১১:০৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৩ এপ্রিল ২০২৪

নদী কমিশন ও ঢাকা ওয়াসার পাল্টা অভিযোগ

নিজস্ব সংবাদ :
  • আপডেট সময় ০৪:৪৫:২৪ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৯ জুলাই ২০২২
  • / ১১৬৬ বার পড়া হয়েছে

নদী কমিশন ও ঢাকা ওয়াসার পাল্টা অভিযোগ- BD Open News

ঢাকার আশপাশের বুড়িগঙ্গা, শীতলক্ষ্যা, বালু ও তুরাগ চারটি নদীর দূষণ নিয়ে জাতীয় নদী সুরক্ষা কমিশন ও ঢাকা ওয়াসার মধ্যে অভিযোগ ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

নদী দূষণের জন্য ঢাকা ওয়াসাকে দায়ী করে আলোচনা সভায় বক্তব্য দেন নদী রক্ষা কমিশনের চেয়ারম্যান মনজুর আহমেদ চৌধুরী। ঢাকা ওয়াসা নদী রক্ষা কমিশনের চেয়ারম্যানকে চিঠি দিয়ে বলেছে, দায়িত্বশীল পদে থেকে তিনি কোনো অপেশাদারি বক্তব্য দিতে পারবেন না।

সূত্র জানায়, ঢাকা ওয়াসার চিঠির বিষয়টি মন্ত্রিপরিষদ বিভাগকে জানান কমিশনের চেয়ারম্যান। চিঠিতে তিনি বলেন, ঢাকা ওয়াসা নদী রক্ষা কমিশনের চেয়ারম্যানকে এ ধরনের চিঠি দিতে পারে না। এটা অসভ্য।

কমিশনের চেয়ারম্যান গত ১৮ মে এক মতবিনিময় সভায় দূষণের জন্য ঢাকা ওয়াসাকে দায়ী করেন। ঢাকার চারপাশের চার নদীর দূষণ কমাতে করণীয় ঠিক করতে নদী রক্ষা কমিশন এই বৈঠকের আয়োজন করে। এতে সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থার প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

সভার কার্যবিবরণী থেকে জানা যায়, ঢাকা ওয়াসার দায়িত্ব রয়েছে। বৈঠকে কমিশনের চেয়ারম্যান বলেন, ঢাকার নদী-খাল দূষণের জন্য যদি কোনো প্রতিষ্ঠানকে এককভাবে দায়ী করতে হয় তবে তা ঢাকা ওয়াসা। তারা প্রয়োজনীয় পয়ঃনিষ্কাশন লাইন স্থাপন করে না। বাড়ির নর্দমা সংযোগ ড্রেনেজ লাইনের সাথে সংযুক্ত।

বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা ওয়াসার নির্বাহী প্রকৌশলী সৈয়দ শিহাবুর রহমান। সূত্র জানায়, বৈঠক শেষে ঢাকা ওয়াসার পক্ষ থেকে নদী রক্ষা কমিশনের চেয়ারম্যানকে চিঠি দেওয়া হয়। এ বিষয়ে ঢাকা ওয়াসার উপ-প্রধান জন তথ্য কর্মকর্তা এ এম মোস্তফা তারেক বলেন, এটা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের বিষয়। এ বিষয়ে তার কোনো মন্তব্য নেই।

নদী রক্ষা কমিশনের চেয়ারম্যান মনজুর আহমেদ চৌধুরী বলেন, ঢাকা ওয়াসা থেকে চিঠি এসেছে, আমার ভালো লাগেনি, তাই ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি।

ঢাকার চারপাশের চারটি নদীর দূষণ কমাতে করণীয় ঠিক করতে নদী রক্ষা কমিশন এই বৈঠকের আয়োজন করে। এতে সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থার প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) সাবেক অধ্যাপক এবং ইউনিসেফের স্যানিটেশন কনসালটেন্ট মুজিবুর রহমানের ২০২১ সালের একটি গবেষণাপত্রে দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, রাজধানীতে প্রতিদিন ৯১ কোটি লিটার পয়ঃনিষ্কাশন হয়।

ঢাকা ওয়াসা কর্তৃপক্ষের দাবি, ঢাকার ২০ শতাংশ নর্দমা শোধন করা হচ্ছে। প্রকৃতপক্ষে, রাজধানীর 2% এরও কম পয়ঃনিষ্কাশন শোধন করা হচ্ছে। বাকি বর্জ্য খাল-বিল-নদীতে যায়।

বাংলাদেশ পরিবেশ আইনজীবী সমিতির (বেলা) প্রধান নির্বাহী সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেন, নদী দূষণকারীদের মধ্যে ঢাকা ওয়াসা অন্যতম। শিল্প প্রতিষ্ঠানের মালিকরাও কম দায়ী নয়। তবে বেসরকারি শিল্পের সরকার বি

আরও সরকারি সংস্থা দায়ী

কার্যবিবরণীতে নদী রক্ষা কমিশন আয়োজিত আলোচনা সভায় নদী দূষণ রোধে ব্যর্থতার জন্য সিটি করপোরেশন, বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশন (বিসিআইসি) ও পরিবেশ অধিদপ্তরসহ বিভিন্ন সংস্থাকে দায়ী করা হয়।

উদাহরণস্বরূপ, ২০০৯ সালে, পরিবেশ অধিদপ্তর বুড়িগঙ্গা, শীতলক্ষ্যা, তুরাগ এবং বালু নদীকে পরিবেশগতভাবে সংকটপূর্ণ এলাকা (ইসিএ)হিসাবে ঘোষণা করে। বিগত যুগে চারটি নদীর দূষণ কমাতে উল্লেখযোগ্য কোনো পদক্ষেপ নেয়নি পরিবেশ অধিদপ্তর।

বৈঠকে পরিবেশ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক সোনিয়া সুলতানা বলেন, দূষণকারী কারখানাগুলো ২৪ ঘণ্টা মনিটরিং করতে পারবেন না। পরিদর্শনকালে বর্জ্য শোধনাগারটি সচল রাখা হয়। ফেরার সময় তা বন্ধ হয়ে যায়।

কি একটি সিদ্ধান্ত

বৈঠকে বেশ কিছু সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এর মধ্যে রয়েছে ঢাকার চারপাশের চারটি নদীর সাথে সংযুক্ত ১১টি খালের দূষিত পানি প্রতিরোধে প্রতিটি খালের প্রান্তে ট্রিটমেন্ট প্লান্ট স্থাপন, নদীতে উন্মুক্ত ঢাকা ওয়াসার আউটলেটে স্যুয়ারেজ ট্রিটমেন্ট প্লান্ট (এসটিপি) এবং বর্জ্য স্থাপন। কারখানায় ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট। এটা করতে হবে এবং চালাতে হবে।

নদী রক্ষা কমিশনের চেয়ারম্যান মঞ্জুর আহমেদ চৌধুরী বলেন, আগামী বছরের ১৭ মার্চ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মদিনের আগে আমরা চারটি নদীর দূষণ বন্ধে কাজ করছি।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য

নদী কমিশন ও ঢাকা ওয়াসার পাল্টা অভিযোগ

আপডেট সময় ০৪:৪৫:২৪ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৯ জুলাই ২০২২

ঢাকার আশপাশের বুড়িগঙ্গা, শীতলক্ষ্যা, বালু ও তুরাগ চারটি নদীর দূষণ নিয়ে জাতীয় নদী সুরক্ষা কমিশন ও ঢাকা ওয়াসার মধ্যে অভিযোগ ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

নদী দূষণের জন্য ঢাকা ওয়াসাকে দায়ী করে আলোচনা সভায় বক্তব্য দেন নদী রক্ষা কমিশনের চেয়ারম্যান মনজুর আহমেদ চৌধুরী। ঢাকা ওয়াসা নদী রক্ষা কমিশনের চেয়ারম্যানকে চিঠি দিয়ে বলেছে, দায়িত্বশীল পদে থেকে তিনি কোনো অপেশাদারি বক্তব্য দিতে পারবেন না।

সূত্র জানায়, ঢাকা ওয়াসার চিঠির বিষয়টি মন্ত্রিপরিষদ বিভাগকে জানান কমিশনের চেয়ারম্যান। চিঠিতে তিনি বলেন, ঢাকা ওয়াসা নদী রক্ষা কমিশনের চেয়ারম্যানকে এ ধরনের চিঠি দিতে পারে না। এটা অসভ্য।

কমিশনের চেয়ারম্যান গত ১৮ মে এক মতবিনিময় সভায় দূষণের জন্য ঢাকা ওয়াসাকে দায়ী করেন। ঢাকার চারপাশের চার নদীর দূষণ কমাতে করণীয় ঠিক করতে নদী রক্ষা কমিশন এই বৈঠকের আয়োজন করে। এতে সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থার প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

সভার কার্যবিবরণী থেকে জানা যায়, ঢাকা ওয়াসার দায়িত্ব রয়েছে। বৈঠকে কমিশনের চেয়ারম্যান বলেন, ঢাকার নদী-খাল দূষণের জন্য যদি কোনো প্রতিষ্ঠানকে এককভাবে দায়ী করতে হয় তবে তা ঢাকা ওয়াসা। তারা প্রয়োজনীয় পয়ঃনিষ্কাশন লাইন স্থাপন করে না। বাড়ির নর্দমা সংযোগ ড্রেনেজ লাইনের সাথে সংযুক্ত।

বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা ওয়াসার নির্বাহী প্রকৌশলী সৈয়দ শিহাবুর রহমান। সূত্র জানায়, বৈঠক শেষে ঢাকা ওয়াসার পক্ষ থেকে নদী রক্ষা কমিশনের চেয়ারম্যানকে চিঠি দেওয়া হয়। এ বিষয়ে ঢাকা ওয়াসার উপ-প্রধান জন তথ্য কর্মকর্তা এ এম মোস্তফা তারেক বলেন, এটা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের বিষয়। এ বিষয়ে তার কোনো মন্তব্য নেই।

নদী রক্ষা কমিশনের চেয়ারম্যান মনজুর আহমেদ চৌধুরী বলেন, ঢাকা ওয়াসা থেকে চিঠি এসেছে, আমার ভালো লাগেনি, তাই ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি।

ঢাকার চারপাশের চারটি নদীর দূষণ কমাতে করণীয় ঠিক করতে নদী রক্ষা কমিশন এই বৈঠকের আয়োজন করে। এতে সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থার প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) সাবেক অধ্যাপক এবং ইউনিসেফের স্যানিটেশন কনসালটেন্ট মুজিবুর রহমানের ২০২১ সালের একটি গবেষণাপত্রে দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, রাজধানীতে প্রতিদিন ৯১ কোটি লিটার পয়ঃনিষ্কাশন হয়।

ঢাকা ওয়াসা কর্তৃপক্ষের দাবি, ঢাকার ২০ শতাংশ নর্দমা শোধন করা হচ্ছে। প্রকৃতপক্ষে, রাজধানীর 2% এরও কম পয়ঃনিষ্কাশন শোধন করা হচ্ছে। বাকি বর্জ্য খাল-বিল-নদীতে যায়।

বাংলাদেশ পরিবেশ আইনজীবী সমিতির (বেলা) প্রধান নির্বাহী সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেন, নদী দূষণকারীদের মধ্যে ঢাকা ওয়াসা অন্যতম। শিল্প প্রতিষ্ঠানের মালিকরাও কম দায়ী নয়। তবে বেসরকারি শিল্পের সরকার বি

আরও সরকারি সংস্থা দায়ী

কার্যবিবরণীতে নদী রক্ষা কমিশন আয়োজিত আলোচনা সভায় নদী দূষণ রোধে ব্যর্থতার জন্য সিটি করপোরেশন, বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশন (বিসিআইসি) ও পরিবেশ অধিদপ্তরসহ বিভিন্ন সংস্থাকে দায়ী করা হয়।

উদাহরণস্বরূপ, ২০০৯ সালে, পরিবেশ অধিদপ্তর বুড়িগঙ্গা, শীতলক্ষ্যা, তুরাগ এবং বালু নদীকে পরিবেশগতভাবে সংকটপূর্ণ এলাকা (ইসিএ)হিসাবে ঘোষণা করে। বিগত যুগে চারটি নদীর দূষণ কমাতে উল্লেখযোগ্য কোনো পদক্ষেপ নেয়নি পরিবেশ অধিদপ্তর।

বৈঠকে পরিবেশ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক সোনিয়া সুলতানা বলেন, দূষণকারী কারখানাগুলো ২৪ ঘণ্টা মনিটরিং করতে পারবেন না। পরিদর্শনকালে বর্জ্য শোধনাগারটি সচল রাখা হয়। ফেরার সময় তা বন্ধ হয়ে যায়।

কি একটি সিদ্ধান্ত

বৈঠকে বেশ কিছু সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এর মধ্যে রয়েছে ঢাকার চারপাশের চারটি নদীর সাথে সংযুক্ত ১১টি খালের দূষিত পানি প্রতিরোধে প্রতিটি খালের প্রান্তে ট্রিটমেন্ট প্লান্ট স্থাপন, নদীতে উন্মুক্ত ঢাকা ওয়াসার আউটলেটে স্যুয়ারেজ ট্রিটমেন্ট প্লান্ট (এসটিপি) এবং বর্জ্য স্থাপন। কারখানায় ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট। এটা করতে হবে এবং চালাতে হবে।

নদী রক্ষা কমিশনের চেয়ারম্যান মঞ্জুর আহমেদ চৌধুরী বলেন, আগামী বছরের ১৭ মার্চ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মদিনের আগে আমরা চারটি নদীর দূষণ বন্ধে কাজ করছি।