০৯:৩৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৮ মে ২০২৪

ছাত্ররা এখন অন্যায়ভাবে বলে, ‘আমি কী করলাম?’

নিজস্ব সংবাদ :
  • আপডেট সময় ০৫:৪৮:২৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ জুন ২০২২
  • / ৩০৭ বার পড়া হয়েছে

bdopennews

ছাত্রদের অনেকেরই এখন শিক্ষকদের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ নেই। অন্যায় করে শাসন করতে চাইলে প্রায়ই শুনতে পান ‘আমি কি করেছি’। পরিবারকে বিচার দিলেও পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয় না। নৈতিকতা ও মূল্যবোধের জায়গা এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, এখন শাসনের কারণে জনসম্মুখে শিক্ষককে পিটিয়ে হত্যার মতো জঘন্য কাজ করতেও দ্বিধাবোধ করছে না শিক্ষার্থীরা।

সম্প্রতি দেশের বিভিন্ন স্থানে শিক্ষক লাঞ্ছিত ও সাভারের আশুলিয়ায় কলেজ শিক্ষককে পিটিয়ে হত্যার ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে বিভিন্ন কিন্ডারগার্টেনের শিক্ষকরা এ কথা বলেন।

বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ কিন্ডারগার্টেন অ্যাসোসিয়েশনের (কেন্দ্রীয় কমিটি) সভাপতি হাসান আলী বিডি ওপেন নিউজকে বলেন, শিক্ষা ব্যবস্থায় পরিবর্তন আনতে হবে। আগেকার ছাত্ররা শিক্ষকের ভয়ে সব সময় সচেতন ছিল। এখন শিক্ষকরা আতঙ্কিত। এখন তাদের বলতে শোনা যায়, ‘মেরেন, মারেন নিয়ে যাও, কী করব, রাস্তায় বেরোও না, তারপর দেখা হবে’।

হাসান আলী মনে করেন, সরকারের উচিত শিশু-কিশোরদের এ ধরনের সহিংস আচরণ থেকে সরানোর দিকে নজর দেওয়া। তিনি বলেন, “শিশু-কিশোর হিসেবে সবকিছু হালকাভাবে নেওয়া হলে এমন পরিস্থিতির উদ্ভব হওয়াটাই স্বাভাবিক।” প্রতিবাদ করলে রাজপথে অপমান। শিক্ষককে পিটিয়ে হত্যার মাধ্যমে এর প্রমাণ আমরা দেখেছি। এখন বিষয়টি বিবেচনা করে শিক্ষকদের নিরাপত্তার জন্য আইন করতে হবে।

অনেকে পারিবারিক শিক্ষার অভাব, নৈতিকতা ও মূল্যবোধের অবক্ষয় এবং ছাত্রদের হাতে শিক্ষক নির্যাতন ও হত্যার ঘটনার জন্য রাজনৈতিক প্রভাবকে দায়ী করছেন। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পরিচালনায় সরকারের নেওয়া পদক্ষেপ সময়োপযোগী নয় বলেও মনে করেন কেউ কেউ।

সাভারের জেনারেশন টুয়েন্টি ফার্স্ট সেঞ্চুরি স্কুলের প্রধান শিক্ষক শরীফ হোসেন বিডি ওপেন নিউজকে বলেন, অনেক শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে অভিযোগ পরিবারের পক্ষ থেকে হালকাভাবে নেওয়া হয়েছে। পরে দেখা যায় ধমক দিয়ে হাসেন ওই শিক্ষার্থী। শিক্ষকদের লাঞ্ছনার মধ্যে পরিবার শাসনের অভাব স্পষ্ট। অনেক ক্ষেত্রে, শিক্ষকদের এখন শাসন করার ক্ষমতা হ্রাস করার জন্য উপহাস করা হয়। অনেক শিক্ষার্থী নিয়মটিকে রসিকতা বলে মনে করেন।

ফেডারেশন অব কিন্ডারগার্টেন অ্যাসোসিয়েশনের (এফওসিএ) চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আলম বিডি ওপেন নিউজকে বলেন, স্বাস্থ্যকর পরিবেশ নিয়ন্ত্রণ এবং ক্যাম্পাসে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে। যারা কঠোরভাবে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নিয়ন্ত্রণ করছে, সেসব প্রতিষ্ঠানে কোনো সমস্যা হচ্ছে না। বিদেশের উদাহরণ দিয়ে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনার পরিবর্তন সম্পর্কে আমাদের সচেতন হতে হবে। এক্ষেত্রে পারিবারিক ও সামাজিক সংস্কৃতি বিবেচনা করে পদক্ষেপ নিতে হবে

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য

ছাত্ররা এখন অন্যায়ভাবে বলে, ‘আমি কী করলাম?’

আপডেট সময় ০৫:৪৮:২৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ জুন ২০২২

ছাত্রদের অনেকেরই এখন শিক্ষকদের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ নেই। অন্যায় করে শাসন করতে চাইলে প্রায়ই শুনতে পান ‘আমি কি করেছি’। পরিবারকে বিচার দিলেও পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয় না। নৈতিকতা ও মূল্যবোধের জায়গা এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, এখন শাসনের কারণে জনসম্মুখে শিক্ষককে পিটিয়ে হত্যার মতো জঘন্য কাজ করতেও দ্বিধাবোধ করছে না শিক্ষার্থীরা।

সম্প্রতি দেশের বিভিন্ন স্থানে শিক্ষক লাঞ্ছিত ও সাভারের আশুলিয়ায় কলেজ শিক্ষককে পিটিয়ে হত্যার ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে বিভিন্ন কিন্ডারগার্টেনের শিক্ষকরা এ কথা বলেন।

বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ কিন্ডারগার্টেন অ্যাসোসিয়েশনের (কেন্দ্রীয় কমিটি) সভাপতি হাসান আলী বিডি ওপেন নিউজকে বলেন, শিক্ষা ব্যবস্থায় পরিবর্তন আনতে হবে। আগেকার ছাত্ররা শিক্ষকের ভয়ে সব সময় সচেতন ছিল। এখন শিক্ষকরা আতঙ্কিত। এখন তাদের বলতে শোনা যায়, ‘মেরেন, মারেন নিয়ে যাও, কী করব, রাস্তায় বেরোও না, তারপর দেখা হবে’।

হাসান আলী মনে করেন, সরকারের উচিত শিশু-কিশোরদের এ ধরনের সহিংস আচরণ থেকে সরানোর দিকে নজর দেওয়া। তিনি বলেন, “শিশু-কিশোর হিসেবে সবকিছু হালকাভাবে নেওয়া হলে এমন পরিস্থিতির উদ্ভব হওয়াটাই স্বাভাবিক।” প্রতিবাদ করলে রাজপথে অপমান। শিক্ষককে পিটিয়ে হত্যার মাধ্যমে এর প্রমাণ আমরা দেখেছি। এখন বিষয়টি বিবেচনা করে শিক্ষকদের নিরাপত্তার জন্য আইন করতে হবে।

অনেকে পারিবারিক শিক্ষার অভাব, নৈতিকতা ও মূল্যবোধের অবক্ষয় এবং ছাত্রদের হাতে শিক্ষক নির্যাতন ও হত্যার ঘটনার জন্য রাজনৈতিক প্রভাবকে দায়ী করছেন। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পরিচালনায় সরকারের নেওয়া পদক্ষেপ সময়োপযোগী নয় বলেও মনে করেন কেউ কেউ।

সাভারের জেনারেশন টুয়েন্টি ফার্স্ট সেঞ্চুরি স্কুলের প্রধান শিক্ষক শরীফ হোসেন বিডি ওপেন নিউজকে বলেন, অনেক শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে অভিযোগ পরিবারের পক্ষ থেকে হালকাভাবে নেওয়া হয়েছে। পরে দেখা যায় ধমক দিয়ে হাসেন ওই শিক্ষার্থী। শিক্ষকদের লাঞ্ছনার মধ্যে পরিবার শাসনের অভাব স্পষ্ট। অনেক ক্ষেত্রে, শিক্ষকদের এখন শাসন করার ক্ষমতা হ্রাস করার জন্য উপহাস করা হয়। অনেক শিক্ষার্থী নিয়মটিকে রসিকতা বলে মনে করেন।

ফেডারেশন অব কিন্ডারগার্টেন অ্যাসোসিয়েশনের (এফওসিএ) চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আলম বিডি ওপেন নিউজকে বলেন, স্বাস্থ্যকর পরিবেশ নিয়ন্ত্রণ এবং ক্যাম্পাসে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে। যারা কঠোরভাবে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নিয়ন্ত্রণ করছে, সেসব প্রতিষ্ঠানে কোনো সমস্যা হচ্ছে না। বিদেশের উদাহরণ দিয়ে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনার পরিবর্তন সম্পর্কে আমাদের সচেতন হতে হবে। এক্ষেত্রে পারিবারিক ও সামাজিক সংস্কৃতি বিবেচনা করে পদক্ষেপ নিতে হবে