১০:৫১ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৮ মে ২০২৪

গাজীপুরে দুই মেয়েকে নিয়ে নদীতে ঝাঁপ দিয়েছেন মা

নিজস্ব সংবাদ :
  • আপডেট সময় ০৪:২৪:১৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৯ জুন ২০২২
  • / ৮৭০ বার পড়া হয়েছে

bdopennews

গাজীপুরের কাপাসিয়া উপজেলার সিংহশ্রী এলাকায় দুই মেয়েকে নিয়ে শীতলক্ষ্যা নদীতে ঝাঁপ দিয়েছেন এক মা। স্থানীয়রা এক শিশুকে উদ্ধার করলেও বাকি দুজনের সন্ধান পায়নি। তাদের উদ্ধারে কাজ করছেন ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরিরা।

রোববার দুপুর ১২টার দিকে কাপাসিয়ার সিংহশ্রী গ্রামের বড়মা ব্রিজ এলাকায় শীতলক্ষ্যা নদীর তীরে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় স্থানীয় জেলেরা ৯ বছর বয়সী তাহমিদা আক্তারকে উদ্ধার করলেও ৪০ বছর বয়সী মা আরিফা আক্তার ও তার সাত বছরের মেয়ে মুর্শিদা আক্তার এখনো নিখোঁজ রয়েছেন।

নিখোঁজ আরিফা আক্তার কাপাসিয়া উপজেলার বিবাদিয়া গ্রামের মোহাম্মদ আলী মুন্সির মেয়ে এবং একই গ্রামের মৃত আব্দুল মালেকের স্ত্রী। আরিফার ভাই ইমারত হোসেন জানান, ১০/১২ বছর আগে স্থানীয় আব্দুল মালেকের সঙ্গে তার বোন আরিফার বিয়ে হয়। বিয়ের পর তাদের সংসারে দুটি কন্যা সন্তানের জন্ম হয়। কিছুদিন পর তার স্বামী আব্দুল মালেক রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান। এরপর থেকে আরিফা খুবই অসহায় হয়ে পড়ে এবং তার মধ্যে মানসিক ভারসাম্যহীনতার কিছু লক্ষণ লক্ষ্য করা যায়।

উদ্ধারকৃত শিশু তাহমিদা জানান, রোববার সকালে মা জুতা, সিঙ্গারা ও কাপড় কিনে তাদের নিয়ে বাজারে আসার উদ্দেশে বাড়ি থেকে বের হয়। পরে শীতলক্ষ্যা তাদের নিয়ে নদীর তীরে এসে দুজনকে দুই হাতে ধরে নদীতে ঝাঁপ দেয়। ঝাঁপিয়ে পড়ে মায়ের হাত ধরে নদীতে বাঁশের মাচা ধরে কাঁদতে লাগলাম। এ সময় তাকে ধরতে আসা জেলেরা তাকে উদ্ধার করে।

স্থানীয় রফিকুল ইসলাম জানান, উদ্ধারকৃত শিশুর তথ্য অনুযায়ী তার মা তার দুই মেয়েকে নিয়ে নদীতে ঝাঁপ দেন। এ সময় নদীর ওপার থেকে জেলেরা এসে তাকে উদ্ধার করে। তিনি জানান, তার মা ও বোন নদীতে ঝাঁপ দেন।

কাপাসিয়া ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) সাবেদ আলী খান জানান, শিশু ও স্থানীয়দের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী শীতলক্ষ্যা নদীতে এখনো মা ও মেয়ে নিখোঁজ রয়েছে। টঙ্গী থেকে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরিরা ঘটনাস্থলে উদ্ধার কাজ শুরু করবে বলে জানানো হয়েছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য

গাজীপুরে দুই মেয়েকে নিয়ে নদীতে ঝাঁপ দিয়েছেন মা

আপডেট সময় ০৪:২৪:১৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৯ জুন ২০২২

গাজীপুরের কাপাসিয়া উপজেলার সিংহশ্রী এলাকায় দুই মেয়েকে নিয়ে শীতলক্ষ্যা নদীতে ঝাঁপ দিয়েছেন এক মা। স্থানীয়রা এক শিশুকে উদ্ধার করলেও বাকি দুজনের সন্ধান পায়নি। তাদের উদ্ধারে কাজ করছেন ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরিরা।

রোববার দুপুর ১২টার দিকে কাপাসিয়ার সিংহশ্রী গ্রামের বড়মা ব্রিজ এলাকায় শীতলক্ষ্যা নদীর তীরে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় স্থানীয় জেলেরা ৯ বছর বয়সী তাহমিদা আক্তারকে উদ্ধার করলেও ৪০ বছর বয়সী মা আরিফা আক্তার ও তার সাত বছরের মেয়ে মুর্শিদা আক্তার এখনো নিখোঁজ রয়েছেন।

নিখোঁজ আরিফা আক্তার কাপাসিয়া উপজেলার বিবাদিয়া গ্রামের মোহাম্মদ আলী মুন্সির মেয়ে এবং একই গ্রামের মৃত আব্দুল মালেকের স্ত্রী। আরিফার ভাই ইমারত হোসেন জানান, ১০/১২ বছর আগে স্থানীয় আব্দুল মালেকের সঙ্গে তার বোন আরিফার বিয়ে হয়। বিয়ের পর তাদের সংসারে দুটি কন্যা সন্তানের জন্ম হয়। কিছুদিন পর তার স্বামী আব্দুল মালেক রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান। এরপর থেকে আরিফা খুবই অসহায় হয়ে পড়ে এবং তার মধ্যে মানসিক ভারসাম্যহীনতার কিছু লক্ষণ লক্ষ্য করা যায়।

উদ্ধারকৃত শিশু তাহমিদা জানান, রোববার সকালে মা জুতা, সিঙ্গারা ও কাপড় কিনে তাদের নিয়ে বাজারে আসার উদ্দেশে বাড়ি থেকে বের হয়। পরে শীতলক্ষ্যা তাদের নিয়ে নদীর তীরে এসে দুজনকে দুই হাতে ধরে নদীতে ঝাঁপ দেয়। ঝাঁপিয়ে পড়ে মায়ের হাত ধরে নদীতে বাঁশের মাচা ধরে কাঁদতে লাগলাম। এ সময় তাকে ধরতে আসা জেলেরা তাকে উদ্ধার করে।

স্থানীয় রফিকুল ইসলাম জানান, উদ্ধারকৃত শিশুর তথ্য অনুযায়ী তার মা তার দুই মেয়েকে নিয়ে নদীতে ঝাঁপ দেন। এ সময় নদীর ওপার থেকে জেলেরা এসে তাকে উদ্ধার করে। তিনি জানান, তার মা ও বোন নদীতে ঝাঁপ দেন।

কাপাসিয়া ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) সাবেদ আলী খান জানান, শিশু ও স্থানীয়দের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী শীতলক্ষ্যা নদীতে এখনো মা ও মেয়ে নিখোঁজ রয়েছে। টঙ্গী থেকে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরিরা ঘটনাস্থলে উদ্ধার কাজ শুরু করবে বলে জানানো হয়েছে।