১১:২০ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৮ মে ২০২৪

চবিতে ছাত্রলীগের অবরোধ অব্যাহত রয়েছে

নিজস্ব সংবাদ :
  • আপডেট সময় ০৫:৫০:০০ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২ অগাস্ট ২০২২
  • / ৭৫০ বার পড়া হয়েছে

চবিতে ছাত্রলীগের অবরোধ অব্যাহত রয়েছে

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) শাখা ছাত্রলীগের কমিটি পুনর্গঠনের দাবিতে সংগঠনের একাংশের ডাকা অবরোধ দ্বিতীয় দিনের মতো অব্যাহত রয়েছে। অবরোধের কারণে বিশ্ববিদ্যালয় ছেড়ে যায়নি শিক্ষক-কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বাস। শাটল ট্রেন বন্ধ।

সরেজমিনে মঙ্গলবার সকাল ৮টায় সরেজমিনে দেখা যায়, বিক্ষুব্ধ নেতাকর্মীরা অবরোধ চালিয়ে যাচ্ছেন। তবে চবির প্রধান ফটক খুলে দেওয়া হয়েছে। সিএনজি চালিত অটোরিকশা, রিকশা ও মোটরসাইকেল চলাচল করতে পারে।

চবি শাখা ছাত্রলীগ নেতা মোহাম্মদ দেলোয়ার হোসেন বলেন, কমিটি পুনর্গঠন ও মূল্যায়ন করতে হবে। না হলে তারা অবরোধ চালিয়ে যাবে। তবে অ্যাম্বুলেন্সসহ জরুরি প্রয়োজন বিবেচনায় আপাতত প্রধান ফটক খুলে দেওয়া হয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন বিভাগের ভারপ্রাপ্ত প্রশাসক এসএম মোয়াজ্জেম হোসেন জানান, ছাত্রলীগের অবরোধের কারণে আজ সোমবারের মতো শিক্ষক-কর্মকর্তা-কর্মচারী বহনকারী বাস ক্যাম্পাস থেকে বের হতে পারেনি।

শহরের বটতলী থেকে ক্যাম্পাস পর্যন্ত দিনে সাতবার শাটল ট্রেন চলাচল করে। এই ট্রেনে প্রতিদিন ১০ হাজার শিক্ষার্থী যাতায়াত করে। চট্টগ্রাম রেলওয়ে স্টেশন মাস্টার রতন কুমার চৌধুরী বলেন, পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত শাটল ট্রেন বন্ধ থাকবে। তিনি ওপেন নিউজকে বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে না থাকায় আজ শাটল চলছে না।

ছাবির ভারপ্রাপ্ত পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক চৌধুরী আমির মোহাম্মদ মুছা বলেন, অবরোধের কারণে আজ দ্বিতীয় দিনের মতো ক্লাস-পরীক্ষা স্থগিত হতে পারে। তিনিওপেন নিউজকে  বলেন, শাটল ট্রেন না চললে শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ে আসতে পারবে না। তাই আজকের ক্লাস-পরীক্ষা স্থগিত করা হতে পারে। তবে পরীক্ষার বিষয়ে নিশ্চিত করে কিছু বলা যাচ্ছে না। বিভাগীয় প্রধান এই সিদ্ধান্ত নেবেন।

গত রোববার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে ক্ষমতাসীন ছাত্র সংগঠনের কেন্দ্রীয় কার্যালয় সিএইচবিআই শাখার ৩৭৬ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করে। কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সভাপতি আল নাহিয়ান খান ও সাধারণ সম্পাদক লেখক ভট্টাচার্য এই কমিটির অনুমোদন দেন।

কমিটি ঘোষণার পর বহিষ্কৃত নেতা-কর্মীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকটি হলের প্রায় ৩০টি কক্ষ ভাংচুর করে। রোববার রাতে নেতাকর্মীরা চবির প্রধান ফটক অবরোধ করে অবরোধের ডাক দেন।

গতকাল সকালে ক্যাম্পাসগামী শাটল ট্রেনের চালককে অপহরণ করা হয়। এদিন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-কর্মকর্তা-কর্মচারী বহনকারী বাস চলাচল করেনি। তাই ক্লাস-পরীক্ষা হয়নি।

চবি শাখা ছাত্রলীগের রাজনীতি দীর্ঘদিন ধরে দু’ভাগে বিভক্ত। একদিকে শিক্ষা উপমন্ত্রী ও সাবেক মেয়র এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরীর ছেলে মহিবুল হাসান চৌধুরীর অনুসারীরা। অন্যদিকে সাবেক সিটি মেয়র ও চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ-সম্পাদক আ জ ম নাছির উদ্দিনের অনুসারী।

ছাত্রলীগের দুই পক্ষের মধ্যে ১১টি উপদল রয়েছে। এর মধ্যে বিজয় ও চয়েজ ফ্রেন্ডস উইথ কেয়ার (সিএফসি) মহিবুলের, বাকি নয়টি নির্বাচনী এলাকা নাসেরের অনুসারীদের।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য

চবিতে ছাত্রলীগের অবরোধ অব্যাহত রয়েছে

আপডেট সময় ০৫:৫০:০০ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২ অগাস্ট ২০২২

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) শাখা ছাত্রলীগের কমিটি পুনর্গঠনের দাবিতে সংগঠনের একাংশের ডাকা অবরোধ দ্বিতীয় দিনের মতো অব্যাহত রয়েছে। অবরোধের কারণে বিশ্ববিদ্যালয় ছেড়ে যায়নি শিক্ষক-কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বাস। শাটল ট্রেন বন্ধ।

সরেজমিনে মঙ্গলবার সকাল ৮টায় সরেজমিনে দেখা যায়, বিক্ষুব্ধ নেতাকর্মীরা অবরোধ চালিয়ে যাচ্ছেন। তবে চবির প্রধান ফটক খুলে দেওয়া হয়েছে। সিএনজি চালিত অটোরিকশা, রিকশা ও মোটরসাইকেল চলাচল করতে পারে।

চবি শাখা ছাত্রলীগ নেতা মোহাম্মদ দেলোয়ার হোসেন বলেন, কমিটি পুনর্গঠন ও মূল্যায়ন করতে হবে। না হলে তারা অবরোধ চালিয়ে যাবে। তবে অ্যাম্বুলেন্সসহ জরুরি প্রয়োজন বিবেচনায় আপাতত প্রধান ফটক খুলে দেওয়া হয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন বিভাগের ভারপ্রাপ্ত প্রশাসক এসএম মোয়াজ্জেম হোসেন জানান, ছাত্রলীগের অবরোধের কারণে আজ সোমবারের মতো শিক্ষক-কর্মকর্তা-কর্মচারী বহনকারী বাস ক্যাম্পাস থেকে বের হতে পারেনি।

শহরের বটতলী থেকে ক্যাম্পাস পর্যন্ত দিনে সাতবার শাটল ট্রেন চলাচল করে। এই ট্রেনে প্রতিদিন ১০ হাজার শিক্ষার্থী যাতায়াত করে। চট্টগ্রাম রেলওয়ে স্টেশন মাস্টার রতন কুমার চৌধুরী বলেন, পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত শাটল ট্রেন বন্ধ থাকবে। তিনি ওপেন নিউজকে বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে না থাকায় আজ শাটল চলছে না।

ছাবির ভারপ্রাপ্ত পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক চৌধুরী আমির মোহাম্মদ মুছা বলেন, অবরোধের কারণে আজ দ্বিতীয় দিনের মতো ক্লাস-পরীক্ষা স্থগিত হতে পারে। তিনিওপেন নিউজকে  বলেন, শাটল ট্রেন না চললে শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ে আসতে পারবে না। তাই আজকের ক্লাস-পরীক্ষা স্থগিত করা হতে পারে। তবে পরীক্ষার বিষয়ে নিশ্চিত করে কিছু বলা যাচ্ছে না। বিভাগীয় প্রধান এই সিদ্ধান্ত নেবেন।

গত রোববার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে ক্ষমতাসীন ছাত্র সংগঠনের কেন্দ্রীয় কার্যালয় সিএইচবিআই শাখার ৩৭৬ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করে। কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সভাপতি আল নাহিয়ান খান ও সাধারণ সম্পাদক লেখক ভট্টাচার্য এই কমিটির অনুমোদন দেন।

কমিটি ঘোষণার পর বহিষ্কৃত নেতা-কর্মীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকটি হলের প্রায় ৩০টি কক্ষ ভাংচুর করে। রোববার রাতে নেতাকর্মীরা চবির প্রধান ফটক অবরোধ করে অবরোধের ডাক দেন।

গতকাল সকালে ক্যাম্পাসগামী শাটল ট্রেনের চালককে অপহরণ করা হয়। এদিন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-কর্মকর্তা-কর্মচারী বহনকারী বাস চলাচল করেনি। তাই ক্লাস-পরীক্ষা হয়নি।

চবি শাখা ছাত্রলীগের রাজনীতি দীর্ঘদিন ধরে দু’ভাগে বিভক্ত। একদিকে শিক্ষা উপমন্ত্রী ও সাবেক মেয়র এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরীর ছেলে মহিবুল হাসান চৌধুরীর অনুসারীরা। অন্যদিকে সাবেক সিটি মেয়র ও চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ-সম্পাদক আ জ ম নাছির উদ্দিনের অনুসারী।

ছাত্রলীগের দুই পক্ষের মধ্যে ১১টি উপদল রয়েছে। এর মধ্যে বিজয় ও চয়েজ ফ্রেন্ডস উইথ কেয়ার (সিএফসি) মহিবুলের, বাকি নয়টি নির্বাচনী এলাকা নাসেরের অনুসারীদের।