১০:৩৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০১ মার্চ ২০২৪

জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে মানুষের যোগাযোগের সুযোগ কমে গেছে

নিজস্ব সংবাদ :
  • আপডেট সময় ০৩:৪৬:৩৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৩ অগাস্ট ২০২২
  • / ৭৯৪ বার পড়া হয়েছে

bdopennews

জনগণ তাদের দাবি সরকারের কাছে তুলে ধরার উপযুক্ত উপায় খুঁজে পাচ্ছে না। নির্বাচনের আগে জনপ্রতিনিধিদের কাছে তাদের দাবি-দাওয়া তুলে ধরতে পারলেও নির্বাচনের পর সেই সুযোগ কমে গেছে। শনিবার রাজধানীর একটি হোটেলে সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি) আয়োজিত নাগরিক সম্মেলনে এ তথ্য তুলে ধরা হয়।

সম্মেলনে আরও বলা হয়, রাজনৈতিক দলগুলোর নির্বাচনী ইশতেহার তৈরির প্রক্রিয়ায় জনগণের কোনো সম্পৃক্ততা নেই।

অনুষ্ঠানে ‘জাতীয় উন্নয়নের প্রতি অঙ্গীকার: শিক্ষা, উপযুক্ত কর্মসংস্থান, লিঙ্গ সমতা’ শীর্ষক সিপিডির প্রকল্পের ফলাফল উপস্থাপন করা হয়। এই প্রকল্পটি শিক্ষা, শালীন কর্মসংস্থান এবং লিঙ্গ সমতা সংক্রান্ত 2018 সালের নির্বাচনী ইশতেহারে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল তার বাস্তবায়ন পর্যালোচনা করে। সেই ইশতেহার সম্পর্কে জনগণের মনোভাব জানতে সিপিডি ১৫টি জেলায় ৯০টি উঠান বৈঠকের আয়োজন করে। 918 জন এই সভায় অংশগ্রহণ করেন. এ ছাড়া রংপুর, রাজশাহী, খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রামে আঞ্চলিক সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। ওই সব সম্মেলনে মন্ত্রী, সংসদ সদস্য ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

সিপিডির পক্ষ থেকে আজকের কর্মসূচিতে মুক্ত আলোচনায় যেসব ব্যক্তিদের মতামত উঠে এসেছে, তাদের অধিকাংশই বলেছেন, প্রার্থীদের কাছে সরাসরি বা লিখিত আকারে তাদের চাহিদা বা দাবি জানাতে পারেননি। তবে কেউ কেউ স্থানীয় সমস্যা নিয়ে এমপিদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলতে পেরেছেন। এছাড়া শিক্ষা খাতকে দুর্নীতি ও রাজনীতিমুক্ত করা, কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি এবং উদ্যোক্তা হতে উদ্বুদ্ধ করা, ঋণ সংক্রান্ত জটিলতা দূর করা, লিঙ্গ মজুরি বৈষম্য দূর করা এবং শহর ও গ্রামে নারীদের কাজের সুযোগ বৃদ্ধিসহ বিভিন্ন বিষয়ে জনগণ মতামত ব্যক্ত করেন।

দিনব্যাপী অনুষ্ঠানের উদ্বোধনী অধিবেশনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান তার এলাকার অভিজ্ঞতা তুলে ধরে বলেন, সংলাপে জনগণের চাহিদার সঙ্গে যে মত প্রকাশ করা হয়েছে তার মধ্যে তিনি মিল খুঁজে পাননি। তৃণমূল। দলের নির্বাচনী ইশতেহারের পাশাপাশি জনপ্রতিনিধিরা স্থানীয় জনগণের সঙ্গে এক ধরনের মৌখিক অঙ্গীকার করেন। মানুষ সবচেয়ে বেশি যা চায় তা হল সামাজিক ভাতা কার্ড, খাদ্য ও পানি সরবরাহ, স্যানিটেশন, রাস্তাঘাট, এলাকায় কালভার্ট এবং একটি উপযুক্ত চাকরি পাওয়ার সুযোগ। আগে বিদ্যুতের চাহিদা থাকলেও এখন তা নেই।

এখন নির্বাচনের আগেও যোগাযোগ নেই, পরেও নেই। এখন নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় জনসংযোগের প্রয়োজন নেই। একটি নতুন সংস্কৃতির সূচনা হয়েছে, যেখানে এমপিরা মুখের চেয়ে বেশি হাতের মুঠোয়

বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতি প্রসঙ্গে পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, খরচ কমানোর কোনো কথা নেই। সঠিক খরচ চাচ্ছেন। সারা বিশ্বে যে ঢেউ উঠেছে, আমাদের ঢেউগুলোও কাঁপছে। এতে লজ্জা পাওয়ার কিছু নেই।

অনুষ্ঠানে বক্তা হিসেবে অংশ নেন স্থানীয় সরকার বিশেষজ্ঞ তোফায়েল আহমেদ, বেসরকারী সংস্থা নিজরা কারির সমন্বয়ক খুশি কবির।

তোফায়েল আহমেদ বলেন, রাজনৈতিক দলগুলোর নির্বাচনী ইশতেহার যদি শুধু কথার হয়, তাহলে তা করা না করা সমান। দেখা গেছে, নির্বাচনের তিন দিন আগে ইশতেহার তৈরি করা হচ্ছে। তবে নির্বাচনের আগে আলোচনার মাধ্যমে এক বছর ধরে ইশতেহার তৈরি করতে হবে। সে সব প্রক্রিয়া এদেশে নেই। কারণ এখানেই নির্বাচনী ইশতেহারের বাণী। সত্যিকারের নির্বাচন হলে ইশতেহার গুরুত্বপূর্ণ হতো। দলের গঠনতন্ত্রও তো কথার ব্যাপার। কিন্তু দলই দেশ চালাচ্ছে।

জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে জনগণের যোগাযোগ প্রসঙ্গে তোফায়েল আহমেদ বলেন, এখন নির্বাচনের আগেও যোগাযোগ নেই, পরেও নেই। এখন নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় জনসংযোগের প্রয়োজন নেই। একটি নতুন সংস্কৃতির সূচনা হয়েছে, যেখানে এমপিরা মুখের চেয়ে বেশি হাতের মুঠোয়। বিশেষ করে শিক্ষকদের ওপর।

খুশি কবির বলেন, সাধারণ মানুষকে সচেতন করতে হবে, জনপ্রতিনিধিরা তাদের কাছে জবাবদিহি করতে বাধ্য। সব কিছু সহ্য করার মানসিকতা বদলাতে হবে।

সিপিডির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০১৮ সালের নির্বাচনের আগে আওয়ামী লীগের নির্বাচনী ইশতেহারে অন্তর্ভুক্ত ছিল- ২০২১ সালের মধ্যে মধ্যম আয়ের দেশে উন্নীত করা, ২০২০ সালের মধ্যে ‘টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্য (এসডিজি)’ অর্জন, ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত দেশের মর্যাদা অর্জন, ‘ডেলফি পরিকল্পনা’। বা ডেল্টা প্ল্যান 2100 বাস্তবায়নের সাথে এগিয়ে যাওয়া। এ ছাড়া ইশতেহারে ৩৩টি খাতের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।

অনুষ্ঠানের সভাপতি সিপিডির নির্বাহী পরিচালক ফাহমিদা খাতুন বলেন, ইশতেহারের মাধ্যমে রাজনৈতিক দলগুলো জনগণের কাছে তাদের রাজনৈতিক অঙ্গীকারের ধারণা দেয়। ইশতেহারটি আইনগত দলিল না হলেও গুরুত্বপূর্ণ। সিপিডির এই তথ্যগুলো ২০২৩ সালের নির্বাচনে রাজনৈতিক দলগুলোর জন্য শিক্ষণীয় হতে পারে।

মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সিপিডির গবেষণা পরিচালক খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম আ

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে মানুষের যোগাযোগের সুযোগ কমে গেছে

আপডেট সময় ০৩:৪৬:৩৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৩ অগাস্ট ২০২২

জনগণ তাদের দাবি সরকারের কাছে তুলে ধরার উপযুক্ত উপায় খুঁজে পাচ্ছে না। নির্বাচনের আগে জনপ্রতিনিধিদের কাছে তাদের দাবি-দাওয়া তুলে ধরতে পারলেও নির্বাচনের পর সেই সুযোগ কমে গেছে। শনিবার রাজধানীর একটি হোটেলে সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি) আয়োজিত নাগরিক সম্মেলনে এ তথ্য তুলে ধরা হয়।

সম্মেলনে আরও বলা হয়, রাজনৈতিক দলগুলোর নির্বাচনী ইশতেহার তৈরির প্রক্রিয়ায় জনগণের কোনো সম্পৃক্ততা নেই।

অনুষ্ঠানে ‘জাতীয় উন্নয়নের প্রতি অঙ্গীকার: শিক্ষা, উপযুক্ত কর্মসংস্থান, লিঙ্গ সমতা’ শীর্ষক সিপিডির প্রকল্পের ফলাফল উপস্থাপন করা হয়। এই প্রকল্পটি শিক্ষা, শালীন কর্মসংস্থান এবং লিঙ্গ সমতা সংক্রান্ত 2018 সালের নির্বাচনী ইশতেহারে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল তার বাস্তবায়ন পর্যালোচনা করে। সেই ইশতেহার সম্পর্কে জনগণের মনোভাব জানতে সিপিডি ১৫টি জেলায় ৯০টি উঠান বৈঠকের আয়োজন করে। 918 জন এই সভায় অংশগ্রহণ করেন. এ ছাড়া রংপুর, রাজশাহী, খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রামে আঞ্চলিক সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। ওই সব সম্মেলনে মন্ত্রী, সংসদ সদস্য ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

সিপিডির পক্ষ থেকে আজকের কর্মসূচিতে মুক্ত আলোচনায় যেসব ব্যক্তিদের মতামত উঠে এসেছে, তাদের অধিকাংশই বলেছেন, প্রার্থীদের কাছে সরাসরি বা লিখিত আকারে তাদের চাহিদা বা দাবি জানাতে পারেননি। তবে কেউ কেউ স্থানীয় সমস্যা নিয়ে এমপিদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলতে পেরেছেন। এছাড়া শিক্ষা খাতকে দুর্নীতি ও রাজনীতিমুক্ত করা, কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি এবং উদ্যোক্তা হতে উদ্বুদ্ধ করা, ঋণ সংক্রান্ত জটিলতা দূর করা, লিঙ্গ মজুরি বৈষম্য দূর করা এবং শহর ও গ্রামে নারীদের কাজের সুযোগ বৃদ্ধিসহ বিভিন্ন বিষয়ে জনগণ মতামত ব্যক্ত করেন।

দিনব্যাপী অনুষ্ঠানের উদ্বোধনী অধিবেশনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান তার এলাকার অভিজ্ঞতা তুলে ধরে বলেন, সংলাপে জনগণের চাহিদার সঙ্গে যে মত প্রকাশ করা হয়েছে তার মধ্যে তিনি মিল খুঁজে পাননি। তৃণমূল। দলের নির্বাচনী ইশতেহারের পাশাপাশি জনপ্রতিনিধিরা স্থানীয় জনগণের সঙ্গে এক ধরনের মৌখিক অঙ্গীকার করেন। মানুষ সবচেয়ে বেশি যা চায় তা হল সামাজিক ভাতা কার্ড, খাদ্য ও পানি সরবরাহ, স্যানিটেশন, রাস্তাঘাট, এলাকায় কালভার্ট এবং একটি উপযুক্ত চাকরি পাওয়ার সুযোগ। আগে বিদ্যুতের চাহিদা থাকলেও এখন তা নেই।

এখন নির্বাচনের আগেও যোগাযোগ নেই, পরেও নেই। এখন নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় জনসংযোগের প্রয়োজন নেই। একটি নতুন সংস্কৃতির সূচনা হয়েছে, যেখানে এমপিরা মুখের চেয়ে বেশি হাতের মুঠোয়

বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতি প্রসঙ্গে পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, খরচ কমানোর কোনো কথা নেই। সঠিক খরচ চাচ্ছেন। সারা বিশ্বে যে ঢেউ উঠেছে, আমাদের ঢেউগুলোও কাঁপছে। এতে লজ্জা পাওয়ার কিছু নেই।

অনুষ্ঠানে বক্তা হিসেবে অংশ নেন স্থানীয় সরকার বিশেষজ্ঞ তোফায়েল আহমেদ, বেসরকারী সংস্থা নিজরা কারির সমন্বয়ক খুশি কবির।

তোফায়েল আহমেদ বলেন, রাজনৈতিক দলগুলোর নির্বাচনী ইশতেহার যদি শুধু কথার হয়, তাহলে তা করা না করা সমান। দেখা গেছে, নির্বাচনের তিন দিন আগে ইশতেহার তৈরি করা হচ্ছে। তবে নির্বাচনের আগে আলোচনার মাধ্যমে এক বছর ধরে ইশতেহার তৈরি করতে হবে। সে সব প্রক্রিয়া এদেশে নেই। কারণ এখানেই নির্বাচনী ইশতেহারের বাণী। সত্যিকারের নির্বাচন হলে ইশতেহার গুরুত্বপূর্ণ হতো। দলের গঠনতন্ত্রও তো কথার ব্যাপার। কিন্তু দলই দেশ চালাচ্ছে।

জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে জনগণের যোগাযোগ প্রসঙ্গে তোফায়েল আহমেদ বলেন, এখন নির্বাচনের আগেও যোগাযোগ নেই, পরেও নেই। এখন নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় জনসংযোগের প্রয়োজন নেই। একটি নতুন সংস্কৃতির সূচনা হয়েছে, যেখানে এমপিরা মুখের চেয়ে বেশি হাতের মুঠোয়। বিশেষ করে শিক্ষকদের ওপর।

খুশি কবির বলেন, সাধারণ মানুষকে সচেতন করতে হবে, জনপ্রতিনিধিরা তাদের কাছে জবাবদিহি করতে বাধ্য। সব কিছু সহ্য করার মানসিকতা বদলাতে হবে।

সিপিডির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০১৮ সালের নির্বাচনের আগে আওয়ামী লীগের নির্বাচনী ইশতেহারে অন্তর্ভুক্ত ছিল- ২০২১ সালের মধ্যে মধ্যম আয়ের দেশে উন্নীত করা, ২০২০ সালের মধ্যে ‘টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্য (এসডিজি)’ অর্জন, ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত দেশের মর্যাদা অর্জন, ‘ডেলফি পরিকল্পনা’। বা ডেল্টা প্ল্যান 2100 বাস্তবায়নের সাথে এগিয়ে যাওয়া। এ ছাড়া ইশতেহারে ৩৩টি খাতের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।

অনুষ্ঠানের সভাপতি সিপিডির নির্বাহী পরিচালক ফাহমিদা খাতুন বলেন, ইশতেহারের মাধ্যমে রাজনৈতিক দলগুলো জনগণের কাছে তাদের রাজনৈতিক অঙ্গীকারের ধারণা দেয়। ইশতেহারটি আইনগত দলিল না হলেও গুরুত্বপূর্ণ। সিপিডির এই তথ্যগুলো ২০২৩ সালের নির্বাচনে রাজনৈতিক দলগুলোর জন্য শিক্ষণীয় হতে পারে।

মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সিপিডির গবেষণা পরিচালক খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম আ