০৫:৪০ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৯ মে ২০২৪

কিভাবে বড় দুর্যোগে মানুষের কষ্ট কমানো যায়

নিজস্ব সংবাদ :
  • আপডেট সময় ০৮:৩৬:৩৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৭ জুন ২০২২
  • / ৪৩৪ বার পড়া হয়েছে

bdopennews

সম্প্রতি বাংলাদেশের সিলেট ও ​​ময়মনসিংহ বিভাগের বিশাল এলাকা প্লাবিত হয়ে লাখ লাখ মানুষ প্লাবিত হয়েছে। হাজার হাজার পরিবার ঘরবাড়ি ছাড়া অমানবিক জীবনযাপন করছে। খাদ্য ও বাসস্থানের অভাবে বিভিন্ন স্বাস্থ্য সমস্যা দেখা দিয়েছে। এবার বন্যা কম স্থিতিশীল থাকলেও মানুষের দুর্ভোগের মাত্রা অনেক বেশি। দুর্যোগ একটি বিশাল এলাকা প্লাবিত এবং বহু মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত. বৃহত্তর রংপুর ও ঢাকা বিভাগের বিভিন্ন জেলায়ও বন্যা হয়েছে। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে এ ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগ বাড়বে বলে আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা।

খাদ্য, পানীয় ও বাসস্থান সংকটের পাশাপাশি বন্যার কারণে স্বাস্থ্যঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে যায়। জলাবদ্ধতা, পানি দূষণ, নিরাপদ পানীয় জলের অভাব এবং খাদ্যের অভাব বন্যাপ্রবণ এলাকায় স্বাস্থ্যঝুঁকির প্রধান কারণ। বন্যার কয়েকদিনের মধ্যেই ডায়রিয়া ও অন্যান্য পানিবাহিত রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা গেছে। পানি শুকিয়ে গেলে চুলকানিসহ বিভিন্ন চর্মরোগের সংক্রমণ বেড়ে যায়। এ সময় পানিতে ডুবে মারা, সাপের কামড়সহ অন্যান্য আঘাত ও মৃত্যুর ঝুঁকিও বেড়ে যায়।

প্রতিটি দুর্যোগে জানমালের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা থাকে। তবে যথাযথ দুর্যোগ প্রস্তুতি ও বাস্তবায়নের মাধ্যমে প্রাণহানি এড়ানো যায় এবং অন্যান্য ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ অনেকাংশে নিয়ন্ত্রণ করা যায়। এ ক্ষেত্রে যথাযথ প্রস্তুতি ও বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজন যথাযথ প্রস্তুতি, উপযুক্ত জনবল ও দক্ষ জনবল

প্রাকৃতিক দুর্যোগ, যেমন বন্যা, খাদ্য ঘাটতি হতে পারে। এটি ক্ষুধা এবং অপুষ্টির কারণ হতে পারে, যা শিশু এবং গর্ভবতী মহিলাদের জন্য বিপজ্জনক। এসব ক্ষেত্রে অপুষ্টি দীর্ঘস্থায়ী ক্ষতিকর প্রভাব ফেলতে পারে। বন্যার পানি কমে যাওয়ায় নিরাপদ পানীয় জলের পাশাপাশি গৃহস্থালির ব্যবহারের জন্য পানির অভাব দেখা দিয়েছে। এতে ত্বকের বিভিন্ন ধরনের সংক্রমণ হয়। বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগের ক্ষেত্রে নিম্নলিখিত ক্ষেত্রে যথাযথ প্রস্তুতি ও বাস্তবায়নের ফলে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের দুর্দশা লাঘব করা সম্ভব।

তথ্যপ্রযুক্তি এবং পূর্বাভাস: দুর্যোগের আগাম সতর্কীকরণ হল দুর্যোগ মোকাবেলার প্রথম পদক্ষেপ সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ লোকেদের কাছে দ্রুততম সময়ে পৌঁছানো। ইলেকট্রনিক এবং ইন্টারনেট প্রযুক্তির বিকাশের এই সময়ে, দুর্যোগের আগাম সতর্কতা ব্যবস্থায় অভূতপূর্ব উন্নতি হয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ ব্যক্তিরা আগে থেকেই প্রস্তুতি নিতে পারেন। ফলে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় নিয়োজিত জনবল আগে থেকেই মাঠে যেতে পারবে। দুর্যোগ সম্পর্কে মানুষকে জানানো এখন খুবই জরুরি। সরকারকে তা নিশ্চিত করতে হবে।

খাদ্য ও নিরাপদ পানীয় জল: দুর্যোগের স্থায়িত্ব বিবেচনা করে, নিরাপদ স্থানে পর্যাপ্ত খাদ্য ও নিরাপদ পানীয় জল সংরক্ষণে জনগণকে উৎসাহিত করতে হবে। সেই সঙ্গে বাড়বে কেন্দ্রীয় মজুদ। দুর্যোগের আগে বিভিন্ন আশ্রয়কেন্দ্রে প্রয়োজনীয় খাবার ও পানীয় বিতরণ করতে হবে। এক্ষেত্রে গর্ভবতী নারী ও শিশুদের অগ্রাধিকার দিতে হবে। দুর্যোগ দীর্ঘায়িত হলে খাদ্য-পানীয় সংকট দেখা দেবে। এই ক্ষেত্রে, আপনাকে অতিরিক্ত সরবরাহের জন্য আগাম প্রস্তুত করতে হবে।

বন্যা নিরাপদ পানীয় জলের উৎসকে দূষিত করে। পানির স্বল্পতার সাথে নিরাপদ পানি সরবরাহ না হলে পানিবাহিত রোগ মারাত্মক আকার ধারণ করে। নলকূপ মেরামত করার আগে জনগণকে ফুটানো পানি পান করার বা পানি পরিশোধন ট্যাবলেট ব্যবহার করার পরামর্শ দেওয়া উচিত। ১ লিটার পানিতে ৬.৫ মিলিগ্রাম হ্যালোটাব ৩০ মিনিট রেখে পানি বিশুদ্ধ করা যায়। তাই আগে থেকে বা জরুরি ভিত্তিতে ট্যাবলেটগুলো মানুষের মধ্যে বিতরণ করতে হবে।

খাবার স্যালাইন: ডায়রিয়াসহ বিভিন্ন পেটের অসুখ মোকাবেলায় পর্যাপ্ত খাবার স্যালাইন সংরক্ষণ করে আক্রান্ত স্থানে সরবরাহ করতে হবে, পাশাপাশি মানুষকে তা খাওয়ার পরামর্শ দিতে হবে।

ডুবে যাওয়ার ঝুঁকি: শিশু এবং যারা সাঁতার জানে না তাদের বন্যার সময় ডুবে যাওয়ার ঝুঁকি বেশি থাকে। তাই বন্যাপ্রবণ এলাকার শিশুদের যত্ন নেওয়ার পাশাপাশি সাঁতার শেখাতে হবে। মানুষকেও এ বিষয়ে সচেতন করতে হবে।

এই সময়ে প্রাদুর্ভাব আরও বেড়ে যায় বলে মনে হয়। বন্যার কারণে বন্যার ঝুঁকিও বেড়ে যায়, বিশেষ করে যারা বিভিন্ন অসংক্রামক রোগে আক্রান্ত তাদের জন্য অবিলম্বে ডাক্তারের কাছে যাওয়া বা প্রয়োজনীয় ওষুধ পাওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। এ জন্য আশ্রয়কেন্দ্রে আগে থেকেই প্রয়োজনীয় ওষুধ মজুদ রাখা এবং নিকটস্থ স্বাস্থ্যকর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখা প্রয়োজন। এটি স্বাস্থ্যকর্মীদের কাছ থেকে দ্রুত সাহায্য পাওয়া এবং জরুরি পরিস্থিতিতে রোগীকে নিকটস্থ হাসপাতালে পাঠানো সম্ভব করে। বর্ধিত মানসিক চাপ এবং উদ্বেগ: বিষণ্নতা, মানসিক চাপ এবং উদ্বেগ বড় প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের জন্য সংগ্রামের একটি প্রধান ক্ষেত্র। পরিবারে যখন অসুস্থ আত্মীয়স্বজন এবং শিশুরা থাকে, তখন মানসিক চাপের মাত্রা নিঃসন্দেহে আরও তীব্র হয়। বস্তুগত সহায়তায় তাদের পাশে দাঁড়ানোর পাশাপাশি, তাদের মানসিক ক্লান্তি এবং

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য

কিভাবে বড় দুর্যোগে মানুষের কষ্ট কমানো যায়

আপডেট সময় ০৮:৩৬:৩৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৭ জুন ২০২২

সম্প্রতি বাংলাদেশের সিলেট ও ​​ময়মনসিংহ বিভাগের বিশাল এলাকা প্লাবিত হয়ে লাখ লাখ মানুষ প্লাবিত হয়েছে। হাজার হাজার পরিবার ঘরবাড়ি ছাড়া অমানবিক জীবনযাপন করছে। খাদ্য ও বাসস্থানের অভাবে বিভিন্ন স্বাস্থ্য সমস্যা দেখা দিয়েছে। এবার বন্যা কম স্থিতিশীল থাকলেও মানুষের দুর্ভোগের মাত্রা অনেক বেশি। দুর্যোগ একটি বিশাল এলাকা প্লাবিত এবং বহু মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত. বৃহত্তর রংপুর ও ঢাকা বিভাগের বিভিন্ন জেলায়ও বন্যা হয়েছে। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে এ ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগ বাড়বে বলে আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা।

খাদ্য, পানীয় ও বাসস্থান সংকটের পাশাপাশি বন্যার কারণে স্বাস্থ্যঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে যায়। জলাবদ্ধতা, পানি দূষণ, নিরাপদ পানীয় জলের অভাব এবং খাদ্যের অভাব বন্যাপ্রবণ এলাকায় স্বাস্থ্যঝুঁকির প্রধান কারণ। বন্যার কয়েকদিনের মধ্যেই ডায়রিয়া ও অন্যান্য পানিবাহিত রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা গেছে। পানি শুকিয়ে গেলে চুলকানিসহ বিভিন্ন চর্মরোগের সংক্রমণ বেড়ে যায়। এ সময় পানিতে ডুবে মারা, সাপের কামড়সহ অন্যান্য আঘাত ও মৃত্যুর ঝুঁকিও বেড়ে যায়।

প্রতিটি দুর্যোগে জানমালের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা থাকে। তবে যথাযথ দুর্যোগ প্রস্তুতি ও বাস্তবায়নের মাধ্যমে প্রাণহানি এড়ানো যায় এবং অন্যান্য ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ অনেকাংশে নিয়ন্ত্রণ করা যায়। এ ক্ষেত্রে যথাযথ প্রস্তুতি ও বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজন যথাযথ প্রস্তুতি, উপযুক্ত জনবল ও দক্ষ জনবল

প্রাকৃতিক দুর্যোগ, যেমন বন্যা, খাদ্য ঘাটতি হতে পারে। এটি ক্ষুধা এবং অপুষ্টির কারণ হতে পারে, যা শিশু এবং গর্ভবতী মহিলাদের জন্য বিপজ্জনক। এসব ক্ষেত্রে অপুষ্টি দীর্ঘস্থায়ী ক্ষতিকর প্রভাব ফেলতে পারে। বন্যার পানি কমে যাওয়ায় নিরাপদ পানীয় জলের পাশাপাশি গৃহস্থালির ব্যবহারের জন্য পানির অভাব দেখা দিয়েছে। এতে ত্বকের বিভিন্ন ধরনের সংক্রমণ হয়। বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগের ক্ষেত্রে নিম্নলিখিত ক্ষেত্রে যথাযথ প্রস্তুতি ও বাস্তবায়নের ফলে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের দুর্দশা লাঘব করা সম্ভব।

তথ্যপ্রযুক্তি এবং পূর্বাভাস: দুর্যোগের আগাম সতর্কীকরণ হল দুর্যোগ মোকাবেলার প্রথম পদক্ষেপ সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ লোকেদের কাছে দ্রুততম সময়ে পৌঁছানো। ইলেকট্রনিক এবং ইন্টারনেট প্রযুক্তির বিকাশের এই সময়ে, দুর্যোগের আগাম সতর্কতা ব্যবস্থায় অভূতপূর্ব উন্নতি হয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ ব্যক্তিরা আগে থেকেই প্রস্তুতি নিতে পারেন। ফলে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় নিয়োজিত জনবল আগে থেকেই মাঠে যেতে পারবে। দুর্যোগ সম্পর্কে মানুষকে জানানো এখন খুবই জরুরি। সরকারকে তা নিশ্চিত করতে হবে।

খাদ্য ও নিরাপদ পানীয় জল: দুর্যোগের স্থায়িত্ব বিবেচনা করে, নিরাপদ স্থানে পর্যাপ্ত খাদ্য ও নিরাপদ পানীয় জল সংরক্ষণে জনগণকে উৎসাহিত করতে হবে। সেই সঙ্গে বাড়বে কেন্দ্রীয় মজুদ। দুর্যোগের আগে বিভিন্ন আশ্রয়কেন্দ্রে প্রয়োজনীয় খাবার ও পানীয় বিতরণ করতে হবে। এক্ষেত্রে গর্ভবতী নারী ও শিশুদের অগ্রাধিকার দিতে হবে। দুর্যোগ দীর্ঘায়িত হলে খাদ্য-পানীয় সংকট দেখা দেবে। এই ক্ষেত্রে, আপনাকে অতিরিক্ত সরবরাহের জন্য আগাম প্রস্তুত করতে হবে।

বন্যা নিরাপদ পানীয় জলের উৎসকে দূষিত করে। পানির স্বল্পতার সাথে নিরাপদ পানি সরবরাহ না হলে পানিবাহিত রোগ মারাত্মক আকার ধারণ করে। নলকূপ মেরামত করার আগে জনগণকে ফুটানো পানি পান করার বা পানি পরিশোধন ট্যাবলেট ব্যবহার করার পরামর্শ দেওয়া উচিত। ১ লিটার পানিতে ৬.৫ মিলিগ্রাম হ্যালোটাব ৩০ মিনিট রেখে পানি বিশুদ্ধ করা যায়। তাই আগে থেকে বা জরুরি ভিত্তিতে ট্যাবলেটগুলো মানুষের মধ্যে বিতরণ করতে হবে।

খাবার স্যালাইন: ডায়রিয়াসহ বিভিন্ন পেটের অসুখ মোকাবেলায় পর্যাপ্ত খাবার স্যালাইন সংরক্ষণ করে আক্রান্ত স্থানে সরবরাহ করতে হবে, পাশাপাশি মানুষকে তা খাওয়ার পরামর্শ দিতে হবে।

ডুবে যাওয়ার ঝুঁকি: শিশু এবং যারা সাঁতার জানে না তাদের বন্যার সময় ডুবে যাওয়ার ঝুঁকি বেশি থাকে। তাই বন্যাপ্রবণ এলাকার শিশুদের যত্ন নেওয়ার পাশাপাশি সাঁতার শেখাতে হবে। মানুষকেও এ বিষয়ে সচেতন করতে হবে।

এই সময়ে প্রাদুর্ভাব আরও বেড়ে যায় বলে মনে হয়। বন্যার কারণে বন্যার ঝুঁকিও বেড়ে যায়, বিশেষ করে যারা বিভিন্ন অসংক্রামক রোগে আক্রান্ত তাদের জন্য অবিলম্বে ডাক্তারের কাছে যাওয়া বা প্রয়োজনীয় ওষুধ পাওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। এ জন্য আশ্রয়কেন্দ্রে আগে থেকেই প্রয়োজনীয় ওষুধ মজুদ রাখা এবং নিকটস্থ স্বাস্থ্যকর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখা প্রয়োজন। এটি স্বাস্থ্যকর্মীদের কাছ থেকে দ্রুত সাহায্য পাওয়া এবং জরুরি পরিস্থিতিতে রোগীকে নিকটস্থ হাসপাতালে পাঠানো সম্ভব করে। বর্ধিত মানসিক চাপ এবং উদ্বেগ: বিষণ্নতা, মানসিক চাপ এবং উদ্বেগ বড় প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের জন্য সংগ্রামের একটি প্রধান ক্ষেত্র। পরিবারে যখন অসুস্থ আত্মীয়স্বজন এবং শিশুরা থাকে, তখন মানসিক চাপের মাত্রা নিঃসন্দেহে আরও তীব্র হয়। বস্তুগত সহায়তায় তাদের পাশে দাঁড়ানোর পাশাপাশি, তাদের মানসিক ক্লান্তি এবং