১২:৫৯ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ মে ২০২৪

কয়রার হাততালি দিয়েও বাঁধ থামানো যায়নি, প্লাবিত হয়েছে ১০টি গ্রাম

নিজস্ব সংবাদ :
  • আপডেট সময় ০৫:১২:৩৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৪ অগাস্ট ২০২২
  • / ৩২৯ বার পড়া হয়েছে

bdopennews

খুলনার কয়রা উপজেলার দক্ষিণ বেদকাশী ইউনিয়নের চারমুখা গ্রামের খালের মাথায় আবারও কপোতাক্ষ নদীর বাঁধ ভেঙে গেছে। হাততালি দিয়েও বাঁধের শেষ রক্ষা হয়নি। রোববার দুপুরে জোয়ারে বাঁধ ভেঙে যায়। এতে সাগরের লবণাক্ত পানিতে ইউনিয়নের চারটি ওয়ার্ডের অন্তত ১০টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। পানিতে আটকা পড়েছে অন্তত ১৫ হাজার মানুষ।

১৭ জুলাই ভোরে বাঁধের প্রায় দেড় শ মিটার ধসে নদীতে বিলীন হয়ে যায়। দুই দিন পর হাজার হাজার মানুষের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় ভাঙা স্থানে রিং বাঁধ দিয়ে পানি বন্ধ করা সম্ভব হয়েছে। শনিবার বিকেলে প্রবল জোয়ারে রিং বাঁধের প্রায় ৫০ ফুট ভেঙে যায়। স্থানীয় শত শত মানুষের প্রচেষ্টায় তাৎক্ষণিকভাবে মেরামত করা হয়। তবে নদীর পানিতে ডুবে মারা গেছে শতাধিক মাছের খাঁচা। সেই বাঁধ আজ আবার ভেঙেছে প্রায় ১০০ মিটার।

একই স্থানে বারবার বাঁধ ভাঙার জন্য পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) অবহেলাকে দায়ী করছেন স্থানীয়রা। তাদের দাবি, এক মাস আগে রিংবাঁধ দেওয়া হলেও তা রক্ষণাবেক্ষণ বা মজবুত করার কোনো ব্যবস্থা নেয়নি পাউবো। এ কারণে দুর্বল বাঁধ বারবার ভেঙে যাচ্ছে।

বাঁধ ভেঙে চারমুখা গ্রামের রফিকুল ইসলামের বাড়ির ভেতরে পানি উঠে গেছে। পুকুরটিও তলিয়ে গেছে। একটা ঘরে পানি ঢুকেছে। রফিকুল ইসলাম বলেন, আশপাশের সবার ঘরে পানি উঠেছে। উঁচু বাঁধে গরু-ছাগল ফেলে গেছে মানুষ। রাতের জোয়ারের সময় আবার পানি ঢুকে নতুন অনেক এলাকা প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

দক্ষিণ বেদকাশী এলাকার স্বাধীন সমাজকল্যাণ যুব সংগঠনের সভাপতি মো. আবু সাঈদ খান জানান, গত ১৭ জুলাই বাঁধ ভেঙে অন্তত ১০টি গ্রামে পানি ঢুকেছে। দুই দিন পর রিং বাঁধ দিয়ে পানি বন্ধ করার পর ওই ইউনিয়নের মানুষের মধ্যে কিছুটা স্বস্তি ফিরে এসেছে। একমাসে অনেক ক্ষতির পর সবাই ঘুরে দাঁড়ালো। কিন্তু আবার ভেঙ্গে যাওয়ায় সব শেষ হয়ে গেছে। তিনি আরও বলেন, বাঁধ না ভাঙলে জনগণ জেগে ওঠে না। ক্ষতিগ্রস্থ বাঁধটি মেরামতের বাইরে ধসে যাওয়ার পরে, প্রতিষ্ঠানটি লড়াই শুরু করে। তখন সাধারণ মানুষ ছিল নিঃস্ব।

দক্ষিণ বেদকাশী ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য ওসমান গণি প্রথম আলো</em>কে বলেন, গতকাল দুপুরের জোয়ারে বাঁধ ভেঙে গেলে সবার চেষ্টায় আবার মেরামত করা হয়। কিন্তু আজ জোয়ারের পানির উচ্চতা এত বেশি ছিল যে বাঁধটি আর ধরে রাখতে পারেনি। প্রায় 100 মিটার ধ্বংস হয়ে গেছে। জুলাই মাসে বাঁধ ভেঙে যাওয়ার পর থেকে শহরটি মেরামতের কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। রিং বাঁধের কাজ হলে এমনটা হতো না। তিনি আরও বলেন, দক্ষিণ বেদকাশী, চারমুখা, হুদালবুনিয়া, বিনাপানি, পদ্মপুকুরসহ ১০টির বেশি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। জলাবদ্ধ হয়ে পড়েছে প্রায় ১৫ হাজার মানুষ। আগামীকাল সোমবার সকালে সবাই আবার বাঁধ মেরামতের পরিকল্পনা করছে।

ওই এলাকাটি পাউবোর সাতক্ষীরা ডিভিশন-২ এর অন্তর্গত। জানতে চাইলে অধিদফতরের পরিবহন ও রক্ষণাবেক্ষণের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. শাহনেওয়াজ তালুকদাBD OPEN NEWS

কে বলেন, প্রথম বাঁধ ভেঙে যাওয়ার পর রিং বাঁধ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু তা জোরদার করা যায়নি। সেখানে মাটির মান খুব একটা ভালো নয়। তা ছাড়া জোয়ারের কারণে বেশিক্ষণ কাজ করা যাচ্ছে না। এই বাঁধটি বারবার ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার প্রধান কারণ। আপাতত পানি প্রবেশ বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এরপর রিং বাঁধ মজবুত করার চেষ্টা করা হবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য

কয়রার হাততালি দিয়েও বাঁধ থামানো যায়নি, প্লাবিত হয়েছে ১০টি গ্রাম

আপডেট সময় ০৫:১২:৩৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৪ অগাস্ট ২০২২

খুলনার কয়রা উপজেলার দক্ষিণ বেদকাশী ইউনিয়নের চারমুখা গ্রামের খালের মাথায় আবারও কপোতাক্ষ নদীর বাঁধ ভেঙে গেছে। হাততালি দিয়েও বাঁধের শেষ রক্ষা হয়নি। রোববার দুপুরে জোয়ারে বাঁধ ভেঙে যায়। এতে সাগরের লবণাক্ত পানিতে ইউনিয়নের চারটি ওয়ার্ডের অন্তত ১০টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। পানিতে আটকা পড়েছে অন্তত ১৫ হাজার মানুষ।

১৭ জুলাই ভোরে বাঁধের প্রায় দেড় শ মিটার ধসে নদীতে বিলীন হয়ে যায়। দুই দিন পর হাজার হাজার মানুষের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় ভাঙা স্থানে রিং বাঁধ দিয়ে পানি বন্ধ করা সম্ভব হয়েছে। শনিবার বিকেলে প্রবল জোয়ারে রিং বাঁধের প্রায় ৫০ ফুট ভেঙে যায়। স্থানীয় শত শত মানুষের প্রচেষ্টায় তাৎক্ষণিকভাবে মেরামত করা হয়। তবে নদীর পানিতে ডুবে মারা গেছে শতাধিক মাছের খাঁচা। সেই বাঁধ আজ আবার ভেঙেছে প্রায় ১০০ মিটার।

একই স্থানে বারবার বাঁধ ভাঙার জন্য পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) অবহেলাকে দায়ী করছেন স্থানীয়রা। তাদের দাবি, এক মাস আগে রিংবাঁধ দেওয়া হলেও তা রক্ষণাবেক্ষণ বা মজবুত করার কোনো ব্যবস্থা নেয়নি পাউবো। এ কারণে দুর্বল বাঁধ বারবার ভেঙে যাচ্ছে।

বাঁধ ভেঙে চারমুখা গ্রামের রফিকুল ইসলামের বাড়ির ভেতরে পানি উঠে গেছে। পুকুরটিও তলিয়ে গেছে। একটা ঘরে পানি ঢুকেছে। রফিকুল ইসলাম বলেন, আশপাশের সবার ঘরে পানি উঠেছে। উঁচু বাঁধে গরু-ছাগল ফেলে গেছে মানুষ। রাতের জোয়ারের সময় আবার পানি ঢুকে নতুন অনেক এলাকা প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

দক্ষিণ বেদকাশী এলাকার স্বাধীন সমাজকল্যাণ যুব সংগঠনের সভাপতি মো. আবু সাঈদ খান জানান, গত ১৭ জুলাই বাঁধ ভেঙে অন্তত ১০টি গ্রামে পানি ঢুকেছে। দুই দিন পর রিং বাঁধ দিয়ে পানি বন্ধ করার পর ওই ইউনিয়নের মানুষের মধ্যে কিছুটা স্বস্তি ফিরে এসেছে। একমাসে অনেক ক্ষতির পর সবাই ঘুরে দাঁড়ালো। কিন্তু আবার ভেঙ্গে যাওয়ায় সব শেষ হয়ে গেছে। তিনি আরও বলেন, বাঁধ না ভাঙলে জনগণ জেগে ওঠে না। ক্ষতিগ্রস্থ বাঁধটি মেরামতের বাইরে ধসে যাওয়ার পরে, প্রতিষ্ঠানটি লড়াই শুরু করে। তখন সাধারণ মানুষ ছিল নিঃস্ব।

দক্ষিণ বেদকাশী ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য ওসমান গণি প্রথম আলো</em>কে বলেন, গতকাল দুপুরের জোয়ারে বাঁধ ভেঙে গেলে সবার চেষ্টায় আবার মেরামত করা হয়। কিন্তু আজ জোয়ারের পানির উচ্চতা এত বেশি ছিল যে বাঁধটি আর ধরে রাখতে পারেনি। প্রায় 100 মিটার ধ্বংস হয়ে গেছে। জুলাই মাসে বাঁধ ভেঙে যাওয়ার পর থেকে শহরটি মেরামতের কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। রিং বাঁধের কাজ হলে এমনটা হতো না। তিনি আরও বলেন, দক্ষিণ বেদকাশী, চারমুখা, হুদালবুনিয়া, বিনাপানি, পদ্মপুকুরসহ ১০টির বেশি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। জলাবদ্ধ হয়ে পড়েছে প্রায় ১৫ হাজার মানুষ। আগামীকাল সোমবার সকালে সবাই আবার বাঁধ মেরামতের পরিকল্পনা করছে।

ওই এলাকাটি পাউবোর সাতক্ষীরা ডিভিশন-২ এর অন্তর্গত। জানতে চাইলে অধিদফতরের পরিবহন ও রক্ষণাবেক্ষণের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. শাহনেওয়াজ তালুকদাBD OPEN NEWS

কে বলেন, প্রথম বাঁধ ভেঙে যাওয়ার পর রিং বাঁধ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু তা জোরদার করা যায়নি। সেখানে মাটির মান খুব একটা ভালো নয়। তা ছাড়া জোয়ারের কারণে বেশিক্ষণ কাজ করা যাচ্ছে না। এই বাঁধটি বারবার ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার প্রধান কারণ। আপাতত পানি প্রবেশ বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এরপর রিং বাঁধ মজবুত করার চেষ্টা করা হবে।