০৭:৩৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২০ জুন ২০২৪

এই নড়াইলকে আমি চিনি না: মাশরাফি

নিজস্ব সংবাদ :
  • আপডেট সময় ০২:৩০:১০ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৬ জুলাই ২০২২
  • / ৭০৬ বার পড়া হয়েছে

bdopennews

নড়াইলের লোহাগড়ায় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের বাড়িতে হামলা ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের সাবেক অধিনায়ক ও নড়াইল-২ আসনের সংসদ সদস্য মাশরাফি বিন মুর্তজা। শনিবার নিজের ফেসবুক পেজে এক পোস্টে মাশরাফি বলেন, গতকাল আমাদের এলাকায় এমন একটি ঘটনা ঘটেছে, যা আমাকে গভীরভাবে মর্মাহত করেছে এবং প্রতি মুহূর্তে আমাকে পুড়িয়ে দিচ্ছে।

মাশরাফি বলেন, ছোটবেলা থেকে যে নড়াইল দেখে আসছি, যে নড়াইল নিয়ে আমরা গর্বিত, তার সঙ্গে এই নড়াইলকে মেলাতে পারি না।

দীর্ঘ এই পোস্টে তিনি এই ঘটনার পর সবার সহনশীল আচরণ আশা করেন।

শুক্রবার বিকেলে লোহাগড়া উপজেলার দিঘলিয়া এলাকার এক কলেজ ছাত্রী ফেসবুকে মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-কে অবমাননা করে একটি পোস্ট দেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। এ ঘটনায় স্থানীয় বিক্ষুব্ধ জনতা দিঘলিয়া বাজারে সংখ্যালঘুদের বাড়িঘর ও দোকানে হামলা চালায়। এ সময় তারা একটি বাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে একপর্যায়ে পুলিশ শটগান থেকে গুলি চালায়।

মাশরাফি তার পোস্টে লিখেছেন, ‘আমি সবাইকে অনুরোধ করছি, এলাকার শান্তি-শৃঙ্খলা নষ্ট করে এমন কাজ করা থেকে বিরত থাকুন। সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্টকারীদের ফাঁদে পড়ে নড়াইলের হাজার বছরের ঐতিহ্য ও সম্প্রীতির বন্ধনকে ম্লান করে দিও না।’

মাশরাফি বিন মুর্তজা বলেন, ইসলাম শান্তির ধর্ম। আমাদের প্রিয় নবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) আজীবন শান্তি ও সম্প্রীতির দূত ছিলেন। অজ্ঞতাবশত হোক বা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হোক, কেউ যদি মহানবী (সা.)-কে অবমাননা করে, প্রশাসন তার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেবে। যদি কেউ সত্যিই এটা করে থাকে, অভিযোগ প্রমাণিত হলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

আইন হাতে না নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন সংসদ সদস্য মাশরাফি। তিনি বলেন, “দেশে আইন আছে, প্রশাসন আছে, তারা ব্যবস্থা নেবে। কোনো অবস্থাতেই আমরা আইন নিজের হাতে তুলে নিতে পারি না। অভিযোগ সত্য হলেও নিরীহ মানুষের ওপর অন্যায় করার অধিকার কারো নেই। একজন ব্যক্তির জন্য পুরো সমাজের জন্য কেউ সত্যিকারের অপরাধ করলে আদালত তার বিচার করবে, কিন্তু আমি এবং আপনি এই জন্য কাউকে শাস্তি দিতে পারি না।

এ ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন মাশরাফি। তিনি বলেন, ‘আমরা নিজেরা এভাবে বিভক্ত হব, ভাবতে পারি না। এই নড়াইলকে আমি চিনি না! একদিকে নবীর কটূক্তি শুনে ধর্মপ্রাণ মুসলমানের বেদনা, অন্যদিকে আমার সনাতন ধর্মাবলম্বী মায়ের কান্না। আমি এমন একটি কাঠামো তৈরি করতে আপনার সমর্থন চাইনি। ষড়যন্ত্রকারীদের ফাঁদে পড়ে এবং একের পর এক এ ধরনের ঘটনা ঘটিয়ে আমার হাজার বছরের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির সুতোকে কলঙ্কিত করবেন না।’

এ পরিস্থিতিতে মাশরাফি বিভিন্ন সম্প্রদায়ের নেতাদের এগিয়ে আসার অনুরোধ জানান। তিনি বলেন, আমি মসজিদের সম্মানিত ইমামদের অনুরোধ করছি, এই কঠিন সময়ে আপনারা নিজ নিজ এলাকার মুসলমানদের কাছে শান্তির ধর্ম ইসলামের বাণী বেশি বেশি শুনুন। শান্তির মহাপুরুষ হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর জীবনের গল্প বলুন। নবীজীর জীবনের রোল মডেল, শুনুন তার মূল্যবান বাণী। আমি শ্রদ্ধেয় সনাতন ধর্মযাজকদেরও অনুরোধ করব তরুণ প্রজন্ম সহ সকলের মধ্যে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির বার্তা ছড়িয়ে দেওয়ার জন্য।

লোহাগাড়ার ঘটনায় নিজের নেওয়া পদক্ষেপগুলোও তুলে ধরেন মাশরাফি। তিনি বলেন, ঘটনা শোনার সঙ্গে সঙ্গে স্থানীয় পুলিশ ও প্রশাসনকে বলেছি যত দ্রুত সম্ভব ব্যবস্থা নিতে। আমি তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিতে নড়াইলের পুলিশ সুপার, ডিআইজি স্যার, এমনকি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলেছি। এছাড়া আমার স্থানীয় নেতা-কর্মীদেরও দ্রুত ঘটনাস্থলে পাঠিয়েছি, তারা যেন অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ান। খুলনা থেকে র‌্যাব পাঠানো হয়েছে। এত কিছুর পরেও কিছু খুবই দুঃখজনক ঘটনা ঘটেছে।

মাশরাফি বলেন, “এই দেশ আমাদের, এই মাটি আমাদের। এই মাটি যেন কারো জন্য অনিরাপদ না হয়, ৭১ সালের মতো বুক পেতে সবাইকে আগলে রাখতে হবে; সেই আদর্শকে এক মুহূর্তের জন্যও ভুলে গেলে চলবে না।”

লোহাগাড়ার ঘটনায় নিজের নেওয়া পদক্ষেপগুলোও তুলে ধরেন মাশরাফি। তিনি বলেন, ঘটনা শোনার সঙ্গে সঙ্গে স্থানীয় পুলিশ ও প্রশাসনকে বলেছি যত দ্রুত সম্ভব ব্যবস্থা নিতে। আমি তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিতে নড়াইলের পুলিশ সুপার, ডিআইজি স্যার, এমনকি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলেছি। এছাড়া আমার স্থানীয় নেতা-কর্মীদেরও দ্রুত ঘটনাস্থলে পাঠিয়েছি, তারা যেন অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ান। খুলনা থেকে র‌্যাব পাঠানো হয়েছে। এত কিছুর পরেও কিছু খুবই দুঃখজনক ঘটনা ঘটেছে।

মাশরাফি বলেন, “এই দেশ আমাদের, এই মাটি আমাদের। এই মাটি যেন কারো জন্য অনিরাপদ না হয়, ৭১ সালের মতো বুক পেতে সবাইকে আগলে রাখতে হবে; সেই আদর্শকে এক মুহূর্তের জন্যও ভুলে গেলে চলবে না।”

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য

এই নড়াইলকে আমি চিনি না: মাশরাফি

আপডেট সময় ০২:৩০:১০ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৬ জুলাই ২০২২

নড়াইলের লোহাগড়ায় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের বাড়িতে হামলা ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের সাবেক অধিনায়ক ও নড়াইল-২ আসনের সংসদ সদস্য মাশরাফি বিন মুর্তজা। শনিবার নিজের ফেসবুক পেজে এক পোস্টে মাশরাফি বলেন, গতকাল আমাদের এলাকায় এমন একটি ঘটনা ঘটেছে, যা আমাকে গভীরভাবে মর্মাহত করেছে এবং প্রতি মুহূর্তে আমাকে পুড়িয়ে দিচ্ছে।

মাশরাফি বলেন, ছোটবেলা থেকে যে নড়াইল দেখে আসছি, যে নড়াইল নিয়ে আমরা গর্বিত, তার সঙ্গে এই নড়াইলকে মেলাতে পারি না।

দীর্ঘ এই পোস্টে তিনি এই ঘটনার পর সবার সহনশীল আচরণ আশা করেন।

শুক্রবার বিকেলে লোহাগড়া উপজেলার দিঘলিয়া এলাকার এক কলেজ ছাত্রী ফেসবুকে মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-কে অবমাননা করে একটি পোস্ট দেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। এ ঘটনায় স্থানীয় বিক্ষুব্ধ জনতা দিঘলিয়া বাজারে সংখ্যালঘুদের বাড়িঘর ও দোকানে হামলা চালায়। এ সময় তারা একটি বাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে একপর্যায়ে পুলিশ শটগান থেকে গুলি চালায়।

মাশরাফি তার পোস্টে লিখেছেন, ‘আমি সবাইকে অনুরোধ করছি, এলাকার শান্তি-শৃঙ্খলা নষ্ট করে এমন কাজ করা থেকে বিরত থাকুন। সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্টকারীদের ফাঁদে পড়ে নড়াইলের হাজার বছরের ঐতিহ্য ও সম্প্রীতির বন্ধনকে ম্লান করে দিও না।’

মাশরাফি বিন মুর্তজা বলেন, ইসলাম শান্তির ধর্ম। আমাদের প্রিয় নবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) আজীবন শান্তি ও সম্প্রীতির দূত ছিলেন। অজ্ঞতাবশত হোক বা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হোক, কেউ যদি মহানবী (সা.)-কে অবমাননা করে, প্রশাসন তার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেবে। যদি কেউ সত্যিই এটা করে থাকে, অভিযোগ প্রমাণিত হলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

আইন হাতে না নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন সংসদ সদস্য মাশরাফি। তিনি বলেন, “দেশে আইন আছে, প্রশাসন আছে, তারা ব্যবস্থা নেবে। কোনো অবস্থাতেই আমরা আইন নিজের হাতে তুলে নিতে পারি না। অভিযোগ সত্য হলেও নিরীহ মানুষের ওপর অন্যায় করার অধিকার কারো নেই। একজন ব্যক্তির জন্য পুরো সমাজের জন্য কেউ সত্যিকারের অপরাধ করলে আদালত তার বিচার করবে, কিন্তু আমি এবং আপনি এই জন্য কাউকে শাস্তি দিতে পারি না।

এ ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন মাশরাফি। তিনি বলেন, ‘আমরা নিজেরা এভাবে বিভক্ত হব, ভাবতে পারি না। এই নড়াইলকে আমি চিনি না! একদিকে নবীর কটূক্তি শুনে ধর্মপ্রাণ মুসলমানের বেদনা, অন্যদিকে আমার সনাতন ধর্মাবলম্বী মায়ের কান্না। আমি এমন একটি কাঠামো তৈরি করতে আপনার সমর্থন চাইনি। ষড়যন্ত্রকারীদের ফাঁদে পড়ে এবং একের পর এক এ ধরনের ঘটনা ঘটিয়ে আমার হাজার বছরের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির সুতোকে কলঙ্কিত করবেন না।’

এ পরিস্থিতিতে মাশরাফি বিভিন্ন সম্প্রদায়ের নেতাদের এগিয়ে আসার অনুরোধ জানান। তিনি বলেন, আমি মসজিদের সম্মানিত ইমামদের অনুরোধ করছি, এই কঠিন সময়ে আপনারা নিজ নিজ এলাকার মুসলমানদের কাছে শান্তির ধর্ম ইসলামের বাণী বেশি বেশি শুনুন। শান্তির মহাপুরুষ হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর জীবনের গল্প বলুন। নবীজীর জীবনের রোল মডেল, শুনুন তার মূল্যবান বাণী। আমি শ্রদ্ধেয় সনাতন ধর্মযাজকদেরও অনুরোধ করব তরুণ প্রজন্ম সহ সকলের মধ্যে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির বার্তা ছড়িয়ে দেওয়ার জন্য।

লোহাগাড়ার ঘটনায় নিজের নেওয়া পদক্ষেপগুলোও তুলে ধরেন মাশরাফি। তিনি বলেন, ঘটনা শোনার সঙ্গে সঙ্গে স্থানীয় পুলিশ ও প্রশাসনকে বলেছি যত দ্রুত সম্ভব ব্যবস্থা নিতে। আমি তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিতে নড়াইলের পুলিশ সুপার, ডিআইজি স্যার, এমনকি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলেছি। এছাড়া আমার স্থানীয় নেতা-কর্মীদেরও দ্রুত ঘটনাস্থলে পাঠিয়েছি, তারা যেন অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ান। খুলনা থেকে র‌্যাব পাঠানো হয়েছে। এত কিছুর পরেও কিছু খুবই দুঃখজনক ঘটনা ঘটেছে।

মাশরাফি বলেন, “এই দেশ আমাদের, এই মাটি আমাদের। এই মাটি যেন কারো জন্য অনিরাপদ না হয়, ৭১ সালের মতো বুক পেতে সবাইকে আগলে রাখতে হবে; সেই আদর্শকে এক মুহূর্তের জন্যও ভুলে গেলে চলবে না।”

লোহাগাড়ার ঘটনায় নিজের নেওয়া পদক্ষেপগুলোও তুলে ধরেন মাশরাফি। তিনি বলেন, ঘটনা শোনার সঙ্গে সঙ্গে স্থানীয় পুলিশ ও প্রশাসনকে বলেছি যত দ্রুত সম্ভব ব্যবস্থা নিতে। আমি তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিতে নড়াইলের পুলিশ সুপার, ডিআইজি স্যার, এমনকি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলেছি। এছাড়া আমার স্থানীয় নেতা-কর্মীদেরও দ্রুত ঘটনাস্থলে পাঠিয়েছি, তারা যেন অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ান। খুলনা থেকে র‌্যাব পাঠানো হয়েছে। এত কিছুর পরেও কিছু খুবই দুঃখজনক ঘটনা ঘটেছে।

মাশরাফি বলেন, “এই দেশ আমাদের, এই মাটি আমাদের। এই মাটি যেন কারো জন্য অনিরাপদ না হয়, ৭১ সালের মতো বুক পেতে সবাইকে আগলে রাখতে হবে; সেই আদর্শকে এক মুহূর্তের জন্যও ভুলে গেলে চলবে না।”