০৭:১৭ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ মে ২০২৪

চবিতে ছাত্রলীগের অবরোধ, বন্ধ শাটল আন্দোলন

নিজস্ব সংবাদ :
  • আপডেট সময় ০৫:৫৩:৪১ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১ জুন ২০২২
  • / ৮৫১ বার পড়া হয়েছে

bdopennews

ছাত্রলীগের চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় শাখার নেতাকর্মীদের ওপর হামলার ঘটনায় প্রধান ফটক অবরোধ ও সড়কে টায়ার জ্বালিয়ে বিক্ষোভ করেছে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। বুধবার ভোর ৪টা থেকে এ অবরোধ শুরু হয়। অবরোধের কারণে বিশ্ববিদ্যালয়ে সব ধরনের যান চলাচল বন্ধ রয়েছে।

ছাত্রলীগ সূত্রে জানা গেছে, সকাল সাড়ে তিনটার দিকে ছাত্রলীগের শাখা ভার্সিটি এক্সপ্রেসের নেতা প্রদীপ চক্রবর্তী ও মোহাম্মদ রাশেদ এক নম্বর গেট থেকে মোটরসাইকেলে করে ক্যাম্পাসে আসছিলেন। পরে মাজার গেট এলাকায় মদন ফকিরের ওপর হামলা চালায় স্থানীয় কয়েকজন। এ সময় তাদের মারধর ও মোটরসাইকেল ভাংচুর করা হয়। এ ঘটনা জানাজানি হলে ভার্সিটি এক্সপ্রেস উপদলের নেতাকর্মীরা প্রধান ফটকে তালা ঝুলিয়ে অবরোধ শুরু করে।

এদিকে অবরোধের পর থেকে ক্যাম্পাসে থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। বিভিন্ন বিভাগের ক্লাস ও পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে।

ভারপ্রাপ্ত পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক চৌধুরী আমির মোহাম্মদ মুসা বলেন, অবরোধের কারণে শিক্ষক-কর্মচারীদের বাস চলাচল বন্ধ রয়েছে। এ অবস্থায় পরীক্ষা নেওয়া সম্ভব বলে মনে হয় না। তবে এখনো চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।

জানতে চাইলে ভার্সিটি এক্সপ্রেস নেতা প্রদীপ চক্রবর্তী বলেন, স্থানীয় বাসিন্দা হানিফ ও তার দল গত রাতে তাদের ওপর হামলা করে। পরে তিনি ইউনিভার্সিটি মেডিকেল সেন্টার থেকে প্রাথমিক চিকিৎসা নেন।

তবে স্থানীয় বাসিন্দা ও ফতেপুর ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সদস্য মোহাম্মদ হানিফ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ওই সময় তিনি ঘুমিয়ে ছিলেন। সকাল ৭টায় ঘুম থেকে উঠে তিনি শুনতে পান বিশ্ববিদ্যালয়ে তার বিরুদ্ধে দুইজনকে মারধরের অভিযোগ আনা হচ্ছে।

সহকারী প্রক্টর শহিদুল ইসলাম প্রথম আলো</em>কে বলেন, ছাত্রলীগের ভিএক্স নেতাকর্মীদের একটি অংশ অবরোধ করেছে। তাদের সঙ্গে কথা বলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা চলছে।

শাটল ট্রেন চট্টগ্রামের বটতলী থেকে ক্যাম্পাসে দিনে ৬ বার যাতায়াত করে। এই ট্রেনে প্রতিদিন ১০ হাজার শিক্ষার্থী যাতায়াত করে। কিন্তু অবরোধের পর থেকে বন্ধ রয়েছে যোগাযোগের এই মাধ্যম। অনেকে পথ না পেয়ে নগরী থেকে বাসে করে ক্যাম্পাসের ১ নম্বর গেটে এসেছেন। ১ নং গেট থেকে ক্যাম্পাসের দূরত্ব ২ কিলোমিটার। সেখান থেকে শিক্ষার্থীরা সিএনজি চালিত অটোরিকশা বা রিকশায় করে ক্যাম্পাসে আসে। কিন্তু ওই এলাকা থেকে কোনো যানবাহন ক্যাম্পাসে আসেনি। এতে ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা।

ষোলশহর রেলওয়ে স্টেশন মাস্টার এসএম ফখরুল আলম প্রথম আলোকে বলেন, ছাত্রলীগ ক্যাম্পাস অবরোধের পর কয়েকজন নেতাকর্মী বটতলী স্টেশনে শাটল ট্রেন অবরোধ করে। এরপর থেকে শাটল বন্ধ রয়েছে। ট্রেন চালানোর বিষয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য

চবিতে ছাত্রলীগের অবরোধ, বন্ধ শাটল আন্দোলন

আপডেট সময় ০৫:৫৩:৪১ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১ জুন ২০২২

ছাত্রলীগের চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় শাখার নেতাকর্মীদের ওপর হামলার ঘটনায় প্রধান ফটক অবরোধ ও সড়কে টায়ার জ্বালিয়ে বিক্ষোভ করেছে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। বুধবার ভোর ৪টা থেকে এ অবরোধ শুরু হয়। অবরোধের কারণে বিশ্ববিদ্যালয়ে সব ধরনের যান চলাচল বন্ধ রয়েছে।

ছাত্রলীগ সূত্রে জানা গেছে, সকাল সাড়ে তিনটার দিকে ছাত্রলীগের শাখা ভার্সিটি এক্সপ্রেসের নেতা প্রদীপ চক্রবর্তী ও মোহাম্মদ রাশেদ এক নম্বর গেট থেকে মোটরসাইকেলে করে ক্যাম্পাসে আসছিলেন। পরে মাজার গেট এলাকায় মদন ফকিরের ওপর হামলা চালায় স্থানীয় কয়েকজন। এ সময় তাদের মারধর ও মোটরসাইকেল ভাংচুর করা হয়। এ ঘটনা জানাজানি হলে ভার্সিটি এক্সপ্রেস উপদলের নেতাকর্মীরা প্রধান ফটকে তালা ঝুলিয়ে অবরোধ শুরু করে।

এদিকে অবরোধের পর থেকে ক্যাম্পাসে থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। বিভিন্ন বিভাগের ক্লাস ও পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে।

ভারপ্রাপ্ত পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক চৌধুরী আমির মোহাম্মদ মুসা বলেন, অবরোধের কারণে শিক্ষক-কর্মচারীদের বাস চলাচল বন্ধ রয়েছে। এ অবস্থায় পরীক্ষা নেওয়া সম্ভব বলে মনে হয় না। তবে এখনো চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।

জানতে চাইলে ভার্সিটি এক্সপ্রেস নেতা প্রদীপ চক্রবর্তী বলেন, স্থানীয় বাসিন্দা হানিফ ও তার দল গত রাতে তাদের ওপর হামলা করে। পরে তিনি ইউনিভার্সিটি মেডিকেল সেন্টার থেকে প্রাথমিক চিকিৎসা নেন।

তবে স্থানীয় বাসিন্দা ও ফতেপুর ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সদস্য মোহাম্মদ হানিফ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ওই সময় তিনি ঘুমিয়ে ছিলেন। সকাল ৭টায় ঘুম থেকে উঠে তিনি শুনতে পান বিশ্ববিদ্যালয়ে তার বিরুদ্ধে দুইজনকে মারধরের অভিযোগ আনা হচ্ছে।

সহকারী প্রক্টর শহিদুল ইসলাম প্রথম আলো</em>কে বলেন, ছাত্রলীগের ভিএক্স নেতাকর্মীদের একটি অংশ অবরোধ করেছে। তাদের সঙ্গে কথা বলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা চলছে।

শাটল ট্রেন চট্টগ্রামের বটতলী থেকে ক্যাম্পাসে দিনে ৬ বার যাতায়াত করে। এই ট্রেনে প্রতিদিন ১০ হাজার শিক্ষার্থী যাতায়াত করে। কিন্তু অবরোধের পর থেকে বন্ধ রয়েছে যোগাযোগের এই মাধ্যম। অনেকে পথ না পেয়ে নগরী থেকে বাসে করে ক্যাম্পাসের ১ নম্বর গেটে এসেছেন। ১ নং গেট থেকে ক্যাম্পাসের দূরত্ব ২ কিলোমিটার। সেখান থেকে শিক্ষার্থীরা সিএনজি চালিত অটোরিকশা বা রিকশায় করে ক্যাম্পাসে আসে। কিন্তু ওই এলাকা থেকে কোনো যানবাহন ক্যাম্পাসে আসেনি। এতে ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা।

ষোলশহর রেলওয়ে স্টেশন মাস্টার এসএম ফখরুল আলম প্রথম আলোকে বলেন, ছাত্রলীগ ক্যাম্পাস অবরোধের পর কয়েকজন নেতাকর্মী বটতলী স্টেশনে শাটল ট্রেন অবরোধ করে। এরপর থেকে শাটল বন্ধ রয়েছে। ট্রেন চালানোর বিষয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।