০২:১৮ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২০ এপ্রিল ২০২৪

প্রধানমন্ত্রীর ওপর আস্থা রেখে ১২০ টাকায় কাজে ফিরছেন চা শ্রমিকরা

নিজস্ব সংবাদ :
  • আপডেট সময় ০৪:৩৫:০৬ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২২ অগাস্ট ২০২২
  • / ৭২৯ বার পড়া হয়েছে

bdopennews

আন্দোলনরত চা শ্রমিকরা বর্তমান মজুরি ১২০ টাকায় কাজে ফিরছেন। রোববার গভীর রাতে মৌলভীবাজার জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে প্রশাসন ও বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়নের নেতাদের মধ্যে মতবিনিময় শেষে এ সিদ্ধান্ত হয়। দুই পক্ষ যৌথ বিবৃতিতে এ সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছে।

সভায় সভাপতিত্ব করেন মৌলভীবাজার জেলা প্রশাসক মীর নাহিদ আহসান। এ সময় পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জাকারিয়া, বিভাগীয় শ্রম অধিদপ্তর শ্রীমঙ্গল কার্যালয়ের উপ-পরিচালক মোহাম্মদ নাহিদুল ইসলাম, বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক নিপেন পাল, সহ-সভাপতি পঙ্কজ কান্দ, সাংগঠনিক সম্পাদক বিজয় হাজরা প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

স্থানীয় প্রশাসন ও বৈঠকে উপস্থিত একাধিক সূত্রে জানা গেছে, দেশের চা বাগানে শ্রমিক অসন্তোষ নিরসনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে জেলা প্রশাসন এই সভা ডেকেছে। সভায় প্রশাসন, পুলিশ, বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার শীর্ষ কর্মকর্তা ও বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়নের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। রাত ৯টায় বৈঠক শুরু হয়ে শেষ হয় বিকেল ৩টার দিকে।

মৌলভীবাজার জেলা প্রশাসকের প্যাডে দেওয়া যৌথ বিবৃতিতে বৈঠকের সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়েছে। বলা হয়েছে, প্রধানমন্ত্রীর সম্মানে বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়ন সোমবার তাদের ধর্মঘট প্রত্যাহার করে কাজে যোগ দেবে। আপাতত শ্রমিকরা চলমান ১২০ টাকা মজুরিতে কাজ করবেন। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ভিডিও কনফারেন্সে পরে মজুরির বিষয়ে সিদ্ধান্ত হবে। আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজাকে সামনে রেখে চা শ্রমিক নেতারা প্রধানমন্ত্রীর কাছে ভিডিও কনফারেন্সে যোগদানের আবেদন করেছেন, যা জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পৌঁছে দেওয়া হবে। চা শ্রমিকদের অন্যান্য দাবি জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিতভাবে জমা দিতে হবে; সেগুলো প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পাঠানো হবে। আর চা বাগানের প্রথা অনুযায়ী ধর্মঘটের সময় শ্রমিকদের মজুরি দেবেন বাগান মালিকরা।

বিবৃতিতে প্রশাসনের পক্ষে মৌলভীবাজার জেলা প্রশাসক মীর নাহিদ আহসান, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জাকারিয়া ও বিভাগীয় শ্রম অধিদপ্তর শ্রীমঙ্গল কার্যালয়ের উপ-পরিচালক মোহাম্মদ নাহিদুল ইসলাম স্বাক্ষরিত হয়। বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়নের পক্ষে ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক নিপেন পাল, সহ-সভাপতি পঙ্কজ কান্দ, সাংগঠনিক সম্পাদক বিজয় হাজরা, অর্থ সম্পাদক পরেশ কালিন্দী প্রমুখ।

বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়নের সাংগঠনিক সম্পাদক ও বালিশিরা ভ্যালির সভাপতি বিজয় হাজরা আজ সকালে সিদ্ধান্তের বিষয়টি নিশ্চিত করে BD OPEN NEWS

>কে বলেন, গতকাল রাত নয়টার দিকে বৈঠক শুরু হয়। অবশেষে তিনটা বাজে। সভায় সিদ্ধান্ত হয়, শ্রমিকরা ১২০ টাকায় কাজে যোগ দেবেন। নেত্রীর নির্দেশ পালন করব। প্রধানমন্ত্রী আমাদের সঙ্গে কথা বলবেন। আন্দোলনের সব দিন উপস্থিত থাকার লিখিত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, বৈঠকে মালিক পক্ষের কেউ উপস্থিত ছিলেন না। আজ কাজে যোগদানের কথা সবার জানতে দেরি হতে পারে, কিছু বাগানে কাজে যোগ দিতে দুপুর ১২টা হতে পারে।

চা শ্রমিক ইউনিয়ন ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রতি দুই বছর অন্তর চা বাগান মালিকদের সংগঠন বাংলাদেশি চা সংসদ ও বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়নের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক আলোচনা হয়। চা শ্রমিকদের মজুরি নির্ধারণ করা হয় দর কষাকষির মাধ্যমে। কিন্তু প্রায় প্রতিবারই চুক্তির মেয়াদের অনেক পরে নতুন চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। এবারও মেয়াদ শেষ হয়েছে ২০২০ সালের ডিসেম্বরে। ১৯ মাসেও মজুরি নিষ্পত্তি হয়নি। চা শ্রমিক ইউনিয়ন দৈনিক মজুরি ১২০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৩০০ টাকা করার দাবি জানিয়েছে। মালিকরা রাজি না হওয়ায় ৯ আগস্ট থেকে সারাদেশের ১৬৬টি চা বাগানের চা শ্রমিক ধর্মঘট শুরু করেন।

এদিকে শনিবার এক বৈঠকের পর সরকার মজুরি বাড়িয়ে ১৪৫ টাকা করার সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেছে। বৈঠকের সিদ্ধান্তের পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়নের নেতারাও ধর্মঘট প্রত্যাহারের ঘোষণা দিয়েছেন। কিন্তু চা শ্রমিক ইউনিয়নের বিভিন্ন উপত্যকা (কয়েকটি বাগান সহ একটি উপত্যকা) কমিটি, চা বাগান পঞ্চায়েত কমিটি এবং সাধারণ শ্রমিকরা এই মজুরি প্রত্যাখ্যান করে এবং ধর্মঘট চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেয়। এরপর রোববার রাতে চা শ্রমিক ইউনিয়নের নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করে জেলা প্রশাসন।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য

প্রধানমন্ত্রীর ওপর আস্থা রেখে ১২০ টাকায় কাজে ফিরছেন চা শ্রমিকরা

আপডেট সময় ০৪:৩৫:০৬ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২২ অগাস্ট ২০২২

আন্দোলনরত চা শ্রমিকরা বর্তমান মজুরি ১২০ টাকায় কাজে ফিরছেন। রোববার গভীর রাতে মৌলভীবাজার জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে প্রশাসন ও বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়নের নেতাদের মধ্যে মতবিনিময় শেষে এ সিদ্ধান্ত হয়। দুই পক্ষ যৌথ বিবৃতিতে এ সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছে।

সভায় সভাপতিত্ব করেন মৌলভীবাজার জেলা প্রশাসক মীর নাহিদ আহসান। এ সময় পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জাকারিয়া, বিভাগীয় শ্রম অধিদপ্তর শ্রীমঙ্গল কার্যালয়ের উপ-পরিচালক মোহাম্মদ নাহিদুল ইসলাম, বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক নিপেন পাল, সহ-সভাপতি পঙ্কজ কান্দ, সাংগঠনিক সম্পাদক বিজয় হাজরা প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

স্থানীয় প্রশাসন ও বৈঠকে উপস্থিত একাধিক সূত্রে জানা গেছে, দেশের চা বাগানে শ্রমিক অসন্তোষ নিরসনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে জেলা প্রশাসন এই সভা ডেকেছে। সভায় প্রশাসন, পুলিশ, বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার শীর্ষ কর্মকর্তা ও বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়নের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। রাত ৯টায় বৈঠক শুরু হয়ে শেষ হয় বিকেল ৩টার দিকে।

মৌলভীবাজার জেলা প্রশাসকের প্যাডে দেওয়া যৌথ বিবৃতিতে বৈঠকের সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়েছে। বলা হয়েছে, প্রধানমন্ত্রীর সম্মানে বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়ন সোমবার তাদের ধর্মঘট প্রত্যাহার করে কাজে যোগ দেবে। আপাতত শ্রমিকরা চলমান ১২০ টাকা মজুরিতে কাজ করবেন। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ভিডিও কনফারেন্সে পরে মজুরির বিষয়ে সিদ্ধান্ত হবে। আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজাকে সামনে রেখে চা শ্রমিক নেতারা প্রধানমন্ত্রীর কাছে ভিডিও কনফারেন্সে যোগদানের আবেদন করেছেন, যা জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পৌঁছে দেওয়া হবে। চা শ্রমিকদের অন্যান্য দাবি জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিতভাবে জমা দিতে হবে; সেগুলো প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পাঠানো হবে। আর চা বাগানের প্রথা অনুযায়ী ধর্মঘটের সময় শ্রমিকদের মজুরি দেবেন বাগান মালিকরা।

বিবৃতিতে প্রশাসনের পক্ষে মৌলভীবাজার জেলা প্রশাসক মীর নাহিদ আহসান, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জাকারিয়া ও বিভাগীয় শ্রম অধিদপ্তর শ্রীমঙ্গল কার্যালয়ের উপ-পরিচালক মোহাম্মদ নাহিদুল ইসলাম স্বাক্ষরিত হয়। বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়নের পক্ষে ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক নিপেন পাল, সহ-সভাপতি পঙ্কজ কান্দ, সাংগঠনিক সম্পাদক বিজয় হাজরা, অর্থ সম্পাদক পরেশ কালিন্দী প্রমুখ।

বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়নের সাংগঠনিক সম্পাদক ও বালিশিরা ভ্যালির সভাপতি বিজয় হাজরা আজ সকালে সিদ্ধান্তের বিষয়টি নিশ্চিত করে BD OPEN NEWS

>কে বলেন, গতকাল রাত নয়টার দিকে বৈঠক শুরু হয়। অবশেষে তিনটা বাজে। সভায় সিদ্ধান্ত হয়, শ্রমিকরা ১২০ টাকায় কাজে যোগ দেবেন। নেত্রীর নির্দেশ পালন করব। প্রধানমন্ত্রী আমাদের সঙ্গে কথা বলবেন। আন্দোলনের সব দিন উপস্থিত থাকার লিখিত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, বৈঠকে মালিক পক্ষের কেউ উপস্থিত ছিলেন না। আজ কাজে যোগদানের কথা সবার জানতে দেরি হতে পারে, কিছু বাগানে কাজে যোগ দিতে দুপুর ১২টা হতে পারে।

চা শ্রমিক ইউনিয়ন ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রতি দুই বছর অন্তর চা বাগান মালিকদের সংগঠন বাংলাদেশি চা সংসদ ও বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়নের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক আলোচনা হয়। চা শ্রমিকদের মজুরি নির্ধারণ করা হয় দর কষাকষির মাধ্যমে। কিন্তু প্রায় প্রতিবারই চুক্তির মেয়াদের অনেক পরে নতুন চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। এবারও মেয়াদ শেষ হয়েছে ২০২০ সালের ডিসেম্বরে। ১৯ মাসেও মজুরি নিষ্পত্তি হয়নি। চা শ্রমিক ইউনিয়ন দৈনিক মজুরি ১২০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৩০০ টাকা করার দাবি জানিয়েছে। মালিকরা রাজি না হওয়ায় ৯ আগস্ট থেকে সারাদেশের ১৬৬টি চা বাগানের চা শ্রমিক ধর্মঘট শুরু করেন।

এদিকে শনিবার এক বৈঠকের পর সরকার মজুরি বাড়িয়ে ১৪৫ টাকা করার সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেছে। বৈঠকের সিদ্ধান্তের পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়নের নেতারাও ধর্মঘট প্রত্যাহারের ঘোষণা দিয়েছেন। কিন্তু চা শ্রমিক ইউনিয়নের বিভিন্ন উপত্যকা (কয়েকটি বাগান সহ একটি উপত্যকা) কমিটি, চা বাগান পঞ্চায়েত কমিটি এবং সাধারণ শ্রমিকরা এই মজুরি প্রত্যাখ্যান করে এবং ধর্মঘট চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেয়। এরপর রোববার রাতে চা শ্রমিক ইউনিয়নের নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করে জেলা প্রশাসন।