০১:০৭ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ মে ২০২৪

উপাচার্যের ছেলে-মেয়েসহ ৯ আত্মীয়ের নিয়োগ বাতিলের নির্দেশ দিয়েছে মন্ত্রণালয়।

নিজস্ব সংবাদ :
  • আপডেট সময় ০৯:০৫:২৫ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৯ অগাস্ট ২০২২
  • / ৪০০ বার পড়া হয়েছে

bdopennews

খুলনা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য শহীদুর রহমান খান স্বজনপ্রীতির মাধ্যমে তার ছেলে, মেয়ে, শ্যালকের ছেলে ও ভাগ্নেকে নতুন উচ্চ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নিয়োগ দিয়েছেন। সব মিলিয়ে উপাচার্য তার পরিবারের নয়জনকে বিশ্ববিদ্যালয়ে নিয়োগ দেন। তিনি তার স্ত্রীকে বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপক হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার চেষ্টাও করেন। বিশ্ববিদ্যালয়ে নিয়োগে অনিয়মের এসব পরিসংখ্যান বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) তদন্তে প্রমাণিত হয়েছে।

অনিয়মের বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়ায় দীর্ঘ বিলম্বের পর অবশেষে উপাচার্যের এই ৯ আত্মীয়ের নিয়োগ বাতিল করতে বলেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। উপাচার্য শহীদুর রহমানের মেয়াদ শেষ হওয়ার প্রাক্কালে এমন কঠোর অবস্থান নিল শিক্ষা মন্ত্রণালয়। আগামী ১১ সেপ্টেম্বর উপাচার্য হিসেবে শহিদুর রহমানের মেয়াদ শেষ হবে।

সম্প্রতি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের উপসচিব মো. মাহমুদুল আলম স্বাক্ষরিত চিঠিতে এ বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে উপাচার্যকে বলা হয়েছে। একই সঙ্গে ‘বিষয় বিশেষজ্ঞ’ ছাড়া একই ব্যক্তিদের নিয়ে বাছাই বোর্ড গঠন করে ২০টি বিষয়ে নিয়োগ পাওয়া ৭৩ জন শিক্ষকের নিয়োগ বাতিল করতে বলেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। এসব বিষয়ে যথাযথ কর্তৃপক্ষ অনুমোদন দিয়েছে বলে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

খুলনা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার খন্দকার মাজহারুল আনোয়ার শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে এ চিঠি পাওয়ার বিষয়টি প্রথম আলোকে নিশ্চিত করেছেন।

2015 সালে, জাতীয় সংসদে খুলনা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় আইন পাস হয়। 2018 সালের সেপ্টেম্বরে, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক শহীদুর রহমান উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ পান। কিন্তু নতুন বিশ্ববিদ্যালয়ে নিয়োগে ব্যাপক অনিয়ম হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

2020 সালে, বিশ্ববিদ্যালয়ের নীতি-নির্ধারণী ফোরাম সিন্ডিকেটের পাঁচ সদস্য উপাচার্যের বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ করে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে চিঠি দিয়েছিলেন। পরে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে ইউজিসি একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে। কমিটি গঠনের এক বছরেরও বেশি সময় পর চলতি বছরের জানুয়ারিতে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করা হয়।

অনুসন্ধানে জানা যায়, উপাচার্য তার ছেলে শফিউর রহমান খান ও শ্যালক জসিম উদ্দিনকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শাখা কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োগ দিয়েছেন।

উপাচার্যের চার ভাগ্নেকেও নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তারা হলেন হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা হিসেবে মুরাদ বিল্লাহ, প্রশাসনিক কর্মকর্তা হিসেবে সুলতান মাহমুদ, ল্যাব টেকনিশিয়ান পদে ইমরান হোসেন ও অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর হিসেবে মিজানুর রহমান।

সহকারী প্রকৌশলী (বৈদ্যুতিক) পদে নিয়োগ পান উপাচার্যের ভগ্নিপতির ছেলে সাইফুল্লাহ হক। ডাটা এন্ট্রি অপারেটর হিসেবে নিয়োগ পাওয়া নিজামউদ্দিন উপাচার্যের আত্মীয়।

তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, উপাচার্যের মেয়ে ইসরাত খানকে বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া প্রক্রিয়ায় ত্রুটি ছিল।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, উপাচার্যের মেয়ে 13 এপ্রিল, 2020 তারিখে প্রভাষক পদের জন্য আবেদন করেছিলেন। এই পদের জন্য 30 জন প্রার্থী আবেদন করেছিলেন। এর মধ্যে গ্রাজুয়েশনের ফলাফলে পিছিয়ে ছিলেন উপাচার্যের মেয়ে। তার সিজিপিএ ৩.৩০।

তদন্ত কমিটি জানিয়েছে, উপাচার্যের মেয়ে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বজনপ্রীতি ও অসৎ আচরণ লক্ষ্য করা গেছে।

উপাচার্য তার স্ত্রীকে সরাসরি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার চেষ্টা করেন। উপাচার্যের স্ত্রী ফেরদৌসী বেগম উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা মো. তিনি 13 এপ্রিল, 2020 খুলনা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের মাইক্রোবায়োলজি ও জনস্বাস্থ্য বিভাগের অধ্যাপক পদে আবেদন করেছিলেন। তবে, শিক্ষা মন্ত্রণালয় এই নিয়োগ প্রক্রিয়া স্থগিত করে। তদন্ত কমিটি বলেছে, উপাচার্যের স্ত্রী নিয়োগের শর্ত পূরণ করেন না।

তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে বলা হয়, উপাচার্য শহিদুর রহমানকে তার পরিবারের সদস্য ও নিকটাত্মীয়দের নিয়োগের বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। তিনি কমিটিকে বলেন, এটা আসলে খুব একটা ভালো কাজ নয়। বিশ্ববিদ্যালয় শুরু করার সময় আমাকে এটি করতে হয়েছিল। আমি এটা অন্যায় করেছি।’

যে ব্যবস্থা নিতে বলেছে মন্ত্রণালয়

তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে ব্যবস্থা নেওয়া সংক্রান্ত চিঠিতে শিক্ষা মন্ত্রণালয় বলেছে, তদন্ত কমিটির কাছে অনিয়মের বিষয়টি স্বয়ং উপাচার্য স্বীকার করেছেন। তাই তার পরিবারের সদস্য ও আত্মীয়স্বজনের নয়জনের নিয়োগ বাতিলের ব্যবস্থা করতে হবে।

আর সরাসরি অধ্যাপক নিয়োগের বিজ্ঞপ্তিতে উপাচার্যের স্ত্রী আবেদন করেছেন, তা বাতিল করতে হবে।

‘বিষয় বিশেষজ্ঞ’ ব্যতীত একই ব্যক্তিদের নিয়ে একটি বাছাই বোর্ড গঠন করে ২০টি বিষয়ে নিয়োগপ্রাপ্ত ৭৩ জন শিক্ষকের নিয়োগ বাতিলের ব্যবস্থা নিতে হবে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন শিক্ষক ড

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য

উপাচার্যের ছেলে-মেয়েসহ ৯ আত্মীয়ের নিয়োগ বাতিলের নির্দেশ দিয়েছে মন্ত্রণালয়।

আপডেট সময় ০৯:০৫:২৫ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৯ অগাস্ট ২০২২

খুলনা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য শহীদুর রহমান খান স্বজনপ্রীতির মাধ্যমে তার ছেলে, মেয়ে, শ্যালকের ছেলে ও ভাগ্নেকে নতুন উচ্চ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নিয়োগ দিয়েছেন। সব মিলিয়ে উপাচার্য তার পরিবারের নয়জনকে বিশ্ববিদ্যালয়ে নিয়োগ দেন। তিনি তার স্ত্রীকে বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপক হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার চেষ্টাও করেন। বিশ্ববিদ্যালয়ে নিয়োগে অনিয়মের এসব পরিসংখ্যান বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) তদন্তে প্রমাণিত হয়েছে।

অনিয়মের বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়ায় দীর্ঘ বিলম্বের পর অবশেষে উপাচার্যের এই ৯ আত্মীয়ের নিয়োগ বাতিল করতে বলেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। উপাচার্য শহীদুর রহমানের মেয়াদ শেষ হওয়ার প্রাক্কালে এমন কঠোর অবস্থান নিল শিক্ষা মন্ত্রণালয়। আগামী ১১ সেপ্টেম্বর উপাচার্য হিসেবে শহিদুর রহমানের মেয়াদ শেষ হবে।

সম্প্রতি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের উপসচিব মো. মাহমুদুল আলম স্বাক্ষরিত চিঠিতে এ বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে উপাচার্যকে বলা হয়েছে। একই সঙ্গে ‘বিষয় বিশেষজ্ঞ’ ছাড়া একই ব্যক্তিদের নিয়ে বাছাই বোর্ড গঠন করে ২০টি বিষয়ে নিয়োগ পাওয়া ৭৩ জন শিক্ষকের নিয়োগ বাতিল করতে বলেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। এসব বিষয়ে যথাযথ কর্তৃপক্ষ অনুমোদন দিয়েছে বলে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

খুলনা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার খন্দকার মাজহারুল আনোয়ার শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে এ চিঠি পাওয়ার বিষয়টি প্রথম আলোকে নিশ্চিত করেছেন।

2015 সালে, জাতীয় সংসদে খুলনা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় আইন পাস হয়। 2018 সালের সেপ্টেম্বরে, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক শহীদুর রহমান উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ পান। কিন্তু নতুন বিশ্ববিদ্যালয়ে নিয়োগে ব্যাপক অনিয়ম হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

2020 সালে, বিশ্ববিদ্যালয়ের নীতি-নির্ধারণী ফোরাম সিন্ডিকেটের পাঁচ সদস্য উপাচার্যের বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ করে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে চিঠি দিয়েছিলেন। পরে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে ইউজিসি একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে। কমিটি গঠনের এক বছরেরও বেশি সময় পর চলতি বছরের জানুয়ারিতে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করা হয়।

অনুসন্ধানে জানা যায়, উপাচার্য তার ছেলে শফিউর রহমান খান ও শ্যালক জসিম উদ্দিনকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শাখা কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োগ দিয়েছেন।

উপাচার্যের চার ভাগ্নেকেও নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তারা হলেন হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা হিসেবে মুরাদ বিল্লাহ, প্রশাসনিক কর্মকর্তা হিসেবে সুলতান মাহমুদ, ল্যাব টেকনিশিয়ান পদে ইমরান হোসেন ও অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর হিসেবে মিজানুর রহমান।

সহকারী প্রকৌশলী (বৈদ্যুতিক) পদে নিয়োগ পান উপাচার্যের ভগ্নিপতির ছেলে সাইফুল্লাহ হক। ডাটা এন্ট্রি অপারেটর হিসেবে নিয়োগ পাওয়া নিজামউদ্দিন উপাচার্যের আত্মীয়।

তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, উপাচার্যের মেয়ে ইসরাত খানকে বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া প্রক্রিয়ায় ত্রুটি ছিল।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, উপাচার্যের মেয়ে 13 এপ্রিল, 2020 তারিখে প্রভাষক পদের জন্য আবেদন করেছিলেন। এই পদের জন্য 30 জন প্রার্থী আবেদন করেছিলেন। এর মধ্যে গ্রাজুয়েশনের ফলাফলে পিছিয়ে ছিলেন উপাচার্যের মেয়ে। তার সিজিপিএ ৩.৩০।

তদন্ত কমিটি জানিয়েছে, উপাচার্যের মেয়ে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বজনপ্রীতি ও অসৎ আচরণ লক্ষ্য করা গেছে।

উপাচার্য তার স্ত্রীকে সরাসরি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার চেষ্টা করেন। উপাচার্যের স্ত্রী ফেরদৌসী বেগম উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা মো. তিনি 13 এপ্রিল, 2020 খুলনা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের মাইক্রোবায়োলজি ও জনস্বাস্থ্য বিভাগের অধ্যাপক পদে আবেদন করেছিলেন। তবে, শিক্ষা মন্ত্রণালয় এই নিয়োগ প্রক্রিয়া স্থগিত করে। তদন্ত কমিটি বলেছে, উপাচার্যের স্ত্রী নিয়োগের শর্ত পূরণ করেন না।

তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে বলা হয়, উপাচার্য শহিদুর রহমানকে তার পরিবারের সদস্য ও নিকটাত্মীয়দের নিয়োগের বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। তিনি কমিটিকে বলেন, এটা আসলে খুব একটা ভালো কাজ নয়। বিশ্ববিদ্যালয় শুরু করার সময় আমাকে এটি করতে হয়েছিল। আমি এটা অন্যায় করেছি।’

যে ব্যবস্থা নিতে বলেছে মন্ত্রণালয়

তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে ব্যবস্থা নেওয়া সংক্রান্ত চিঠিতে শিক্ষা মন্ত্রণালয় বলেছে, তদন্ত কমিটির কাছে অনিয়মের বিষয়টি স্বয়ং উপাচার্য স্বীকার করেছেন। তাই তার পরিবারের সদস্য ও আত্মীয়স্বজনের নয়জনের নিয়োগ বাতিলের ব্যবস্থা করতে হবে।

আর সরাসরি অধ্যাপক নিয়োগের বিজ্ঞপ্তিতে উপাচার্যের স্ত্রী আবেদন করেছেন, তা বাতিল করতে হবে।

‘বিষয় বিশেষজ্ঞ’ ব্যতীত একই ব্যক্তিদের নিয়ে একটি বাছাই বোর্ড গঠন করে ২০টি বিষয়ে নিয়োগপ্রাপ্ত ৭৩ জন শিক্ষকের নিয়োগ বাতিলের ব্যবস্থা নিতে হবে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন শিক্ষক ড