১০:৫৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৩ এপ্রিল ২০২৪

আগামী মাসে বাড়তে পারে ডিজেল ও অকটেনের দাম

নিজস্ব সংবাদ :
  • আপডেট সময় ০৫:২৯:৩৫ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৮ জুন ২০২২
  • / ১১৭৬ বার পড়া হয়েছে

bdopennews

বিশ্ববাজারে আবারও জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায় ডিজেল ও অকটেনের দাম বাড়ানোর পরিকল্পনা করছে সরকার। গত ৩ নভেম্বর ডিজেল ও কেরোসিনের দাম লিটার প্রতি ১৫ টাকা বেড়ে ৬০ টাকা করা হয়। তবে এবার লিটারপ্রতি কত টাকা বাড়বে তা এখনও ঠিক হয়নি।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির প্রভাব সুদূরপ্রসারী

এটি জীবনের প্রায় প্রতিটি দিককে প্রভাবিত করে। বর্তমানে নিত্যপ্রয়োজনীয় সব পণ্যের দাম চড়া, যাত্রী ও মালবাহী ভাড়াও অস্বাভাবিকভাবে বেড়েছে। এখন জ্বালানির দাম বৃদ্ধি অর্থনীতিতে নতুন চাপ সৃষ্টি করবে।

বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) তথ্য অনুযায়ী, ডিজেল ও অকটেন বিক্রি করে তাদের প্রতিদিন ১০৬ কোটি টাকা লোকসান গুনতে হচ্ছে। বর্তমানে প্রতি লিটার ডিজেল কিনতে এবং সরবরাহ করতে 138 টাকা খরচ হয়। 80 টাকায় বিক্রি হচ্ছে। বাকি টাকা ভর্তুকি দেওয়া হয়। একইভাবে প্রতি লিটার অকটেনের দাম 124 টাকা। বিপিসি বিক্রি করছে ৬৯ টাকায়।

বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ শুক্রবার কালের কণ্ঠকে বলেন, পরিবহন মালিকদের সঙ্গে আলোচনা করে আগামী মাসে জ্বালানির দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে। তবে দাম বাড়লেও তা সহনীয় পর্যায়ে রাখা হবে। এটা সাধারণ মানুষের জন্য বড় বোঝা হবে না। তিনি বলেন, বিশ্ববাজারে দাম কমলে দেশের বাজারেও দাম কমবে।

সাধারণভাবে, জ্বালানি তেলের দামের তুলনায় যাত্রী ও মালবাহী ভাড়া অনেক বেশি বৃদ্ধির প্রবণতা রয়েছে। পরিবহন ভাড়া বাড়ানোর অজুহাতে পণ্যের দাম আরও বাড়ানো হয়। গতবারের চেয়ে অনেক বেশি ভাড়া বাড়িয়েছে পরিবহন মালিকরা। আর ডিজেলের দাম বেড়ে যাওয়ায় সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়ে মুদ্রাস্ফীতির ওপর। কারণ সেচসহ কৃষিতে এর প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ প্রভাব রয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এখন জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানো হলেও পরিবহন ভাড়া একই রাখতে হবে। কারণ গতবার তারা ভাড়া অনেক বাড়িয়েছিল। তাদের বিরুদ্ধে অতিরিক্ত মুনাফা করারও অভিযোগ রয়েছে। যদিও পরিবহন বিশেষ করে বাস মালিকরা দাবি করছেন, বাস চালিয়ে তারা লাভবান হতে পারছেন না।

জানতে চাইলে বিপিসির চেয়ারম্যান এবিএম আজাদ কালের কণ্ঠকে বলেন, গত চার মাসে শুধু ডিজেল বিক্রিতেই বিপিসি ৪ হাজার ৬০০ কোটি টাকা লোকসান করেছে। ফেব্রুয়ারিতে লোকসান হয়েছে ২৮৪ কোটি টাকা, মার্চে ১ হাজার ৩২৩ কোটি টাকা, এপ্রিলে ১ হাজার ৪৯৬ কোটি টাকা এবং মে মাসে ১ হাজার ৪৯৫ কোটি টাকা।

বিপিসির চেয়ারম্যান বলেন, মার্চ মাসেও বিপিসির আর্থিক সক্ষমতা ছিল ৩২ হাজার কোটি টাকা। তা নেমে এসেছে ২৫ হাজার কোটি টাকায়। মূলত প্রকল্পের জন্য যে অর্থ বরাদ্দ করা হয়েছিল তা দিয়ে তারা অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় করে চলেছে। এভাবে জুন-জুলাইয়ে সামলাতে পারলেও আর্থিক সামর্থ্য আর থাকবে না।

জ্বালানি বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক এম তামিম কালের কণ্ঠকে বলেন, এই মুহূর্তে জ্বালানি তেলের দাম না বাড়লে ভালো হতো। কারণ সব ধরনের পণ্যের দামই বেশি। ডলারের অবমূল্যায়নের কারণে সব আমদানি পণ্যের ওপর এক ধরনের চাপ রয়েছে। এ অবস্থায় দেশের বাজারে জ্বালানি তেলের দাম সমন্বয় করা হলে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় মেটানো আরও কঠিন হয়ে পড়বে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য

আগামী মাসে বাড়তে পারে ডিজেল ও অকটেনের দাম

আপডেট সময় ০৫:২৯:৩৫ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৮ জুন ২০২২

বিশ্ববাজারে আবারও জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায় ডিজেল ও অকটেনের দাম বাড়ানোর পরিকল্পনা করছে সরকার। গত ৩ নভেম্বর ডিজেল ও কেরোসিনের দাম লিটার প্রতি ১৫ টাকা বেড়ে ৬০ টাকা করা হয়। তবে এবার লিটারপ্রতি কত টাকা বাড়বে তা এখনও ঠিক হয়নি।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির প্রভাব সুদূরপ্রসারী

এটি জীবনের প্রায় প্রতিটি দিককে প্রভাবিত করে। বর্তমানে নিত্যপ্রয়োজনীয় সব পণ্যের দাম চড়া, যাত্রী ও মালবাহী ভাড়াও অস্বাভাবিকভাবে বেড়েছে। এখন জ্বালানির দাম বৃদ্ধি অর্থনীতিতে নতুন চাপ সৃষ্টি করবে।

বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) তথ্য অনুযায়ী, ডিজেল ও অকটেন বিক্রি করে তাদের প্রতিদিন ১০৬ কোটি টাকা লোকসান গুনতে হচ্ছে। বর্তমানে প্রতি লিটার ডিজেল কিনতে এবং সরবরাহ করতে 138 টাকা খরচ হয়। 80 টাকায় বিক্রি হচ্ছে। বাকি টাকা ভর্তুকি দেওয়া হয়। একইভাবে প্রতি লিটার অকটেনের দাম 124 টাকা। বিপিসি বিক্রি করছে ৬৯ টাকায়।

বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ শুক্রবার কালের কণ্ঠকে বলেন, পরিবহন মালিকদের সঙ্গে আলোচনা করে আগামী মাসে জ্বালানির দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে। তবে দাম বাড়লেও তা সহনীয় পর্যায়ে রাখা হবে। এটা সাধারণ মানুষের জন্য বড় বোঝা হবে না। তিনি বলেন, বিশ্ববাজারে দাম কমলে দেশের বাজারেও দাম কমবে।

সাধারণভাবে, জ্বালানি তেলের দামের তুলনায় যাত্রী ও মালবাহী ভাড়া অনেক বেশি বৃদ্ধির প্রবণতা রয়েছে। পরিবহন ভাড়া বাড়ানোর অজুহাতে পণ্যের দাম আরও বাড়ানো হয়। গতবারের চেয়ে অনেক বেশি ভাড়া বাড়িয়েছে পরিবহন মালিকরা। আর ডিজেলের দাম বেড়ে যাওয়ায় সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়ে মুদ্রাস্ফীতির ওপর। কারণ সেচসহ কৃষিতে এর প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ প্রভাব রয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এখন জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানো হলেও পরিবহন ভাড়া একই রাখতে হবে। কারণ গতবার তারা ভাড়া অনেক বাড়িয়েছিল। তাদের বিরুদ্ধে অতিরিক্ত মুনাফা করারও অভিযোগ রয়েছে। যদিও পরিবহন বিশেষ করে বাস মালিকরা দাবি করছেন, বাস চালিয়ে তারা লাভবান হতে পারছেন না।

জানতে চাইলে বিপিসির চেয়ারম্যান এবিএম আজাদ কালের কণ্ঠকে বলেন, গত চার মাসে শুধু ডিজেল বিক্রিতেই বিপিসি ৪ হাজার ৬০০ কোটি টাকা লোকসান করেছে। ফেব্রুয়ারিতে লোকসান হয়েছে ২৮৪ কোটি টাকা, মার্চে ১ হাজার ৩২৩ কোটি টাকা, এপ্রিলে ১ হাজার ৪৯৬ কোটি টাকা এবং মে মাসে ১ হাজার ৪৯৫ কোটি টাকা।

বিপিসির চেয়ারম্যান বলেন, মার্চ মাসেও বিপিসির আর্থিক সক্ষমতা ছিল ৩২ হাজার কোটি টাকা। তা নেমে এসেছে ২৫ হাজার কোটি টাকায়। মূলত প্রকল্পের জন্য যে অর্থ বরাদ্দ করা হয়েছিল তা দিয়ে তারা অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় করে চলেছে। এভাবে জুন-জুলাইয়ে সামলাতে পারলেও আর্থিক সামর্থ্য আর থাকবে না।

জ্বালানি বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক এম তামিম কালের কণ্ঠকে বলেন, এই মুহূর্তে জ্বালানি তেলের দাম না বাড়লে ভালো হতো। কারণ সব ধরনের পণ্যের দামই বেশি। ডলারের অবমূল্যায়নের কারণে সব আমদানি পণ্যের ওপর এক ধরনের চাপ রয়েছে। এ অবস্থায় দেশের বাজারে জ্বালানি তেলের দাম সমন্বয় করা হলে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় মেটানো আরও কঠিন হয়ে পড়বে।