০৯:৩৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৩ এপ্রিল ২০২৪

দুধের দাম আরও বেড়েছে

নিজস্ব সংবাদ :
  • আপডেট সময় ০৫:৪৬:৫৭ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৯ অগাস্ট ২০২২
  • / ১১০৪ বার পড়া হয়েছে

দেশের বাজারে আবারও বেড়েছে দুধের দাম। বিপণন কোম্পানিগুলো যেমন আবার তরল দুধের দাম বাড়িয়েছে, তেমনি বেড়েছে গুঁড়ো দুধের দামও।

বাজারে বিক্রি হওয়া তিনটি কোম্পানির পাস্তুরিত তরল দুধের প্যাকেটের গায়ে লেখা মূল্য যাচাই করে দেখা গেছে, তারা লিটার প্রতি ৯০ টাকা থেকে ৯৫ টাকা নির্ধারণ করেছে। এই দাম আগের চেয়ে ৭ থেকে ১০ টাকা বেশি। এতে ৪ মাসে লিটার প্রতি ২০ টাকা থেকে ২৫ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে তরল দুধের দাম।

অন্যদিকে গুঁড়ো দুধের দাম কেজিতে ৫০ টাকা বেড়েছে। সরকারি সংস্থা ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) হিসাব বলছে, এক বছরে গুঁড়ো দুধের দাম বেড়েছে প্রায় ২২ শতাংশ। উল্লেখ্য, গুঁড়ো দুধের নতুন বর্ধিত দাম টিসিবি অনুযায়ী আসেনি। এর সাথে যোগ হয়েছে, বছরের জন্য মূল্যস্ফীতির হার আরও বেশি হবে।

রাজধানীর কারওয়ান বাজার, মগবাজার, নিউমার্কেট, কাঁটাবন, কাঁঠালবাগান ও গ্রিন রোড এলাকার মুদির দোকান ঘুরে এবং বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে দুধের দাম বৃদ্ধির বিষয়টি জানা গেছে।

কাঁটাবনে ভাই ভাই স্টোর নামে একটি মুদি দোকানের মালিক আমির হোসেন প্রথম আলো</em>কে বলেন, দুধের দাম শুধু এখনই বাড়েনি, চার-পাঁচ মাসে কয়েকগুণ বেড়েছে।

তরল দুধ

দেশের বাজারে মিল্ক ভিটা, প্রাণ, আড়ং, আকিজসহ বিভিন্ন কোম্পানি পাস্তুরিত তরল দুধ বাজারজাত করছে।

বাজার ঘুরে দেখা গেছে, গত শুক্রবার আড়ং ব্র্যান্ডের এক লিটার পাস্তুরিত তরল দুধের খুচরা দাম ৯৫ টাকা। দাম বেড়েছে প্রতি লিটারে ৭ টাকা। গত মে মাসে বাজারে একই দুধের দাম ছিল ৭০ টাকা।

দাম বাড়ার কারণ জানতে চাইলে আড়ং এক লিখিত বক্তব্যে প্রথম আলোকে জানায়, খামার পর্যায়ে দুধের উৎপাদন মূল্য এবং দুধ উৎপাদনের বিভিন্ন কাঁচামাল ও প্যাকেজিং উপকরণের দাম বেড়েছে। এই বর্ধিত দাম সামলাতে দুগ্ধজাত পণ্যের দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে আড়ং।

শুধু আড়ং নয়, প্রাণ, আকিজের মতো অন্যান্য কোম্পানিও তরল দুধের দাম বাড়িয়েছে। রোববার বাজারে পাওয়া তরল দুধের দাম ছিল প্রতি লিটার ৯০ টাকা। আকিজ গ্রুপের ফার্মফ্রেশ ব্র্যান্ডের দুধের দামও প্রতি লিটার 90 টাকা।

দুধের দাম বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছে সরকারি সমবায় দুগ্ধ সংস্থা মিল্ক ভিটাও। পাস্তুরিত তরল দুধের প্রতি লিটার ৫ টাকা বাড়াতে চায় সংস্থাটি।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে মিল্ক ভিটার একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা প্রথম আলো</em>কে বলেন, দাম বাড়ানোর প্রস্তাব সরকারের কাছে পাঠানো হয়েছে। সরকার সিদ্ধান্ত নিলে তা বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেবে। তিনি বলেন, বাজার বাস্তবতার পরিপ্রেক্ষিতে এ মূল্য সমন্বয় প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

এখন মিল্ক ভিটার এক লিটার দুধের দাম 85 টাকা, আধা লিটার 45 টাকা এবং 200 মিলি 20 টাকা।

গুড়াদুধ

এখন বাজারে আরলা ফুডস মিল্ক পাউডারের এক কেজি প্যাকেটের দাম ৮৫০ টাকা। গত জুনে এর দাম ছিল প্রতি কেজি ৮০০ টাকা।

ডিপ্লোমা ব্র্যান্ড মিল্ক পাউডারের দাম এখন বাজারে ৮৪০ টাকা, যা আগে ছিল ৭৯০ টাকা।

বাজারের দোকানিরা বলছেন, অন্যান্য কোম্পানির বিক্রয় প্রতিনিধিরাও গুঁড়া দুধের দাম বাড়ানোর কথা জানিয়েছেন।

টিসিবি জানায়, বাজারে গুঁড়ো দুধের দাম এখন ব্র্যান্ড ভেদে প্রতি কেজি ৬৯০ থেকে ৭৮০ টাকা, যা এক বছর আগে ছিল ৫৯০ থেকে ৬৭০ টাকা।

ব্যবসায়ীরা বলছেন, বিশ্ববাজারে গুঁড়ো দুধের দাম বাড়ছে। এ ছাড়া ডলারের মূল্য বৃদ্ধির কারণে আমদানি ব্যয় বেড়েছে। এতে দুধের দাম বাড়াতে হবে।

এদিকে দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির মধ্যে দুধের দাম বৃদ্ধি মধ্যবিত্ত পরিবারের ব্যয় আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। গতকাল মালিবাগের একটি দোকান থেকে দুধ কেনার সময় মাসুদুর রহমান নামের এক ব্যক্তি BD OPEN NEWS

কে বলেন, দুধ এক সময় তার পরিবারের দৈনন্দিন খাদ্যের অংশ ছিল। এখন শুধুমাত্র একটি বিশেষ খাবার রান্না করার সময় দুধ কিনুন। তিনি বলেন, চাল-ডাল ক্রয় কমানো যাবে না, তাই দুধ ক্রয় কমাতে হবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য

দুধের দাম আরও বেড়েছে

আপডেট সময় ০৫:৪৬:৫৭ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৯ অগাস্ট ২০২২

দেশের বাজারে আবারও বেড়েছে দুধের দাম। বিপণন কোম্পানিগুলো যেমন আবার তরল দুধের দাম বাড়িয়েছে, তেমনি বেড়েছে গুঁড়ো দুধের দামও।

বাজারে বিক্রি হওয়া তিনটি কোম্পানির পাস্তুরিত তরল দুধের প্যাকেটের গায়ে লেখা মূল্য যাচাই করে দেখা গেছে, তারা লিটার প্রতি ৯০ টাকা থেকে ৯৫ টাকা নির্ধারণ করেছে। এই দাম আগের চেয়ে ৭ থেকে ১০ টাকা বেশি। এতে ৪ মাসে লিটার প্রতি ২০ টাকা থেকে ২৫ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে তরল দুধের দাম।

অন্যদিকে গুঁড়ো দুধের দাম কেজিতে ৫০ টাকা বেড়েছে। সরকারি সংস্থা ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) হিসাব বলছে, এক বছরে গুঁড়ো দুধের দাম বেড়েছে প্রায় ২২ শতাংশ। উল্লেখ্য, গুঁড়ো দুধের নতুন বর্ধিত দাম টিসিবি অনুযায়ী আসেনি। এর সাথে যোগ হয়েছে, বছরের জন্য মূল্যস্ফীতির হার আরও বেশি হবে।

রাজধানীর কারওয়ান বাজার, মগবাজার, নিউমার্কেট, কাঁটাবন, কাঁঠালবাগান ও গ্রিন রোড এলাকার মুদির দোকান ঘুরে এবং বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে দুধের দাম বৃদ্ধির বিষয়টি জানা গেছে।

কাঁটাবনে ভাই ভাই স্টোর নামে একটি মুদি দোকানের মালিক আমির হোসেন প্রথম আলো</em>কে বলেন, দুধের দাম শুধু এখনই বাড়েনি, চার-পাঁচ মাসে কয়েকগুণ বেড়েছে।

তরল দুধ

দেশের বাজারে মিল্ক ভিটা, প্রাণ, আড়ং, আকিজসহ বিভিন্ন কোম্পানি পাস্তুরিত তরল দুধ বাজারজাত করছে।

বাজার ঘুরে দেখা গেছে, গত শুক্রবার আড়ং ব্র্যান্ডের এক লিটার পাস্তুরিত তরল দুধের খুচরা দাম ৯৫ টাকা। দাম বেড়েছে প্রতি লিটারে ৭ টাকা। গত মে মাসে বাজারে একই দুধের দাম ছিল ৭০ টাকা।

দাম বাড়ার কারণ জানতে চাইলে আড়ং এক লিখিত বক্তব্যে প্রথম আলোকে জানায়, খামার পর্যায়ে দুধের উৎপাদন মূল্য এবং দুধ উৎপাদনের বিভিন্ন কাঁচামাল ও প্যাকেজিং উপকরণের দাম বেড়েছে। এই বর্ধিত দাম সামলাতে দুগ্ধজাত পণ্যের দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে আড়ং।

শুধু আড়ং নয়, প্রাণ, আকিজের মতো অন্যান্য কোম্পানিও তরল দুধের দাম বাড়িয়েছে। রোববার বাজারে পাওয়া তরল দুধের দাম ছিল প্রতি লিটার ৯০ টাকা। আকিজ গ্রুপের ফার্মফ্রেশ ব্র্যান্ডের দুধের দামও প্রতি লিটার 90 টাকা।

দুধের দাম বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছে সরকারি সমবায় দুগ্ধ সংস্থা মিল্ক ভিটাও। পাস্তুরিত তরল দুধের প্রতি লিটার ৫ টাকা বাড়াতে চায় সংস্থাটি।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে মিল্ক ভিটার একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা প্রথম আলো</em>কে বলেন, দাম বাড়ানোর প্রস্তাব সরকারের কাছে পাঠানো হয়েছে। সরকার সিদ্ধান্ত নিলে তা বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেবে। তিনি বলেন, বাজার বাস্তবতার পরিপ্রেক্ষিতে এ মূল্য সমন্বয় প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

এখন মিল্ক ভিটার এক লিটার দুধের দাম 85 টাকা, আধা লিটার 45 টাকা এবং 200 মিলি 20 টাকা।

গুড়াদুধ

এখন বাজারে আরলা ফুডস মিল্ক পাউডারের এক কেজি প্যাকেটের দাম ৮৫০ টাকা। গত জুনে এর দাম ছিল প্রতি কেজি ৮০০ টাকা।

ডিপ্লোমা ব্র্যান্ড মিল্ক পাউডারের দাম এখন বাজারে ৮৪০ টাকা, যা আগে ছিল ৭৯০ টাকা।

বাজারের দোকানিরা বলছেন, অন্যান্য কোম্পানির বিক্রয় প্রতিনিধিরাও গুঁড়া দুধের দাম বাড়ানোর কথা জানিয়েছেন।

টিসিবি জানায়, বাজারে গুঁড়ো দুধের দাম এখন ব্র্যান্ড ভেদে প্রতি কেজি ৬৯০ থেকে ৭৮০ টাকা, যা এক বছর আগে ছিল ৫৯০ থেকে ৬৭০ টাকা।

ব্যবসায়ীরা বলছেন, বিশ্ববাজারে গুঁড়ো দুধের দাম বাড়ছে। এ ছাড়া ডলারের মূল্য বৃদ্ধির কারণে আমদানি ব্যয় বেড়েছে। এতে দুধের দাম বাড়াতে হবে।

এদিকে দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির মধ্যে দুধের দাম বৃদ্ধি মধ্যবিত্ত পরিবারের ব্যয় আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। গতকাল মালিবাগের একটি দোকান থেকে দুধ কেনার সময় মাসুদুর রহমান নামের এক ব্যক্তি BD OPEN NEWS

কে বলেন, দুধ এক সময় তার পরিবারের দৈনন্দিন খাদ্যের অংশ ছিল। এখন শুধুমাত্র একটি বিশেষ খাবার রান্না করার সময় দুধ কিনুন। তিনি বলেন, চাল-ডাল ক্রয় কমানো যাবে না, তাই দুধ ক্রয় কমাতে হবে।