০৫:৪৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ১১ ডিসেম্বর ২০২৩

কর্মকর্তার উপস্থিতি কম, কর্মচারী বেশি

নিজস্ব সংবাদ :
  • আপডেট সময় ০৮:১৬:১৪ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৪ অগাস্ট ২০২২
  • / ৯৯৬ বার পড়া হয়েছে

bdopennews

বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের জন্য বুধবার থেকে সব সরকারি, আধা-সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে সকাল আটটায় অফিস শুরু হয়েছে। এ সময় প্রশাসনের অন্তরালে কর্মকর্তাদের উপস্থিতি তুলনামূলক কম দেখা গেছে। কর্মীদের উপস্থিতি কিছুটা বেশি। কেউ কেউ বলছেন, একদিনে দেরি করে ঘুম থেকে ওঠার দীর্ঘদিনের অভ্যাস বদলানো সম্ভব নয়। আবার কেউ রাস্তাঘাটের কথা বলছেন। যানজটের কারণে অনেকেই সময়মতো উপস্থিত হতে পারেননি।

সকাল ৮টা থেকে ১০টা পর্যন্ত অন্তত ১৫টি মন্ত্রণালয়ের সচিবালয়ে পরিদর্শন করা হয়েছে, নতুন তফসিলে কোনো কোনো মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীরা অফিসে আসেননি। সচিব কোথাও আসেননি। বেশ কয়েকটি মন্ত্রণালয়ে মন্ত্রী ও সচিবদের যথাসময়ে অফিসে আসতে দেখা গেছে। সকাল সাড়ে ৮টায় সচিবালয়ের সাত নম্বর ভবনে প্রবেশ করে এক ব্যক্তিগত কর্মকর্তাকে (পিও) অফিসে প্রবেশ করতে দেখা যায়। জানতে চাইলে তিনি জানান, সকাল সাতটায় তিনি রায়েরবাগ থেকে বের হন। সচিবালয়ে পৌঁছাতে দেড়শ ঘণ্টা লেগেছে।

সকাল সাড়ে ৮টায় শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের অনেক গণ্যমান্য ব্যক্তিকে অফিসে দেখা যায়নি। যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়েও নতুন তফসিলে নীতিনির্ধারকদের কাউকে অফিসে দেখা যায়নি।

স্থানীয় সরকার মন্ত্রী তাজুল ইসলাম সকাল ৯টা ১০ মিনিটে নিজ কার্যালয়ে এ প্রতিবেদককে বলেন, তিনি সঠিক সময়ে অফিসে এসেছিলেন। সরকারের এই সিদ্ধান্তের ফলে বিদ্যুৎ সাশ্রয় হবে বলে মনে করেন তিনি। নতুন অফিস সময় পর্যালোচনা করা হবে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার মন্ত্রী। সফল হলে, নতুন অফিসের সময়সূচী অব্যাহত থাকবে।

সকালের যানজটে বহু মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে তাজুল ইসলাম বলেন, অফিস সময় যখন সকাল নয়টায়, তখনও যানজট লেগেই থাকে। এ অভিযোগ পুরনো। সমস্যা পুরোনো।

আজ সকাল ৮টা থেকে ১০টা পর্যন্ত সরেজমিনে দেখা গেছে কর্মকর্তাদের উপস্থিতি কম। কর্মচারীদের উপস্থিতি তার চেয়ে বেশি। স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়, শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়, যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়, ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয়, আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ, মৎস্য ও প্রাণী সম্পদ, সংস্কৃতি, বস্ত্র ও পাট, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়সহ বেশ কয়েকটি মন্ত্রণালয় পরিদর্শন করে এ চিত্র দেখা গেছে। এ বিষয়ে কথা হয় নির্ধারিত সময়ে উপস্থিত উপসচিব ও যুগ্ম সচিব পদমর্যাদার একাধিক কর্মকর্তার সঙ্গে। তারা বলছেন, একদিনে দেরি করে ঘুম থেকে ওঠার দীর্ঘদিনের অভ্যাস পরিবর্তন করা কঠিন। অনেকেরই দেরি করে ঘুম থেকে ওঠার অভ্যাস আছে। তাছাড়া ঢাকায় যানজট একটি বড় সমস্যা। তারা বলছেন, বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে সরকারের উদ্যোগ ভালো। এটি স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী। তবে কর্মকর্তাদের তাদের অভ্যাস পরিবর্তন করতে হবে।

মৎস্য ও প্রাণী সম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব পিএস গোলাম মাইনুদ্দিন হাসান প্রথম আলো</em>কে বলেন, নতুন উদ্যোগ ইতিবাচক। সকাল সাতটায় তিনি মিরপুর ২ নম্বরের বাসা থেকে সকাল সাতটায় বের হন এবং আটটার মধ্যে অফিসে পৌঁছাতে সক্ষম হন।

এর আগে সকাল সাড়ে সাতটায় রাজধানীর তালতলা, আগারগাঁও খামারবাড়িসহ কয়েকটি স্থানে সরকারি কর্মচারীদের অফিসের গাড়ির জন্য অপেক্ষা করতে দেখা গেছে। সকাল সাতটায় স্কুলের ক্লাস শুরু হয়। ফলে অন্যান্য দিনের তুলনায় বুধবার যানজট ছিল বেশি।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক কর্মকর্তা প্রথম আলো</em>কে বলেন, প্রথম দিনেই ছন্দের কিছুটা ক্ষতি হয়েছে। ধীরে ধীরে পরিস্থিতির উন্নতি হবে। নির্ধারিত সময়ে উপস্থিতি বাড়বে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য

কর্মকর্তার উপস্থিতি কম, কর্মচারী বেশি

আপডেট সময় ০৮:১৬:১৪ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৪ অগাস্ট ২০২২

বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের জন্য বুধবার থেকে সব সরকারি, আধা-সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে সকাল আটটায় অফিস শুরু হয়েছে। এ সময় প্রশাসনের অন্তরালে কর্মকর্তাদের উপস্থিতি তুলনামূলক কম দেখা গেছে। কর্মীদের উপস্থিতি কিছুটা বেশি। কেউ কেউ বলছেন, একদিনে দেরি করে ঘুম থেকে ওঠার দীর্ঘদিনের অভ্যাস বদলানো সম্ভব নয়। আবার কেউ রাস্তাঘাটের কথা বলছেন। যানজটের কারণে অনেকেই সময়মতো উপস্থিত হতে পারেননি।

সকাল ৮টা থেকে ১০টা পর্যন্ত অন্তত ১৫টি মন্ত্রণালয়ের সচিবালয়ে পরিদর্শন করা হয়েছে, নতুন তফসিলে কোনো কোনো মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীরা অফিসে আসেননি। সচিব কোথাও আসেননি। বেশ কয়েকটি মন্ত্রণালয়ে মন্ত্রী ও সচিবদের যথাসময়ে অফিসে আসতে দেখা গেছে। সকাল সাড়ে ৮টায় সচিবালয়ের সাত নম্বর ভবনে প্রবেশ করে এক ব্যক্তিগত কর্মকর্তাকে (পিও) অফিসে প্রবেশ করতে দেখা যায়। জানতে চাইলে তিনি জানান, সকাল সাতটায় তিনি রায়েরবাগ থেকে বের হন। সচিবালয়ে পৌঁছাতে দেড়শ ঘণ্টা লেগেছে।

সকাল সাড়ে ৮টায় শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের অনেক গণ্যমান্য ব্যক্তিকে অফিসে দেখা যায়নি। যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়েও নতুন তফসিলে নীতিনির্ধারকদের কাউকে অফিসে দেখা যায়নি।

স্থানীয় সরকার মন্ত্রী তাজুল ইসলাম সকাল ৯টা ১০ মিনিটে নিজ কার্যালয়ে এ প্রতিবেদককে বলেন, তিনি সঠিক সময়ে অফিসে এসেছিলেন। সরকারের এই সিদ্ধান্তের ফলে বিদ্যুৎ সাশ্রয় হবে বলে মনে করেন তিনি। নতুন অফিস সময় পর্যালোচনা করা হবে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার মন্ত্রী। সফল হলে, নতুন অফিসের সময়সূচী অব্যাহত থাকবে।

সকালের যানজটে বহু মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে তাজুল ইসলাম বলেন, অফিস সময় যখন সকাল নয়টায়, তখনও যানজট লেগেই থাকে। এ অভিযোগ পুরনো। সমস্যা পুরোনো।

আজ সকাল ৮টা থেকে ১০টা পর্যন্ত সরেজমিনে দেখা গেছে কর্মকর্তাদের উপস্থিতি কম। কর্মচারীদের উপস্থিতি তার চেয়ে বেশি। স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়, শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়, যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়, ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয়, আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ, মৎস্য ও প্রাণী সম্পদ, সংস্কৃতি, বস্ত্র ও পাট, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়সহ বেশ কয়েকটি মন্ত্রণালয় পরিদর্শন করে এ চিত্র দেখা গেছে। এ বিষয়ে কথা হয় নির্ধারিত সময়ে উপস্থিত উপসচিব ও যুগ্ম সচিব পদমর্যাদার একাধিক কর্মকর্তার সঙ্গে। তারা বলছেন, একদিনে দেরি করে ঘুম থেকে ওঠার দীর্ঘদিনের অভ্যাস পরিবর্তন করা কঠিন। অনেকেরই দেরি করে ঘুম থেকে ওঠার অভ্যাস আছে। তাছাড়া ঢাকায় যানজট একটি বড় সমস্যা। তারা বলছেন, বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে সরকারের উদ্যোগ ভালো। এটি স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী। তবে কর্মকর্তাদের তাদের অভ্যাস পরিবর্তন করতে হবে।

মৎস্য ও প্রাণী সম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব পিএস গোলাম মাইনুদ্দিন হাসান প্রথম আলো</em>কে বলেন, নতুন উদ্যোগ ইতিবাচক। সকাল সাতটায় তিনি মিরপুর ২ নম্বরের বাসা থেকে সকাল সাতটায় বের হন এবং আটটার মধ্যে অফিসে পৌঁছাতে সক্ষম হন।

এর আগে সকাল সাড়ে সাতটায় রাজধানীর তালতলা, আগারগাঁও খামারবাড়িসহ কয়েকটি স্থানে সরকারি কর্মচারীদের অফিসের গাড়ির জন্য অপেক্ষা করতে দেখা গেছে। সকাল সাতটায় স্কুলের ক্লাস শুরু হয়। ফলে অন্যান্য দিনের তুলনায় বুধবার যানজট ছিল বেশি।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক কর্মকর্তা প্রথম আলো</em>কে বলেন, প্রথম দিনেই ছন্দের কিছুটা ক্ষতি হয়েছে। ধীরে ধীরে পরিস্থিতির উন্নতি হবে। নির্ধারিত সময়ে উপস্থিতি বাড়বে।