০৬:৩৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২০ জুন ২০২৪

পানি কমছে, স্বস্তি ফিরছে মানুষের মনে

নিজস্ব সংবাদ :
  • আপডেট সময় ০৪:৫৪:০১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ জুন ২০২২
  • / ৯২৯ বার পড়া হয়েছে

bdopennews

মঙ্গলবার সুনামগঞ্জে বৃষ্টি হয়নি। বন্যার কারণে পানিও কমেছে। তবে পানির গতি খুবই ধীর। শহরের রাস্তাঘাট, মানুষের বাড়িঘর এখনো প্লাবিত। পানির অভাবে বাড়ি ফিরতে পারছেন না বাসিন্দারা। পানি নেমে যাওয়ার পর মানুষের মনে স্বস্তি ফিরে এসেছে। আজ সুনামগঞ্জ পৌর শহরের আরও কয়েকটি এলাকায় বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়া হয়েছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) সুনামগঞ্জ কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, আজ বিকেলে শহরের অদূরে সুরমা নদীর পানি বিপদসীমার ২৪ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। সুনামগঞ্জে গত ২৪ ঘণ্টায় ১১ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে।

গত বৃহস্পতিবার থেকে রবিবার পর্যন্ত সারাদেশ থেকে বিচ্ছিন্ন ছিল সুনামগঞ্জ। এ সময় মোবাইল ফোনের নেটওয়ার্ক বন্ধ ছিল। চার দিন বিদ্যুৎ বিহীন ছিল। দাড়ানোর কোন স্থল ছিল না। শহরের রাস্তায় তিন থেকে ছয় ফুট পানি ছিল। ফলে সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়ে। মানুষের ঘরবাড়ি তলিয়ে গেছে। গত তিনদিনে বৃষ্টিপাত কম হওয়ায় বাড়িঘর ও রাস্তাঘাট থেকে পানি উঠতে শুরু করেছে।

পুরো জেলা প্লাবিত হলেও সদর, ছাতক, দোয়ারাবাজার, তাহিরপুর ও বিশ্বম্ভরপুর উপজেলায় বন্যা পরিস্থিতি সবচেয়ে বেশি। সরকারি হিসাবে জেলায় প্রায় ৫০০ আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে। এ ছাড়া হাজার হাজার বানভাসি মানুষ যেখানেই সুযোগ পেয়েছেন ঘরবাড়ি, অফিস-আদালত, হাসপাতালে আশ্রয় নিয়েছেন। সুনামগঞ্জ পৌর শহরের ৯০ শতাংশ বাড়িঘর এখনো প্লাবিত। পানি কমলেও তারা বাড়ি ফিরতে পারছেন না। তবে পানি কমতে কমতে শহরের বিভিন্ন স্থানে কিছু দোকানপাট খুলেছে। বাজারসহ প্রয়োজনীয় ওষুধ কিনছেন মানুষ।

নগরীর অধিকাংশ সড়ক এখনো প্লাবিত। এর মধ্যে কয়েকটি সড়কে হাঁটু পর্যন্ত পানি জমে আছে। কেন্দ্রীয় শহরের কিছু বাড়ি থেকে পানি নেমে গেলেও অন্যান্য এলাকার বাড়িঘর এখনো প্লাবিত। আশ্রয়ের খাদ্য, পানীয় জলের সংকট সর্বত্র।

ষোলঘর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পরিবারের সঙ্গে আশ্রয় নেওয়া রিকশাচালক ইয়াকুব আলী (৬০) বলেন, “বাড়িতে এখনও প্রচুর পানি রয়েছে। কবে ফিরতে পারব জানি না। বড় সমস্যায় আছি। ,” বলেন একই এলাকার বাসিন্দা জসিম উদ্দিন।কি করে কিছু করবেন বুঝতে পারছেন না।

উকিলপাড়া এলাকার বাসিন্দা মজনু মিয়া জানান, পানি কমছে। মানুষ ঘর থেকে বের হতে পারছে। এতে কিছুটা স্বস্তি এসেছে। নগরীর বড়পাড়া এলাকার বাসিন্দা আলী হায়দার বলেন, পানি কমে যাওয়ায় মানুষ আতঙ্কিত। স্বস্তি ফিরে এসেছে। শহরের কিছু এলাকায় বিদ্যুৎ সংযোগ চালু করা হয়েছে। তবে যারা এখনো ঘরে ঘরে পানি পাননি, তাদের দুর্ভোগ আগের মতোই রয়েছে।

নগরীর বনানীপাড়ার ব্যবসায়ী পাভেল আহমেদ বলেন, পাঁচ দিন পর দোকান থেকে পানি নেমে গেছে। বেশিরভাগ জিনিসপত্র পানিতে ভেসে গেছে। এতে ব্যবসায়ীদের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। এই ক্ষতি সহজে বহন করা যায় না

সুনামগঞ্জ পৌরসভার মেয়র নাদের বখত প্রথম আলোকে বলেন, শহরে পানি কমেছে। তবে এখনো অনেক এলাকা প্লাবিত। মানুষ এখনো জলাবদ্ধ। শহরের প্রতিটি স্কুল-কলেজে মানুষ আশ্রয় নিয়েছে। তাদের মধ্যে শুকনো ও রান্না করা খাবার বিতরণ করছেন।

জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা মোহাম্মদ শফিকুল ইসলাম জানান, জেলায় এ পর্যন্ত ৬০ মেট্রিক টন চাল, নগদ ৮০ লাখ টাকা ও ১০ হাজার বস্তা খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে। এছাড়া প্রতিদিন ২০ হাজার মানুষকে রান্না করা খাবার দেওয়া হচ্ছে। সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী ও কোস্টগার্ডের সহযোগিতায় জেলায় ত্রাণ তৎপরতা চলছে।

জেলা প্রশাসক মো. জাহাঙ্গীর হোসেন প্রথম আলো</em>কে বলেন, পরিস্থিতির অনেক উন্নতি হয়েছে। আশা করছি, খুব শীঘ্রই সবকিছু ঠিক হয়ে যাবে। ত্রাণের কোনো সংকট নেই। পর্যাপ্ত ত্রাণ আছে। সরকারের পাশাপাশি বিভিন্ন ব্যক্তি ও ব্যক্তিগত উদ্যোগে ত্রাণ বিতরণ করা হচ্ছে

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য

পানি কমছে, স্বস্তি ফিরছে মানুষের মনে

আপডেট সময় ০৪:৫৪:০১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ জুন ২০২২

মঙ্গলবার সুনামগঞ্জে বৃষ্টি হয়নি। বন্যার কারণে পানিও কমেছে। তবে পানির গতি খুবই ধীর। শহরের রাস্তাঘাট, মানুষের বাড়িঘর এখনো প্লাবিত। পানির অভাবে বাড়ি ফিরতে পারছেন না বাসিন্দারা। পানি নেমে যাওয়ার পর মানুষের মনে স্বস্তি ফিরে এসেছে। আজ সুনামগঞ্জ পৌর শহরের আরও কয়েকটি এলাকায় বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়া হয়েছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) সুনামগঞ্জ কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, আজ বিকেলে শহরের অদূরে সুরমা নদীর পানি বিপদসীমার ২৪ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। সুনামগঞ্জে গত ২৪ ঘণ্টায় ১১ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে।

গত বৃহস্পতিবার থেকে রবিবার পর্যন্ত সারাদেশ থেকে বিচ্ছিন্ন ছিল সুনামগঞ্জ। এ সময় মোবাইল ফোনের নেটওয়ার্ক বন্ধ ছিল। চার দিন বিদ্যুৎ বিহীন ছিল। দাড়ানোর কোন স্থল ছিল না। শহরের রাস্তায় তিন থেকে ছয় ফুট পানি ছিল। ফলে সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়ে। মানুষের ঘরবাড়ি তলিয়ে গেছে। গত তিনদিনে বৃষ্টিপাত কম হওয়ায় বাড়িঘর ও রাস্তাঘাট থেকে পানি উঠতে শুরু করেছে।

পুরো জেলা প্লাবিত হলেও সদর, ছাতক, দোয়ারাবাজার, তাহিরপুর ও বিশ্বম্ভরপুর উপজেলায় বন্যা পরিস্থিতি সবচেয়ে বেশি। সরকারি হিসাবে জেলায় প্রায় ৫০০ আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে। এ ছাড়া হাজার হাজার বানভাসি মানুষ যেখানেই সুযোগ পেয়েছেন ঘরবাড়ি, অফিস-আদালত, হাসপাতালে আশ্রয় নিয়েছেন। সুনামগঞ্জ পৌর শহরের ৯০ শতাংশ বাড়িঘর এখনো প্লাবিত। পানি কমলেও তারা বাড়ি ফিরতে পারছেন না। তবে পানি কমতে কমতে শহরের বিভিন্ন স্থানে কিছু দোকানপাট খুলেছে। বাজারসহ প্রয়োজনীয় ওষুধ কিনছেন মানুষ।

নগরীর অধিকাংশ সড়ক এখনো প্লাবিত। এর মধ্যে কয়েকটি সড়কে হাঁটু পর্যন্ত পানি জমে আছে। কেন্দ্রীয় শহরের কিছু বাড়ি থেকে পানি নেমে গেলেও অন্যান্য এলাকার বাড়িঘর এখনো প্লাবিত। আশ্রয়ের খাদ্য, পানীয় জলের সংকট সর্বত্র।

ষোলঘর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পরিবারের সঙ্গে আশ্রয় নেওয়া রিকশাচালক ইয়াকুব আলী (৬০) বলেন, “বাড়িতে এখনও প্রচুর পানি রয়েছে। কবে ফিরতে পারব জানি না। বড় সমস্যায় আছি। ,” বলেন একই এলাকার বাসিন্দা জসিম উদ্দিন।কি করে কিছু করবেন বুঝতে পারছেন না।

উকিলপাড়া এলাকার বাসিন্দা মজনু মিয়া জানান, পানি কমছে। মানুষ ঘর থেকে বের হতে পারছে। এতে কিছুটা স্বস্তি এসেছে। নগরীর বড়পাড়া এলাকার বাসিন্দা আলী হায়দার বলেন, পানি কমে যাওয়ায় মানুষ আতঙ্কিত। স্বস্তি ফিরে এসেছে। শহরের কিছু এলাকায় বিদ্যুৎ সংযোগ চালু করা হয়েছে। তবে যারা এখনো ঘরে ঘরে পানি পাননি, তাদের দুর্ভোগ আগের মতোই রয়েছে।

নগরীর বনানীপাড়ার ব্যবসায়ী পাভেল আহমেদ বলেন, পাঁচ দিন পর দোকান থেকে পানি নেমে গেছে। বেশিরভাগ জিনিসপত্র পানিতে ভেসে গেছে। এতে ব্যবসায়ীদের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। এই ক্ষতি সহজে বহন করা যায় না

সুনামগঞ্জ পৌরসভার মেয়র নাদের বখত প্রথম আলোকে বলেন, শহরে পানি কমেছে। তবে এখনো অনেক এলাকা প্লাবিত। মানুষ এখনো জলাবদ্ধ। শহরের প্রতিটি স্কুল-কলেজে মানুষ আশ্রয় নিয়েছে। তাদের মধ্যে শুকনো ও রান্না করা খাবার বিতরণ করছেন।

জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা মোহাম্মদ শফিকুল ইসলাম জানান, জেলায় এ পর্যন্ত ৬০ মেট্রিক টন চাল, নগদ ৮০ লাখ টাকা ও ১০ হাজার বস্তা খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে। এছাড়া প্রতিদিন ২০ হাজার মানুষকে রান্না করা খাবার দেওয়া হচ্ছে। সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী ও কোস্টগার্ডের সহযোগিতায় জেলায় ত্রাণ তৎপরতা চলছে।

জেলা প্রশাসক মো. জাহাঙ্গীর হোসেন প্রথম আলো</em>কে বলেন, পরিস্থিতির অনেক উন্নতি হয়েছে। আশা করছি, খুব শীঘ্রই সবকিছু ঠিক হয়ে যাবে। ত্রাণের কোনো সংকট নেই। পর্যাপ্ত ত্রাণ আছে। সরকারের পাশাপাশি বিভিন্ন ব্যক্তি ও ব্যক্তিগত উদ্যোগে ত্রাণ বিতরণ করা হচ্ছে