১০:০৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৩ এপ্রিল ২০২৪

আমি আমার মর্যাদা বাঁচাতে পুলিশকে ফোন করেছি: রিকশাচালক যে 999 নম্বরে ফোন করেছিল

নিজস্ব সংবাদ :
  • আপডেট সময় ০৫:৫৬:৪১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৯ জুলাই ২০২২
  • / ১৮৪ বার পড়া হয়েছে

bdopennews

চট্টগ্রাম নগরীর জিইসি মোড়ে গভীর রাতে রিকশায় করে বাড়ি ফেরার পথে ছয় দুর্বৃত্তের হামলায় ২৮ বছর বয়সী এক নারী। তারা রিকশাচালককে ধাওয়া করে মহিলাকে রাস্তার পাশে নিয়ে যায়। এরপর রিকশাচালক একটু এগিয়ে অন্য রিকশাচালককে ঘটনাটি জানান। আব্দুল হান্নান নামের রিকশাচালক ৯৯৯ নম্বরে কল করলে পুলিশ এসে ভিকটিমকে উদ্ধার করে এবং তিন ধর্ষককে আটক করে। গত রোববার রাতে গণধর্ষণের এই ঘটনার পর আরও তিনজনকে আটক করেছে পুলিশ। ৯৯৯ নম্বরে ফোন করার কথা কীভাবে মনে পড়ে জানতে চাইলে রিকশাচালক আবদুল হান্নান (৩০) আজ BD OPEN NEWS

>কে বলেন, প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা না থাকলেও তিনি যেকোনো ভাবেই বাংলা পড়তে পারেন। বিভিন্ন গাড়ির পেছনের লেখাগুলো খুব মনোযোগ দিয়ে পড়ুন। এভাবেই তিনি 999 নম্বরে ফোন করলে পুলিশি সহায়তা পাওয়া যায় বলে তিনি জানতে পেরেছিলেন। চার বছর আগে একজন পথচারী যখন সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত এক ব্যক্তির লাশ পুলিশ তুলে নিয়ে যাওয়ার জন্য 999 নম্বরে ফোন করেছিলেন তখন তিনি নিশ্চিত হন।

এ ঘটনায় পুলিশের সহায়তা চাওয়ার বিষয়ে এই রিকশাচালক বলেন, ওই নারীর জায়গায় আমার বোন, মা, স্ত্রী বা কোনো আত্মীয় থাকতে পারত। আমি আমার সম্মান বাঁচাতে ডাকলাম।

ঘটনার বিবরণে আবদুল হান্নানBD OPEN NEWS

কে বলেন, রাস্তায় লোকজন ছিল না। মাঝে মাঝে দুয়েকটা গাড়ি চলছিল। তাদের মধ্যে ছয়জন থাকায় তারা ওই নারীকে উদ্ধার করতে যেতে চাইলেও কাছে যাননি। কারণ তরুণরা খুবই বিপজ্জনক। বেশিরভাগই ছিল মাদকাসক্ত। তিনি দূর থেকে তাদের দেখছিলেন। 999 নম্বরে কল করার ১৫ মিনিট পর খুলশী থানার একটি দল ঘটনাস্থলে এসে তাকে ফোন করে।

এরপর তিনি নগরীর খুলশী থানার জিইসি বাটা গলি এলাকায় আখতারুজ্জামান চৌধুরী হাইওয়ের নিচে টংডোকানের ঠিকানা পুলিশকে দেন। এরপর পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে আরিফ নামে তিন যুবককে আটক করে ফারুক হোসেন, আবদুর রহমান ও মো. বাকি তিনজন পালিয়ে যায়। পরদিন সোমবার রাতে সাইফুল ইসলাম, আব্দুল খালেক ও মোহাম্মদ হোসেন নামে তিনজনকে আটক করে পুলিশ।

ওই নারী যে রিকশায় ছিলেন তার চালক রাকিব জানান, যুবকরা তাদের পথ আটকে ওই নারীকে ধরে ফেলে চলে যেতে বলে। একটু দূরে গিয়ে রিকশাচালক হান্নানকে বললেন। তিনি বলেন, “ঘটনা শোনার পর হান্নান তার মুঠোফোন থেকে পুলিশকে ফোন করে। এর কিছুক্ষণ পরেই পুলিশ আসে। আমি এ বিষয়ে অবগত ছিলাম না। এখন থেকে কোনো যাত্রী বিপদে পড়লে আমিও ৯৯৯ নম্বরে ফোন করব।”

খুলশী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সন্তোষ কুমার চাকমা BD OPEN NEWS

কে বলেন, রিকশাচালক সময়মতো ৯৯৯ নম্বরে ফোন না করলে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে আসামিদের গ্রেপ্তার করতে পারত না। পুলিশ রিকশাচালকের সচেতনতায় ওই নারীকে উদ্ধার করতে সক্ষম হয়। পুলিশ তাকে পুরস্কৃত করবে।

ওসি সন্তোষ কুমার বলেন, কেউ ঘটনার শিকার হলে ভিকটিম বা আশেপাশের লোকজন রিকশাচালক আবদুল হান্নানের মতো ৯৯৯ নম্বরে ফোন করতে পারেন। পুলিশ দ্রুত ব্যবস্থা নিতে পারে।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ভিকটিম এখন চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে (ওসিসি) চিকিৎসাধীন। এ ঘটনায় তিনি বাদী হয়ে খুলশী থানায় ছয়জনের বিরুদ্ধে মামলা করেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য

আমি আমার মর্যাদা বাঁচাতে পুলিশকে ফোন করেছি: রিকশাচালক যে 999 নম্বরে ফোন করেছিল

আপডেট সময় ০৫:৫৬:৪১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৯ জুলাই ২০২২

চট্টগ্রাম নগরীর জিইসি মোড়ে গভীর রাতে রিকশায় করে বাড়ি ফেরার পথে ছয় দুর্বৃত্তের হামলায় ২৮ বছর বয়সী এক নারী। তারা রিকশাচালককে ধাওয়া করে মহিলাকে রাস্তার পাশে নিয়ে যায়। এরপর রিকশাচালক একটু এগিয়ে অন্য রিকশাচালককে ঘটনাটি জানান। আব্দুল হান্নান নামের রিকশাচালক ৯৯৯ নম্বরে কল করলে পুলিশ এসে ভিকটিমকে উদ্ধার করে এবং তিন ধর্ষককে আটক করে। গত রোববার রাতে গণধর্ষণের এই ঘটনার পর আরও তিনজনকে আটক করেছে পুলিশ। ৯৯৯ নম্বরে ফোন করার কথা কীভাবে মনে পড়ে জানতে চাইলে রিকশাচালক আবদুল হান্নান (৩০) আজ BD OPEN NEWS

>কে বলেন, প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা না থাকলেও তিনি যেকোনো ভাবেই বাংলা পড়তে পারেন। বিভিন্ন গাড়ির পেছনের লেখাগুলো খুব মনোযোগ দিয়ে পড়ুন। এভাবেই তিনি 999 নম্বরে ফোন করলে পুলিশি সহায়তা পাওয়া যায় বলে তিনি জানতে পেরেছিলেন। চার বছর আগে একজন পথচারী যখন সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত এক ব্যক্তির লাশ পুলিশ তুলে নিয়ে যাওয়ার জন্য 999 নম্বরে ফোন করেছিলেন তখন তিনি নিশ্চিত হন।

এ ঘটনায় পুলিশের সহায়তা চাওয়ার বিষয়ে এই রিকশাচালক বলেন, ওই নারীর জায়গায় আমার বোন, মা, স্ত্রী বা কোনো আত্মীয় থাকতে পারত। আমি আমার সম্মান বাঁচাতে ডাকলাম।

ঘটনার বিবরণে আবদুল হান্নানBD OPEN NEWS

কে বলেন, রাস্তায় লোকজন ছিল না। মাঝে মাঝে দুয়েকটা গাড়ি চলছিল। তাদের মধ্যে ছয়জন থাকায় তারা ওই নারীকে উদ্ধার করতে যেতে চাইলেও কাছে যাননি। কারণ তরুণরা খুবই বিপজ্জনক। বেশিরভাগই ছিল মাদকাসক্ত। তিনি দূর থেকে তাদের দেখছিলেন। 999 নম্বরে কল করার ১৫ মিনিট পর খুলশী থানার একটি দল ঘটনাস্থলে এসে তাকে ফোন করে।

এরপর তিনি নগরীর খুলশী থানার জিইসি বাটা গলি এলাকায় আখতারুজ্জামান চৌধুরী হাইওয়ের নিচে টংডোকানের ঠিকানা পুলিশকে দেন। এরপর পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে আরিফ নামে তিন যুবককে আটক করে ফারুক হোসেন, আবদুর রহমান ও মো. বাকি তিনজন পালিয়ে যায়। পরদিন সোমবার রাতে সাইফুল ইসলাম, আব্দুল খালেক ও মোহাম্মদ হোসেন নামে তিনজনকে আটক করে পুলিশ।

ওই নারী যে রিকশায় ছিলেন তার চালক রাকিব জানান, যুবকরা তাদের পথ আটকে ওই নারীকে ধরে ফেলে চলে যেতে বলে। একটু দূরে গিয়ে রিকশাচালক হান্নানকে বললেন। তিনি বলেন, “ঘটনা শোনার পর হান্নান তার মুঠোফোন থেকে পুলিশকে ফোন করে। এর কিছুক্ষণ পরেই পুলিশ আসে। আমি এ বিষয়ে অবগত ছিলাম না। এখন থেকে কোনো যাত্রী বিপদে পড়লে আমিও ৯৯৯ নম্বরে ফোন করব।”

খুলশী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সন্তোষ কুমার চাকমা BD OPEN NEWS

কে বলেন, রিকশাচালক সময়মতো ৯৯৯ নম্বরে ফোন না করলে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে আসামিদের গ্রেপ্তার করতে পারত না। পুলিশ রিকশাচালকের সচেতনতায় ওই নারীকে উদ্ধার করতে সক্ষম হয়। পুলিশ তাকে পুরস্কৃত করবে।

ওসি সন্তোষ কুমার বলেন, কেউ ঘটনার শিকার হলে ভিকটিম বা আশেপাশের লোকজন রিকশাচালক আবদুল হান্নানের মতো ৯৯৯ নম্বরে ফোন করতে পারেন। পুলিশ দ্রুত ব্যবস্থা নিতে পারে।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ভিকটিম এখন চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে (ওসিসি) চিকিৎসাধীন। এ ঘটনায় তিনি বাদী হয়ে খুলশী থানায় ছয়জনের বিরুদ্ধে মামলা করেন।