতিশীল রাখতে উপজেলা প্রশাসনের এ অভিযান অব্যাহত থাকবে।