১১:২৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৯ জুন ২০২৪

এত চাপ কীভাবে সামলাবেন অর্থমন্ত্রী

নিজস্ব সংবাদ :
  • আপডেট সময় ০৫:৪৯:৩২ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৯ জুন ২০২২
  • / ৯১৩ বার পড়া হয়েছে

বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে বাজেট পেশ করবেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। এটি তার চতুর্থ বাজেট।

ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধ অর্থনীতিতে কোভিড-১৯ সংকটের অবসান ঘটায়নি। আন্তর্জাতিক বাজারে ভোজ্যতেল, জ্বালানি তেলসহ প্রায় সব কিছুরই বাড়তি দাম। এতে বাড়তি চাপ সৃষ্টি হয়েছে। তার সঙ্গে যোগ হয়েছে মার্কিন ডলারের সংকট। ডলারের বিপরীতে টাকার মান কমছে। প্রবাসী আয়ও কমছে। এই সংকটময় পরিস্থিতিতে আসছে নতুন বাজেট।

বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে বাজেট পেশ করবেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। এটি তার চতুর্থ বাজেট। তিনি আগামী 2022-23 অর্থবছরের জন্য যে বাজেট বক্তৃতা দেবেন তাকে “কোভিডের প্রভাবের বাইরে উন্নয়নের ধারাবাহিকতায় পরিবর্তন” বলা হয়।

অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বুধবার রাতে প্রথম আলো</em>কে বলেন, প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা যাতে অর্জিত হয় এবং অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় থাকে সেজন্য সব শর্ত বিশ্লেষণ করে আমরা বাজেট দিতে যাচ্ছি। আগামী বাজেটে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের সব ব্যবস্থাও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকারের টানা তৃতীয় মেয়াদে এটি চতুর্থ বাজেট। অর্থ মন্ত্রণালয় গতকাল এক বিবৃতিতে বলেছে, আগামী বাজেটে দেশের প্রান্তিক জনগণ অগ্রাধিকার পাবে। যুক্তিসঙ্গতভাবে, সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কারণগুলি হল মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, কৃষি, স্বাস্থ্য, মানবসম্পদ, কর্মসংস্থান, শিক্ষা ইত্যাদি।

বাজেট প্রণয়নের সঙ্গে জড়িত অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগ ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) সূত্রে জানা গেছে, আগামী বাজেটের আকার ছয় লাখ ৮ হাজার ৮৪ কোটি টাকা। এর মধ্যে আয় হয়েছে ৪ লাখ ৩৬ হাজার ২৬১ কোটি টাকা। অনুদানসহ ঘাটতি রয়েছে ২ লাখ ৪১ হাজার ৬৯৩ কোটি টাকা, যা মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) ৫ দশমিক ৪ শতাংশ। দেশি-বিদেশি উৎস থেকে ঋণ নিয়ে এই ঘাটতি পূরণ করা হবে।

সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা এবি মির্জা আজিজুল ইসলাম প্রথম আলো</em>কে বলেন, “কোভিডের কারণে দারিদ্র্য বেড়েছে। সামাজিক নিরাপত্তা খাতে বরাদ্দ বাড়াতে হবে। পাশাপাশি তা সুষ্ঠুভাবে বণ্টনের ব্যবস্থা করতে হবে। আবারও সরকারি ব্যয় বাড়াতে হবে। কারণ, আমাদের সরকারি ব্যয় বিশ্বের অনেক দেশের তুলনায় কম।তবে সরকারের রাজস্ব বাড়াতে খুব বেশি চাপ না দিয়ে সব ট্যাক্স আইডেন্টিফিকেশন নম্বরধারীকে (টিআইএন) করের আওতায় আনা জরুরি। যারা ট্যাক্স দেয়।

রাজস্ব বৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা ৪৫ হাজার কোটি টাকা

এনবিআর নিয়ন্ত্রিত কর, এনবিআর বহির্ভূত কর, কর বহির্ভূত প্রাপ্তি মিলিয়ে নতুন অর্থবছরে রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ৪ লাখ ৩৩ হাজার কোটি টাকা, যা চলতি অর্থবছরের চেয়ে ৪৫ হাজার কোটি টাকা বেশি। এ আয় থেকে এনবিআর সংগ্রহ করবে ৩ লাখ ৬০ হাজার কোটি টাকা। কর বহির্ভূত ও অন্যান্য খাত থেকে আয় ধরা হয়েছে ১৬ হাজার কোটি টাকা। কর ছাড়াই প্রাপ্তি ধরা হয়েছে ৪৫ হাজার কোটি টাকা। আর বৈদেশিক অনুদান ৩ হাজার ২৬১ কোটি টাকা।

অর্থনীতির এই সংকটের সময়ে এত টাকা কীভাবে উদ্ধার হবে জানতে চাইলে অর্থমন্ত্রী বলেন, করদাতাদের আওতা বাড়াচ্ছি। দেশে যে পরিমাণ মধ্যবিত্ত, তাদের অনেকেই ট্যাক্সের আওতায় আসতে পারে। তারাও ধীরে ধীরে জালে আসবে। ‘

এক লাখ কোটি টাকার বেশি ব্যাংক ঋণ

আগামী অর্থবছরের বাজেট ঘাটতি মেটাতে দেশের অভ্যন্তরীণ থেকে ১ লাখ ৪৬ হাজার ৩৩৫ কোটি টাকা ঋণ নেবে সরকার। আর বিদেশ থেকে ধার নেবে ৯৫ হাজার ৪৫৮ কোটি টাকা। অভ্যন্তরীণ ঋণের সিংহভাগ ব্যাংক থেকে নেওয়া হবে, যার পরিমাণ ১ লাখ ৮ হাজার ৩৩৪ কোটি টাকা। এছাড়া সঞ্চয়পত্র বিক্রি করে ৩৫ হাজার কোটি টাকা এবং অন্যান্য খাত থেকে নেওয়া হবে ৫ হাজার কোটি টাকা।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, সরকার ৩০ মে পর্যন্ত বাণিজ্যিক ব্যাংক থেকে ২৯ হাজার ১০৬ কোটি টাকা ঋণ নিয়েছে। অর্থাৎ লক্ষ্যমাত্রার এক-তৃতীয়াংশ নিতে হবে। তবে সঞ্চয়পত্র বিক্রি থেকে ৩২ হাজার কোটি টাকা আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা থাকলেও তা অনেকটাই ছাড়িয়ে যাবে বলে সঞ্চয় অধিদপ্তর জানিয়েছে।

সুদ বাবদ ৬০ হাজার কোটি টাকা

অর্থ বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, আগামী অর্থবছরের পরিচালন ব্যয় ধরা হয়েছে ৪ লাখ ৪১ হাজার ৪০৮ কোটি টাকা, যার সিংহভাগই ব্যয় হবে সরকারি কর্মচারীদের বেতন-ভাতা বাবদ। এর মধ্যে সুদ পরিশোধে ব্যয় হবে ৮০ হাজার ৩৬৫ কোটি টাকা। এর মধ্যে দেশীয় ঋণের সুদ ৬৩ হাজার ১৬৫ কোটি টাকা এবং বিদেশি ঋণের সুদ ৮ হাজার ২০০ কোটি টাকা।

পাচারকৃত অর্থের উপর 6% কর

আগামী অর্থবছরের বাজেটে অর্থ পাচারকারীদের জন্য বিশেষ সুবিধা দেওয়া হচ্ছে। বিদেশে অবস্থিত কোনো সম্পত্তির ওপর কর দেওয়া হলে আয়কর কর্তৃপক্ষসহ কোনো কর্তৃপক্ষ তা নিয়ে প্রশ্ন করবে না। বিদেশে অবস্থিত স্থাবর সম্পত্তি বাংলাদেশে না আনা হলে সেই সম্পত্তির মূল্যের উপর ১৫ শতাংশ কর আরোপ করা যেতে পারে এবং বিদেশে অবস্থিত স্থাবর সম্পত্তি বাংলাদেশে আনা হলে তা বি.

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য

এত চাপ কীভাবে সামলাবেন অর্থমন্ত্রী

আপডেট সময় ০৫:৪৯:৩২ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৯ জুন ২০২২

বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে বাজেট পেশ করবেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। এটি তার চতুর্থ বাজেট।

ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধ অর্থনীতিতে কোভিড-১৯ সংকটের অবসান ঘটায়নি। আন্তর্জাতিক বাজারে ভোজ্যতেল, জ্বালানি তেলসহ প্রায় সব কিছুরই বাড়তি দাম। এতে বাড়তি চাপ সৃষ্টি হয়েছে। তার সঙ্গে যোগ হয়েছে মার্কিন ডলারের সংকট। ডলারের বিপরীতে টাকার মান কমছে। প্রবাসী আয়ও কমছে। এই সংকটময় পরিস্থিতিতে আসছে নতুন বাজেট।

বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে বাজেট পেশ করবেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। এটি তার চতুর্থ বাজেট। তিনি আগামী 2022-23 অর্থবছরের জন্য যে বাজেট বক্তৃতা দেবেন তাকে “কোভিডের প্রভাবের বাইরে উন্নয়নের ধারাবাহিকতায় পরিবর্তন” বলা হয়।

অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বুধবার রাতে প্রথম আলো</em>কে বলেন, প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা যাতে অর্জিত হয় এবং অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় থাকে সেজন্য সব শর্ত বিশ্লেষণ করে আমরা বাজেট দিতে যাচ্ছি। আগামী বাজেটে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের সব ব্যবস্থাও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকারের টানা তৃতীয় মেয়াদে এটি চতুর্থ বাজেট। অর্থ মন্ত্রণালয় গতকাল এক বিবৃতিতে বলেছে, আগামী বাজেটে দেশের প্রান্তিক জনগণ অগ্রাধিকার পাবে। যুক্তিসঙ্গতভাবে, সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কারণগুলি হল মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, কৃষি, স্বাস্থ্য, মানবসম্পদ, কর্মসংস্থান, শিক্ষা ইত্যাদি।

বাজেট প্রণয়নের সঙ্গে জড়িত অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগ ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) সূত্রে জানা গেছে, আগামী বাজেটের আকার ছয় লাখ ৮ হাজার ৮৪ কোটি টাকা। এর মধ্যে আয় হয়েছে ৪ লাখ ৩৬ হাজার ২৬১ কোটি টাকা। অনুদানসহ ঘাটতি রয়েছে ২ লাখ ৪১ হাজার ৬৯৩ কোটি টাকা, যা মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) ৫ দশমিক ৪ শতাংশ। দেশি-বিদেশি উৎস থেকে ঋণ নিয়ে এই ঘাটতি পূরণ করা হবে।

সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা এবি মির্জা আজিজুল ইসলাম প্রথম আলো</em>কে বলেন, “কোভিডের কারণে দারিদ্র্য বেড়েছে। সামাজিক নিরাপত্তা খাতে বরাদ্দ বাড়াতে হবে। পাশাপাশি তা সুষ্ঠুভাবে বণ্টনের ব্যবস্থা করতে হবে। আবারও সরকারি ব্যয় বাড়াতে হবে। কারণ, আমাদের সরকারি ব্যয় বিশ্বের অনেক দেশের তুলনায় কম।তবে সরকারের রাজস্ব বাড়াতে খুব বেশি চাপ না দিয়ে সব ট্যাক্স আইডেন্টিফিকেশন নম্বরধারীকে (টিআইএন) করের আওতায় আনা জরুরি। যারা ট্যাক্স দেয়।

রাজস্ব বৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা ৪৫ হাজার কোটি টাকা

এনবিআর নিয়ন্ত্রিত কর, এনবিআর বহির্ভূত কর, কর বহির্ভূত প্রাপ্তি মিলিয়ে নতুন অর্থবছরে রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ৪ লাখ ৩৩ হাজার কোটি টাকা, যা চলতি অর্থবছরের চেয়ে ৪৫ হাজার কোটি টাকা বেশি। এ আয় থেকে এনবিআর সংগ্রহ করবে ৩ লাখ ৬০ হাজার কোটি টাকা। কর বহির্ভূত ও অন্যান্য খাত থেকে আয় ধরা হয়েছে ১৬ হাজার কোটি টাকা। কর ছাড়াই প্রাপ্তি ধরা হয়েছে ৪৫ হাজার কোটি টাকা। আর বৈদেশিক অনুদান ৩ হাজার ২৬১ কোটি টাকা।

অর্থনীতির এই সংকটের সময়ে এত টাকা কীভাবে উদ্ধার হবে জানতে চাইলে অর্থমন্ত্রী বলেন, করদাতাদের আওতা বাড়াচ্ছি। দেশে যে পরিমাণ মধ্যবিত্ত, তাদের অনেকেই ট্যাক্সের আওতায় আসতে পারে। তারাও ধীরে ধীরে জালে আসবে। ‘

এক লাখ কোটি টাকার বেশি ব্যাংক ঋণ

আগামী অর্থবছরের বাজেট ঘাটতি মেটাতে দেশের অভ্যন্তরীণ থেকে ১ লাখ ৪৬ হাজার ৩৩৫ কোটি টাকা ঋণ নেবে সরকার। আর বিদেশ থেকে ধার নেবে ৯৫ হাজার ৪৫৮ কোটি টাকা। অভ্যন্তরীণ ঋণের সিংহভাগ ব্যাংক থেকে নেওয়া হবে, যার পরিমাণ ১ লাখ ৮ হাজার ৩৩৪ কোটি টাকা। এছাড়া সঞ্চয়পত্র বিক্রি করে ৩৫ হাজার কোটি টাকা এবং অন্যান্য খাত থেকে নেওয়া হবে ৫ হাজার কোটি টাকা।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, সরকার ৩০ মে পর্যন্ত বাণিজ্যিক ব্যাংক থেকে ২৯ হাজার ১০৬ কোটি টাকা ঋণ নিয়েছে। অর্থাৎ লক্ষ্যমাত্রার এক-তৃতীয়াংশ নিতে হবে। তবে সঞ্চয়পত্র বিক্রি থেকে ৩২ হাজার কোটি টাকা আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা থাকলেও তা অনেকটাই ছাড়িয়ে যাবে বলে সঞ্চয় অধিদপ্তর জানিয়েছে।

সুদ বাবদ ৬০ হাজার কোটি টাকা

অর্থ বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, আগামী অর্থবছরের পরিচালন ব্যয় ধরা হয়েছে ৪ লাখ ৪১ হাজার ৪০৮ কোটি টাকা, যার সিংহভাগই ব্যয় হবে সরকারি কর্মচারীদের বেতন-ভাতা বাবদ। এর মধ্যে সুদ পরিশোধে ব্যয় হবে ৮০ হাজার ৩৬৫ কোটি টাকা। এর মধ্যে দেশীয় ঋণের সুদ ৬৩ হাজার ১৬৫ কোটি টাকা এবং বিদেশি ঋণের সুদ ৮ হাজার ২০০ কোটি টাকা।

পাচারকৃত অর্থের উপর 6% কর

আগামী অর্থবছরের বাজেটে অর্থ পাচারকারীদের জন্য বিশেষ সুবিধা দেওয়া হচ্ছে। বিদেশে অবস্থিত কোনো সম্পত্তির ওপর কর দেওয়া হলে আয়কর কর্তৃপক্ষসহ কোনো কর্তৃপক্ষ তা নিয়ে প্রশ্ন করবে না। বিদেশে অবস্থিত স্থাবর সম্পত্তি বাংলাদেশে না আনা হলে সেই সম্পত্তির মূল্যের উপর ১৫ শতাংশ কর আরোপ করা যেতে পারে এবং বিদেশে অবস্থিত স্থাবর সম্পত্তি বাংলাদেশে আনা হলে তা বি.