১০:২৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২০ জুন ২০২৪

তুলনামূলকভাবে বাংলাদেশের অর্থনীতি ভালো: পররাষ্ট্রমন্ত্রী

নিজস্ব সংবাদ :
  • আপডেট সময় ০৬:০৮:০৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩১ জুলাই ২০২২
  • / ১১৮৩ বার পড়া হয়েছে

তুলনামূলকভাবে বাংলাদেশের অর্থনীতি ভালো: পররাষ্ট্রমন্ত্রী

ড. এ কে মোমেন বাংলাদেশের অর্থনীতি তুলনামূলক ভালো অবস্থানে রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী । রোববার সকালে এমিরেটস এয়ারলাইন্সের জেএফকে বিমানবন্দরে অবতরণের পর মন্ত্রী এ কথা বলেন।

জাতিসংঘ সদর দফতরে পারমাণবিক অপ্রসারণ ও নিরস্ত্রীকরণ চুক্তির আওতায় থাকা দেশগুলোর উচ্চ পর্যায়ের বৈঠকে অংশ নিতে তিনি যুক্তরাষ্ট্র সফরে রয়েছেন। তাকে স্বাগত জানাতে বিমানবন্দরে উপস্থিত ছিলেন জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি এম এ মুহিত।

যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত শহিদুল ইসলাম, আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক আইরিন পারভীন, বঙ্গবন্ধু আইনজীবী পরিষদের নেত্রী মোর্শেদা জামান, আশরাফুজ্জামান, যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের মালিকানাধীন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের চ্যান্সেলর আবু বকর হানিফ।

বিমানবন্দে ওপেন নিউজের সঙ্গে বক্তৃতায় পররাষ্ট্রমন্ত্রী বাংলাদেশের অর্থনীতি ও যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতির বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন। মন্ত্রী বলেন, সারা বিশ্বে মূল্যস্ফীতি চলছে। ইউক্রেন যুদ্ধ এবং এর পরিপ্রেক্ষিতে বিভিন্ন নিষেধাজ্ঞার কারণে সাপ্লাই চেইন বন্ধ হওয়ার কারণে এটি ঘটছে। ইরাক যুদ্ধ, কুয়েত যুদ্ধ, আফগানিস্তান যুদ্ধসহ বিভিন্ন যুদ্ধের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, এসব যুদ্ধের চেয়ে ইউক্রেন যুদ্ধের প্রভাব অনেক বেশি।

মার্কিন মুদ্রাস্ফীতির কথা উল্লেখ করে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এর তুলনায় আমাদের দেশ অনেক ভালো অবস্থানে রয়েছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে এক ডলারে যে ডিম কেনা হত এখন তার দাম ছয় ডলার। সে তুলনায় বাংলাদেশে মূল্যস্ফীতি এখনও ৭ শতাংশের নিচে।

কেউ কেউ অকারণে অর্থনীতি নিয়ে অসম্মান সৃষ্টি করছে। তাদেরকে জ্ঞানপাপী বলেও উল্লেখ করেছেন ড. মোমেন। তারা রিজার্ভ নিয়ে মিথ্যাচার করছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমাদের কাছে ৪০ বিলিয়ন ডলারের রিজার্ভ রয়েছে। কয়েক বছর আগেও আমরা ৩-৪ বিলিয়ন ডলার নিয়ে চলছিলাম। এখন আমাদের কাছে ৪০ বিলিয়ন ডলার আছে। তাই ভয়ের কিছু নেই।

গ্যাস সরবরাহে কোনো সমস্যা নেই মন্তব্য করে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সরকার ব্যয় সাশ্রয়ের পথে যাচ্ছে। তিনি বলেন, ভবিষ্যতে যাতে কোনো সংকট না হয় সেজন্য সবাইকে মিতব্যয়ী হওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

অপর এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, কোনো দেশই নিখুঁত নয়, আমাদের দেশেরও কিছু দুর্বলতা রয়েছে। কিছু অপরিপক্কতা আছে। দেশ হলো ভালো-মন্দের সমাহার। তবে ভালো দিকটা বাংলাদেশের জন্য সবচেয়ে বেশি।

বাংলাদেশ অস্ত্র বিস্তারের পক্ষে। আর পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, জাতিসংঘের উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে অংশ নিতে তিনি নিউইয়র্কে এসেছেন। সফরের বিস্তারিত জানতে চাইলে তিনি বলেন, তার প্রধান কাজ এখন জাতিসংঘে। এখানে বৈঠকের পর আগামী ৩ আগস্ট কম্বোডিয়ায় আসিয়ান সম্মেলন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। এতে যোগ দিতে যুক্তরাষ্ট্র থেকে সেখানে যান। সম্মেলনে রোহিঙ্গা ইস্যু নিয়ে আলোচনা হবে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ আসিয়ানে গভীর সম্পর্ক স্থাপনের চেষ্টা করছে।

সব মিলিয়ে ব্যস্ত সময়ের কথা উল্লেখ করে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এসব কর্মসূচি শেষে তিনি দেশে ফিরবেন। তিনি আরও বলেন, চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বাংলাদেশ সফর করবেন। সেজন্য দ্রুত দেশে ফিরতে হবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য

তুলনামূলকভাবে বাংলাদেশের অর্থনীতি ভালো: পররাষ্ট্রমন্ত্রী

আপডেট সময় ০৬:০৮:০৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩১ জুলাই ২০২২

ড. এ কে মোমেন বাংলাদেশের অর্থনীতি তুলনামূলক ভালো অবস্থানে রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী । রোববার সকালে এমিরেটস এয়ারলাইন্সের জেএফকে বিমানবন্দরে অবতরণের পর মন্ত্রী এ কথা বলেন।

জাতিসংঘ সদর দফতরে পারমাণবিক অপ্রসারণ ও নিরস্ত্রীকরণ চুক্তির আওতায় থাকা দেশগুলোর উচ্চ পর্যায়ের বৈঠকে অংশ নিতে তিনি যুক্তরাষ্ট্র সফরে রয়েছেন। তাকে স্বাগত জানাতে বিমানবন্দরে উপস্থিত ছিলেন জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি এম এ মুহিত।

যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত শহিদুল ইসলাম, আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক আইরিন পারভীন, বঙ্গবন্ধু আইনজীবী পরিষদের নেত্রী মোর্শেদা জামান, আশরাফুজ্জামান, যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের মালিকানাধীন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের চ্যান্সেলর আবু বকর হানিফ।

বিমানবন্দে ওপেন নিউজের সঙ্গে বক্তৃতায় পররাষ্ট্রমন্ত্রী বাংলাদেশের অর্থনীতি ও যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতির বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন। মন্ত্রী বলেন, সারা বিশ্বে মূল্যস্ফীতি চলছে। ইউক্রেন যুদ্ধ এবং এর পরিপ্রেক্ষিতে বিভিন্ন নিষেধাজ্ঞার কারণে সাপ্লাই চেইন বন্ধ হওয়ার কারণে এটি ঘটছে। ইরাক যুদ্ধ, কুয়েত যুদ্ধ, আফগানিস্তান যুদ্ধসহ বিভিন্ন যুদ্ধের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, এসব যুদ্ধের চেয়ে ইউক্রেন যুদ্ধের প্রভাব অনেক বেশি।

মার্কিন মুদ্রাস্ফীতির কথা উল্লেখ করে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এর তুলনায় আমাদের দেশ অনেক ভালো অবস্থানে রয়েছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে এক ডলারে যে ডিম কেনা হত এখন তার দাম ছয় ডলার। সে তুলনায় বাংলাদেশে মূল্যস্ফীতি এখনও ৭ শতাংশের নিচে।

কেউ কেউ অকারণে অর্থনীতি নিয়ে অসম্মান সৃষ্টি করছে। তাদেরকে জ্ঞানপাপী বলেও উল্লেখ করেছেন ড. মোমেন। তারা রিজার্ভ নিয়ে মিথ্যাচার করছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমাদের কাছে ৪০ বিলিয়ন ডলারের রিজার্ভ রয়েছে। কয়েক বছর আগেও আমরা ৩-৪ বিলিয়ন ডলার নিয়ে চলছিলাম। এখন আমাদের কাছে ৪০ বিলিয়ন ডলার আছে। তাই ভয়ের কিছু নেই।

গ্যাস সরবরাহে কোনো সমস্যা নেই মন্তব্য করে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সরকার ব্যয় সাশ্রয়ের পথে যাচ্ছে। তিনি বলেন, ভবিষ্যতে যাতে কোনো সংকট না হয় সেজন্য সবাইকে মিতব্যয়ী হওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

অপর এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, কোনো দেশই নিখুঁত নয়, আমাদের দেশেরও কিছু দুর্বলতা রয়েছে। কিছু অপরিপক্কতা আছে। দেশ হলো ভালো-মন্দের সমাহার। তবে ভালো দিকটা বাংলাদেশের জন্য সবচেয়ে বেশি।

বাংলাদেশ অস্ত্র বিস্তারের পক্ষে। আর পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, জাতিসংঘের উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে অংশ নিতে তিনি নিউইয়র্কে এসেছেন। সফরের বিস্তারিত জানতে চাইলে তিনি বলেন, তার প্রধান কাজ এখন জাতিসংঘে। এখানে বৈঠকের পর আগামী ৩ আগস্ট কম্বোডিয়ায় আসিয়ান সম্মেলন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। এতে যোগ দিতে যুক্তরাষ্ট্র থেকে সেখানে যান। সম্মেলনে রোহিঙ্গা ইস্যু নিয়ে আলোচনা হবে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ আসিয়ানে গভীর সম্পর্ক স্থাপনের চেষ্টা করছে।

সব মিলিয়ে ব্যস্ত সময়ের কথা উল্লেখ করে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এসব কর্মসূচি শেষে তিনি দেশে ফিরবেন। তিনি আরও বলেন, চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বাংলাদেশ সফর করবেন। সেজন্য দ্রুত দেশে ফিরতে হবে।